রাজনৈতিক কবিতা

আমার একটা মোটরগাড়ি চাই – নবারুণ ভট্টাচার্য

তিরিশ হাজার লোক ভাসছে
নোনা জলের ধাক্কায় তাদের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে
সেই জন্যে আমার একটা মোটরগাড়ি চাই।
লোড শেডিং-এ গলে যাচ্ছে বরফ রেফ্রিজারেটরেRead More »আমার একটা মোটরগাড়ি চাই – নবারুণ ভট্টাচার্য

আমাকে দেখা যাক বা না যাক – নবারুণ ভট্টাচার্য

কে আমার হৃদ্‌পিণ্ডের ওপরে মাথা রেখে ঘুমোয়
কে আমাকে দুধ ও ভাতের গন্ধ দিয়ে আড়াল করে
কে আমার মাটি যেখানে আমি বৃষ্টির মতো শুষে যাই
আমি যখন দূষিত আকাশে হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে উড়ি
আমার পালকে ছাই জমে জমে ধূসর হয়ে যায়Read More »আমাকে দেখা যাক বা না যাক – নবারুণ ভট্টাচার্য

রামবাবু – সুবোধ সরকার

আগে আপনাকে ভালো লাগত, রামবাবু
এখন আপনি বদলে গেছেন।
কখনও কখনও আপনাকে কংগ্রেস মনে হত
কখনও সি.পি.এম
কখনও সি.পি.আই
মার্কিন সেনেটে আপনার নাম উঠেছিলRead More »রামবাবু – সুবোধ সরকার

সেই সব স্বপ্ন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কারাগারের ভিতরে পড়েছিল জোছনা
বাইরে হাওয়া, বিষম হাওয়া
সেই হাওয়ায় নশ্বরতার গন্ধ
তবু ফাঁসির আগে দীনেশ গুপ্ত চিঠি লিখেছিল তার বৌদিকে,
“আমি অমর, আমাকে মারিবার সাধ্য কাহারও নাই।”Read More »সেই সব স্বপ্ন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

আমি ভালো নেই — প্রদীপ বালা

কেমন আছো তোমরা ?
কেমন আছো পার্কস্ট্রীট ?
কেমন আছো কামদুনি, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম ?
কেমন আছো সুটিয়া, বামন গাছি ?
কেমন আছো সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম, জঙ্গল মহল, দার্জিলিং ?

Read More »আমি ভালো নেই — প্রদীপ বালা

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না — নবারুন ভট্টাচার্য

যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায়
আমি তাকে ঘৃণা করি-
যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে
আমি তাকে ঘৃণা করি-
যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী
প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না
আমি তাকে ঘৃণা করি-Read More »এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না — নবারুন ভট্টাচার্য

তুই কি আবার আমার হবি — প্রদীপ বালা

তুই কি আবার আমার হবি ?
না হয় তোর—
দুঃখ গুলোই আমায় দিবি
হলুদ হলুদ দুঃখ গুলো,
বুকের ভেতর ডিপ ফ্রিজারে
রেখে দেব শীতল করে ।
Read More »তুই কি আবার আমার হবি — প্রদীপ বালা

আপনি বলুন, মার্কস………. – মল্লিকা সেনগুপ্ত

ছড়া যে বানিয়েছিল, কাঁথা বুনেছিল
দ্রাবিড় যে মেয়ে এসে গমবোনা শুরুRead More »আপনি বলুন, মার্কস………. – মল্লিকা সেনগুপ্ত

চে গুয়েভারার প্রতি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।
আমার ঠোঁট শুকনো হয়ে আসে, বুকের ভেতরটা ফাঁকা
আত্মায় অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপতনের শব্দ
শৈশব থেকে বিষণ্ণ দীর্ঘশ্বাস
চে, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরধী করে দেয়-
বলিভিয়ার জঙ্গলে নীল প্যান্টালুন পরা
তোমার ছিন্নভিন্ন শরীরRead More »চে গুয়েভারার প্রতি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

মাস্টারদার হাতঘড়ি – শামসুর রাহমান

মাস্টারদা, আপনি কি হাতঘড়ি পরতেন কখনো?
এই প্রশ্ন আমাকে ঠোকর মেরেছে
অনেকবার। মাস্টারদা, আপনার বিষয়ে
অনেক কিছুই জানা আছে আমার।
আপনার শরীরের গড়ন, মূল্যবান রত্নের মতো
চোখের দীপ্তি, জীবন-যাপনের
ধরন-এরকম

বহুবিধ খুঁটিনাটির আলো আমি পেয়েছিRead More »মাস্টারদার হাতঘড়ি – শামসুর রাহমান

ছাড়পত্র – সুকান্ত ভট্টাচার্য

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুমঃ
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চিৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়,
তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত উত্তোলিত,
উদ্ভাসিত কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়। Read More »ছাড়পত্র – সুকান্ত ভট্টাচার্য

এই নবান্নে – সুকান্ত ভট্টাচার্য

এই হেমন্তে কাটা হবে ধান,
আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান–
পৌষপার্বণে প্রাণ-কোলাহলে ভরবে গ্রামের নীরব শ্মশান।
তবুও এ হাতে কাস্তে তুলতে কান্না ঘনায়ঃ
হালকা হাওয়ায় বিগত স্মৃতিকে ভুলে থাকা দায়;
গত হেমন্তে মরে গেছে ভাই, ছেড়ে গেছে বোন,
পথে-প্রান্তরে খামারে মরেছে যত পরিজন;
নিজের হাতের জমি ধান-বোনা,Read More »এই নবান্নে – সুকান্ত ভট্টাচার্য

