Advertisements
Home / Tag Archives: জীবনের কবিতা

Tag Archives: জীবনের কবিতা

ইচ্ছা – মহাদেব সাহা

হয়তো এই পাহাড় সমান উঁচু হতে চায় কেউ আমি মাটিতে মেশা ঘাস হতে ভালোবাসি, যার মাড়িয়ে যাওয়ার সে মাড়িয়ে যাক ঘাস তবু ঘাসের বুকেই জমে শিশিরবিন্দু ; হয়তো কেউ পার হতে চায় দীর্ঘ দূরের পথ আমি বাড়ির উঠোনে লুটিয়ে থাকি, উঠানের কোণে হয়ে থাকি চারাগাছ সেইখানে ঐ দূর আকাশকে ডাকি ...

Read More »

দুই সহোদরার মাঝখানে – নির্মলেন্দু গুণ

কাল রাত এই নগরীতে খুব চমৎকার অন্ধকার ছিলো । কাল রাত আমি দুই সহোদরার মাঝখানে শুয়েছিলাম । কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এই জমকের জন্ম হয়েছে ! এদের বড়টির নাম মৃত্যু, তার গায়ের রঙ ঘন কালো; ছোটটির নাম জীবন,বড়টির তুলনায় সামান্য ফর্শা । তবে, অন্ধকারে তাদের বর্ণভেদ প্রায় বোঝা যায় না ।

Read More »

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি – নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল ছিল কালো-লালে মেশা একটি অদ্ভুত টুনটুনি । লাফাচ্ছিল ডাল থেকে ডালে, পাতার আড়ালে, ফুল থেকে ফুলে । তার সোনামুখী ঠোঁট, যেন কলমের ডগায় বসানো একরত্তি হীরে । প্রতিটি আঁচড়ে কেটে ভাগ করছিল ফুল থেকে মধু, মধু থেকে ফুল;

Read More »

১৬-৬-৮৪ – নির্মলেন্দু গুণ

হয় নিদ্রা আসুক, না হয় এক্ষুনি অবসান হোক এই অসহ রাত্রির । আমি আর সইতে পারছি না । আমার সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে নির্ঘুমতা । এই রাত্রি এখন আমার সহ্যসীমার বাইরে । দুঃখে-ক্ষোভে, অভিমানে আমার বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস, যেন সমুদ্রের তলদেশ থেকে শূন্য হাতে উঠে আসা ...

Read More »

স্বপ্ন, নব-ভৌগোলিক শিখা – নির্মলেন্দু গুণ

এখন আমার বয়স কত হবে? একশ? নব্বই? আশি? হায়রে আমার বেশি-বয়সের স্বপ্ন, আমার একশ হবে না । আমি ময়মনসিংহের কবি, নীরার একান্ত বাধ্য স্বামী, আমার বয়স পঁয়ত্রিশ, আমি ঢাকায় এসেছি স্বরচিত কবিতা পড়তে । আমার বড় ভাই পশ্চিম বাংলার, আমি স্বদেশের মায়ায় জড়ানো কবি ।

Read More »

চায়ের দোকানে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

লণ্ডনে আছে লাস্ট বেঞ্চির ভীরু পরিমল, রথীন এখন সাহিত্যে এক পরমহংস দীপু তো শুনেছি খুলেছে বিরাট কাগজের কল এবং পাঁচটা চায়ের বাগানে দশআনি অংশ তদুপরি অবসর পেলে হয় স্বদেশসেবক; 

Read More »

আরও নিচে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সিংহাসন থেকে একটু নিচে নেমে, পাথরের সিঁড়ির উপর বসে থাকি একা, চিবুক নির্ভরশীল চোখ লোকচক্ষু থেকে দূরে। ‘সম্রাটের চেয়ে কিছু কম সম্রাটত্ব’ থেকে ছুটি নিয়ে আজ হলুদ দিনাবসানে পরিকীর্ণ শব্দটির মোহে মাটির মানুষ হতে সাধ হয়। এক-একদিন একরকম হয়। আমার চোখের নীচে কালো দাগ 

Read More »

আমার খানিকটা দেরি হয়ে যায় – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

