সুকান্ত ভট্টাচার্য

সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৫ই আগস্ট, ১৯২৬ – ১৩ই মে, ১৯৪৭) বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

পিতা-নিবারন ভট্টাচার্য, মা-সুনীতি দেবী। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট মাতামহের ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়ীতে তার জন্ম।। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার (বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার উনশিয়া গ্রামে)। ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

সুকান্তের বাল্যবন্ধু ছিলেন কবি অরুনাচল বসু। সুকান্ত সমগ্রতে লেখা সুকান্তের চিঠিগুলির বেশিরভাগই অরুনাচল বসুকে লেখা। অরুনাচল বসুর মাতা কবি সরলা বসু সুকান্তকে পুত্রস্নেহে দেখতেন। সুকান্তের ছেলেবেলায় মাতৃহারা হলেও সরলা বসু তাকে সেই অভাব কিছুটা পুরন করে দিতেন।

কবির জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছিল কলকাতার বেলেঘাটার ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেনের বাড়ীতে। সেই বাড়িটি এখনো অক্ষত আছে। পাশের বাড়ীটিতে এখনো বসবাস করেন সুকান্তের একমাত্র জীবিত ভাই বিভাস ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সুকান্তের নিজের ভাতুষ্পুত্র।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মম্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। সেই বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ১৯৪৭ সালের ১৩ মে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

মোহাম্মদ আফজলউল হক-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

Kandirpar
Coomilla
15th Chaitra

ভাই ডাবজল!

‘মোসলেম ভারত’ কি ডিগবাজি খেল নাকি?৩ খবর কী? ‘ব্যথার দান’ কেমন কাটছে?৪ কত কাটল? অন্যান্য কাগজে সমালোচনা বা বিজ্ঞাপন বেরুল না কেন? ‘সার্ভেন্ট’৫ আর ‘মোহাম্মদী’৬-র সমালোচনা আর ‘বিজলী’৭ ও বাংলার কথা’-য়৮ বিজ্ঞাপন দেখেছি মাত্র। ‘আরবি ছন্দ’ দেখেছেন?৯ কে কী বললে? আপনার মুমূর্ষু অবস্থা দেখেই ওটা ‘প্রবাসী’তে Read More »মোহাম্মদ আফজলউল হক-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

মোহাম্মদ আফজলউল হক-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

Kandirpar
Coomilla
15th Chaitra

ভাই ডাবজল!

‘মোসলেম ভারত’ কি ডিগবাজি খেল নাকি?৩ খবর কী? ‘ব্যথার দান’ কেমন কাটছে?৪ কত কাটল? অন্যান্য কাগজে সমালোচনা বা বিজ্ঞাপন বেরুল না কেন? ‘সার্ভেন্ট’৫ আর ‘মোহাম্মদী’৬-র সমালোচনা আর ‘বিজলী’৭ ও বাংলার কথা’-য়৮ বিজ্ঞাপন দেখেছি মাত্র। ‘আরবি ছন্দ’ দেখেছেন?৯ কে কী বললে? আপনার মুমূর্ষু অবস্থা দেখেই ওটা ‘প্রবাসী’তে Read More »মোহাম্মদ আফজলউল হক-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হবীবুল্লাহ বাহার-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
৬-১০-২৫
সকাল

স্নেহাস্পদেষু,

বাহার! তোমার দুখানা চিঠি পেলাম আজকেরটা নিয়ে। উত্তর দিতে পারিনি – তার কারণ আমি বারো তেরো দিন হতে বড্ড অসুস্থ। দেশ-উদ্ধার-কল্পে পাড়া-গাঁয়ে গাঁয়ে ঘুরে পচা পাটের জল আর মশার কামড় খেয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরি। মধ্যে একদিন অবস্থা যায়-যায় হয়ে উঠেছিল, একদিন ভীষণ রক্তবমন হতে থাকে হঠাৎ, সে দিন সাত-আট আগে।Read More »হবীবুল্লাহ বাহার-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

কৃষ্ণনগর
১০-৪-১৯২৬

প্রিয় শৈলজা!

