​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন চাহ নাকো ফিরে।

গৃহকোণ ছাড়ি আসিয়াছ আজ দেবতার মন্দিরে।

 ​​ ​​ ​​​​ পুতুল লইয়া কাটিয়াছে বেলা

 ​​ ​​ ​​​​ আপনারে লয়ে শুধু হেলা-ফেলা,

জানিতে না,​​ আজ হৃদয়ের খেলা আকুল নয়ন-নীরে,

এত বড়ো দায় নয়নে নয়নে নিমেষের চাওয়া কি রে?

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন চাহ নাকো ফিরে॥

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন চাহ নাকো ফিরে।

জানিতে না আখিঁ আঁখিতে হারায় ডুবে যায় বাণী ধীরে।

 ​​ ​​ ​​​​ তুমি ছাড়া আর ছিল নাকো কেহ

 ​​ ​​ ​​​​ ছিল না বাহির ছিল শুধু গেহ,

কাজল ছিল গো জল ছিল না,​​ ও উজল আঁখির তীরে।

সেদিনও চলিতে ছলনা বাজেনি ও-চরণ-মঞ্জীরে!

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন চাহ নাকো ফিরে।॥

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন চাহ নাকো ফিরে।

সেদিনও তোমার বনপথে যেতে পায়ে জড়াত না লতা।

 ​​ ​​ ​​​​ সেদিনও বেভুল তুলিয়াছ ফুল

 ​​ ​​ ​​​​ ফুল বিঁধিতে গো,​​ বিঁধেনি আঙুল,

মালার সাথে যে হৃদয়ও শুকায়,​​ জানিতে না সে বারতা।

জানিতে না,​​ কাঁদে মুখর মুখের আড়ালে নিঃসঙ্গতা

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন কহ নাকো কথা॥

 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তব কপটতা,​​ চতুরালি!

তুমি জানিতে না,​​ ও কপোলে থাকে ডালিম দানার লালি!

 ​​ ​​ ​​​​ জানিতে না ভীরু রমণীর মন

 ​​ ​​ ​​​​ মধুকর-ভারে লতার মতন

কেঁপে মরে কথা কন্ঠে জড়ায়ে নিষেধ করে গো খালি।

আঁখি যত চায় তত লজ্জায় লজ্জা পাড়ে গো গালি!

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তব কপটতা,​​ চতুরালি!

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি,​​ ভীরু! কীসের এ বিস্ময়।

জানিতে না কভু নিজেরে হেরিয়া নিজেরই করে যে ভয়।

 ​​ ​​ ​​​​ পুরুষ পুরুষ–শুনেছিলে নাম,

 ​​ ​​ ​​​​ দেখেছ পাথর করনি প্রণাম,

প্রণাম করেছ লুব্ধ দু-কর চেয়েছে চরণ ছোঁয়।

জানিতে না,​​ হিয়া পাথর পরশি পরশ-পাথরও হয়!

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি,​​ ভীরু,​​ কীসের এ বিষ্ময়॥

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ কীসের তোমার শঙ্কা এ,​​ আমি জানি।

পরাণের ক্ষুধা দেহের দু-তীরে করিতেছে কানাকানি।

 ​​ ​​ ​​​​ বিকচ বুকের বকুল-গন্ধ

 ​​ ​​ ​​​​ পাপড়ি রাখিতে পারে না বন্ধ,

যত আপনারে লুকাইতে চাও তত হয় জানাজানি।

অপাঙ্গে আজ ভিড় করেছে গো লুকানো যতেক বাণী।

 ​​ ​​ ​​​​ কীসের তোমার শঙ্কা এ,​​ আমি জানি॥

 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি,​​ কেন বলিতে পার না খুলি।

গোপনে তোমায় আবেদন তার জানায়েছে বুলবুলি।

 ​​ ​​ ​​​​ যে-কথা শুনিতে মনে ছিল সাধ

 ​​ ​​ ​​​​ কেমনে সে পেল তারই সংবাদ?

সেই কথা বঁধু তেমনই করিয়া বলিল নয়ন তুলি।

কে জানিত এত জাদু-মাখা তার ও কঠিন অঙ্গুলি।

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি কেন বলিতে পার না খুলি॥

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি কেন যে নিরাভরণা,

ব্যাথার পরশে হয়েছে তোমরা সকল অঙ্গ সোনা।

 ​​ ​​ ​​​​ মাটির দেবীরে পরায় ভূষণ,

 ​​ ​​ ​​​​ সোনার সোনায় কীবা প্রয়োজন?

দেহ-কূল ছাড়ি নেমেছে মনের অকূল নিরঞ্জনা।

বেদনা আজিকে রূপেরে তোমার করিতেছে বন্দনা।

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি তুমি কেন যে নিরাভরণা॥

 ​​​​ 

 ​​​​ 

 ​​ ​​ ​​​​ আমি জানি,​​ ওরা বুঝিতে পারে না তোরে।

নিশীথে ঘুমালে কুমারী বালিকা,​​ বধূ জাগিয়াছে ভোরে!

 ​​ ​​ ​​​​ ওরা সাঁতরিয়া ফিরিতেছে ফেনা,

 ​​ ​​ ​​​​ শুক্তি যে ডোব – বুঝিতে পারে না!

মুক্তা ফলেছে – আঁখির ঝিনুক ডুবেছে আঁখির লোরে।

বোঝা কত ভার হলে – হৃদয়ের ভরাডুবি হয়,​​ ওরে,

 ​​ ​​ ​​​​ অভাগিনি নারী,​​ বুঝাবি কেমন করে॥

কৃষ্ণনগর
৩২ শ্রাবণ, ১৩৩৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।