ভালোবাসার অভ্যাস – তীর্থরাজ ভট্টাচার্য্য

0
19

“যেইনা তুমি আমায় ছেড়ে ওপাশ ফিরে শুলে,
দেখোনি তুমি কাজল আমার কান্নায় গেল গুলে।”
“আমি কি ভীষণ খুশি হয়েই ওপাশ ফিরে শুই,
ভাবছো আমি প্রবল ঘুমে? আমিও জেগে র‌ই।”
কান্না সেদিন জমেছে দু’দিক, বাঁধ ভাঙবে কবে?
হৃদি দু’খান দু’জনার‌ই, মিলন আবার হবে!
খোলা জানালা বজ্রপাতের ঝলকানিতে মাখা,
বৃষ্টি নামেনা আকাশ থেকে, জল যে চোখে রাখা।
অল্প-স্বল্প জল ছিটছে, চোরা প্রবেশ বায়ুর,
দু’মনে প্রবল শিলাবৃষ্টি, অদ্ভুত খেল স্নায়ুর।
যেন দু’টো দ্বীপ বিপরীত মেরু যোগাযোগ নেই কোনো,
একে অপরের চিন্তায় তবু, রাগে ভালোবাসা লুকোনো।
হঠাৎ কোন মোহের ঘোরে পাশ ফিরেছি দু’জন,
মুখোমুখি দু’জোড়া চোখ আবার, মাপছে বৃষ্টির ওজন।
মাধবীলতা নীরবতা ভাঙে, “তুমি কী আমায় চাওনা?
নাকি আমায় তোমার ভেবে রাখতে এখন পাও না?”
ঠোঁট কেঁপে কেঁপে ওঠে, বুঝিনা কী বলি,
মনে হচ্ছে শরৎ শেষের মনখারাপ কিংবা ভুলে যাওয়া অষ্টমী অঞ্জলি।
নীরবতা আঁকড়ে আমায়, সাহস কাড়েনা ধ্বনি,
ঝড়ের রাতেও বাতাস খুঁজি, একি হয়রানি!
এবার আমার অনামিকা তোমার কপাল ছোঁয়,
“ভালোবাসি, তোমায় ভীষণ”,- দু’টি মনে‌ই প্রলয়।
যে প্লাবনে দু’জোড়া আঁখির তীর হয়েছে সিক্ত,
বান শেষে ও‌ই রোদ উঠেছে, আঁখি বারি মুক্ত।
ওই দেখা যায় চন্দ্রিমা জানালার ফাঁকে আলো,
সব কালো মেঘ হঠাৎ করেই বেশ হারিয়ে গেল।
যে ঝড়েতে বাতায়ন তার কপাটে পেয়েছে চোট,
সে ঝড় এখন থেমেছে প্রিয়া, জাপ্টে তোমার ঠোঁট।
আলো মেখেছে হৃদয় মোদের, প্রেম ফেলেছে শ্বাস,
তোমার চোখে বারবার দেখি ভালোবাসার অভ্যাস।