আমি কেন লেখালেখি করি?
একটাই উত্তর, আমি যেটা পারি, সেটা কেন করব না!
হতে পারে পেশাগত ব্যস্ততা থেকে সময় বের করে সাহিত্যে মনোনিবেশ (যুগপৎ পড়া ও লেখা) করতে হলে শরীরকে একপ্রকার নিঙড়ে নিতে হয়, কারণ আমার পেশাটিও যে দারুণ রকমের বৈচিত্র্যময়, নির্মেদ সমস্ত প্রাণনৈপুণ্যে, সেখানে রোমাঞ্চ ও রোমান্টিসিজমের বিপুল ছড়াছড়ি।
সুতরাং ঘর সামলে তবেই না বাইরে বেরোনো। আর আমি যা পারি, সেটাই করি। এতে নিজেকে আরো আত্মবিশ্বাসী লাগে, সবসময় একদিক চায় আর একদিককে ছাপিয়ে যেতে। এ যেন এক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বা অসম দুই সত্তার বন্ধুতা। এর বাইরে আমার কাউকে কিছু দেখানোর নেই, কোথাও কিছু পাওয়ারও নেই।
তাহলে কী পেতে চাই এভাবে লেখালেখি করে?
এককথায় উত্তর, কিছু না। আমার পাওয়ার জায়গা আমার পেশা। সেখানে আমি কিন্তু চূড়ান্ত পেশাদার। বলতে পারেন ডিউটি-বাউন্ড। আর যথেষ্ট পেয়েছি বা পাচ্ছিও সেই জগত থেকে, মানে একজন মানুষ পার্থিব জগতে যা যা চায় – অর্থ, সম্মান, স্বাচ্ছন্দ্য ইত্যাদি ইত্যাদি।
তাহলে শেষমেশ বা ফাইনালি লিখছি কেন?
একসময় আমরা ডায়েরি লিখতাম। নয়ের দশকের সদ্য তরুণ আমরা সেই সময় পত্রমিতালির মাধ্যমে অচেনা মানুষজনের সাথে বন্ধুত্বও করতাম। ইউনিভার্সিটিতে হাতে লিখে দেওয়াল পত্রিকা বের করতাম। আর এখন ডিজিটাইজেশনের যুগ। আমরা সেই লেখালেখিটাই করছি সোশ্যাল প্লাটফর্মে। ডিজিটালি। এখন কোনো সাহিত্য অনুষ্ঠানে নিজের লেখালেখি পাঠ করতে হলেও আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে টাচস্ক্রিন ফোন খুলে সেখান থেকে দেখে দেখে পাঠ করি। অর্থাৎ মাধ্যমের বদল ঘটেছে, চর্চা কিন্তু থেমে থাকেনি বা কমেনি। হয়তো বেড়েছেও। এসেছে কিন্ডল, যেখানে আজকাল ইংরেজির পাশাপশি কিছু বাংলাভাষার উপাদানও মেলে বইকি। এতে হয়তো প্রিন্ট মিডিয়ার লোকজন একটু অসন্তুষ্ট হবেন, কিন্তু বাস্তবতা যে এটাই। বলুন তো সারাদিনের ব্যস্ততার মাঝে, দ্রুত গতির এই জীবনে পা মেলাতে মেলাতে আমাদের আলাদা করে বই খুলে পড়াশোনার সময় সেভাবে কোথায়! তবু তো মুঠোফোনে আজকাল প্রায় সবারই ইন্টারনেট থাকে, কোনো বিশেষ এবং একদম আপডেটেড তথ্য দরকার পড়লে আমরা সেখানেও গুগল সার্চে চলে যাই। বই পুরোনো হয়, কিন্তু ইন্টারনেটে তথ্য সবসময় আপডেটেড হয়। তাই যার পড়ার প্রতি আগ্রহ সবসময়ই অগ্রাধিকার পায়, তিনি পড়া ও লেখার প্রয়োজনে বই বা ল্যাপটপে স্বচ্ছন্দ হবেন, মগ্ন হবেন এটা বেশ বোঝা যায়!
অতএব কী দাঁড়াল?
এটাই, যে আমি লিখি আমার ইচ্ছেয়। যেদিন ইচ্ছে হয় না সেদিন লিখিনা। লিখে পোস্ট করি সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাঠকের ভালো লাগলে আমার আনন্দ সেখানেই। এটুকুই শুধু পাওয়া। আর হ্যাঁ, যেটা আমি পারি, বা যা যা আমি ভালো পারি, সে বিষয়গুলিতে আমি কতদূর কী যেতে পারি, সেটা দেখার বা বোঝার ইচ্ছে থেকেও আমি লেখালেখিটুকু করি।
আজ এটুকুই থাক নাহয়। রাত বাড়ছে, এবার ঘুমোতেই হবে, নইলে মাথা বিদ্রোহ করবে, একটাই তো এপিসেন্টার আমার, বেচাকেনা চালিয়ে যাওযার! তাই শুভরাত্রি সবাইকে। ভালো থাকবেন।