Skip to content

এর নাম জীবন পীযূষ কান্তি দাস

“এর নাম জীবন ”
——-:—–:::—–:——–:—::——–:—–
পীযূষ কান্তি দাস
————————————————-
তখন থাকি নৈহাটি। বাসাভাড়া অর্থাৎ ভাড়াবাড়িতেই থাকি। পাশের বাড়ির মুখোমুখিতে থাকেন এক দম্পতি। গনাদা আর মিনতি বৌদি । বয়স আনুমানিক 45 গনাদা, আর মিনতি বৌদি 35। বৌদি বাঙাল আর দাদা ঘটি। সংসার সাজানো গুছানো -পরিপাটি। বৌদির নাম মিনতি, কিন্তু কি যায় আসে তাতে, কাজে তিনি তার ঠিক উল্টোটি।।
সেদিন রবিবার ছুটির দিন। আমার অফিস ছুটি। তাই বাড়িতেই মানে ওই বাসায় বসে ভাবছি কি করা যায়? অফিস না থাকায় ক্যান্টিন ও বন্ধ। আমি ব্যাচেলার মানুষ ,রান্না বান্না জানি না, আবার হোটেলে খেতে মনও চায় না ।
কি করি -কি করি। একলা বসে বসে ভাবছি।
হঠাৎ মাথায় বিদ্যূত খেলে গেলো ।
গতকাল অফিস থেকে ফিরার সময় বৌদিও দাদার কথোপকথন যেটুকু কানে এসেছিল ( আড়ি পেতে নয় কিন্তু )
—–ওগো শুনছো
:—-হ্যাঁ বলো
—–কাল রবিবার ,খেয়াল আছে তো?
—হাঁ আছে, কিন্ত কেন ?
—–সেকি! এরমধ্যেই ভুলে গেলে —
—কি ভুলে গেলাম ?
—–কাল একটু কচু এনো বাজার থেকে । অনেক দিন খাই নি।
—-আচ্ছা আচ্ছা । আনবো বাবা আনবো ।
ভাগ্যিস তোমরা এদেশে এসেছিলে –
আর শোনা গেলো না।
(পথ চলতে আর কতটুকুই বা শোনা যায় )।
সকাল ঠিক নটা। আমি গনাদার বাড়ি গিয়ে হাজির । ধান্দা দুপরের দক্ষিণ হস্তের কাজটা যদি এখানে সেরে ফেলা যায় । (অবশ্য মাঝে মাঝে যে হয়না তা নয় )।
—-বৌদি কেমন আছেন ,গনাদা কই ?
—–বসো ঠাকুর পো বসো । এই কথা বলে বৌদি রান্না ঘর থেকে পিড়ে টা বাইরে পেতে দিলেন।
—দাদা কই বৌদি ? দেখছি না যে ?
—–বাজারে গেছেন । অনেকক্ষণ –এই এলো বলে। চা খাবে ঠাকুরপো?
—–তা দাও –।
চায়ের কাপ নিয়ে সবে দু চুমুক দিয়েছি কি দিই নি এমন সময়
গনাদা হাজির । হাতে একটা বিশাল ব্যাগ । একটি লম্বা নধর সলা কচু ব্যাগের হাতল ফুঁড়ে দৃশ্যমান ।
কচু দেখে বৌদিতো বহুত্ খুশ !
—কিগো তুমিও তোএকটু চা খাবে নাকি ?
—-তা দাও একটু ।
চা খাওয়া তো হলো ।
বললাম —বৌদি ই ঠিক আছে। আজ তাহলে উঠি। গুচ্ছের কাচাকাচি আছে। তাছাড়া ওই যে ওই রান্নাও -করতে হবে তো।
—-সেকি ভাই! আজ তুমি রান্না করবে মানে ?
—–দুপুরে খাবো টা কি ?
—–আরে -না -না । আজ দুপুরে এখানেই খেয়ো। তোমার দাদা কচু এনেছে না ?
