অমিতাভ দাশগুপ্তের শ্রেষ্ঠ কবিতা

নারীমেধ – অমিতাভ দাশগুপ্ত

এক

‘মেয়েমানুষের মাংস এমনিতেই খেতে খুব স্বাদু,
আর যদি দিশি মদে ভিজিয়ে ভিজিয়ে
হায় হায় ভাবাই যায় না…..
তাছাড়া এখন খুব পড়েছে মরশুম,Read More »নারীমেধ – অমিতাভ দাশগুপ্ত

আহা চাল – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কাঁড়া না আকাড়া?
এ-প্রশ্ন বিলাসিতা—
খরার উপোশে ভিক্ষার চাল তুমি।
ওই চাল থেকে ছুটেছে রমনী, ভিক্ষু ও ভিক্ষুক
খুনখারাবির মরীয়া লাল দু চোখে,
বাঁধের কোমরবন্ধ ফাটানো গতির তুমুল বন্যায়Read More »আহা চাল – অমিতাভ দাশগুপ্ত

গঙ্গা আমার মা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কবি আজকাল ভোরবেলা ওঠে
বাগবাজারের গঙ্গার ঘাঁটে যায়
পাশে বাঁ হাতের মতো স্ত্রী
কবির সারা শরীরে সার সার পিনিশ সালতি নৌকো
লঞ্চের ছুঁচলো সিটি
সমুদ্রগামী জাহাজের সুগ্মভীর ডাকRead More »গঙ্গা আমার মা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

নৌকাডুবি – অমিতাভ দাশগুপ্ত

সরলের মধ্যে আছে কত মারাত্মক প্রতারণা,
যখন তা জানা যায়–
বড় বেশি দেরি হয়ে গেছে।
ঐ গ্রীক নাক নিয়ে বিনয়ে সন্নত
যে-যুবক বসেছে সামনে,Read More »নৌকাডুবি – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত (২৫/১১/১৯৩৫ – ৩০/১১/২০০৭) জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার ফরিদপুরে। ফরিদপুরের ঈশান স্কুলে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯৪৪ সালে কবিকে কলকাতার “টাউন স্কুলে” ভর্তি করে দেওয়া হয়। ১৯৫৩ সালে তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে আই.এ. পাশকরেন এবং ১৯৫৪ সালে সিটি কলেজে ভর্তি হন। এই সময়ে তিনি, কলকাতায়, ক্রিকেটার হিসেবে সুনাম অর্জন করেছিলেন। তিনি বরানগর স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে কলকাতার ফার্স্ট ডিভিশন সি.এ.বি. লীগ ট্যুর্নামেন্টে ন্যাটা (বাঁহাতি) স্পিনার হিসেবে খেলেছেন।

কবি অমিতাভ দাশগুপ্তের সেরা কবিতা

  1. আমার নাম ভারতবর্ষ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত
  2. আমার নীরবতা আমার ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  3. আহা চাল – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  4. উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  5. এই স্পার্টাকাস-রাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  6. এসো স্পর্শ করো – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত
  7. ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছিঃ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত
  8. কাল সারারাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  9. খো খো – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  10. গঙ্গা আমার মা – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  11. তোমার ক্ষমায় স্নাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  12. নারীমেধ – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  13. নৌকাডুবি – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  14. বুকের বাংলা ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  15. মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত
  16. শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত
  17. শেষ ঘোড়া – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত ১৯৫৬ সালে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এই সময়ে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যতা গ্রহণ করেন এবং কারাবরণ করেন। আজীবন তিনি এই পার্টিরই (C.P.I.) সদস্য থেকে গিয়েছিলেন।

“দেশ” পত্রিকায় তাঁর কবিতা সর্বপ্রথম ছাপা হয়। তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর শেষ উপন্যাস “হলুদ নদী সবুজ বন” লিখতে সাহায্য করেছিলেন। এই সময়ে মানিকবাবুর শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে তিনি নিজে লিখতে পারছিলেন না।

