Skip to content

রোবটের সাথে রাজকুমারীর বিয়ে -বিচিত্র কুমার

এক ছিল রাজ্য, নাম তার “চাঁদপুর।” রাজ্যটি যেমন সুন্দর, তেমনি মজার মানুষে ভরা। রাজ্যের রাজার নাম রাজা চম্পক, আর তার একটাই মেয়ে—রাজকুমারী চন্দ্রমল্লিকা। রাজকুমারী দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি বুদ্ধিমতী আর একেবারে গেঁয়ো মেয়ে। সাধারণ রাজকুমারীদের মতো তিনি একটুও নন; বরং সারাক্ষণ দুষ্টুমি আর মজা নিয়ে থাকতে পছন্দ করেন। রাজ্যের সবাই তাকে খুব ভালোবাসে, কিন্তু রাজা চম্পক মহা বিপদে। কারণ, তার মেয়ে বিয়ে করতে একেবারে রাজি নয়।

একদিন রাজা চম্পক ধৈর্য হারিয়ে ঘোষণা দিলেন, “যে ব্যক্তি আমার মেয়েকে এমন হাসাবে যে তার পেটের ব্যথা ওঠে, তাকেই আমি আমার মেয়ের সাথে বিয়ে দেব।” এই ঘোষণা শুনে দূরদূরান্তের রাজ্য থেকে রাজপুত্ররা আসতে লাগল। একে একে আসা শুরু হলো রাজপুত্রদের মিছিল।

কেউ গান গেয়ে, কেউ কবিতা শুনিয়ে, আবার কেউ চমকপ্রদ ম্যাজিক দেখিয়ে চেষ্টা করল। কিন্তু চন্দ্রমল্লিকা কাউকেই পাত্তা দিল না। সব রাজপুত্রকে দেখেই তার মুখে বিরক্তি আর গলায় মজার তাচ্ছিল্য। “তোমরা সবাই একেবারে কাঠখোট্টা,” বলে সে একেকজনকে বিদায় দিত। রাজা চম্পক মাথায় হাত দিয়ে ভাবছেন, এভাবে চলতে থাকলে তার রাজ্যের রাজপুত্র সংগ্রহ শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু রাজকুমারীকে পছন্দমতো পাত্র খুঁজে দিতে পারবেন না।

তখনই রাজ্যে প্রবেশ করল এক অদ্ভুত প্রাণী—এক যান্ত্রিক রোবট! তার নাম টিংটং। বিশাল লোহালক্কড়ের শরীর, লাল লাইট দিয়ে ঝলমলে চোখ, আর মুখে একটি মাত্র শব্দ, “টিংটং!”

রাজা চম্পক প্রথমে রোবটকে দেখে খানিকটা ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, “এ আবার কোন যন্ত্রমানব?” কিন্তু রাজকুমারীর তো অন্যরকম অনুভূতি—তাকে দেখেই তার হাসি ছুটে গেল। সে বলল, “আচ্ছা, বাবা, এবার তো মজার কিছু হলো!”

রোবট টিংটং সামনে এসে বুকে হাত দিয়ে ঘোষণা করল, “হে মহামান্য রাজা, আমি এসেছি রাজকুমারীর হৃদয় জয় করতে। আমিই হবো তার বর।”

এই কথা শুনে রাজা প্রথমে হেসে কুটিকুটি হয়ে গেলেন। তবে তিনি বললেন, “আচ্ছা, তবে তুমি যদি সত্যিই রাজকুমারীকে হাসাতে পারো, তাহলে আমি কথা দিয়ে ফেলছি যে তার সাথে তোমার বিয়ে হবে।”

রোবট মাথা ঝাঁকিয়ে এক পায়ের ওপর লাফাতে শুরু করল। আর সাথে সাথে বলতে লাগল, “আমি টিংটং, আমার বউ হবে চন্দ্রমল্লিকা, আর সে হবে টিংটং টিংটং কা কা কা!” এই কা কা শব্দে সব পাখি উড়ে পালালো, আর রাজা আর রাজকুমারী হাসতে হাসতে একেবারে লুটিয়ে পড়ল। এমন মজার রোবট কে আর রাজকুমারীর যোগ্য পাত্র হতে পারে?