আঠারো বছর বয়স  – সুকান্ত ভট্টাচার্য

আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ
র্স্পধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি,
আঠারো বছর বয়সেই অহরহ
বিরাট দুঃসাহসেরা দেয় যে উঁকি।

আঠারো বছর বয়সের নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাঙতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়–
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।Read More »আঠারো বছর বয়স  – সুকান্ত ভট্টাচার্য

আগ্নেয়গিরি – সুকান্ত ভট্টাচার্য

কখনো হঠাৎ মনে হয়ঃ

আমি এক আগ্নেয় পাহাড়।
শান্তির ছায়া-নিবিড় গুহায় নিদ্রিত সিংহের মতো
চোখে আমার বহু দিনের তন্দ্রা।
এক বিস্ফোরণ থেকে আর এক বিস্ফোরণের মাঝখানে
আমাকে তোমরা বিদ্রূপে বিদ্ধ করেছ বারংবার
আমি পাথরঃ আমি তা সহ্য করেছি।Read More »আগ্নেয়গিরি – সুকান্ত ভট্টাচার্য

আগামী – সুকান্ত ভট্টাচার্য,

জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ,
আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ;
মাটিতে লালিত ভীরু, শুদু আজ আকাশের ডাকে
মেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, স্বপ্ন ঘিরে রয়েছে আমাকে।
যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজে
তবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে,Read More »আগামী – সুকান্ত ভট্টাচার্য,

অনুভব – সুকান্ত ভট্টাচার্য

১৯৪০
অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।
অবাক পৃথিবী! আমরা যে পরাধীন।
অবাক, কী দ্রুত জমে ক্রোধ দিন দিন;
অবাক পৃথিবী! অবাক করলে আরো–
দেখি এই দেশে অন্ন নেইকো কারো।Read More »অনুভব – সুকান্ত ভট্টাচার্য

এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ? – শামসুর রাহমান

এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ?
তেমন যোগ্য সমাধি কই ?
মৃত্তিকা বলো, পর্বত বলো
অথবা সুনীল-সাগর-জল-
সব কিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই !Read More »এ লাশ আমরা রাখবো কোথায় ? – শামসুর রাহমান

উদ্ধার – কবি শামসুর রাহমান

কখনো বারান্দা থেকে চমত্কার ডাগর গোলাপ
দেখে, কখনো বা
ছায়ার প্রলেপ দেখে চৈত্রের দুপুরে
কিংবা দারুমূর্তি দেখে সিদ্ধার্থের শেল্ ফ-এর ওপর
মনে করতুম,
যুদ্ধের বিপক্ষে আমি, আজীবন বড়ো শান্তিপ্রিয় |
যখন আমার ছোট্ট মেয়ে
এই কোণে ব’সে
পুতুলকে সাজায় যতনে, হেসে ওঠেRead More »উদ্ধার – কবি শামসুর রাহমান

তুমি বলেছিলে – শামসুর রাহমান

দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।
পুড়ছে দোকান-পাট, কাঠ,
লোহা-লক্কড়ের স্তূপ, মসজিদ এবং মন্দির।
দাউ দাউ পুড়ে যাচ্ছে নতুন বাজার।Read More »তুমি বলেছিলে – শামসুর রাহমান

অভিশাপ দিচ্ছি – শামসুর রাহমান

না আমি আসিনি ওল্ড টেস্টামেন্টের প্রাচীন পাতা ফুঁড়ে,
দুর্বাশাও নই, তবু আজ এখানে দাঁড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতে অভিশাপ দিচ্ছি।
আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ণপক্ষ দিয়েছিলো সেঁটে
মগজের কোষে কোষে যারা পুঁতেছিল
আমাদেরই আপন জনেরই লাশ দগ্ধ, রক্তাপ্লুত
যারা গণহত্যা করেছে শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারে
আমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিক পশু সেই সব পশুদের।Read More »অভিশাপ দিচ্ছি – শামসুর রাহমান

শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত

সব সময় বিপ্লবের কথা না ব’লে
যদি মাঝে মাঝে প্রেমের কথা বলি—
.                  আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস।
সব সময় ইস্তেহার না লিখে
যদি মাঝে মাঝে কবিতা লিখতে চাই—
.                  আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস।Read More »শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত

মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল . . .
দুই ঠোঁট ছিঁড়ে নাও,
চোখের কোটর থেকে নীলপদ্ম তুলে নাও,
নিষিদ্ধ দেরাজ থেকে তুলে নাও বক্র ছুরি-ছররা-কার্তুজ।Read More »মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

বন্দী-শিবির থেকে – কবি শামসুর রাহমান

ঈর্ষাতুর নই, তবু আমি
তোমাদের আজ বড়ো ঈর্ষা করি | তোমরা সুন্দর
জামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,
কখনো সেজন্য নয় | ভালো খাওদাও
ফুর্তি করো সবান্ধব, সেজন্যেও নয়  |

Read More »বন্দী-শিবির থেকে – কবি শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা – কবি শামসুর রাহমান

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ?

তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,Read More »তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা – কবি শামসুর রাহমান

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – কবি শামসুর রাহমান


নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।
মমতা নামের প্রুত  প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়
ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরে
শিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহন
তর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,
অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,
ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবই
ফোটে, জোটে অলি ঋতুর সংকেতে।Read More »বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা – কবি শামসুর রাহমান