এমন করে অঙ্গনে মোর ডাক দিলি কে স্নেহের কাঙালি!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে রে ও তুই কে রে?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ আহা ​​ ব্যথার সুরে রে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ এমন ​​ চেনা স্বরে রে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ আমার ভাঙা ঘরের শূন্যতারই বুকের পরে রে।

এ কোন  ​​ ​​ ​​​​ পাগল স্নেহ-সুরধুনীর আগল ভাঙালি?

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ কোন্ জননির দুলাল রে তুই,​​ কোন্ অভাগির হারামণি,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চোখ-ভরা তোর কাজল চোখে রে

আহা  ​​ ​​​​ ছলছল কাঁদন চাওয়ার সজল ছায়া কালো মায়া

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সারাখনই উছলে যেন পিছল ননি রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুখভরা তোর ঝরনাহাসি

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শিউলি সম রাশি রাশি

আমার  ​​ ​​ ​​​​ মলিন ঘরের বুকে মুখে লুটায় আসি রে!

বুক-জোড়া তোর ক্ষুদ্ধ স্নেহ দ্বারে দ্বারে কর হেনে যে যায়

কেউ কি তারে ডাক দিল না?​​ ডাকল যারা তাদের কেন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দলে এলি পায়?

 ​​​​ 

কেন আমার ঘরের দ্বারে এসেই আমার পানে চেয়ে এমন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ থমকে দাঁড়ালি?

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ এমন চমকে আমায় চমক লাগালি?

এই কি রে তোর চেনা গৃহ,​​ এই কিরে তোর চাওয়া স্নেহ হায়!

তাই কি আমার দুখের কুটির হাসির গানের রঙে রাঙালি?

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ হে মোর  ​​ ​​​​ স্নেহের কাঙালি।

এ সুর যেন বড়োই চেনা,​​ এ স্বর যেন আমার বাছার,

কখন সে যে ঘুমের ঘোরে হারিয়েছিনু হয় না মনে রে!

না চিনেই আজ তোকে চিনি,​​ আমারই সেই বুকের মানিক,

পথ ভুলে তুই পালিয়ে ছিলি সে কোন ক্ষণে সে কোন বনে রে!

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দুষ্টু ওরে,​​ চপল ওরে,​​ অভিমানী শিশু! ​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ মনে কি তোর পড়ে না তার কিছু? ​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ সেই অবধি জাদুমণি কত শত জনম ধরে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেশ বিদেশে ঘুরে ঘুরে রে,

আমি ​​ মা-হারা সে কতই ছেলের কতই মেয়ের

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মা হয়ে বাপ খুঁজেছি তোরে!

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দেখা দিলি আজকে ভোরে রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ উঠছে বুকে হাহা ধ্বনি ​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ আয় বুকে মোর হারামণি,

আমি ​​ কত জনম দেখিনি যে ওই মু-খানি রে!

 ​​​​ 

পেটে-ধরা নাই বা হলি,​​ চোখে ধরার মায়াও নহে এ,

তোকে পেতেই জন্ম জন্ম এমন করে বিশ্ব-মায়ের

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ফাঁদ পেতেছি যে!

আচমকা আজ ধরা দিয়ে মরা-মায়ের ভরা-স্নেহে হঠাৎ জাগালি।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গৃহহারা বাছা আমার রে!

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ চিনলি কি তুই হারা-মায়ে চিনলি কি তুই আজ? ​​ 

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ আজকে আমার অঙ্গনে তোর পরাজয়ের বিজয়-নিশান

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাই কি টাঙালি?

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মোর  ​​ ​​​​ স্নেহের কাঙালি।

দৌলতপুর, কুমিল্লা
জ্যৈষ্ঠ ১৩২৮

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।