নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

চিরমায়া – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

বাহিরে দেখি না, শুধু স্থির জানি ভিতরে কোথাও
চৌকাঠে পা রেখে তুমি দাঁড়িয়ে রয়েছ,
চিরমায়া।
দাঁতে-চাপা অধরে কৌতুক স্থির বিদ্যুতের মতো
লগ্ন হয়ে আছে, ভুরু
বিদ্রুপের ভঙ্গিতে বাঁকানো, জ্বলেRead More »চিরমায়া – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

জয় কালী – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পঁয়তাল্লিশ বছর বাদে দেখা, তবু কারও
ভুলভাল হল না।
এসপ্ল্যানেডে বর্ষার সন্ধ্যায়
এক-নজরে দুজনেই দুজনকে চিনলুম। পক্ককেশ
পৌঢ় পরক্ষণে
বালকের মতো হাসল, প্রশ্ন করল, “কী রে,
আজকাল কোত্থেকে ঘুড়ি কিনিস? আবদুল
মৌলালির মোড়ে
এখনও লাটাই ঘুড়ি টানা-মাঞ্জা বিক্রি করে নাকি?”Read More »জয় কালী – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

ঠাকুমা বলতেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

ঠাকুমা বলতেন, “দাদা, খুব বেশি তো আর
বাঁচব না, এখন তাই সাধ্যমতো আল্‌গা দিয়ে থাকি।
যে অল্প সময় আছে বাকি,
দেখতে-দেখতে কেটে যাবে, তোমরা থাকো ভাল।
আমি দেখি কী করে আমার
আঁচলের গিঁটগুলোকে ধীরেসুস্থে খুলে ফেলা যায়।”
(যখনই বলতেন, বড় নম্র একটা আলো
ভেসে উঠত শান্ত দুটি অনচ্ছ চক্ষুর জানালায়।)Read More »ঠাকুমা বলতেন – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

অঞ্জলিতে ছেলেবেলা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

এই তো আমার অঞ্জলিতেই মস্ত পুকুর,
কেউ আচম্‌কা ছুঁড়লে ঢেলা
দেখতে থাকি কেমন করে প্রকাশ্য হয়
খুব নগণ্য ছেলেবেলা।Read More »অঞ্জলিতে ছেলেবেলা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

অরণ্য-বাংলোয় রাত্রি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

নাকারা নাকারা কারা কারা…
ঘুমের গহ্বর থেকে মধ্যরাতে জেগে উঠল পাড়া
অরণ্যের অন্দর-মহলে।
আকাশ নির্মল নয়, কিছু জ্যোৎস্না ছড়াবার ছলে
জলেস্থলে চতুর্গুণ রহস্য ছড়ায়
হলুদ বর্ণের চাঁদ। কে যায়, কে মধ্যরাতে
দ্রুত হাতেRead More »অরণ্য-বাংলোয় রাত্রি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

এ কেমন বিদ্যাসাগর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলি আজ
হাজার টুকরো হয়ে
হাজার জায়গায় ছড়িয়ে আছে।
আমার বালিকাবয়সী কন্যা যেমন
নতজানু হয়েRead More »এ কেমন বিদ্যাসাগর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কাম্‌ সেপটেমবর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কনেকটিকাট অ্যাভেনিউয়ের উপরে আমি দাঁড়িয়ে ছিলুম।
তখন সেপটেমবর মাস,
নতুন বিশ্বে গাছের পাতা তখন হলুদ হয়ে যাচ্ছে।
শেষ রাত্তিরে বৃষ্টি হয়েছিল,
রাস্তার উপরে তার চিহ্ন তখনও মুছে যায়নি।
ইতস্তত জলের বৃত্ত,
তার মধ্যে ঝিকিয়ে উঠছে সকালবেলার রোদ্দুর।
দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে আমি দেখছিলুম।
কাফেটেরিয়ায় গান বাজছিল:
কাম্‌ সেপটেমবর।Read More »কাম্‌ সেপটেমবর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

নিজ হাতে, নিজস্ব ভাষায় – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

এখন নিজস্ব শ্রমে যাবতীয় উদ্যানের বেড়া
বেঁধে দিতে ইচ্ছা হয়।
স্নেহের চুম্বনখানি এঁকে দিতে ইচ্ছা হয়
সমস্ত শিশুর গালে।
সমস্ত দেওয়ালে
এখন নিজস্ব হাতে নিজস্ব ভাষায় গিয়ে লিখবার সময়:
কে ভালবাসার দিকে তুলেছ বন্দুক,
দূরে যাও।Read More »নিজ হাতে, নিজস্ব ভাষায় – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

বকুল, বকুল, বকুল – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

‘সামনে রিফুকর্ম চলছে,
পিছন দিকে রাস্তা বন্ধ!’
এই, ওরা কী যা-তা বলছে!
বকুল, তোমার বুকের গন্ধ
এই অবেলায় মনে পড়ে।Read More »বকুল, বকুল, বকুল – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