যে পান্থনিবাসে যাই দ্বার বন্ধ, বলে, ‘ঐ যে রুগ্ন ফুলগুলি বাগানে রয়েছে শুধু, এখন বসবেন?’ কেউ মুমূর্ষু অঙ্গুলি আপন উরসে রেখে হেসে ওঠে, পাতা ঝরানোর হাসি, ‘এই অবেলায় কেন এসেছেন আপনি, কী আছে এখন? গত বসন্তমেলায় সব ফুরিয়েছে, আর আলো নেই, দেখুন না তার ছিঁড়ে গেছে, সব ঘরে 

Read More »

ব্যস্ততা – তসলিমা নাসরিন

তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম, যা কিছুই অর্জন-উপার্জন ! এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি ! কেউ ফিরে তাকায় না। তোমার কেন সময় হবে তাকাবার ! কত রকম কাজ তোমার !

Read More »

সারাকাল বৃষ্টি – সুনীতি দেবনাথ

পরিত্যক্ত বিকেলে একটি ঝাঁক বৃষ্টি হুড়মুড় করে ঝাঁপিয়ে পড়লো এসে। সাত তাড়াতাড়ি গোধূলি রঙবাহার পাহাড়ি আলখাল্লায় লুকিয়ে পড়লো, পাহাড় জবুথবু যেন জানে না কিছু। এবার বৃষ্টি কেবল বৃষ্টি ঝমাঝম —

Read More »

প্রজন্ম – সুনীতি দেবনাথ

ইউক্যালিপটাসের সরু দীঘল পাতা পিছলে সকালের চৈতী রোদ্দুর ছলকে ঝাঁপিয়ে পড়লো টংঘরের দুয়ারে চিত্রার্পিত ধনবতী রিয়াংএর পেটে। চার চারটে সুদীর্ঘ দিন রাত নৌকো বেয়ে পার হলো ফেরেনি মরদ চাল নিয়ে উপরের লুসাই বস্তি থেকে,

Read More »

দহনবেলা – সুনীতি দেবনাথ

প্রেমে স্বাচ্ছন্দ্যে বৈভবে থেকেও দেখেছি কোন আগুনে না পুড়েও বুকে ছিল তাঁর অনির্দেশ্য অনির্বচনীয় কোন এক দহনজ্বালা তাই হঠাৎ রাতের আঁধারে নাক্ষত্রিক আকাশে

Read More »

কালপুরুষ – সুনীতি দেবনাথ

কোন্ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছ তুমি হে কালপুরুষ! কালের অতন্দ্র প্রহরী! সেজেছো কী অদ্ভুত অলৌকিক সাজে, তোমার ভয়াবহ প্রস্তুতি কাঁপিয়ে দেয় আমাকে আমার লৌকিক এই জগতকে, বিড়ম্বিত অস্তিত্ব নিয়ে আমি রুদ্ধশ্বাস!

Read More »

হোটেলের ঘরে একজন – জয় গোস্বামী

তোরা সব উঠে গেলি পাহাড়ে ঝোলানো সরু ব্রীজে- তোদের ধূসর জামা, ছেঁড়া-ছেঁড়া নীল-সাদা টুপি ভেসে ভেসে এলো আর হোটেলের সারাঘর ভিজে- প্যাগোডার মতো ছাদ – তার পাশ দিয়ে চুপি চুপি

Read More »

হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে – জয় গোস্বামী

অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনি বলে হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়ের সানুতলে যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো

Read More »

একা – বীথি চট্টোপাধ্যায়

আমার চোখে বসন্ত দারুণ চৈত্রমাস চতুর্দিকে শিমূল-পলাশ কৃষ্ণচূড়ার ত্রাস। ঝড় উঠেছে নিখুঁত কালো বৃষ্টি ভেজা রাত আঁচল দিয়ে দুঃখ ঢাকি কোথায় তোমার হাত ?

Read More »

অভিশাপ – বীথি চট্টোপাধ্যায়

স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে যেই বউকে বুকে জড়িয়ে ধরবে তখন তোমার ভীষণভাবে আমার কথাই মনে পড়বে। আমার বুকের কলহাস্য এবং নিছক বুকের স্পর্শ— আমার রূপের টুকরো টুকরো অনুষঙ্গ, হাতের নরম আঙুলগুলো তোমার চুলে খেলা করবে।

Read More »