Skip to content

তিন পাগলের বিয়ে -বিচিত্র কুমার 

একটা ছোট্ট গ্রামে ছিল তিনজন বিখ্যাত পাগল—হারু, শফি, আর কার্তিক। তাদের পাগলামি ছিল একেবারে আলাদা আলাদা ধাঁচের। হারু সবসময় নিজেকে রাজা মনে করত, ময়লা একটা পুরোনো টুপি মাথায় দিয়ে গ্রামের মধ্যে হাঁটত আর ঘোষণা দিত, “আমি তোমাদের রাজা! সবাই আমার প্রজা!” শফি ছিল উল্টো পাগল, সে সবকিছু উল্টো দেখত—মানুষকে গাছ ভাবত, আর গাছের সাথে গল্প করত। আর কার্তিক ছিল পুরোপুরি বিয়ে পাগল, তার মাথায় দিনরাত ঘুরত শুধু বিয়ের কথা। সে দাবি করত, “আমি বিয়ে করব সূর্যকে!”

একদিন তিনজন মিলে একসাথে বসল। হারু বলে উঠল, “আমার রাজ্যে বিয়ে হবে, রাজা তো একটা রানী চাই!” শফি সঙ্গে সঙ্গে সায় দিল, “ঠিক বলেছ! কিন্তু আমরা তো মানুষ নই, গাছদের বিয়ে করতে হবে!” কার্তিক তার স্বপ্নের বউকে খুঁজে নিয়ে বলল, “আমার বউ হবে সূর্য! আমি সূর্যকেই বিয়ে করব!”

তারা মিলে মহা বিয়ের আয়োজন করল। গ্রামে সাড়া পড়ে গেল। ঠিক হলো, হারু বিয়ে করবে একটা বিশাল তালগাছকে, শফি বিয়ে করবে এক লম্বা বাঁশগাছকে, আর কার্তিক বিয়ে করবে আকাশের সূর্যকে। বিয়ের দিন সকাল থেকেই মণ্ডপে ঢোল, করতাল, আর বাঁশির আওয়াজে উৎসব শুরু হয়ে গেল।

বিয়ের দিন তিনজন সেজেগুজে হাজির হলো। হারু গায়ে রাজকীয় পোশাক, মাথায় তার টুপির জায়গায় বটগাছের ডাল নিয়ে তালগাছের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “এই হলো আমার রানী!” শফি বাঁশগাছের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “তুমি আমার গাছ, আর গাছের মতো শক্তিশালী বউ!” আর কার্তিক আকাশের দিকে তাকিয়ে সূর্য খুঁজে চিৎকার করল, “তুমি আমার বউ, সূর্য! তুমি কোথায়?”

গ্রামের মানুষ হাসতে হাসতে পাগল প্রায়। এক বাচ্চা এসে হারুর পাশে দাঁড়িয়ে মজা করে বলল, “রাজা, তোমার রানী কথা বলছে না!” হারু গম্ভীর মুখে বলল, “রানীরা রাজাদের সামনে সবসময় চুপ থাকে। বোঝো না?”

শফি তখন মগ্ন হয়ে তার বউ, মানে গাছের সাথে কথা বলছে। সে গাছের কাছে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?” গাছ তো কোনো উত্তর দেয় না। শফি হেসে বলল, “লজ্জা পেয়েছে, তাই কিছু বলছে না!”

কার্তিক তখন সূর্যের জন্য অপেক্ষা করতে করতে হতাশ। হঠাৎ মেঘ এসে সূর্য ঢেকে দিল, কার্তিক চিৎকার করে উঠল, “আমার বউ পালিয়ে গেল! সূর্য কোথায়?” এই শুনে গ্রামের সবাই হেসে গড়িয়ে পড়ল। কার্তিক তখন মেঘকে উদ্দেশ্য করে বলল, “আচ্ছা, মেঘও বউ হতে পারে, তুমি আমার বউ হবে!”

বিয়ের এমন মহা নাটক দেখে গ্রামের মানুষদের হাসি থামছেই না। সবাই বলছে, “এমন পাগলের বিয়ে আমরা জীবনে দেখিনি!” কেউ বলছে, “এরা পাগল না, মস্ত বড় বুদ্ধিমান, কারণ আমাদের এমন আনন্দ কেউ কখনো দেয়নি!”

শেষমেশ তিন পাগলের বিয়ে ঠিকঠাক হলো কিনা কেউ জানে না, কিন্তু তাদের পাগলামি দেখে গ্রামের মানুষের পেটে ব্যথা হয়ে গেল হাসতে হাসতে। এই মজার বিয়ের গল্প সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল আর সবাই হাসিতে লুটোপুটি খেল!

মন্তব্য করুন