Advertisements
Home / Tag Archives: নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

Tag Archives: নির্মলেন্দু গুণের কবিতা

আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও – নির্মলেন্দু গুণ

আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও, মাথার চুল মেঘের মতো উড়ুক । আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও, স্বপ্নগুলো ছায়ার মতো ঘুরুক । আবার একটা ফুঁ দিয়ে দাও, আটোমেটিক ঘড়ির মতো চলতে থাকি একা । Advertisements

Read More »

দুই সহোদরার মাঝখানে – নির্মলেন্দু গুণ

কাল রাত এই নগরীতে খুব চমৎকার অন্ধকার ছিলো । কাল রাত আমি দুই সহোদরার মাঝখানে শুয়েছিলাম । কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এই জমকের জন্ম হয়েছে ! এদের বড়টির নাম মৃত্যু, তার গায়ের রঙ ঘন কালো; ছোটটির নাম জীবন,বড়টির তুলনায় সামান্য ফর্শা । তবে, অন্ধকারে তাদের বর্ণভেদ প্রায় বোঝা যায় না ।

Read More »

আক্রোশ – নির্মলেন্দু গুণ

আকাশের তারা ছিঁড়ে ফেলি আক্রোশে, বিরহের মুখে স্বপ্নকে করি জয়ী; পরশমথিত ফেলে আসা দিনগুলি ভুলে গেলে এতো দ্রুতো,হে ছলনাময়ী? পোড়াতে পোড়াতে চৌচির চিতা নদী চন্দনবনে আগ্নির মতো জ্বলে, ভূকম্পনের শিখরে তোমার মুখ হঠাৎ স্মৃতির পরশনে গেছে গলে ।

Read More »

আমার বসন্ত – নির্মলেন্দু গুণ

এ না হলে বসন্ত কিসের? দোলা চাই অভ্যন্তরে, মনের ভিতর জুড়ে আরো এক মনের মর্মর, পাতা ঝরা, স্বচক্ষে স্বকর্ণে দেখা চাঁদ, জ্যোৎস্নাময় রাতের উল্লাসে কালো বিষ । এ না হলে বসন্ত কিসের ?

Read More »

বসন্ত বন্দনা – নির্মলেন্দু গুণ

হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে, হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে । আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,–দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে, তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক ।

Read More »

গতকাল একদিন – নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল বড়ো ছেলেবেলা ছিল আমাদের চারিধারে, দেয়ালের মতো অনুভূতিমাখা মোম জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে আমারা দেখেছি শিখার ভিতরে মুখ । গতকাল ছিল জীবনের কিছু মরণের মতো সুখ ।

Read More »

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি – নির্মলেন্দু গুণ

গতকাল ছিল কালো-লালে মেশা একটি অদ্ভুত টুনটুনি । লাফাচ্ছিল ডাল থেকে ডালে, পাতার আড়ালে, ফুল থেকে ফুলে । তার সোনামুখী ঠোঁট, যেন কলমের ডগায় বসানো একরত্তি হীরে । প্রতিটি আঁচড়ে কেটে ভাগ করছিল ফুল থেকে মধু, মধু থেকে ফুল;

Read More »

পতিগৃহে পুরোনো প্রেমিক – নির্মলেন্দু গুণ

পাঁজরে প্রবিষ্ট প্রেম জেগে ওঠে পরাজিত মুখে, পতিগৃহে যেরকম পুরোনো প্রেমিক স্বামী ও সংসারে মুখোমুখি । প্রত্যাখ্যানে কষ্ট পাই,–ভাবি, মিথ্যে হোক সত্যে নাই পাওয়া । বুকের কার্নিশে এসে মাঝে-মধ্যে বসো প্রিয়তমা, এখানে আনন্দ পাবে, পাবে খোলা হাওয়া ।

Read More »

১৬-৬-৮৪ – নির্মলেন্দু গুণ

হয় নিদ্রা আসুক, না হয় এক্ষুনি অবসান হোক এই অসহ রাত্রির । আমি আর সইতে পারছি না । আমার সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে নির্ঘুমতা । এই রাত্রি এখন আমার সহ্যসীমার বাইরে । দুঃখে-ক্ষোভে, অভিমানে আমার বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে দীর্ঘশ্বাস, যেন সমুদ্রের তলদেশ থেকে শূন্য হাতে উঠে আসা ...