শব্দে শব্দে টেরাকোটা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমি কি তোমার কাছে সনন্দ দিয়েছি কবিতার,
যে আমি তোমার জন্যে যাব
পাতালে, অথবা ঊর্ধ্বে আকাশে ফোটাব
তোমারই আলেখ্য? ঝানু বুড়ো,
আমি কি তোমার কাছে সনন্দ নিয়েছি কবিতার?Read More »শব্দে শব্দে টেরাকোটা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমার ভিতরে কোনো দল নেই – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমার পিছনে কোনো দল নেই, আমার ভিতরে
দলবদ্ধ হবার আকাঙ্ক্ষা নেই, আমি
সাদা কালো লাল নীল গাং-গেরুউয়া জাফরান বাদামি
হরের রঙের খেলা দেখে যাই।
একলা-পথে হাঁটতে-হাঁটতে একলা আমি ঘরে
ফিরে যাব। যেতে-যেতে ধুলোবালি জঞ্জালে ও ঘাসে
খানিকটা প্রশংসা আমি রেখে যাই।
দেখি শুকনো পাতা উড়ছে হিলিবিলি সন্ধ্যার বাতাসে।Read More »আমার ভিতরে কোনো দল নেই – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমি ও তিনি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আমি বললুম, “এটা কিছু নয়।”
তিনি বললেন, “এটাই
মন্দাকিনীর ধারা নিশ্চয়,
এতেই তৃষ্ণা মেটাই।”Read More »আমি ও তিনি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কালো অ্যাম্বাসাডর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কালো অ্যাম্বাসাডরের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর কথা
অকস্মাৎ ঘুরে যায়
খুন, দাঙ্গা, রাহাজানি ইত্যাদির দিকে।
অতঃপরRead More »কালো অ্যাম্বাসাডর – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কিছু-বা কল্পনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

প্রত্যেকটা প্রসাদ কিছু শূন্যতা রচনা করে যায়,
আলোকিত মঞ্চের পিছনে থাকে অন্ধকার,
ট্রেন চলে যাবার পরে প্ল্যাটফর্মটা আবার
খাঁখাঁ করতে থাকে,
নিঃশব্দে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে খোলা জানালায়
চক্ষু রাখে
মালবাবুর বউ,
এই ছোট্ট শহর ছেড়ে তার কখনও দিল্লি বা লখনউ যাওয়া হয়নি।Read More »কিছু-বা কল্পনা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

খুকুর জন্য – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

যার যেখানে জায়গা, যেন সেইখানে সে থাকে।
যা মনে রাখবার, যেন রাখে
নিতান্ত সেইটুকু।
খুকু,Read More »খুকুর জন্য – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

জানকী-চটি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

রাত্রে নেমে আসে দুগ্ধধবল পাহাড়
জানলার উপরে।
ঘরে আলো নেই, কিন্তু সমস্ত আকাশে খেলা করে
শুক্লা যামিনীর জ্যোৎস্না। মনে হয়,
কস্মিনকালেও কোনো ইঁদুরের ঘাড়
বেড়ালের দাঁতে
ছিন্ন হয়নি, অথবা সময়
কখনও খণ্ডিত হয়নি দণ্ড-মাস-বর্ষের করাতে।Read More »জানকী-চটি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তা নইলে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কিছু পেলে কিছু দিয়ে দিবি,
তা নইলে পৃথিবী
চলতে-চলতে একদিন চলবে না।Read More »তা নইলে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তোমার জন্য ভাবি না – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তুমি তোমার ছেলেকে
অহোরাত্রি অসংখ্য মিথ্যার বিষ গলিয়েছ।
শৈশবে সে হাসেনি,
কেননা
সমবয়সীদের সে শত্রু বলে জানত।
যৌবনে সে নারীকে ভালবাসেনি,Read More »তোমার জন্য ভাবি না – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পাতাগুলি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পাতাগুলি উল্টেপাল্টে নিজেকে দেখায়
যখনই বাতাস এসে নাড়া দিয়ে যায়
বৃক্ষের বাড়িতে
অশ্বত্থের পাতা
এক্ষুনি সবুজ, কিন্তু পরক্ষণে সাদা।Read More »পাতাগুলি – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

হেমলতা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কিছু কথা অন্ধকারে বিদেশে ঘুরছে,
কিছু কথা বাতাসে উড়ছে,
কিছু কথা আটকে আছে পাথরের তলে,
কিছু কথা ভেসে যাচ্ছে কাঁসাইয়ের জলে,
পুড়তে-পড়তে শুদ্ধ হয়ে উঠছে কিছু কথা।Read More »হেমলতা – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

