বিনু!

তোমায় আমায় ফুল পাতিয়েছিনু,

মনে কি তা পড়ে? –

যেদিন সাঁঝে নতুন দেখা বোশেখ মাসের ঝড়ে

 ​​ ​​ ​​​​ আমবাগানের একটি গাছের তলায়

দুইটি প্রাণই দুলেছিল হিন্দোলেরই দোলায়?

 ​​ ​​ ​​​​ তুমি তখন পা দিয়েছ তরুণ কৈশোরে!

 ​​ ​​ ​​​​ দোয়েল-কোয়েল-ঘায়েল-করা করুণ ওই স্বরে

 ​​ ​​ ​​​​ জিজ্ঞাসিলে আবছায়াতে আমায় দেখে – ‘কে?’

 ​​ ​​ ​​​​ সে স্বরে মোর অশ্রুজল চক্ষু ছেপে যে!

বলতে গিয়ে কাঁপল আমার আওয়াজ, - ‘বিনু,​​ আমি!’

চমকে তুমি লাল করে গাল পথেই গেলে থামি।

 ​​ ​​ ​​​​ আঁখির ঘন কালো পল্লবে

চটুল তোমার চাউনি চোখের হঠাৎ নিবল যে!

 ​​ ​​ ​​​​ পানের পিকে-রাঙা হিঙুল বরন

 ​​ ​​ ​​​​ আকুল অধর আলতা-রাঙা চরণ,

শিউরে শিউরে উঠল কেঁপে অভিমানের ব্যথায়,

বরষ পরে এমন করে আজ যে দেখা হেথায়!

 ​​ ​​ ​​​​ নলিন-নয়ান হয়ে মলিন সজল

 ​​ ​​ ​​​​ মুছলে তোমার চোখের কালো কাজল!

 ​​​​ 

 ​​​​ *  ​​ ​​ ​​ ​​​​ *  ​​ ​​ ​​ ​​​​ *

 ​​​​ 

তারপর ঘেরে ঝড়ঝঞ্ঝা বৃষ্টি করকায়

অভিমান আর সংকোচেরই নিদয় ‘বোরকা’য়

উড়িয়ে দিল;​​ কেউ জানিনি কখন দুজনে

অনেক আগের মতোই আবার আকুল কূজনে

 ​​ ​​ ​​​​ উঠেছিনু মেতে!

তারপর হায়,​​ ফিরে এনু আবার ঘরে রেতে,

আম বাগানের পাশের খেতে বদল করে মালা, -

 ​​ ​​ ​​​​ ফের বিদায়ের পালা!

দুজনারই শুধু ফুলের মালার চুম্বনে

ছাড়াছাড়ি হল কেয়ার সেই নিঝুম বনে।

 ​​​​ 

হয়নি তো আর দেখা,

 ​​ ​​ ​​​​ আজও আশায় বসেই আছি একা

সেই মালাটির শুকনো ফুলের বুকনোগুলি ধরে

 ​​ ​​ ​​​​ আমার বুকের পরে।

 ​​​​ 

এ তিন বরষ বিনা কাজের সেবায় খেটে যে

কেউ জানে না,​​ বিনু,​​ আমার কেমন কেটেছে!

আজও তেমনি কান্না-ধোয়া সজল যে জ্যোৎস্না,

 ​​ ​​ ​​​​ তেমনি ফুটেছে হেনা-হাসনা, -

তুমিই শুধু নাই!

সিন্ধুপারের মৌন-সজল ইন্দুকিরণ তাই

 ​​ ​​ ​​​​ তোমার চলে যাওয়ার দেশে যেতে

অভিসারের গোপন কথা এনেছে এ রেতে!

সেবার এবার শেষ হয়েছে,​​ আজ যে কাজের ছুটি,

তাইতে,​​ বিনু,​​ হেসে কেঁদে খাচ্ছি লুটোপুটি!

অচিন দেশে আগের স্মৃতি নাই বা যদি জাগে,

 ​​ ​​ ​​​​ তাইতো বিনু চিঠি দিনু আগে।

 ​​ ​​ ​​​​ এখন শুধু একটি কথা প্রিয়,

বিচ্ছেদেরও বেদন দিয়ো – বুকেও তুলে নিয়ো।

ব্যথায়-ভরা ছাড়াছাড়ি মিলন হবে নিতি,

 ​​ ​​ ​​​​ সেথায় মোদের এমনি করে,​​ প্রিয়তম! – ইতি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।