১৯৫৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাশ করেন এবং অনুরাধা দেবীর সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন। এরপর তিনি জলপাইগুড়িতে গিয়ে আনন্দচন্দ্র কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন এবং সেখানকার চা-শ্রমিকদের বামপন্থি আন্দোলনে যোগদান করতে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৬৮ সালে আবার তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৬৯ সালে তিনি কলকাতার সেন্ট পল কলেজে অধ্যাপনার কাজে যুক্ত হন এবং কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র “কালান্তর” পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীতে যোগ দিয়ে কাজ করা শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি “পরিচয়” পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “একশো প্রেমের কবিতা”, “মৃত্যুর অধিক খেলা” (১৯৮২), “নীল সরস্বতী”, “জলে লেখা কবিতার নাম”, “সমুদ্র থেকে আকাশ” (১৯৫৭), “ক্ষমা ? কাকে ক্ষমা ?”, “প্রেম পদাবলী”, “মৃত শিশুদের জন্য টফি” (১৯৬৪), “এসো রাত্রি এসো হোম”, “অমিতাভ দাশগুপ্তের নির্বাচিত কবিতা” (১৯৭৪), “আগুনের আলপনা” (১৯৮৫), “সাম্প্রতিক কবিতা”, “মধ্য রাত ছুঁতে আর সাত মাইল” (১৯৬৭), “স্বনির্বাচিত কবিতা”, “কাছে দূরে কলকাতা”, “কলকাতার মুখ”, “অমিতাভ দাশগুপ্তর শ্রেষ্ঠ কবিতা” (১৯৮৬), “ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাতকাহন”, “এসো স্পর্শ করো”, “ভালো আছো, কলকাতা ?”, “বারুদ বালিকা” (১৯৮৮), “আমাকে সম্পূর্ণ করে নাও”, “কমলালেবুর অশ্রু এসো” (১৯৯০), বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে “মুখোমুখি দুই কবি”, “ছিন্নপত্র নয় ছেঁড়া পাতা”, “এত যে পাতাল খুঁড়ছি” প্রভৃতি।

তাঁর অনুদিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “মাওসেতুং-এর কবিতা”, উইলিয়াম শেক্সপিয়রের Venus and Adonis পদ্যের রূপান্তর “ভেনাস ও অ্যাডোনিস”। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনুবাদ করেছেন স্পেন এর কবি Federico García Lorca –র কবিতা “লোরকার কবিতা”।

“কবিতাবাসর” ও “শিলীন্ধ্র” পত্রিকা তাঁর উপর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত করে। কবি নিজে সম্পাদনা করেছেন “পরিচয়”, “কবিতার পুরুষ”, “সরণি” (?) প্রভৃতি পত্রিকা। আজকাল পত্রিকার তিনি একজন নিয়মিত কলামিস্ট ছিলেন।

তাঁর কবিতা সম্বন্ধে ডঃ শিশিরকুমার দাশ লিখেছেন,

“. . . .যে বলিষ্ঠ প্রত্যয় ও ঋজু ভাষাভঙ্গি বামপন্থী কাব্যধারার বৈশিষ্ঠ্য, অমিতাভের কবিতায় তা পূর্ণ বিকশিত। তাঁর নিজস্বতা প্রতিমা নির্মাণের সৌন্দর্যে।”

বিভিন্ন সময়ে এই কবি বিবিধ সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আকাশবাণীর সুবর্ণ জয়ন্তীর জাতীয় কবি সম্মেলনে, তিনি নির্বাচিত কবি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে কবিতার উত্কর্ষের জন্য ভূষিত হয়েছিলেন নক্ষত্র পুরস্কার এবং প্রসাদ পুরস্কারে। ১৯৮৩ সালে তিনি নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন পূর্ব জার্মান সরকার দ্বারা অনুষ্ঠিত জার্মান কবি গেটে-র জন্ম জয়ন্তীতে, কিন্ত ব্যক্তিগত কারণবশতঃ সেখানে তাঁর যাওয়া হয়ে ওঠে নি। ১৯৮৯ সালে ইন্দো-সোভিয়েত কবি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছিলেন। ১৯৯২ সালে যোগ দেন সার্ক (সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন) কবি সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে। ১৫ই অগাস্ট ১৯৯৪ তে বাবরী মসজিদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে অযোদ্ধায় গিয়ে কবি তাঁর কবিতা পাঠ করে এসেছিলেন। “আমার নীরবতা আমার ভাষা” কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৯৯ সালে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার।

আমার নীরবতা আমার ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

আমার হাতে কোনও শাবল ছিল না,
বাটালিও নয়,
তবু, এতদিন তিলে তিলে গড়ে তোলা দুর্গ
এক দুপুরের বৃষ্টিতে কীভাবে ধুয়ে গেল!
আর
ওই বিশাল পাথুরে অবরোধ-ই যে আড়াল করে রেখেছিল
হার্মাদের মত এক খ্যাপা নদী,Read More »আমার নীরবতা আমার ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত

