এক শিশিরের নীল জীবনী

0
27

এক শিশিরের নীল জীবনী
———————এস.আই.তানভী

দ্বিতীয় বার তার ঘরে গিয়ে- মেঝেতে মুখোমুখি বসে
জানতে চাইলাম- “কেন এ পথে? ছোট-বড় সবার সাথে নগ্ন, খাটে?
আলোতে বিচরণ করো, এখানে অন্ধকার, মাঠে ঘাটে গতর খাটাও।”

“-আলো! অন্ধকার! তামাসা সব, উন্মুক্ত আলোতেই ছিলাম,
আলোতে থাকা ভদ্দর লোকেরাই আমাকে এখানে আনলো
অন্ধকারে তোমরাই পাঠালে আবার তোমরাই ঘৃণা করো
দিবালোকে- রাতে এসে কাম-ক্ষুধা মেটাও, পৃথিবীটা বিচিত্র,
দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে, বাবা নিরুদ্দেশ, মরোমরো মায়ের দশা,
দু বছরের এক ভাই- কান্নাকাটি যার বেঁচে থাকার অস্ত্র,
তেলহীন লণ্ঠন, ভাতহীন হাঁড়ি, তাপহীন চুলো- বাঁচতে তো চাই।
বয়স তের কি চৌদ্দ, যার কাছেই হাত পাতি- নিয়ে যায় ঘরে,
প্রাণ ভরে আদর করে, নগ্ন করতেও ছাড়েনি, মেঝে কিংবা খাটে-
(ছি! নির্লজ্জ) চোখের জল কে দেখে? নিষ্ফল সব মিনতি।
যুবক কী মধ্য বয়সী কেউ কেউ ষাটোর্ধ; ক্ষতবিক্ষত
মা’কে বাঁচাতে পারিনি বেশি দিন, ভাইটাও নিখোঁজ, যাক-
একজনের সাথে বিয়ে হলো, ভাবলাম- নতুনভাবে বাঁঁচবো,
স্বামী, বেড়ানোর কথা বলে- নিয়ে এলো এখানে, চুপ করে
চলে গেলো, চেতনা এলে বুঝলাম- ফেরার পথ নেই, বিক্রিত।

পৃথিবীটা অন্যরকম, অন্যভাবে বাঁচা শুরু হলো, একদিন
আঁচ করলাম- স্বামী নামক শুয়োরটার ঢেলে দেয়া শুক্রানুতে
গর্ভে প্রাণের সঞ্চার, তাকেও বাঁচাতে পারলাম না, নিজেকে
শপে দিলাম এখানেই, যতদিন শরীরের টান আছে- ছোট-বড়
ভেদাভেদ ভুলে এই খাটটাতে ‘সুখ’ বেচেই যাবো—;
তারপর কোন একদিন বেশ্যা থেকে রাস্তার ভিখারিনী,
লাশ যাবে আঞ্জুমানে, আমি বড্ড বে-ওয়ারিশ।”

শুধুই শোনলাম, আজও নিরবেই ফিরলাম, কিছুটা এসে
শুনতে পেলাম- “কী হলো? কিছু না বলেই চলে যাচ্ছো?
আদর করবে না? ঘেন্না লাগছে? লাগবেই তো, সমাজে
আলোর মধ্যে বিকৃত ভদ্দর লোকেরা তোমাদেরই গণ্য করে
এসো, এসো আমাকে যে এভাবেই বাঁচতে হবে আমি তো ‘মানুষ’ নই।”

তারপর দিনই জানলাম-, “দেহোপজীবিনী শিশির সিলিং ফ্যানে ঝুলেছে–।
——————–
২৭/০৭/১৭ইং

এস আই তানভী
কবিতা গল্প আর অন্যের জীবনী জানা আপন জীবনের এক চরম নেশা