আমি ঝড় পশ্চিমের প্রলয়-পথিক –

অসহ যৌবন-দাহে লেলিহান-শিখ

দারুণ দাবাগ্নি-সম নৃত্য-ছায়ানটে

মাতিয়া ছুটিতেছিনু,​​ চলার দাপটে

ব্রহ্মাণ্ড ভণ্ডুল করি। অগ্রে সহচরী

ঘূর্ণা-হাতছানি দিয়া চলে ঘূর্ণি-পরি

গ্রীষ্মের গজল গেয়ে পিলু-বারোয়াঁয়

উশীরের তার-বাঁধা প্রান্তর-বীণায়।

করতালি-ঠেকা দেয় মত্ত তালিবন

কাহারবা-দ্রুততালে। – আমি উচাটন

মন্মথ-উম্মদ আঁখি রাগরক্ত ঘোর

ঘূর্ণিয়া পশ্চাতে ছুটি,​​ প্রমত্ত চকোর

প্রথম-কামনা-ভিতু চকোরিণী পানে

ধায় যেন দুরন্ত বাসনা-বেগ-টানে।

সহসা শুনিনু কার বিদায়-মন্থর

শ্রান্ত শ্লথ গতি-ব্যথা,​​ পাতা-থরথর

পথিক-পদাঙ্ক-আঁকা পুব-পথশেষে।

দিগন্তের পর্দা ঠেলি হিমমরুদেশে

মাগিছে বিদায় মোর প্রিয়া ঘূর্ণি-পরি,

দিগন্ত ঝাপসা তার অশ্রুহিমে ভরি।

গোলে-বকৌলির দেশে মেরু-পরিস্থানে

মিশে গেল হাওয়া-পরি।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ অযথা সন্ধানে

দিকচক্ররেখা ধরি কেঁদে কেঁদে চলি

শ্রান্ত অশ্বশ্বসা-গতি। চম্পা-একাবলী

ছিন্ন ম্লান ছেয়ে আছে দিগন্ত ব্যাপিয়া, -

সেই চম্পা চোখে চাপি ডাকি, ‘পিয়া পিয়া’!

বিদায়-দিগন্ত ছানি নীল হলাহল

আকণ্ঠ লইনু পিয়া,​​ তরল গরল –

সাগরে ডুবিল মোর আলোক-কমলা,

আঁখি মোর ঢুলে আসে – শেষ হল চলা!

জাগিলাম জন্মান্তর-জাগরণ-পারে

যেন কোন্ দাহ-অন্ত ছায়া-পারাবারে

বিচ্ছেদ-বিশীর্ণ তনু,​​ শীতল-শিহর!

প্রতি রোমকূপে মোর কাঁপে থরথর।

 ​​​​ 

কাজল-সুস্নিগ্ধ কার অঙ্গুলি-পরশ

বুলায় নয়ন মোর,​​ দুলায়ে অবশ

ভার-শ্লথ তনু মোর ডাকে – ‘জাগো পিয়া।

জাগো রে সুন্দর মোরি রাজা শাঁবলিয়া।’

 

জল-নীলা ইন্দ্রনীলকান্তমণি-শ্যামা

এ কোন মোহিনী তন্বী জাদুকরী বামা

জাগাল উদয়-দেশে নব মন্ত্র দিয়া

ভয়াল-আমারে ডাকি – ‘হে সুন্দর পিয়া!’

​​ আমি ঝড় বিশ্ব-ত্রাস মহামৃত্যুক্ষুধা,

ত্র্যম্বকের ছিন্নজটা – ওগো এত সুধা,

কোথা ছিল অগ্নিকুণ্ড মোর দাবদাহে?

এত প্রেমতৃষা সাধ গরল প্রবাহে? –

 ​​​​ 

আবার ডাকিল শ্যামা, ‘জাগো মোরি পিয়া!’

এতক্ষণ আপনার পানে নিরখিয়া

হেরিলাম আমি ঝড় অনন্ত সুন্দর

পুরুষ-কেশরী বীর! প্রলয়কেশর

স্কন্ধে মোর পৌরুষের প্রকাশে মহিমা!

