বৃষ্টি ও মেয়েটি – বৈশালী চ্যাটার্জী

4
534

ঘনিয়ে এল যখন মেঘের মায়া
ডাকল আকাশ শীতল স্পর্শ করে
ঠিক তখনই এই গল্পের শুরু
ঠিক তখনই মন টেঁকে না ঘরে

না, না, প্রেমের চপলতা নয়
এ নয় অভিসারের উচাটন
এসব বড়ই নিজস্ব পাগলামি
কাজ ফেলে তাই হঠাৎ উদাস মন

এমনিতে তো দিব্যি কাটে দিন
ঠিক যেমনটি চললে সমীচীন
যেমনটিতে আপত্তি নেই কারও
তবু আকাশ উঠলে সেজে মেঘে
মনের কোণে ছায়া ঘনায় তারও

তারপর মন জল ঝরাতে চায়
মেঘের মতোই গুমরে গুমরে ওঠে
যদিও আছে লোকের চোখের শাসন
বাজ পড়ে তাই শব্দ হয়না মোটে

বাইরে যখন অঝোর ধারা ঝরে
মেয়েটি ঠিক নিরালা সন্ধানী
সব কথা, কাজ, হিসেব নিকেশ ছেড়ে
নীরবে ঘাঁটবে বেদনার মালা খানি

চারপাশ যেই জলরঙে আঁকা ছবি
অমনি সে মেয়ে আপনার মুখোমুখি
কি যেন নেই, কি যেন হয়নি পাওয়া
কিসের বিহনে মেয়েটি অমন দুখী?

নিজেও জানে না, জানেনি সে কোন দিনই
বর্ষা কেন যে বেদনার তার কাছে
নিয়মতে চলা ছত্রখান
গভীরে এমন কাঙালপনাও আছে?

যাহোক এমনি কেটে যাচ্ছিল দিন
পাপস্থলন হয়ে যাচ্ছিল বেশ
কেবল বৃষ্টি ঝরাতে আড়াল খোঁজা
এবং ভাবনা- না যেন থাকে রেশ

এমন সময় অবেলায় এলে তুমি
নিঃসংকোচে বাড়িয়ে দিলে দুহাত
বুকের ভিতর দুরন্ত নদী জাগে
উদ্দাম হয়ে ছেড়ে যায় মরা কাঠ

এমনি করেই আকুল ছন্দে মেতে
বর্ষা হল অকারণ খুশি দিন
মেঘ গুলো হল নির্বার ছায়া ছায়া
কারও কাছে নেই বেদনার কোন ঋণ

আমার বর্ষা তোমাকেই পেতে চায়
মেঘদূত হয়ে মন আমার উড়ে চলে
বেদনা ফুরিয়ে অভিসার-সাজে সাজে
এখনতো প্রানে তৃষ্ণা মেটাবে বলে…

4 মন্তব্য

  1. বাহ! অসাধারণ! মন ভরে গেল। ধন্যবাদ কবিকে। খুব সুন্দর পেজ। এই ওয়েবসাইটটিকে ভালবেসে ফেললাম। কবির সোশ্যাল সাইটের কোন লিংক থাকলে দিলে খুশি হতাম।

  2. ছন্দের কারুকার্যে কবিতাটা আকর্ষণীয়। রোমান্টিকতো অবশ্যই। ‘নিঃসংকোচে বাড়িয়ে দিলে দুহাত’ এই লাইনটিতে ছন্দের পতন ঘটেছে। যদি বলা হোত নিঃসংকোচে বাড়ালে দুহাত। তবে ছন্দ রক্ষিত হোত। আমি ছন্দের টিচার নই। তবে যারা ছন্দ ব্যবহার করে আমি বলি তারা যেন যাচাই বাছাই করে ছন্দ ব্যবহার করে। ছন্দ ইজ নাথিং বাট কমন সেন্স। মনে রাখতে ভুলবেন না সাহিত্যিকরাই কবিতা পড়ে। ধৃষ্টতা নেবেন না। ভাল থাকবেন। সব মিলিয়ে কবিতাটা ভাল লেগেছে।

দয়া করে মন্তব্য করুন

দয়া করে মন্তব্য করুন
দয়া করে আপনার নাম লিখুন