রক্তপাত, পড়ন্ত বেলায় – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আজকের মতো খেলা তো প্রায়
খতম হতে চলল।
আর মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি।
যাও বাছা, মাঠে গিয়ে
এই পাঁচটি মিনিট তুমি কোনোক্রমে দাঁড়িয়ে থাকো।Read More »রক্তপাত, পড়ন্ত বেলায় – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

স্বপ্নে-দেখা ঘরদুয়ার – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

পুকুর, মরাই, সবজি-বাগান, জংলা ডুরে শাড়ি,
তার মানেই তো বাড়ি।
তার মানেই তো প্রাণের মধ্যে প্রাণ,
নিকিয়ে-নেওয়া উঠোনখানি রোদ্দুরে টান্‌-টান্‌।
ধান খুঁটে খায় চারটে চড়ুই, দোলমঞ্চের পাশে
পায়রাগুলো ঘুরে বেড়ায় ঘাসে।Read More »স্বপ্নে-দেখা ঘরদুয়ার – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কাঁচের বাসন ভাঙে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

কাঁচের বাসন ভাঙে চতুর্দিকে–ঝন্‌ঝন্‌ ঝন্‌ঝন্‌!
মাথার ভিতরে সেই শব্দ শুনি,
রক্তের ভিতরে শব্দ বহে যায়।
আলো নেই ঘরে।
এইমাত্র কাছে ছিলে, অকস্মাৎ গিয়েছ কোথায়,Read More »কাঁচের বাসন ভাঙে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

চতুর্থ সন্তান – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

দুটি কিংবা তিনটি বাচ্চা, ব্যস!
সভ্যতার সায়ংকালীন এই স্লোগানের অর্থ বুঝে নিয়ে,
চতুর্থ সন্তান, তুমি ঘরের ভিতরে
দেওয়ালের দিকে মুখ রেখে
গুম হয়ে বসে আছ।Read More »চতুর্থ সন্তান – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

তখনও দূরে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

রাস্তা পেরোলেই বাড়ি
কিন্তু বাড়ি তখনও অনেক দূর।
বাবা তাঁর কাজের টেবিলে মগ্ন, এ-ঘরের থেকে অন্য ঘরে
দিদির চঞ্চল ছায়া সরে যায়,
রেলিঙে মায়ের নীল শাড়ি।Read More »তখনও দূরে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

দেশ দেখাচ্ছ অন্ধকারে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

দেশ দেখাচ্ছ অন্ধকারে :
এই যে নদী, ওই অরণ্য, ওইটে পাহাড়,
এবং ওইটে মরুভূমি।
দেশ দেখাচ্ছ অন্ধকারের মধ্যে তুমি,
বার করেছ নতুন খেলা।
শহর-গঞ্জ-খেত-খামারে
ঘুমিয়ে আছে দেশটা যখন, রাত্রিবেলা
খুলেছ মানচিত্রখানি।Read More »দেশ দেখাচ্ছ অন্ধকারে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

মধ্যরাতে, ঘুমন্ত শহরে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

একবার…দু’বার…আমি তিনবার ভীষণ জোরে
তোমাকে ডেকেছি :
ইন্দিরা…ইন্দিরা…ইরা!
বৃদ্ধের শ্লেষ্মার বেগ সামলে নিয়ে উৎকর্ণ হলেন।
শিশুরা ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠল।
একতলায় দোতলায় তিনতলায়
অন্ধকারে তৎক্ষণাৎ খুলে গেল অসংখ্য জানাল।Read More »মধ্যরাতে, ঘুমন্ত শহরে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

যুদ্ধক্ষেত্রে, এখনও সহজে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

রাত্রিগুলি
এখনও বাঘের মতো পিছু নেয়।
স্বপ্নগুলি
এখনও নিদ্রার পিঠে
ছুরি মেরে হেসে ওঠে।
সতর্ক ছিলাম, তবু কিছু চিহ্ন এখানে-ওখানে
থেকে গিয়েছিল।Read More »যুদ্ধক্ষেত্রে, এখনও সহজে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

সন্ধ্যাসংগীত, প্রভাতসংগীত – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

বায়বীয় চাঁদকে নিয়ে
এই আমাদের
শেষ কবিতা, আমরা লিখে দিলাম।
সময়ের জল-বিভাজিকায় দাঁড়িয়ে
মানবীয় চাঁদকে নিয়ে
এই আমাদের প্রথম কবিতা।Read More »সন্ধ্যাসংগীত, প্রভাতসংগীত – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আগুনের দিকে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

রাস্তাগুলি ক্রমে আরও তপ্ত হয়।
স্বজন, সঙ্গীর সংখ্যা
ক্রমে আরও কমে আসে।
হাতের মুদ্রায় তবু জাইয়ে রেখেছ বরাভয়
হাওয়ার ভিতরে তবু ভাসেRead More »আগুনের দিকে – নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী