চারভুতো – ২ -হিমেল কবি নুরইসলাম নুর;সংকলন:(পৌরাণিক সাহিত্যে পদাচরন)

0
2

তাহলে বলছি;শোন…
বড় সরল মনের ছিলে,মেয়েটা।আহা,হাতে শাখা পড়িয়া,সিথিতে গাঢ় করিয়া সিদুর লেপিয়া দিবে,খুব করিয়া সাজিবে যেন সাক্ষাত দেবী।কত আশা,আজ বাদ কাল সাম্বীর ঘরে যাবে!

বাবলি তার বর্ণনায় আশাতীত ইতি টেনে দিলে।বলে উঠলে;
মরে গেল!

আমি কিছুটা স্তম্বিত হলাম।কতবার বাবলি আমায় এরকম গল্প শুনিয়েছে।তাই ওদিক আর গেলুম নে।বললুম;বেশ তো,মরে গেল আর সাথে সাথে ওমন সরল মেয়ের জন্য স্বর্গীয় রথ না এসে,ভগবানের বিষাদে ভুত হয়ে গেল,তাই না?কিন্তু কি এমন অপরাদ ছিল তার?

পানি মোরা,পানি মোরা যে…!

পানি মোরা?

হে পানি মোরা,তুই এসব কোনদিন দেখিস নি,আর শুনিশ নিই ও?

ঠিক তাই!কিন্তু তুই ওসব বাদ দে,রাত হয়েছে,এবার তো চারভুতো দেখি…

আচ্ছা,তুই কখোনো আমাদের বাড়ির পশ্চিম পাশটায় গিয়েছিস?

নাতো।

হুমম,ওখানেই।

ঠিক আছে,চল এখন ঘুমিয়ে পড়ি।
শিবু:আমি তো ঘুমুচ্ছিই,তোদের আলাপে আমি মন দিই নি,এবার কাজের কথা বললি তাই মন দিলাম।

আমি বলে উঠলুম;আচ্ছা কাল দেখে নিবো তোর
চারভুতো।

এবার বাবলি হাসছে…

এই বাবলি বোকামি হাসি হাসিস নে?

বোকা আমি নয় রে,তোর বোকামি আর ভীতুতার কথা ভেবে হাসছি।ভুত কখনো দিনে দেখা যায়,এবার বুঝেছি তুই ভুতে ভয় পাস।মুখেই শুধু…

একটা বাংলা প্রবাদ চালিয়ে দিলে।

এবার আর নিজেকে সামলাতে পারলুম নে,বাবলি শোন,যাচ্ছি আমি ওখানে।এই বলে শিবুর দিকে তাকালুম,যদি ও আমার সাথে প্রেত-প্রথার সত্যতা খন্ডনে যায়।

এমন সময় বাবলি বললে:বাজি নিস না,দাদু
যেতে নিষেদ করেছে।
এই তো সেদিনের ঘটনা….

এবার ভয়ার্ত কন্ঠে,
শিবু:তোরা বন্ধ করবি এসব।

কি হয়েছিল সেদিন…

বাবলি:সেদিন…হে ভয়ার্ত সে দৃশ্য।

এই বলে বাবলি শুরু করতে যাচ্ছে…

এবার শিবু রাগ করে উঠল,যেন ওরা আমায় কিছু লুকুচ্ছে।আন্দাজ করলুন দুজনে কোনো অঙ্ক কষছে।একজন দিতে চাইছে তার পুরনাঙ্গ রুপ আর অন্য জন ইতি টানার তাড়া দিচ্ছে।যেন সমন্বয়ের মাঝে অসমতার সাড়া পাচ্ছি।

শিবুকে কিছু জিগ্গেস করবো করবো ভাবছি…
কিন্ত তার আর সুযোগ এলো নে।নিজেকে বুঝতে পারছি না,ও আমায় অনুভব করছে নাতো?এসব বাদ-বিবাদের মাঝে;

শিবু বললে,আমি ঘুমুতে গেলুম।

এবার আমার নিশানা ওদিকে লাগালাম।আর খুব তাড়াতারি,কিছু না ভেবেই।
বাবলি,তুই যাবি আমার সাথে?

বাবলি:দেখ ডাবলু,তুই আমায় ভুলবুঝিস নে।আমি তোকে আবারো সাবধান করছি।আর হে,আমি যেতে পারবো না।তাই বলে যে আমি ভীতুর ডিম,এমনটা ভাবা তোর বোকামি।তাছারা আমি একটা মেয়ে।

ওদের ভাষায় এমন একটা ভাব অনুভব করলুম যেন ওরায় আমায় তাড়াচ্ছে…

ঠিক আছে,আজ রাত তাহলে ভুতপ্রেতের রাজ্যে…!

এবার ওকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার মতো এক অস্বাভিক হাসি হাসা শুরু করলুম।…

শুরুতেই বলেছি আজ আমাবস্যা…।

Nurislam Nur
আমি হিমেল(সাহিত্যে ব্যাবহারের জন্য)।গনিত,ইংরেজি আর বিঙ্গানের মতো কঠোরোতার মাঝেই,জন্ম হয় আমার সাহিত্য চর্চার এক অতৃপ্ত অনুরাগ।আর অজান্তেই রচনা করে ফেলি;প্রেম,হাসি-কান্না,বিরহের এক বিশাল সম্রাজ্য।যার সিংহ ভাগই মানব-প্রেমের এক চিরায়ত উপখ্যান।আর তার সুচ সমতল ভাগে,ফুটে উঠেছে,মানব মাঝারে থাকা চির নিদ্রায়িত এক হিংস্র দানবের হুংকার। এ পর্যন্ত আমার রচিত: গল্পগ্রন্থ:পৌরাণিক সাহিত্যে পদাচরন,আমি অনিয়ম,বিদিশা,ডেকে হলো সারা,নিরাক পরা গ্রাম। কাব্য গ্রণ্থ:হিমেল ও শীথিল সাহিত্য সমগ্র,আমার কিছু কবিতা,প্রেম নিবাশ,দুপুর দগ্ধ পায়ে। বিঙ্গান ভিত্তিক গ্রন্থ:অমীমাংসিত সুত্রাবলী,রহস্য। নাটক:নীলিমা। উপন্যাস:শেশ কবে। প্রবন্ধ:মাণব শাস্ত্র,লেলিহান পথ। তাছারা রয়েছে কিছু অগোছালো কবিতা আর অসমাপ্ত কয়েকখানা গ্রন্থ। বোধ করি,নিয়তই গ্রন্থের নাম উল্লেখ্য পুর্বক লেখা গুলি "কবিতা ককটেল"পাতায় শেয়ার করবো। ...........আপনিও আপনাকে তুলে ধরুন,হয়তো বা আপনার মাঝেই লুকিয়ে আছে সে সুপ্ত প্রতিভা।নিশ্চয় এতে দেশ,জাতি এবং আপনার মঙ্গল রয়েছে।