বিপ্লব নিষিদ্ধ হ’লে
যুবক অনার্য
আমি জীবনের বিনিময়ে কিনতে চেয়েছিলাম গোলাপের সৌগন্ধ আর
মানুষেরা কিনেছিলো টাকা।
আমি রবীন্দ্রনাথ ভালো বাসতে গিয়ে
রবি-কে আঘাত করতে চেয়েছিলাম
কেননা ভাষা যে আক্রমণ করেন
তিনিই ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখেন
এটাতো আমার মতো এক অর্বাচীনের
কথা নয় যে ফলবে না
এটা রথি মহারথিদের কথা।
এতো যে চৌপরদিন গদ্য লেখা হলো
লেখা হলো কবিতাপদবাচ্যের
পংক্তি মালা অক্ষাংশ দ্রাঘিমা
তছনছ ক’রে-
এখানে পাঠক বুঝি খুঁজে নিতে চান
মিঠে বাক্যবান খুঁজে নিতে চান
ঝুঁকিহীন চোরাগলি
আমি তাতে বোলবো না –
এ পথে নয়,অন্য কোনো পথে
কবিতা হারালো পথ
এলিয়ট আর জীবন বাবুর পরে।
বোলবো না কারণ আমাদের কবিতা
এ সকল পথ হারালো কই!
তবু কবিতার কারাদন্ড হোক
তবু কাঠগড়ায় কবিগণ বিবাদী হোক,
লড়ে যাক দিনমান
মা কালীর আশির্বাদপুষ্ট হয়ে
আর সরস্বতী মায়ের চরণ ধূলি
কপালে মেখে;
অথবা আমাদের এই অঁজপাড়াগায়
হেঁটে যাক দু’কদম-
এখানে এখন বিদ্যুৎ- এর খাম্বা আছে
সংগে আছে তার, একদা যেমন
শুধু খাম্বা ছিলো, ছিলো না তার;
এখন সেরকম নয়।
এখানে কলের লাঙল ট্রাক্টর
এখানে প্রফিটের উদ্দেশে
নন প্রফিটাবল অরগানাইজেশান
নতুন দালান চকের পর চক
উজাড় করে দিয়ে
এখানে আজ অজ নেই পাড়া নেই
আছে অর্ধ পাড়া তালপাতার অর্ধ বাতাস।
যদি তাই হয় তবে কবিগণ হেঁটে যাক আমাদের এই গলিঘুপচি দিয়ে
অশীতিপর রোদ্দুরে-
এখানে এখন বৃষ্টি ঝরে না
চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে না কেউ উদাসীন
এখানে কাকেরা ভদ্রস্থ হয়ে গেছে
এখানে না হাওয়া না আলো
না ঘাস না কাদামাটি;
যদি তাই হয় তবে কি যেতে হবে
অফিস পাড়ায় যেখানে টাকা ওড়ে
টেবিলের নিচ দিয়ে টাকা ওড়ে
নগদ-বিকাশ ছিঁড়েখুঁড়ে
যেখানে এলিয়টের ওয়েস্টল্যান্ড কায়দায় লন্ডন ব্রিজের মতো মানুষগুলি
উবু হয়ে হাঁটে আর বউকে নিয়ে
ঘুমুবার সময়ও পেট মোটা অন্ধকারে
বসের বউয়ের সংগে
চিকন আওয়াজে টিলো এক্সপ্রেস খেলে।
তবে কি বানিজ্য কেন্দ্রে হানা দিয়ে
ছিনিয়ে আনতে হবে কবিতা
এখন বানিজ্য ভবনে সবকিছু
পণ্য হয়ে গেছে সাহিত্য পণ্য হয়ে গেছে কবিতা পন্য হয়ে গেছে ;
রমণীরগণ -সে তো প্রাগৈতিহাসিক কালেই।
মাথা আর লিঙ্গসমেত বানিজ্যভবন আপাদমস্তক পণ্য হয়ে গেছে!
হায় এবার রইলো বাকি রাজনীতি পাড়া
যেখানে ব্যালটগুলি আমাদের প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে
ফজরের ওয়াক্তে কোথাও পালিয়ে গেছে।
আজ তবে কাঠগড়া আদালত পাড়া
আজ তবে কবিতা দন্ডিত হোক,
কবিগণ ‘যারা আমার মায়ের শরীর
কাইড়া নিবার চায়’ তাদের বিরুদ্ধে
নিষিদ্ধ পংক্তি লিখে রাষ্ট্র জুড়ে
অভিযুক্ত হোক।
দন্ডাদেশ কার্যকর হবার মুহুর্তে
কবিকে বোলতে দাও-
বিপ্লব নিষিদ্ধ হ’লে
পার্লামেন্টও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।