৩. ভবনে আসিল অতিথি সুদূর – কাজী নজরুল ইসলাম

টোড়ির পর যে সব সারং গীত হয় তার মধ্যে শুদ্ধ সারং ও গৌড় সারং ছাড়া অন্য রাগে তীব্র মধ্যম নেই। গৌড় সারংকে দিনের বেহাগও বলা হয়। দুপুর বেলায় এই রাগ গাওয়া হয়। এরও দুই ‘মা’। এর দুই ‘মা’-র উপরে সমান টান। এর চলন অত্যন্ত বাঁকা। এর খেয়াল গান গাওয়া হচ্ছে, শুনলেই এর বাঁকা স্বভাবের পরিচয় পাবেন।

গৌড় সারং – তেতালা

ভবনে আসিল অতিথি সুদূর।

সহসা উঠিল বাজি রুমুরুমু ঝুমু

নীরব অঙ্গনে চঞ্চল নূপুর॥

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ মুহু মুহু বন-কুহু বোলে

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ দোয়েল শ্যামল ডালে দোলে,

 ​​ ​​ ​​ ​​​​ মেঘের ধ্যান ভুলি চমকি আঁখি খোলে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ কে গো কে’ বলে বন-ময়ূর॥

দগ্ধ হিয়ার জ্বালা ভুলায়ে

সজল মেঘের শীতল চন্দন কে দিল কে দিল বুলায়ে ।

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ বকুল-কেয়া-বীথি হতে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ ছুটে এল সমীরণ চঞ্চল স্রোতে,

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ চাঁদিনি নিশীথের আবেশ আনে

 ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​ ​​​​ মিলন-তন্দ্রাতুর অলস দুপুর॥

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।