আচ্ছা, কান্হার কথা কি বলি বলো তো প্যাল…!
তুমি যদি বলো যে এই আরাধ্য নাম তুমি শোনোনি
তবে তো তাতে আমার চক্ষু কর্ণ মস্তিষ্কের বিবাদ
কিছুতেই ভঞ্জন হতে চাইছে না, ব্রো…!
য়্যু ন্যো হ্যোয়াট্, যাকেই কেবল এমন কাতরভাবে বলা যায়,
“মান্ মোহানা…! ছ্যোড়’কে আপ্নে কাশী মাথুরা,
আ’কে বাসাও ম্যোরে ন্যেনা,
তুম্ বিন্ পা’উ ক্যেসে চ্যেনা…
কান্হা… তার্সু তুমহি’কো দিন র্যেনা …” *
মন মোহন…! তোমার কাশী মথুরা ছেড়ে
এসো আমার চোখের আগে
তোমাকে ছাড়া আমার শান্তি নেই
কান্হা… সারাদিন কামনা করি তোমাকেই…
অথবা
“রাস্ রাচাইয়্যা বৃন্দাবান্’কি গোকুল’কে বাসী,
রাঁধা তুম’রি দাসী, দার্শান্’কো হ্যে পিয়্যাসী…” *
প্রাণরস সঞ্চারী হে বৃন্দাবনের গোকুলবাসী
তোমার দাসী এ রাঁধা, তোমার দর্শনের পিয়াসী…
“এই কান্হা’ই আসলে তোমার সেই ক্রিস্ট্যাল সাব্লাইম
যার বিমূর্ত সুরভি’তে এ জাহানে’র গৃহতিয়াগী রাঁধা’রা
উন্মাতালী হয়ে রক্তমাংসের দেহে থেকে’ও
কর্পূরের মত উবে যেতে সুব্হা সন্ধ্যে কাঙ্খা ক’রে যায়…
যার ব্রহ্মবাঁশীর সুরের জ্বালা’য় হৃদপদ্ম
জলে থেকে’ও জ্ব’লে যায় ,
যার আরাধনায় আদ্যান্ত সময় কাল থেমে যায়…!
আর বার বার বলে যায়,
“ঘ্যে তুঝাচ্ সাওয়ালিতে, কান্হা…” **
“ওগো প্রাণপ্রতিম…
তোমার প্রচ্ছায়া’য় আমাকে সমাবৃত করো…”
“তোমাকে যদি কখনও সামনে পাই তবে
সেদিন আমি আর তুমি এসব জ্বলুনির গ্র্যাফিটি
মধ্যরাতের চন্দ্রাভায় জমকালো রাশম্যোরের দেয়ালে
এঁকে এঁকে রাখবো…
কিভাবে, কেন এসব প্রশ্নের কোনো চারা নেই,
কোনোদিনই থাকবে না…”
“নিশ্চয়ই ভোলোনি এ কথা…
শুধু দু’বার কেনো, অর্বুদ’বার ফিরে ফিরে এসে
তোমার নামের ‘স্মিতস্নিগ্ধ মায়ামধু’ পান করে যাবো,
যেখানে বলবে সেখানেই আর এখানে
আর ঐখানে আর সম্ভাব্য অসম্ভাব্য সবখানেই…
জ্বলুক না হয় আরও কিছু মহাকাল
আমাদের হৃদয়দুয়ারী’র সতিনী’রা…”
_________________________________
উত্তরীয়ঃ
“দুটি ভিন্ন মহাদেশের ভিন্ন আবহাওয়ায় বসে
দুই কবিবন্ধু’র এই অসংলগ্ন কথোপকথন
ক্রমশঃ পাঠে যখন বিষ্ময়বিমুগ্ধ চোখ
আর অপ্রতিরোধ্য আবেগে স্বতঃচর্বিত নোখ
আসলে এ আর কিছু নয়, দীর্ঘ কাব্যপ্রেমের অবশেষে
কাব্যপ্রেমী’র মনচিন্তনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিরীক্ষণ”
নোটঃ
* হিন্দি চলচ্চিত্র ‘যোধা আকবার’-এর প্লেব্যাক “মান্ মোহানা” থেকে উদ্ধৃত
** মারাঠী চলচ্চিত্র “চন্দ্রমুখী”-এর প্লেব্যাক “কান্হা ” থেকে উদ্ধৃত