কনফারেন্সের হিড়িকে মরবার অবসর নেই। কনফারেন্সের আর মাত্র একমাস বাকি। হেমন্তদা আর আমি সব করছি এ যজ্ঞের। কাজেই লেখাটা শেষ করতে পারিনি এতদিন। রেগো না লক্ষ্মীটি। আমি তোমাদের লেখা না দিতে পেরে বড়ো লজ্জিত আছি। ‘মাধবী-প্রলাপ’পাঠালুম। বৈশাখেই দিয়ো।Read More »শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

কৃষ্ণনগর
১০-৪-১৯২৬

প্রিয় শৈলজা!

কনফারেন্সের হিড়িকে মরবার অবসর নেই। কনফারেন্সের আর মাত্র একমাস বাকি। হেমন্তদা আর আমি সব করছি এ যজ্ঞের। কাজেই লেখাটা শেষ করতে পারিনি এতদিন। রেগো না লক্ষ্মীটি। আমি তোমাদের লেখা না দিতে পেরে বড়ো লজ্জিত আছি। ‘মাধবী-প্রলাপ’পাঠালুম। বৈশাখেই দিয়ো।Read More »শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শামসুন নাহার-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

কৃষ্ণনগর
১১-৮-২৬
সকাল
স্নেহের নাহার,

কাল রাত্তিরে ফিরেছি কলকাতা হতে। চট্টগ্রাম হতে এসেই কলকাতা গেছলাম। এসেই পড়লাম তোমার দ্বিতীয় চিঠি – অবশ্য তোমার ভাবিকে লেখা। আমি যেদিন তোমার প্রথম চিঠি পাই, সেদিনই – তখনই কলকাতা যেতে হয়।Read More »শামসুন নাহার-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শচীন কর-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শচীন কর-কে

কৃষ্ণনগর
১০-২-২৬

কল্যাণীয়েষু,

স্নেহের শচীন! তোর কোনো চিঠিও পাইনি, এলিও না। এলে খুব খুশি হতুম। আমার সব কথা প্রাণতোষের কাছে শুনবি।Read More »শচীন কর-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

মৌলবি আবদুল গফুরকে – কাজী নজরুল ইসলাম

মৌলবি আবদুল গফুরকে

Raniganj,
Moslem Hostel
23.7.17

পাক জোনাবেষু –

আদাব কোর্ণোশাৎ হাজার হাজার পাক জোনাবে পহুছে। বাদ আরজ , ইতিপূর্বে খাদেম আপনাকে ২ খানা পত্র বর্ধমানের ঠিকানায় লিখিয়াছিল, কিন্তু বড়োই দুঃখের বিষয়, কোনো উত্তর পাই নাই। পড়া-শুনা মন্দ হয় নাই। বোর্ডিং অবস্থা মাঝামাঝি। সকলেই ভালো।Read More »মৌলবি আবদুল গফুরকে – কাজী নজরুল ইসলাম

মৌলবি আবদুল গফুরকে – কাজী নজরুল ইসলাম

মৌলবি আবদুল গফুরকে

Raniganj,
Moslem Hostel
23.7.17

পাক জোনাবেষু –

আদাব কোর্ণোশাৎ হাজার হাজার পাক জোনাবে পহুছে। বাদ আরজ , ইতিপূর্বে খাদেম আপনাকে ২ খানা পত্র বর্ধমানের ঠিকানায় লিখিয়াছিল, কিন্তু বড়োই দুঃখের বিষয়, কোনো উত্তর পাই নাই। পড়া-শুনা মন্দ হয় নাই। বোর্ডিং অবস্থা মাঝামাঝি। সকলেই ভালো।Read More »মৌলবি আবদুল গফুরকে – কাজী নজরুল ইসলাম

মুরলীধর বসু-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
১৫ নভেম্বর, ১৯২৫
প্রিয় মুরলীদা!

