প্রেমের কবিতা

যেন বলে ওঠে – আরণ্যক বসু

আসলে কথারা সব বিলুপ্ত পাখির ঠোঁটে শিলালিপি হয়ে আছে
আসলে কথারা সব নিঃশেষে মুছে গেছে আলোকবর্ষ দূরে
তারাহীন নীল অন্ধকারে
আসলে কথারা এসে ফিরে চলে গেছে সেই
মটরশুঁটির ক্ষেতে, সবুজে সবুজেRead More »যেন বলে ওঠে – আরণ্যক বসু

চাবি – শক্তি চট্টোপাধ্যায়

আমার কাছে এখনো পড়ে আছে
তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি
কেমন করে তোরংগ আজ খোলো?
থুতনিপরে তিল তো তোমার আছেRead More »চাবি – শক্তি চট্টোপাধ্যায়

পুলিন – ব্রত চক্রবর্তী

আমি ও নিভা কথা বলতে শুরু করলেই
পুলিন এসে দাঁড়ায় আমাদের মাঝখানে।
পুলিন একসময় নিভার বন্ধু ছিল। আমারও।
ঠিক এখনও আছে কিনা বুঝে উঠতে পারি না।Read More »পুলিন – ব্রত চক্রবর্তী

মনে থাকবে? – আরণ্যক বসু

পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;
সন্ধে হলে বসবো দু’জন।Read More »মনে থাকবে? – আরণ্যক বসু

সাবধানে যাও – শ্রীজাত

আমি এই থামলাম। হাতভর্তি তোমার চিঠিরা
উড়ে যেতে চাইছে আজ। যেদিকে নিস্তার, শামিয়ানা…
আকাঙ্ক্ষা বাতিল শব্দ। জীবন ব্লেডের নীচে শিরা
শেষেরও তো শেষ আছে। শুধু তার সমাপ্তি অজানা।Read More »সাবধানে যাও – শ্রীজাত

তুমি যেখানেই যাও — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

তুমি যেখানেই যাও
আমি সঙ্গে আছি।
মন্দিরের পাশে তুমি শোনো নি নিঃশ্বাস?
লঘু মরালীর মতো হাওয়া উড়ে যায়
জ্যোৎস্না রাতে নক্ষত্রেরা স্থান বদলায়
ভ্রমণকারিণী হয়ে তুমি গেলে কার্শিয়াংRead More »তুমি যেখানেই যাও — সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

স্পর্শ – জয় গোস্বামী

এতই অসাড় আমি, চুম্বনও বুঝিনি ।
মনে মনে দিয়েছিলে, তাও তো সে না-বোঝার নয়-
ঘরে কত লোক ছিল, তাই ঋণ স্বীকার করিনি ।
ভয়, যদি কোন ক্ষতি হয় ।Read More »স্পর্শ – জয় গোস্বামী

অভিসার – জয় গোস্বামী

প্রেম হবে বলে আজ এখানে এসেছি গাছে নতুন দোয়েল পাখি ডাকে
পুরনো দোয়েল শ্যামা নয়নে নয়ন রেখে কটুবাক্য বলে দিতে চায়
জলে দিতে চায় ওরা আমাকে হৃদয় আমি একলা শ্যামল মেয়ে হায়
পথ ভুলে এ-কোথায় এসে পড়লাম আজ শান্তিপুর ডুবু ডুবু নদে ভেসে যায়Read More »অভিসার – জয় গোস্বামী

বিশু পাগলের কবিতা – শ্রীজাত

বিপদ আবার ডাক দিয়েছে, দমকা বাতাস… আলগা বোতাম…
বসন্তকে সাক্ষী রেখে আজ যদি ফের সঙ্গী হতাম?

একখানা দিন ওলোট পালট, একখানা বেশ ঝাপটা বিকেল
পাগল হওয়া বিশুই কেবল সামলে রাখে নন্দিনীকে।Read More »বিশু পাগলের কবিতা – শ্রীজাত

পাখিটি আমাকে ডেকে – জয় গোস্বামী

পাখিটি আমাকে ডেকে বলল তার ডানার জখম
বলল যে কীভাবে তার পালকে সংসার পোড়া ছ্যাঁকা
কীভাবে পায়ের মধ্যে ফুটো করে ঢুকে এল চেন
ঠোঁট দিয়ে খাঁচার শিক কাটতে গিয়ে ঠোঁটের জখমRead More »পাখিটি আমাকে ডেকে – জয় গোস্বামী

বিবাহের আগে শেষ দেখা – জয় গোস্বামী

একসময় মনে হত কোনওদিন তোমাকে পাব না একসময় মনে হত ইচ্ছে করলেই পাওয়া যায় আজকে শেষবার আমি তোমাকে পেলাম কালকের পর থেকে আমাকে নেবে না… Read More »বিবাহের আগে শেষ দেখা – জয় গোস্বামী

প্রাক্তন – জয় গোস্বামী

ঠিক সময়ে অফিসে যায়?
ঠিক মতো খায় সকালবেলা?
টিফিনবাক্স সঙ্গে নেয় কি?
না ক্যান্টিনেই টিফিন করে?
জামা কাপড় কে কেচে দেয়?
চা করে কে আগের মতো?Read More »প্রাক্তন – জয় গোস্বামী

কবিকন্যা – জয় গোস্বামী

শক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেম করব স্বপ্ন ছিল যুবক বয়সে
শ্রোতার আসনে বসে মঞ্চে দেখা শক্তিকে দু’বার।
কন্যাটিকে একবারও নয়।
তবু ইচ্ছে,ইচ্ছে-সার,মন গাছের গোড়ায় ঢাললেই
ফুল ফুটতে দেরির কী আছে!Read More »কবিকন্যা – জয় গোস্বামী

