ফুল ও পাখির দু’টো কবিতা
মাহমুদুল মান্নান তারিফ
এক.
কদম ফুলের গোল নমুনা বেশ,
ফুলের কদম রাখছে ঘিরে দেশ।
জারুল ফুলে হাত রেখেছে জুঁই,
পারুল দিল সুতা আর এক সুঁই।
টগর গাইছে শিউলিফুলের গান,
ফুলের শিউলি খুব অপূর্বা চাঁন!
শাপলা এখন বকুল নানার তীর,
দেখে নেবো নানা কেমন বীর!
ক্যান রজনীগন্ধায় জুড়ায় চোখ,
ফুলের কেনো নামহলো অশোক?
নার্গিসে খুব অশোক দাদার ভাব,
রোজ এনে দেন একটা করে ডাব!
কনকচাঁপা ঝিলিক হাসির ফুল,
তারই প্রতি নীলচিতার ভাব ভুল!
কৃষ্ণচূড়া লাল টাইম ফুল লাল,
নয়নতারা দেখতে বলছে কাল।
লালসোনাইল একটু চেয়ে দেখ,
কাঠমালতি টগর দেখতে এক!
জুমকালতি কাঠমালতির বাগ,
ভেঙ্গে দিল নাগরকেশের বাঘ!
ডালিম রঙ্গন দেখতে চাইলে যা’
কাঞ্চনগঞ্জের বাগানবিলাস গাঁ।
ধুতরা পুন্নাগ ডালিয়ার বেশ রূপ,
ওদের কথায় ক্যান যুথিকা চুপ!
সূর্যমুখীর পাঁপড়ি খোলে চিল,
চিলটা থাকে অর্কিডদের বিল।
সর্পচাঁপা দেখতে কি ঠিক সাপ!
তাইলে কেনো সর্পচাঁপায় শাপ?
দোলনচাঁপায় গায় নজরুল গীত,
প্রিয়কবির গীতগুলো খুব স্মিত।
চেরি কিংবা ব্লিডিং হার্টের ধার,
গেলে পাবে বাস বাসন্তীর মার।
রক্তজবা রক্তকমল কই?
সঙ্গী হবে!বেলীর সঙ্গে নই।
দুই.
চাঁপা ভাইগণ চামেলিদের সঙ্গে,
মেলে ডানা জ্যোৎস্না নিশির অঙ্গে।
তাদের সাথে জোনাক জ্বলে মাগো!
আমায় দেখে বলছে সবাই ভাগো।
নাচ শেফালির হাওয়ার তালেতালে
টিউলিপে দেয় চুম যে তারই গালে।
হাস্নাহেনার ভাগ্যে এসে জোটে,
রুদ্রপলাশ তার দিকে যায় ছুটে।
জুমকোজবার ইচ্ছে ছিল জানি,
বলছেটা কি করছে কানাকানি?
ফুলের শিমুল নাচছে ডালে দোয়েল,
তাদের সাথে বাঁধছে সারি কোয়েল।
ময়নাটা তো গয়না চুরি করে,
ধরা খেয়ে গাঁদার বাড়ি মরে।
গন্ধরাজে গন্ধের অভাব আছে,
কাঠগোলাপের গন্ধে এরা বাঁচে!
তারাফুলের মালা পরে ঠাকুর,
নিচ্ছে হাতে অন্য দুটো ডাকুর।
অনেক সুন্দর কেয়া,দোলনচাঁপা,
মল্লিকা-কাশ,হিম লুপিনের আপা।
ফুলের বরুণ শ্যামল-সবুজ পাতা,
বাঁধছে দারুণ পাতায়পাতায় ছাতা!
ছাতার উপর টুনটুনিটার বাসা,
মিনজিরিকে নিয়ে কি তার আশা?
কামিনী ও কলমি আরো কতো,
জাহান ভরা কুসুম হাজার শতো।
৩০ ডিসেম্বর ২০১৭