আজ তোমার চিঠি পেয়ে জ্বরজ্বর মনটা বেশ একটু ঝরঝরে হয়ে উঠল। দুটো কথাতেই তোমার যে প্রীতি উপচে পড়েছে, তা আমার হৃদয়-দেশ পর্যন্ত গড়িয়ে এসেচে। দিন ছয়েক থেকে ১০৩- ৪- ৫ ডিগ্রি করে জ্বরে ভুগে আজ একটু অ-জ্বর হয়ে বসেছি। পঞ্চাশ গ্রেন কুইনাইন মস্তিষ্কে ঊনপঞ্চাশ বায়ুর ভিড় জমিয়েছে।Read More »মুরলীধর বসু-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

মুরলীধর বসু-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
১৫ নভেম্বর, ১৯২৫
প্রিয় মুরলীদা!

আজ তোমার চিঠি পেয়ে জ্বরজ্বর মনটা বেশ একটু ঝরঝরে হয়ে উঠল। দুটো কথাতেই তোমার যে প্রীতি উপচে পড়েছে, তা আমার হৃদয়-দেশ পর্যন্ত গড়িয়ে এসেচে। দিন ছয়েক থেকে ১০৩- ৪- ৫ ডিগ্রি করে জ্বরে ভুগে আজ একটু অ-জ্বর হয়ে বসেছি। পঞ্চাশ গ্রেন কুইনাইন মস্তিষ্কে ঊনপঞ্চাশ বায়ুর ভিড় জমিয়েছে।Read More »মুরলীধর বসু-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

মাহফুজুর রহমান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি
১৬-৭-২৫
স্নেহভাজনেষু –

মাহফুজ! অনেক দিন তোমার খবর পাইনি। আমিও বাড়ি থাকি না – এখান ওখান ঘুরছি। কাল ফিরেছি বাঁকুড়া থেকে। মাঝে মাঝে প্রাণতোষের কাছে খবর পাই তোমার। সেও দেখা দিচ্ছে না কয়দিন থেকে। এখন কোথায় আছ, পাস করেছ কিনা – এবং কোথায়, কী কী পড়বে পাস করলে – তা জানিয়ো অবশ্য।Read More »মাহফুজুর রহমান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

মাহফুজুর রহমান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি
১৬-৭-২৫
স্নেহভাজনেষু –

মাহফুজ! অনেক দিন তোমার খবর পাইনি। আমিও বাড়ি থাকি না – এখান ওখান ঘুরছি। কাল ফিরেছি বাঁকুড়া থেকে। মাঝে মাঝে প্রাণতোষের কাছে খবর পাই তোমার। সেও দেখা দিচ্ছে না কয়দিন থেকে। এখন কোথায় আছ, পাস করেছ কিনা – এবং কোথায়, কী কী পড়বে পাস করলে – তা জানিয়ো অবশ্য।Read More »মাহফুজুর রহমান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

বলাই দেবশর্মা-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
৩১ শ্রাবণ, ১৩৩২
শ্রীচরণেষু,

বলাইদা! আবার তুমি ‘শক্তি’র হাল ধরে ভয়ের সাগরে পাড়ি দিলে দেখে উল্লসিত হয়ে উঠলাম। ‘ধূমকেতু’তে চড়ে আমার আর একবার বাংলার পিলে চমকে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু গোবরমন্ত (সরকার) সাহেব পেছনে ভীষণ লেগেছে।Read More »বলাই দেবশর্মা-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

বলাই দেবশর্মা-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

হুগলি,
৩১ শ্রাবণ, ১৩৩২
শ্রীচরণেষু,

বলাইদা! আবার তুমি ‘শক্তি’র হাল ধরে ভয়ের সাগরে পাড়ি দিলে দেখে উল্লসিত হয়ে উঠলাম। ‘ধূমকেতু’তে চড়ে আমার আর একবার বাংলার পিলে চমকে দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু গোবরমন্ত (সরকার) সাহেব পেছনে ভীষণ লেগেছে।Read More »বলাই দেবশর্মা-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে – কাজী নজরুল ইসলাম


… ‘প্রবাসী’তে বেরিয়েছে ‘সবুজপত্র’-এ পাঠানো কবিতা, এতে কবিতার মর্যাদা বেড়েছে কী কমেছে, তা আমি ভাবতে পারছি না। ‘সবুজপত্র’-এর নিজস্ব আভিজাত্য থাকলেও ‘প্রবাসী’র মর্যাদা একটুকও কম নয়। প্রচার আরও বেশি।Read More »পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে – কাজী নজরুল ইসলাম

পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে – কাজী নজরুল ইসলাম


… ‘প্রবাসী’তে বেরিয়েছে ‘সবুজপত্র’-এ পাঠানো কবিতা, এতে কবিতার মর্যাদা বেড়েছে কী কমেছে, তা আমি ভাবতে পারছি না। ‘সবুজপত্র’-এর নিজস্ব আভিজাত্য থাকলেও ‘প্রবাসী’র মর্যাদা একটুকও কম নয়। প্রচার আরও বেশি।Read More »পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়কে – কাজী নজরুল ইসলাম

গোপাললাল সান্যাল-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শ্রীযুক্ত ‘আত্মশক্তি’সম্পাদক মহাশয় সমীপেষু,

বিনয় সম্ভাষণপূর্বক নিবেদন,

আপনার (১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের) ২০ আগস্টের ‘আত্মশক্তি’র ‘পুস্তক-পরিচয়’এ নতুন সাপ্তাহিক ‘গণবাণী’র যে পরিচয় দিয়েছেন তৎসম্বন্ধে আমার কিছু বলবার আছে। কারণ ‘গণবাণী’র সাথে আমিও সংশ্লিষ্ট। অবশ্য ‘গণবাণী’পুস্তক নয়, ‘আত্মশক্তি’র পুস্তক-পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে পরিচিত হলেও, যেমন আত্মশক্তি আপনার কাগজ হলেও ওই সমালোচনাটা আপনার নয়।Read More »গোপাললাল সান্যাল-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

গোপাললাল সান্যাল-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

শ্রীযুক্ত ‘আত্মশক্তি’সম্পাদক মহাশয় সমীপেষু,

বিনয় সম্ভাষণপূর্বক নিবেদন,

আপনার (১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের) ২০ আগস্টের ‘আত্মশক্তি’র ‘পুস্তক-পরিচয়’এ নতুন সাপ্তাহিক ‘গণবাণী’র যে পরিচয় দিয়েছেন তৎসম্বন্ধে আমার কিছু বলবার আছে। কারণ ‘গণবাণী’র সাথে আমিও সংশ্লিষ্ট। অবশ্য ‘গণবাণী’পুস্তক নয়, ‘আত্মশক্তি’র পুস্তক-পরিচয়ের সুবিধা নিয়ে পরিচিত হলেও, যেমন আত্মশক্তি আপনার কাগজ হলেও ওই সমালোচনাটা আপনার নয়।Read More »গোপাললাল সান্যাল-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

ইব্রাহিম খাঁ-কে – কাজী নজরুল ইসলাম


শ্রদ্ধেয় প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খান সাহেব!

আমাদের আশি বছরে নাকি স্রষ্টা ব্রহ্মার একদিন। আমি অত বড়ো স্রষ্টা না হলেও স্রষ্টা তো বটে, তা আমার সে-সৃষ্টির পরিসর যত ক্ষুদ্র পরিধিই হোক, কাজেই আমারও একটা দিন অন্তত তিনটে বছরের কম যে নয়, তা অন্য কেউ বিশ্বাস করুক চাই না করুক, আপনি নিশ্চয়ই করবেন।Read More »ইব্রাহিম খাঁ-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

আলি আকবর খান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

কান্দিরপাড়,
কুমিল্লা
23 July, 1921
(বিকেল বেলা)

বাবা শ্বশুর!