চোখে মোর ভাস্বরের দীপ্তি-অরুণিমা

ঠিকরে প্রদীপ্ত তেজে! মুক্ত ঝোড়ো কেশে

বিশ্বলক্ষ্মী মালা তার বেঁধে দেন হেসে!

 ​​​​ 

এ কথা হয়নি মনে আগে, –​​ আমি বীর

পরুষ পুরুষ-সিংহ,​​ জয়লক্ষ্মী-শ্রীর

স্নেহের দুলাল আমি;​​ আমারেও নারী

ভালোবাসে,​​ ভালোবাসে রক্ত-তরবারি

ফুল-মালা চেয়ে! চাহে তারা নর

অটল-পৌরুষ বীর্যবন্ত শক্তিধর!

জানিনু যেদিন আমি এ সত্য মহান –

হাসিল সেদিন মোর মুখে ভগবান

মদনমোহন-রূপে! সেই সে প্রথম

হেরিনু,​​ সুন্দর আমি সৃষ্টি-অনুপম!

 ​​​​ 

যাহা কিছু ছিল মোর মাঝে অসুন্দর

অশিব ভয়াল মিথ্যা অকল্যাণকর

আত্ম-অভিমান হিংসা দ্বেষ-তিক্ত ক্ষোভ –

নিমেষে লুকাল কোথা,​​ স্নিগ্ধশ্যাম ছোপ

সুন্দরের নয়নের মণি লাগি মোর প্রাণে!

পুবের পরিরে নিয়া অস্তদেশ পানে

এইবার দিনু পাড়ি। নটনটী-রূপে

গ্রীষ্মদগ্ধ তাপশুষ্ক মারী-ধ্বংস-স্তূপে

নেচে নেচে গাই নবমন্ত্র সামগান

শ্যামল জীবনগাথা জাগরণতান!

 ​​​​ 

এইবার গাহি নেচে নেচে,

রে জীবন-হারা,​​ ওঠ বেঁচে!

রুদ্র কালের বহ্নি-রোষ

নিদাঘের দাহ গ্রীষ্ম-শোষ

নিবাতে এনেছি শান্তি-সোম,

ওম্ শান্তি,​​ শান্তি ওম!

 ​​​​ 

জেগে ওঠ ওরে মূর্ছাতুর!

হোক অশিব মৃত্যু দূর!

গাহে উদ্‌গাতা সজল ব্যোম,

ওম্ শান্তি, ​​ শান্তি ওম!

ওম্ শান্তি, ​​ শান্তি ওম!

ওম্ শান্তি, ​​ শান্তি ওম॥

 

এসো মোর  ​​​​ শ্যাম-সরসা

ঘনিমার  ​​ ​​ ​​ ​​​​ হিঙুল-শোষা

বরষা  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ প্রেম-হরষা

 ​​​​ প্রিয়া মোর  ​​​​ নিকষ-নীলা

শ্রাবণের  ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাজল গুলি

ওলো আয়  ​​ ​​​​ রাঙিয়ে তুলি

সবুজের  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ জীবন-তুলি,

 ​​​​ মৃতে কর  ​​​​ প্রাণ-রঙিলা॥

আমি ভাই  ​​ ​​ ​​​​ পুবের হাওয়া

বাঁচনের  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নাচন-পাওয়া,

কারফায়  ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাজরি গাওয়া,

 ​​​​ নটিনীর  ​​​​ পা-ঝিনঝিন!

নাচি আর  ​​ ​​ ​​​​ নাচনা শেখাই

পুরবের  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বাইজিকে ভাই,

ঘুমুরের  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তাল দিয়ে যাই –

 ​​​​ এক দুই  ​​ ​​ ​​​​ এক দুই তিন॥

 ​​​​ 

বিল ঝিল  ​​ ​​ ​​​​ তড়াগ পুকুর

পিয়ে নীর  ​​ ​​ ​​​​ নীল কম্বুর

থইথই  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ টইটম্বুর!

ধরা আজ  ​​ ​​ ​​​​ পুষ্পবতী!

শুশুনির  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিদ্রা শুষি

রূপসি  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘুম-উপোসি!

