নব ঋত্বিক নবযুগের!

 ​​ ​​​​ নমস্কার! নমস্কার!

আলোকে তোমার পেনু আভাস

 ​​ ​​​​ নওরোজের নব উষার!

তুমি গো বেদনা-সুন্দরের

 ​​ ​​​​ দর্‌দ্-ই-দিল্,​​ নীল মানিক,

তোমার তিক্ত কণ্ঠে গো

 ​​ ​​​​ ধ্বনিল সাম বেদনা-ঋক।

 ​​​​ 

হে উদীচী উষা চির-রাতের,

 ​​ ​​​​ নরলোকের হে নারায়ণ!

মানুষ পারায়ে দেখিলে দিল্ –

 ​​ ​​​​ মন্দিরের দেব-আসন।

শিল্পী ও কবি আজ দেদার

 ​​ ​​​​ ফুলবনের গাইছে গান,

আশমানি-মউ স্বপনে গো

 ​​ ​​​​ সাথে তাদের করনি পান।

নিঙারিয়া ধুলা মাটির রস

 ​​ ​​​​ পিইলে শিব নীল আসব,

দুঃখ কাঁটায় ক্ষত হিয়ার

 ​​ ​​​​ তুমি তাপস শোনাও স্তব।

স্বর্গভ্রষ্ট প্রাণধারায়

 ​​ ​​​​ তব জটায় দিলে গো ঠাঁই,

মৃত সাগরের এই সে দেশ

 ​​ ​​​​ পেয়েছে প্রাণ আজিকে তাই।

 

পায়ে দলি পাপ সংস্কার

 ​​ ​​​​ খুলিলে বীর স্বর্গদ্বার,

শুনাইলে বাণী, ‘নহে মানব –

 ​​ ​​​​ গাহি গো গান মানবতার।

মনুষ্যত্ব পাপী তাপীর

 ​​ ​​​​ হয় না লয়,​​ রয় গোপন,

প্রেমের জাদু-স্পর্শে সে

 ​​ ​​​​ লভে অমর নব জীবন!’

নির্মমতায় নর-পশুর

 ​​ ​​​​ হায় গো যার চোখের জল

বুকে জমে হল হিম-পাষাণ,

 ​​ ​​​​ হল হৃদয় নীল গরল​​ ;

প্রখর তোমার তপ-প্রভায়

 ​​ ​​​​ বুকের হিম গিরি-তুষার –

গলিয়া নামিল প্রাণের ঢল,

 ​​ ​​​​ হল নিখিল মুক্ত-দ্বার।

শুভ্র হল গো পাপ-মলিন

 ​​ ​​​​ শুচি তোমার সমব্যথায়,

পাঁকের ঊর্ধ্বে ফুটিল ফুল

 ​​ ​​​​ শঙ্কাহীন নগ্নতায়!

 ​​​​ 

শাস্ত্র-শকুন নীতি-ন্যাকার

 ​​ ​​​​ রুচি-শিবার হট্টরোল

ভাগাড়ে শ্মশানে উঠিল ঘোর,

 ​​ ​​​​ কাঁদে সমাজ চর্মলোল!

ঊর্ধ্বে যতই কাদা ছিটায়

 ​​ ​​​​ হিংসুকের নোংরা কর

সে কাদা আসিয়া পড়ে সদাই

 ​​ ​​​​ তাদেরই হীন মুখের পর!

চাঁদে কলঙ্ক দেখে যারা

 ​​ ​​​​ জ্যোৎস্না তার দেখেনি,​​ হায়!

ক্ষমা করিয়াছ তুমি,​​ তাদের

 ​​ ​​​​ লজ্জাহীন বিজ্ঞতায়!

আজ যবে সেই পেচক-দল

 ​​ ​​​​ শুনি তোমার করে স্তব,

সেই তো তোমার শ্রেষ্ঠ জয়,

 ​​ ​​​​ নিন্দুকের শঙ্খ-রব!

 

ধর্মের নামে যুধিষ্ঠির

 ​​ ​​​​ ইতি গজের’ করুক ভান!

সব্যসাচী গো,​​ ধরো ধনুক –

 ​​ ​​​​ হানো প্রখর অগ্নিবাণ!

পথের দাবি’র অসম্মান

 ​​ ​​​​ হে দুর্জয়,​​ করো গো ক্ষয়!

দেখাও স্বর্গ তব বিভায়

 ​​ ​​​​ এই ধুলার ঊর্ধ্বে নয়!

 ​​​​ 

দেখিছ কঠোর বর্তমান,

 ​​ ​​​​ নয় তোমার ভাব-বিলাস,

তুমি মানুষের বেদনা-ঘায়

 ​​ ​​​​ পাওনি গো ফুল-সুবাস।

তোমার সৃষ্টি মৃত্যুহীন

 ​​ ​​​​ নব ধরার জীবন-বেদ,

করনি মানুষে অবিশ্বাস

 ​​ ​​​​ দেখিয়া পাপ পঙ্ক ক্লেদ।

পুষ্পবিলাস নয় তোমার

 ​​ ​​​​ পাওনি তাই পুষ্প-হার,

বেদনা-আসনে বসায়ে আজ

 ​​ ​​​​ করে নিখিল পূজা তোমার!

অসীম আকাশে বাঁধনি ঘর

 ​​ ​​​​ হে ধরণির নীল দুলাল!

তব সাম-গান ধুলামাটির

 ​​ ​​​​ রবে অমর নিত্যকাল!

হয়তো আসিবে মহাপ্রলয়

 ​​ ​​​​ এ দুনিয়ার দুঃখ-দিন

সব যাবে শুধু রবে তোমার

 ​​ ​​​​ অশ্রুজল অন্তহীন।

অথবা যেদিন পূর্ণতায়

 ​​ ​​​​ সুন্দরের হবে বিকাশ,

সেদিনও কাঁদিয়া ফিরিবে এই

 ​​ ​​​​ তব দুখের দীর্ঘশ্বাস।

মানুষের কবি! যদি মাটির

 ​​ ​​​​ এই মানুষ বাঁচিয়া রয় –

রবে প্রিয় হয়ে হৃদি-ব্যাথায়,

 ​​ ​​​​ সর্বলোক গাহিবে জয়!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।