আপনাদের এই অসুর জামাই পশুর মতন ব্যবহার করে এসে যা কিছু কসুর করেছে, তা ক্ষমা কোরো সকলে, অবশ্য যদি আমার ক্ষমা চাওয়ার অধিকার থাকে। এইটুকু মনে রাখবেন, আমার অন্তর-দেবতা নেহায়েত অসহ্য না হয়ে পড়লে আমি কখনো কাউকে ব্যথা দিই না। যদিও ঘা খেয়ে খেয়ে আমার হৃদয়টাতে ঘা-টা বুঁজে গেছে, তবু সেটার অন্তরতম প্রদেশটা এখনও শিরীষ ফুলের পরাগের মতোই কোমল আছে সেখানে খোঁচা লাগলে আর আমি থাকতে পারিনে। তা ছাড়া, আমিও আপনাদেরই পাঁচজনের মতন মানুষ, আমার গণ্ডারের চামড়া নয়, কেবল সহ্যগুণটা কিছু বেশি।Read More »আলি আকবর খান-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

আমানুল্লাহ্ – কাজী নজরুল ইসলাম

খোশ আমদেদ আফগান-শের! – অশ্রু-রুদ্ধ কণ্ঠে আজ –
সালাম জানায় মুসলিম-হিন্দ শরমে নোয়ায়ে শির বে-তাজ!
বান্দা যাহারা বন্দেগি ছাড়া কী দিবে তাহারা, শাহানশাহ!
নাই সে ভারত মানুষের দেশ! এ শুধু পশুর কতলগাহ৪!Read More »আমানুল্লাহ্ – কাজী নজরুল ইসলাম

আমানুল্লাহ্ – কাজী নজরুল ইসলাম

খোশ আমদেদ আফগান-শের! – অশ্রু-রুদ্ধ কণ্ঠে আজ –
সালাম জানায় মুসলিম-হিন্দ শরমে নোয়ায়ে শির বে-তাজ!
বান্দা যাহারা বন্দেগি ছাড়া কী দিবে তাহারা, শাহানশাহ!
নাই সে ভারত মানুষের দেশ! এ শুধু পশুর কতলগাহ৪!Read More »আমানুল্লাহ্ – কাজী নজরুল ইসলাম

আনওয়ার হোসেন-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

১মার্চ, ১৯২৬
ভাই!

… আমার স্বাস্থ্য ছিল অটুট, – জীবনে ডাক্তার দেখাইনি। এই আমার প্রথম অসুখ ভাই, বড্ড ভোগাচ্ছে। প্রায় সাত মাস ধরে ভুগেছি জ্বরে। বড্ড জীবনী-শক্তি কমে গেছে। বাইরে থেকে খুব দুর্বল হইনি। এতদিন সুস্থ হয়তো হয়ে উঠতাম, কিন্তু অবসর বা বিশ্রাম পাচ্ছিনে জীবনে কিছুতেই।Read More »আনওয়ার হোসেন-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

আনওয়ার হোসেন-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

১মার্চ, ১৯২৬
ভাই!

… আমার স্বাস্থ্য ছিল অটুট, – জীবনে ডাক্তার দেখাইনি। এই আমার প্রথম অসুখ ভাই, বড্ড ভোগাচ্ছে। প্রায় সাত মাস ধরে ভুগেছি জ্বরে। বড্ড জীবনী-শক্তি কমে গেছে। বাইরে থেকে খুব দুর্বল হইনি। এতদিন সুস্থ হয়তো হয়ে উঠতাম, কিন্তু অবসর বা বিশ্রাম পাচ্ছিনে জীবনে কিছুতেই।Read More »আনওয়ার হোসেন-কে – কাজী নজরুল ইসলাম

জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী – সুকান্ত ভট্টাচার্য

কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে
জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী;
আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে
বজ্রের কানাকানি।
সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে
শান্তি পালাল আজ।
দিন ও রাত্রি হল অস্থির
কাজ, আর শুধু কাজ! Read More »জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী – সুকান্ত ভট্টাচার্য

আমরা এসেছি – সুকান্ত ভট্টাচার্য

কারা যেন আজ দুহাতে খুলেছে, ভেঙেছে খিল,
মিছিলে আমরা নিমগ্ন তাই, দোলে মিছিল।
দু:খ-যুগের ধারায় ধারায়
যারা আনে প্রাণ, যারা তা হারায়
তারাই ভরিয়ে তুলেছে সাড়ায় হৃদয়-বিল।
তারাই এসেছে মিছিলে, আজকে চলে মিছিল।।
Read More »আমরা এসেছি – সুকান্ত ভট্টাচার্য