কদমের  ​​ ​​ ​​ ​​​​ উদমো খুশি

দেখায় আজ  ​​​​ শ্যাম যুবতি॥

হুরিরা  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দূর আকাশে

বরুণের  ​​ ​​ ​​ ​​​​ গোলাব-পাশে

ধারা-জল  ​​ ​​ ​​​​ ছিটিয়ে হাসে

 ​​​​ বিজুলির  ​​ ​​ ​​​​ ঝিলিমিলিতে!

অরুণ আর  ​​ ​​ ​​​​ বরুণ রণে

মাতিল  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ঘোর স্বননে

আলো-ছায়  ​​ ​​ ​​​​ গগন-বনে

 ​​​​ শার্দূল বিক্রীড়িতে।’

 

(শার্দূল-বিক্রীড়িত ছন্দে)

 ​​​​ 

উত্রাস ভীম

 ​​ ​​ ​​​​ মেঘে কুচকাওয়াজ

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চলিছে আজ,

সোন্মাদ সাগর

 ​​ ​​ ​​​​ খায় রে দোল!

ইন্দ্রের রথ

 ​​ ​​ ​​​​ বজ্রের কামান

 ​​ ​​ ​​​​ টানে উজান

 ​​ ​​ ​​​​ মেঘ-ঐরাবত

 ​​ ​​ ​​​​ মদ-বিভোল।

 ​​​​ 

যুদ্ধের রোল

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বরুণের জাঁতায়

 ​​ ​​ ​​​​ নিনাদে ঘোর,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ বারীশ আর বাসব

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বন্ধু আজ।

 ​​​​ 

সূর্যের তেজ

 ​​ ​​ ​​​​ দহে মেঘ-গরুড়

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধূম্র-চূড়,

 ​​ ​​ ​​​​ রশ্মির ফলক

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিঁধিছে বাজ।

 ​​​​ 

বিশ্রাম-হীন

 ​​ ​​ ​​​​ যুঝে তেজ-তপন

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিক-বারণ

 ​​ ​​ ​​​​ শির-মদ-ধারায়

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধরা মগন!

 ​​​​ 

অম্বর-মাঝ

 ​​ ​​ ​​​​ চলে আলো-ছায়ায়

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নীরব রণ

 ​​ ​​ ​​​​ শার্দূল শিকার

 ​​ ​​ ​​​​ খেলে যেমন।

 ​​​​ 

রৌদ্রের শর

 ​​ ​​ ​​​​ খরতর প্রখর

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ক্লান্ত শেষ,

 ​​ ​​ ​​​​ দিবা দ্বিপ্রহর

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিশি-কাজল!

সোল্লাস ঘোর

 ​​ ​​ ​​​​ ঘোষে বিজয়-বাজ

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ গরজি আজ

 ​​ ​​ ​​​​ দোলে সিং-বি-

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ক্রীড়ে দোল।

 

(সিংহ-বিক্রীড় ছন্দে)

 ​​​​ 

নাচায় প্রাণ  ​​ ​​ ​​​​ রণোন্মাদ-  ​​ ​​ ​​​​ বিজয়-গান,  ​​ ​​ ​​​​ গগনময়  ​​ ​​ ​​​​ মহোৎসব।

রবির পথ  ​​ ​​ ​​ ​​​​ অরুণ-যান  ​​ ​​ ​​​​ কিরণ-পথ  ​​ ​​ ​​ ​​​​ ডুবায় মেঘ- ​​ মহার্ণব।

 ​​​​ 

মেঘের ছায়  ​​ ​​​​ শীতল কায়  ​​ ​​ ​​​​ ঘুমায় থির  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ দিঘির জল  ​​​​ অথই থই।

তৃষায় ক্ষীণ  ​​ ​​​​ ‘ফটিক জল’  ​​​​ ‘ফটিক জল’  ​​ ​​​​ কাঁদায় দিল  ​​​​ চাতক ওই।

 ​​​​ 

মাঠের পর  ​​ ​​ ​​​​ সোহাগ-ঢল  ​​ ​​ ​​​​ জলদ-দ্রব  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ছলাৎছল  ​​ ​​​​ ছলাৎছল

