হৃদয় তরণী -সৈয়দ মাহমুদ

1
31

আধো কিংবা নিঘুম দীর্ঘ রাতে
আসে নাই ক্লান্তি অবসাদ মনে
এসেছিল নিঃসীম শুন্যতা
হাহাকার প্রতি ক্ষণে।

দুয়ারে দাঁড়িয়ে যারে দেখিলাম চ’লে যেতে
সে কি কোনো কালে ছিল মোর বুকে
ভেজা কপোতীর মতো
আশ্রয় নীড়ে!

সে দিন তমালের তলে বসি
যারে দিয়েছিনু সবুজের সমাহার রাশি
কি তার বুঝিল সে তা
হেলায় ফেলিল ছুড়িয়া হাসিয়া ঈষৎ হাসি।

তবু আকাশের পানে চাহি
কহিলাম ফেরাও তাহারে আজি
সোহাগে দলিয়া ফিরাইবো তাহারে
পুনরায় ধরিলাম বাজি।

নক্ষত্রের পানে চাহি ছুটিয়াছে যে বা
ভাবিতেছে এই বুঝি ধরিলাম ধরণী
কে তাহারে ফিরাইবে আজি
পূর্ণ করিতে মোর ভাঙ্গা হৃদয় তরণী!

আঁধারের দেশে করি বসবাস
ভাবিতেছি কোনদিন যদি একবার
আসে ডাক নিরুদ্দেশের তরে,
যাতনারে লয়ে চ’লে যাবো
জীবনেরে হেলা ভরে।।

Syed Mahmud
উত্তর জনপদের এক ছোট শহর গাইবান্ধায় জন্ম মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্বে।ছোট বেলা থেকেই কিছুটা দূরন্ত এবং বোহেমিয়ান সৈয়দ মাহমুদ বেড়ে ওঠেন অনেকটা রক্ষণশীল পরিবারে।শৈশব থেকেই প্রকৃতি তাকে টানতো।বিরাণ প্রান্তরে, সারি সারি বৃক্ষের ছায়ায় হাঁটতে কিংবা নদীর পাড় ধরে বহুদূর চলে যেতে অসম্ভব ভাল লাগতো।কৈশোরেই তার মনোজগতে পারিবারিক পরিমন্ডলের বাইরের নানা পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়ে ওঠে। তিনি প্রগতিবাদে দীক্ষিত হন।শিক্ষা জীবনে কিছু কিছু লেখা প্রকাশিত হয় স্মরণিকায়, সাহিত্য প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃতও হন।কিন্তু তার পর লেথা চালিয়ে যাওয়া হয়ে উঠেনি। তার তারুণ্য ছিল অপ্রতিরোধ্য। সংগ্রাম করেছেন পরিবারের মাঝে-বাইরে নানা সময়ে। প্রতিকূল স্রোতের বিরুদ্ধে লড়েছেন প্রাণপণ কিন্তু জীবনের কাছে হেরে যাননি। এখনো দূর্দমনীয় স্বপ্ন দেখেন সুন্দর আগামীর- এই স্বপ্নই তার প্রাণশক্তি।