(০১)
শপিং মলে গিয়ে টয়লেট খোঁজা
-বিচিত্র কুমার
শহরের নতুন শপিং মলটি দেখতে এলেন গোপাল। গোপাল সাধারণ মানুষ হলেও তাঁর ভেতরে একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে—তিনি যেখানে যান, প্রথমেই টয়লেটটা খুঁজে বের করেন। তাঁর মতে, “টয়লেটের অবস্থান না জানলে মানুষ আসলেই বিপদে পড়ে।”
মলে ঢুকেই চারদিকে রঙিন আলো, চকচকে দোকানপাট দেখে গোপালের মাথা ঘুরে গেল। কোথাও জামা-কাপড়, কোথাও জুতো, আবার কোথাও ইলেকট্রনিক্স। চারদিকে এমন ভিড় যে মনে হচ্ছিল পুরো শহর এসে জড়ো হয়েছে। কিন্তু গোপালের মাথায় একটাই চিন্তা—“টয়লেটটা কোথায়?”
তিনি এক দোকানে ঢুকে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলেন,
—“ভাই, এখানে টয়লেট কোথায়?”
বিক্রেতা অবাক হয়ে বলল,
—“স্যার, আমরা তো মোবাইল বিক্রি করি!”
গোপাল আরেক দোকানে গেলেন। সেখানে মেয়েদের প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছিল। তিনি গম্ভীর মুখে বললেন,
—“আপনারা কি টয়লেটও বিক্রি করেন?”
দোকানদারী ভ্রু কুঁচকে বললেন,
—“মশাই, এটা কি মেলার দোকান মনে হচ্ছে?”
বেচারা গোপাল তখন হাপাতে শুরু করলেন। হঠাৎ তিনি একটা বড় বিজ্ঞাপন বোর্ডে দেখলেন—“বিশেষ ছাড় চলছে, টয়লেট সোপ ৫০% কম দামে!” আনন্দে চিৎকার করে বললেন,
—“পেয়ে গেছি! অবশেষে টয়লেট!”
দৌড়ে গিয়ে বোর্ডের নিচে ঢুকতেই দেখলেন দোকান ভর্তি সাবান। গোপাল হতাশ হয়ে বললেন,
—“আহা! আমি তো আসল টয়লেট খুঁজছিলাম, সাবানের টয়লেট না।”
এবার তিনি সিকিউরিটি গার্ডের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
—“ভাই, একটু বলবেন, টয়লেট কোথায়?”
গার্ড হেসে বলল,
—“স্যার, টয়লেট খুঁজতে হলে তিনতলায় যান। কিন্তু আপনি চাইলে সোজা আমার কেবিনেই বসে পড়তে পারেন।”
এই কথা শুনে আশেপাশের সবাই হো হো করে হেসে উঠল। গোপাল লজ্জায় কান লাল করে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠলেন। অবশেষে টয়লেট পেয়ে যখন বেরোলেন, তখনও লোকজন হাসাহাসি করছিল।
গোপাল নিজের মনে বললেন,
—“শপিং মল যতই আধুনিক হোক, আগে টয়লেটের খোঁজ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। না হলে মানুষ শপিংয়ের বদলে হাসির খোরাক হয়ে যায়!”
(০২)
আলু কিনে কলা ভেবে খাওয়া
-বিচিত্র কুমার
হরিদাস ভীষণ অগোছালো মানুষ। বাজারে গেলেই তার মাথা ঘুরে যায়—কোথায় কোন সবজি, কোনটা ফল, কোনটার দাম কত—কিছুই সে বুঝে উঠতে পারে না। একদিন সকালে বউ তাকে কঠিন দায়িত্ব দিলেন,
—“শোনো, আজ বাজার থেকে ভালো করে কলা এনে দিও, সকালের নাশতায় খাওয়া হবে।”
হরিদাস তড়িঘড়ি করে বাজারে গেলেন। চারদিকে লোকজনের ভিড়, সবজি আর ফলের দোকান একসাথে গাদাগাদি। তিনি গিয়ে এক দোকানে দেখলেন ঝুড়িতে অনেকগুলো লম্বাটে জিনিস রাখা আছে। উপরে মাটির গুঁড়ো লেগে একটু ধূলো ধূলো। হরিদাস ভাবলেন, “আহা! এ যে একেবারে দেশি কলা! একটু মোটা মোটা আর মাটির গন্ধও আছে। এটাই তো সবচেয়ে ভালো।”
তিনি দাম না করেই এক কেজি কিনে ফেললেন। বেচারা দোকানদারও অবাক হয়ে ভাবলেন, লোকটা নিশ্চয়ই আলুর প্রতি অদ্ভুত ভালোবাসা রাখে।
বাড়ি ফিরে হরিদাস বিজয়ী ভঙ্গিতে কলসির ভেতর থেকে ‘কলা’ বের করলেন। বউ চমকে উঠে বললেন,
—“এগুলো কী?”
হরিদাস গর্ব করে বললেন,
—“এই যে, দেশি কলা। একটু মাটি লেগে আছে, কিন্তু খেতে দারুণ হবে।”
কথা না বাড়িয়ে তিনি একটা আলু খোসা ছাড়ানো ছাড়াই মুখে ঢুকিয়ে চিবোতে শুরু করলেন। প্রথম কামড়েই দাঁত ভাঙার অবস্থা! মুখ বিকৃত করে চিৎকার করলেন,
—“হায় হায়, এ কোন কাঁচা কলা! একেবারেই পাকেনি!”
বউ তখন হো হো করে হাসতে লাগলেন। পাশের ঘর থেকে বাচ্চারাও ছুটে এসে বলল,
—“বাবা, তুমি তো কলার বদলে আলু খাচ্ছো!”
গোটা বাড়ি হাসির রোল পড়ে গেল। হরিদাস লজ্জায় মাথা চুলকাতে চুলকাতে বললেন,
—“আচ্ছা আচ্ছা, তাহলে আজ নাশতায় কলা নয়, আলুর ভাজি খাওয়া হবে!”
সেদিন থেকে হরিদাস বাজারে গেলে দোকানদাররা মজা করে বলে ওঠে,
—“আরে দাদা, আজ আবার আলু কিনে কলা ভেবে খাবেন নাকি?”
দুপচাঁচিয়া, বগুড়া।