বৃষ্টির দিকে তাকাতে আমি ভীষণ ভালোবাসি
ভালোবাসি কল্পনার জগতে নিজেকে হারিয়ে আমার আমিকে বার বার ফিরে পেতে
তবুও এই আমাকে কতশতবার শুনতে হয়েছিল_
এবার ক্লাসে ফয়সল ফার্স্ট হয়েছে,
ডলি সেকেন্ড, তানিয়া থার্ড!
আর তুই?
তোর পজিশন কত?
দেখি রেজাল্ট কার্ড!
আমি কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতাম না!
কারন এটা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা ছিল না,না ছিল কোন চিন্তা
ভাবতাম _
নিয়মের এই খেলায় কেন শুধু
আমাকেই ফার্স্ট হতে হবে
কেন আমাকেই শুধু জিপিএ ই পাঁচ পেতে হবে,
মেরিটে টপ পজিশন অর্জন করতে হবে!
কিন্তু যখন এ সমাজ আমাকে এই কয়েকটি তুচ্ছ পজিশন আর জিপিএ পাঁচের জন্য তুচ্ছ করেছিল,
আমার আমিকে নগণ্য বোধ করে বার বার তাড়িয়ে দিয়েছিল ডায়াসের সেই প্রত্যাশিত স্হান থেকে,
যেখান থেকে আমি অনর্গল পাখিদের কাছে থেকে শেখা গান সবার তরে বিলিয়ে দিতে পারতাম।
আর ঠিক তারপর থেকে
আমি নিজেকে সংযত রাখতে পারিনি
ঊষর মরুভূমিতে জিপিএ পাঁচকে শুধুই আমার করে পেতে অন্তহীন ছুটে চলার অজস্র গল্প আছে!
তখনও মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছিল আমি একটিবারের জন্যে স্পর্শ করিনি
টকশোতে রুমিন ফারহানা ঝড় তুলেছিল আমি শোনবার জন্যে কাছেও যাইনি
স্টার জলসায় কিরণমালা তার মাকে খোঁজে পেয়েছিল আমি দেখবার জন্য উতলা হয়ে উঠিনি
কাঁদামাখা পোশাকে আমার জানলার পাশ দিয়ে সবাই ছুটে চলছিল আমি ডাক দিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করিনি তোমাদের খেলার খবর কি?
কিন্তু তারপরের ইতিহাস _
সবকিছু পেয়েও পরাজিত সৈনিকের বেশে আমি দাঁড়িয়েছিলাম আমার ভাঙা কুঁড়িঘরে শূন্য হাতে..!
তিনটি বর্ণের এই একটি শব্দকে আপন করে পাবার ইচ্ছে জাগিয়ে আমার কতশত স্বপ্ন মাটিচাপা দেয়া হয়েছিল আমি তা অনুমান করতে ব্যর্থ।
আদো কি তিনটি বর্ণের এই শব্দের কোন বাস্তবিক মূল্য আছে মানুষ হবার তাগিদে?
আমি জানি না! জানবার চেষ্টাও করিনি।
বরং বৃষ্টির সুরে, জলে কলকল ধ্বনিতে
পাখির মোহনীয় ডাকে
যা শিখবার কথা ছিল আমি তা শিখতে পারিনি
তাইতো আজ বিকেলে একটি হলুদ পাখি
কতো করুণকাহিনী আমাকে জানাতে চেয়েছিল আমি বুঝতে পারিনি তার ভাষা, দিতে পারিন তাকে শান্তনা!
তিনটি বর্ণের এই একটি শব্দে আমি হারিয়েছি আমার কৈশোরে সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়
সেই সোনালী অধ্যায়টুকু হারিয়ে আমি আজ শুধুই ফতুর হয়েছি আর কিছু নয়….. আর কিছু নয়।
তাইতো –
আজ পাখির কাছে আমি নির্বাক!
পাহাড়ের কাছে জড় পদার্থ!
নদীর কাছে অর্থহীন!
ফুলের কাছে গন্ধহীন!
মাটির কাছে নিষ্প্রাণ!