অপরাধবোধ – বিকাশ দাস

0
100

পল্লবীর বাবা মেয়ের বিয়ে জানাশোনা পরিবারের মধ্যে বিলাসের সাথে দেয়। বিয়ের পর এটাই তাদের প্রথম দুর্গাপুজো। পল্লবী সাজগোছে মুখে চড়া-মেকআপ,ভারিভারি গয়না, জমকালো শাড়ি খুব একটা পছন্দ নয়। বিলাসের আর্জিতে করতে হয়।
নবমী রাতে আশেপাশের ঠাকুর দর্শন করে পাড়ার পুজো প্যান্ডেলে এসে বিলাসকে এক জায়গায় বসিয়ে বলে। তুমি এখানে থেকো আমি এখুনি আসছি।
অপর্ণা বিলাসকে দেখে চিনতে পেরে…
– বিলাস। তুমি এখানে।
– ম্যাডাম আপনি! এখানে আমার শ্বশুর বাড়ি।
– কোথায়?
– বোস পাড়ায়। আমার শ্বশুর মশায় বিমলেন্দু বোস।
– উনিতো এই রাজ্যের মন্ত্রী ছিলেন।
– হ্যাঁ।
– আচ্ছা। ওনার মেয়ের নাম পল্লবী।
– হ্যাঁ। আপনি পল্লবীকে চেনেন?
– হ্যাঁ চিনি। আমি বোস বাড়ির হাউস-ফিজিসিয়ন ছিলাম। তাছাড়া পল্লবী আমার ছেলের বন্ধু।একই স্কুল কলেজে পড়াশোনা করেছে। খুব ভালো মেয়ে। একফোঁটা অহংকার নেই। মনেই হয়না মন্ত্রীর মেয়ে।
পল্লবী দূর থেকে দেখতে পেলো বিলাস অপর্ণা ম্যাডামের সাথে কথা বলছে। দেখে বুক আঁতকে উঠলো। মনে মনে খুব ভয় পেলো। ম্যাডাম বিলাসকে সব জানিয়ে দেবে নাতো? অর্ণবের সুইসাইড। আমার গর্ভে অর্ণবের সন্তান।
হন্তদন্ত করে বিলাসের কাছে আসতেই অপর্ণা ম্যাডাম বলেঃ
– পল্লবী। তোমার বর খুব ভালো হয়েছে। অনেক গল্প হলো। বিয়ে করলে একবার জানালে না?
– না ম্যাডাম। তা নয়। বিয়েটা হঠাৎ করে হয়ে যায়। তাই বাবা সকলের সাথে যোগাযোগ করে জানাতে পারেননি। তোমার খোঁজ নিয়েছিলাম। তুমি তখন চেন্নাই গিয়েছিলে তোমার ছেলের কাছে।
– পল্লবী। তোমাকে শাঁখা পলা সিঁদুরে খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। তোমার চোখে মুখে অপাপবিদ্ধ আলোর দৃষ্টি। বিলাসের পাশে দিব্যি মানিয়েছে একেবারে লক্ষ্মী নারায়ণ।
– তুমি বিলাসকে কি আগে থেকে জানতে?
– সেটা বিলাসের কাছে জেনে নিও। অভয় দিচ্ছি। কেউ কিছু জানবেনা। সুখে সংসার করো।