প্রেমিক – জয় গোস্বামী

তুমি আমাকে মেঘ ডাকবার যে বইটা দিয়েছিলে একদিন
আজ খুলতেই দেখি তার মধ্যে এক কোমর জল।
পরের পাতায় গিয়ে সে এক নদীর অংশ হয়ে দূরে বেঁকে
গেছে।Read More »প্রেমিক – জয় গোস্বামী

কথোপকথন – ৪০ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– ধরো কোন একদিন তুমি খুব দূরে ভেসে গেলে
শুধু তার তোলপাড় ঢেউ গুলো আজন্ম আমার
বুকের সোনালি ফ্রেমে পেইন্টিং এর মতো রয়ে গেল।
এবং তা ধীরে ধীরে ধুলোয়, ধোঁয়ায়, কুয়াশায়
পোকামাকড়ের সুখী বাসাবাড়ি হয়ে যায় যদি?Read More »কথোপকথন – ৪০ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

-নন্দিনী! আমার খুব ভয় করে ,বড় ভয় করে!
কোনও একদিন বুঝি জ্বর হবে ,দরজা দালান ভাঙ্গা জ্বর
তুষার পাতের মত আগুনের ঢল নেমে এসে
নিঃশব্দে দখল করে নেবে এই শরীরের শহর বন্দর।
বালিশের ওয়াড়ের ঘেরাটোপ ছিঁড়ে ফেলা তুলোRead More »কথোপকথন – ৩৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৭ – পুর্ণেন্দু পত্রী

ভালবাসা, সেও আজ হয়ে গেছে ষড়যন্ত্রময়।
নন্দিনী! এসব কথা তোমার কখনো মনে হয়?
চক্রান্তের মত যেন, সারা গায়ে অপরাধপ্রবনতা মেখে
একটি যুবক আজ যুবতীর কাছাকাছি এসে
সাদা রুমালের গায়ে ফুলতোলা শেখে।Read More »কথোপকথন – ৩৭ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৬ – পুর্ণেন্দু পত্রী

তুমিই আমার ধ্বংস হবে তা জানলে
এমন করে কি ভাসাতাম ডিঙ্গি নৌকো?
ভাসাতাম?
তুমি চলে যাবে সমুদ্রে আগে বলনি
তাহলে কি গায়ে মাখাতাম ঝড়-ঝঞ্ঝা?
মাখাতাম?Read More »কথোপকথন – ৩৬ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৫ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– লোকে বলে শুনি সেলায়ে তোমার পাকা হাত
ছুঁচ দিয়ে লেখো কবিতা।

– গোয়েন্দা নাকি? আমার যা কিছু লুকানো
জানতে হবে কি সবই তা?

– তর্ক কোরো না জুড়ে দেবে কিনা এখুনিই
হৃৎপিন্ডের ক্ষতটা।

– দিতে পারি তবে মজুরি পড়বে বিস্তর
জোগাতে পারবে অতটা?Read More »কথোপকথন – ৩৫ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩৩ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– খবর্দার! হাত সরিয়ে নাও।
ব্যাগে ভরে নাও টাকাগুলো।
আজ সমস্ত কিছুর দাম দেবো আমি।

– কি হচ্ছে কি শুভঙ্কর? কেন এমন পাগলামির ঢেউয়ে দুলছ?
এইজন্যই তোমার উপর রাগ হয় এমন।Read More »কথোপকথন – ৩৩ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩১ – পুর্ণেন্দু পত্রী

নন্দিনী –
যতক্ষন পাশে থাকো, যতক্ষন ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি
আমি যেন মেঘে জলে মেশা কোনো আত্মহারা পাখি।
বলতো কি পাখি?Read More »কথোপকথন – ৩১ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ৩০ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– তুমি আমার সর্বনাশ করেছ শুভঙ্কর।
কিচ্ছু ভালো লাগে না আমার। কিচ্ছু না।
জ্বলন্ত উনোনে ভিজে কয়লার ধোঁয়া আর শ্বাসকষ্ট
ঘিরে ফেলেছে আমার দশদিগন্ত।
এখন বৃষ্টি নামলেই কানে আসে নদীর পাড় ভাঙার অকল্যাণ শব্দ
এখন জ্যোৎস্না ফুটলেই দেখতে পাই Read More »কথোপকথন – ৩০ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– আমার আগে আর কাউকে ভালবাসনি তুমি?

– কেন বাসব না? অনেক।
বিষবৃক্ষের ভ্রমর
যোগাযোগের কুমু
পুতুলনাচের ইতিকথার কুসুম
অপরাজিত-র…..Read More »কথোপকথন – ২৮ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ২১ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– তোমাদের ওখানে এখন লোডশেডিং কি রকম?
– বোলো না। দিন নেই, রাত নেই, জ্বালিয়ে মারছে।
– তুমি তখন কি করো?
– দরজা খুলে দিই।
জানলা খুলে দিই।Read More »কথোপকথন – ২১ – পুর্ণেন্দু পত্রী

কথোপকথন – ১৪ – পুর্ণেন্দু পত্রী

– দেখ, অনন্তকাল ঝিঝি পোকার মতো
আমরা কথা বলছি
অথচ কোনো কথায় শেষ হল না এখনও।
একটা লাল গোলাপের কান্নার গল্প
শোনাবে বলেছিলে
কবে বলবে?Read More »কথোপকথন – ১৪ – পুর্ণেন্দু পত্রী