বিয়ের আয়োজন শুরু হলো ধুমধাম করে। রাজ্যের লোকজন অবাক—এক রোবট আর এক রাজকুমারীর বিয়ে! বিয়ের দিনে টিংটং রোবট গায়ে চাঁদ-তারার মতো ছোট ছোট আলো লাগিয়ে সাজগোজ করে হাজির। সে হাসতে হাসতে রাজকুমারীকে বলল, “তুমি আমার লেডি বোতল, আমি তোমার মিস্টার স্ক্রুড্রাইভার!” রাজকুমারী তো হাসতে হাসতে কাঁদে।

বিয়ের পর টিংটং একটা বড়সড় চমক দিল। সে রাজকুমারীকে বলল, “প্রিয় চন্দ্রমল্লিকা, আমরা মঙ্গলগ্রহে হানিমুনে যাব। তুমি যেতে রাজি?”

রাজকুমারী একেবারে আকাশ থেকে পড়ল। তবে তার মধ্যে দুষ্টুমিও কম নয়, সে বলল, “হ্যাঁ, চল মঙ্গলগ্রহে। দেখি, সেখানে কী আছে!”

তখনই রোবট তার যান্ত্রিক হাত দিয়ে একটি বোতাম চেপে দিল, আর ধপ করে দুজনেই একটা বিশাল রকেটের ভেতরে গিয়ে বসলো। ধোঁয়া উঠতে উঠতে রকেট ছুটে চলল মঙ্গলগ্রহের দিকে। মঙ্গলগ্রহে গিয়ে রাজকুমারী আর রোবটের কী মজাই না হলো! চারদিকে লাল মাটি, অদ্ভুত সব পাহাড় আর কোথাও কোথাও বরফ। রাজকুমারী মুগ্ধ হয়ে বলল, “ওরে টিংটং, এমন জায়গা কোথাও দেখিনি!”

রোবট তখন আনন্দে গাইতে লাগল, “হেই মঙ্গল, বউ সঙ্গে দিলাম টংটং, তুমি দাও লাল মাটি, হুম হুম হুম!”

মঙ্গলগ্রহ থেকে ফিরে আসার পর রাজকুমারী আর রোবট মিলে এক নতুন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করল, যার নাম দিল “টিংটং রাজ্য।” সেই রাজ্যের প্রথম নিয়ম ছিল—যারা সেই রাজ্যে বাস করবে, তাদেরকে সবসময় হাসিমুখে থাকতে হবে। সবার মধ্যে হাসি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যজুড়ে চালু হলো রোবট-রাজকুমারীর নানা রকমের দুষ্টুমির মজার মজার আয়োজন।

সেই টিংটং রাজ্যে প্রতিদিন মজার মজার কাণ্ডকারখানা চলত, আর মানুষ হাসতে হাসতে ঘুমাতে যেত। এখনো সেই রাজ্যের গল্পে বড় ছোট সবাই হাসে, আর কেউ শুনলেই বলে ওঠে, “ওই যে, রোবট আর রাজকুমারীর সেই বিয়ের গল্পটা বলো তো, যেখানে হাসতে হাসতে সবাই একদিন পেটে ব্যথা পেয়েছিল!”

এভাবেই রোবট আর রাজকুমারীর মজার রাজ্য চিরকাল সুখে-শান্তিতে হাসি দিয়ে ভরে থাকল।

নামঃ বিচিত্র কুমার
গ্রামঃ খিহালী পশ্চিম পাড়া
পোস্টঃ আলতাফনগর
থানাঃ দুপচাঁচিয়া
জেলাঃ বগুড়া
দেশঃ বাংলাদেশ
মোবাইলঃ 01739872753

https://www.facebook.com/profile.php?id=100014642137028&mibextid=ZbWKwL

মন্তব্য করুন