—-আমার কিন্তু আসতে একটু দেরি হবে বৌদি ।
—–ঠিক আছে,তুমি ওই একটা -দেড়টার মধ্যেই এসো ।
আমি তো হাতে চাঁদ পেলাম ।
বাসায় ফিরে দরকারি কাজ গুলো সারলাম। কাচাকাচি সারলাম। টিভি তে একটু বাসি সিরিয়াল (আমার কাছে অবশ্য টাটকা,কারণ প্রতি দিন ছুটির পরে সুমনার সাথে আউটরাম ঘাটে আড্ডা মেরে ফিরতে ফিরতেই সব শ্যাষ )দেখছিলাম আর একটি সিগারেট ধরিয়ে আরাম করে খেতে খেতে বার বার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলাম । শালা ঘড়ির কাঁটাও বেইমান !নড়তেই চায় না ! ওদিকে পেটের মধ্যে ছুঁচোরা ডন -বৈঠক মারা শুরু করে দিয়েছে । যাক্ বাবা অনেক কষ্টে……
প্রায় পৌনে একটা । কখন একটা বাজবে আর আমিও ও বাড়ি যাবো!
ঠিক এমনি সময় ও বাড়ি থেকেই চিল চিত্কার,গনাদা আর বৌদির !
হন্তদন্ত হয়েই ছুটলাম । গিয়েই দেখি গনাদা লাফাচ্ছেন আর বৌদি ও চিত্কার করে কাঁপাচ্ছেন পাড়া !
——ওরে ,আমার গলা গেলো রে –ওরে ও পুঁটি কোথায় গেলি মা –(পুঁটি হলো গনাদা ও মিনতি বৌদির একমাত্র আদরের লাডলি -বয়স ৭-৮বছর )একটু তেঁতুল আন দৌড়ে । এই শালি বাঙ্গাল এর পাল্লায় পড়ে আমার গলা টা বোধহয় গেল ! শালার কচু আমার গলাটা কে দিলো… –আমায় আদর করে টেষ্ট করাচ্ছে ?
—–এই বাঙ্গাল বলে গাল দেবে না বলছি –ভালো হবে না বলে দিচ্ছি —
——কেন কি করবে ,বাঙ্গাল -শালা -একশো বার বলবো –হাজার বার বলবো -শালা বাঙ্গাল -বাঙ্গাল -বাঙ্গাল !
–কি! তুমি ঘটি ,তোমার না ছিল চটি ! আমার বাবার পয়সায় ব্যবসা —
—-তোর বাপের পয়সা ? কত টাকা দিয়েছিলো তোর বাপ্ হোতলা হাতি বিদায়ে –
—-এই খবরদার বাপ্ তুলবে না বলছি –কি আমি হোতলা হাতি ? তো বিয়ের আগে এই হোতলা হাতির পিছনে ঘুরঘুর কর্তে কেন ?
এভাবে তুলকালাম কাণ্ড ! আমি অনেক কষ্টে রান্না ঘর থেকে লেবু এনে গনাদা কে খাইয়ে চুপ করালাম
কচু বাদ বাকি পদ (সেটাও অবশ্য খারাপ নয় ,ডাল ,বেগুন ভাজা, সর্ষে ইলিশ ,যদিও 2500/কিলো,চাটনি )দিয়ে ঘ্যাঁটন সারলাম ও যথারীতি নিজের বাসায় ফিরলাম । পরে কি হলো জানিনা !
বিকেল বেলায় স্টেশন পাড়ায় প্রতি রবিবারের মতো আড্ডা দিতে গেছি,দেখি গনাদা আর মিনতি বৌদি আদরের পুঁটি কে নিয়ে যাচ্ছেন।
–ও গনাদা চললেন কোথায় ?
আর বলিস না ভাই –নবীনাতে —সিনেমা দেখতে
“কুছ কুছ হোতা হ্যায় “।

এর নাম জীবন !
সব কিছুই মানিয়ে নে মন !।

মন্তব্য করুন