পাহাড়-গায়  ​​ ​​ ​​​​ ঘুমায় ঘোর  ​​ ​​ ​​​​ অসিত মেঘ-  ​​ ​​ ​​​​ শিশুর দল  ​​​​ অচঞ্চল।

 ​​​​ 

বিলোল-চোখ  ​​​​ হরিণ চায়  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মেঘের গায়,  ​​ ​​ ​​​​ চমক খায়  ​​​​ গগন-কোল,

নদীর-পার  ​​ ​​​​ চখির ডাক  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ‘কোয়াককো’  ​​ ​​ ​​​​ বনের বায়  ​​​​ খাওয়ায় টোল।

 ​​​​ 

স্বয়ম্ভূর  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ সতীর শোক-  ​​ ​​ ​​ ​​​​ ধ্যানোম্মাদ-  ​​ ​​ ​​ ​​​​ নিদাঘ-দাব  ​​​​ তপের কাল

নিশেষ আজ! ​​ মহেশ্বর  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ উমার গাল  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চুমার ঘায়  ​​ ​​​​ রাঙায় লাল।

 

(অনঙ্গশেখর ছন্দে)

 ​​​​ 

এবার আমার  ​​ ​​ ​​​​ বিলাস শুরু  ​​ ​​ ​​​​ অনঙ্গশেখরে।

পরশ-সুখে  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শ্যামার বুকে  ​​ ​​ ​​​​ কদম্ব শিহরে।

কুসুমেষুর  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ পরশ-কাতর  ​​ ​​ ​​​​ নিতম্ব-মন্থরা

সিনান-শুচি  ​​ ​​ ​​ ​​​​ স-যৌবনা  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ রোমাঞ্চিত ধরা।

ঘন শ্রোণির,  ​​ ​​ ​​​​ গুরু ঊরুর,  ​​ ​​ ​​ ​​​​ দাড়িম-ফাটার ক্ষুধা

যাচে গো আজ  ​​​​ পরুষ-পীড়ন  ​​ ​​ ​​ ​​​​ পুরুষ-পরশ-সুধা।

শিথিল-নীবি  ​​ ​​ ​​ ​​​​ বিধুর বালা  ​​ ​​ ​​ ​​​​ শয়ন-ঘরে কাঁপে,

মদন-শেখর  ​​ ​​ ​​ ​​​​ কুসুম-স্তবক  ​​ ​​ ​​ ​​​​ উপাধানে চাপে।

 ​​​​ 

আমার বুকের  ​​ ​​ ​​​​ কামনা আজ  ​​ ​​ ​​​​ কাঁদে নিখিল জুড়ি,

বনের হিয়ায়  ​​ ​​ ​​ ​​​​ তিয়াস জিয়ায়  ​​ ​​​​ প্রথম কদম-কুঁড়ি।

শাখীরা আজ  ​​ ​​ ​​​​ শাখায় শাখা  ​​ ​​ ​​ ​​​​ পাখায় পাখায় বাঁধা,

কুলায় রচে,  ​​ ​​ ​​ ​​​​ মনে শোনে  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ শাবক শিশুর কাঁদা।

 ​​​​ 

তাপস-কঠিন  ​​ ​​ ​​ ​​​​ উমার গালে  ​​ ​​ ​​ ​​​​ চুমার পিয়াস জাগে,

বধূর বুকে  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মধুর আশা  ​​ ​​ ​​ ​​​​ কোলে কুমার মাগে!

তরুণ চাহে  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ করুণ চোখে  ​​ ​​ ​​ ​​​​ উদাসী তার আঁখি,

শোনে,​​ কোথায়  ​​​​ কাঁদে ডাহুক  ​​ ​​ ​​ ​​​​ ডাহুকের ডাকি!

 ​​​​ 

এবার আমার  ​​ ​​ ​​​​ পথের শুরু  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ তেপান্তরের পথে,

দেখি হঠাৎ  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চরণ রাঙা  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মৃণাল-কাঁটার ক্ষতে।

ওগো আমার  ​​ ​​ ​​ ​​​​ এখনও যে  ​​ ​​ ​​ ​​​​ সকল পথই বাকি,

মৃণাল হেরি  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মনে পড়ে  ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কাহার কমল-আঁখি!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।