Read More »

হাসানের জন্যে এলিজি – নির্মলেন্দু গুণ

প্রেমিকারা নয়, নাম ধরে যারা ডাকে তারা ঝিঁঝি, তাদের যৎসামান্য পরিচয় জানা থাকা ভালো; বলতেই মৃত্তিকারা বক্ষ চিরে তোমাকে দেখালো–; অভ্যন্তরে কী ব্যাকুল তুমি পড়ো ডুয়িনো এলিজি । কবরে কী করে লেখো? মাটি কি কাগজ? খাতা? ভালোবেসে উস্কে দিই প্রাণের পিদিম, এই নাও,

Read More »

প্রশ্নাবলী – নির্মলেন্দু গুণ

কী ক’রে এমন তীক্ষ্ণ বানালে আখিঁ, কী ক’রে এমন সাজালে সুতনু শিখা? যেদিকে ফেরাও সেদিকে পৃথিবী পোড়ে । সোনার কাঁকন যখন যেখানে রাখো, সেখানে শিহরে, ঝংকার ওঠে সুরে ।

Read More »

স্মরণ – নির্মলেন্দু গুণ

নাম ভুলে গেছি, দুর্বল মেধা স্মরণে রেখেছি মুখ; কাল রজনীতে চিনিব তোমায় আপাতত স্মৃতিভুক । ডাকিব না প্রিয়, কেবলি দেখিব দু’চোখে পরান ভরে; পূজারী যেমন প্রতিমার মুখে প্রদীপ তুলিয়া ধরে ।

Read More »

পৃথিবী – নির্মলেন্দু গুণ

তুমি ডেকেছিলে, আমি চলে এসেছিলাম একা । কোনো কিছু সঙ্গে নিইনি, সঙ্গে করে নিইনি পানীয়, তিল-তিসি-তামা বা বিছানা বালিশ, তুমি বলেছিলে সব পাওয়া যাবে, –এ শহর নেশার ও নারীর ।

Read More »

একটি খোলা কবিতা – নির্মলেন্দু গুণ

আসুন আমরা আগুন সম্পর্কে বৃথা বাক্য ব্যয় না করে একটি দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে দিয়ে বলিঃ ‘এই হচ্ছে প্রকৃত আগুন । মীটসেফ খোলা রেখে, বিড়ালকে উপদেশ দিয়ে অযথা সময় নষ্ট ক’রে লাভ নেই, আসুন আমরা মীটসেফের দরোজাটা বন্ধ করে দিই ।’

Read More »

স্বপ্ন, নব-ভৌগোলিক শিখা – নির্মলেন্দু গুণ

এখন আমার বয়স কত হবে? একশ? নব্বই? আশি? হায়রে আমার বেশি-বয়সের স্বপ্ন, আমার একশ হবে না । আমি ময়মনসিংহের কবি, নীরার একান্ত বাধ্য স্বামী, আমার বয়স পঁয়ত্রিশ, আমি ঢাকায় এসেছি স্বরচিত কবিতা পড়তে । আমার বড় ভাই পশ্চিম বাংলার, আমি স্বদেশের মায়ায় জড়ানো কবি ।

Read More »

বউ – নির্মলেন্দু গুণ

কে কবে বলেছে হবে না? হবে,বউ থেকে হবে । একদি আমিও বলেছিঃ ‘ওসবে হবে না ।’ বাজে কথা । আজ বলি,হবে,বউ থেকে হবে । বউ থেকে হয় মানুষের পুনর্জন্ম,মাটি,লোহা, সোনার কবিতা, —কী সে নয়?

Read More »

আবার যখনই দেখা হবে – নির্মলেন্দু গুণ

আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগেই বলে দেব স্ট্রেটকাটঃ ‘ভালোবাসি’। এরকম সত্য-ভাষণে যদি কেঁপে ওঠে, অথবা ঠোঁটের কাছে উচ্চারিত শব্দ থেমে যায়, আমি নখাগ্রে দেখাবো প্রেম, ভালোবাসা, বক্ষ চিরে

Read More »

আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি – নির্মলেন্দু গুণ

সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি, রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি। আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি। শহিদ মিনার থেকে খসে-পড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি। আমি তাঁর ...

Read More »

স্বাধীনতা, উলঙ্গ কিশোর – নির্মলেন্দু গুণ

জননীর নাভিমূল ছিঁড়ে উল্ঙ্গ শিশুর মত বেরিয়ে এসেছো পথে, স্বাধীনতা, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তোমার পরমায়ু বৃদ্ধি পাক আমার অস্তিত্বে, স্বপ্নে, প্রাত্যহিক বাহুর পেশীতে, জীবনের রাজপথে, মিছিলে মিছিলে; তুমি বেঁচে থাকো, তুমি দীর্ঘজীবী হও। তোমার হা-করা মুখে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অবধি হরতাল ছিল একদিন, ছিল ধর্মঘট, ছিলো কারখানার ধুলো।

Read More »