সব সময় বিপ্লবের কথা না ব’লে
যদি মাঝে মাঝে প্রেমের কথা বলি—
.                  আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস।
সব সময় ইস্তেহার না লিখে
যদি মাঝে মাঝে কবিতা লিখতে চাই—
.                  আমাকে ক্ষমা করবেন, কমরেডস।Read More »শুনুন কমরেডস – অমিতাভ দাশগুপ্ত

এসো স্পর্শ করো – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

.            এসো।
.            ছোঁও।
সম্পূর্ণ পাথর হয়ে গেছি কিনা, দ্যাখো।
পাথরের বুক থেকে মাংস নাও,
পাঁজরের রিডে রিডে চাপ দাও দশটি আঙুলে,
.            আমাকে বাজাও তুমি
.            বিঠোফেন-বালিকার হাত,
.            বলো—
.            আমি প্রত্ন নই,
.            নই অন্ধ, জমাট খনিজ,
.            বলো—সব শেষ নয়,
এখনও আমার কিছু সম্ভাবনা আছে।Read More »এসো স্পর্শ করো – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

এই স্পার্টাকাস-রাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

আজ রাতে
.          যখন চারপাশ সুনসান,
মশারির অনের নিচু থেকে
.                  অম্লজান টানার শব্দ,
গলি-উপগলি-কানাগলির শিরায়, টানেলে
.                                     ঝুপঝাপ অন্ধকার,
গাড়িবারান্দার নীচে
.                     ঘর-ছুট্ মানুষ আর আকাশেরRead More »এই স্পার্টাকাস-রাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

তোমার ক্ষমায় স্নাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

মেঘের খোঁপায় ফুটেছে আলোর ফুল,
তোমাকে কি দেব অনন্য উপহার ?
কোন ঘাটে পার
হ’তে চেয়েছিলে খুঁজে অনুকুল হাওয়া,
নাবিক বাছো নি, এ-নৌকো বেয়ে যায় কি সুদূরে যাওয়াRead More »তোমার ক্ষমায় স্নাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কাল সারারাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

কাল সারারাত
একটা ছেলেকে ফলো করতে করতে
আমার স্বপ্ন ক্লান্ত হয়ে গেছে।
গোড়ালি-ছেঁড়া পাজাম
আর মভ্ রঙের পাঞ্জাবি পরা
সেই ছেলেটির মুখ কখনো দেখা যায় নি।Read More »কাল সারারাত – অমিতাভ দাশগুপ্ত

বুকের বাংলা ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

যত দূরেই যাচ্ছি
.           তোদের পায়ের শব্দ পাচ্ছি।
তোরা আমার সঙ্গ ছাড়িস না,
আঁচল পেতে আছেন বসে
.                   ঐ আমাদের মা,
একজোটে ঐ দুঃখিনীটির ঘরের দাওয়ায় যাবো
.                            খুঁদকুড়ো যা পাই, সব্বাই খাবো।Read More »বুকের বাংলা ভাষা – অমিতাভ দাশগুপ্ত

উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি – অমিতাভ দাশগুপ্ত

বুকের রক্ত মুখে তুলে যারা মরে
ওপারে ঢাকায় এপারের শিলচরে
তারা ভালোবাসা-বাংলাভাষার জুড়ি—
উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি।Read More »উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি – অমিতাভ দাশগুপ্ত

শেষ ঘোড়া – অমিতাভ দাশগুপ্ত

তুই সেই শেষ ঘোড়া
যার ওপর আমার সর্বস্ব বাজি ধরেছি।

একত্রিশ বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে
এ আমার স্পেকুলেশন।
তোমার ডাইনে সুইট ফায়ার,Read More »শেষ ঘোড়া – অমিতাভ দাশগুপ্ত

মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল . . .
দুই ঠোঁট ছিঁড়ে নাও,
চোখের কোটর থেকে নীলপদ্ম তুলে নাও,
নিষিদ্ধ দেরাজ থেকে তুলে নাও বক্র ছুরি-ছররা-কার্তুজ।Read More »মধ্যরাত ছুঁতে আর সাত মাইল – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছিঃ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

ওর মা মরেছে আটষট্টির বন্যায়
বাপ এ সনের খরায়,
ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছিঃ
ও যে যমের অরুচি!

চরায়-বড়ায় খই ফুটেছে তপ্ত খোলা
পাথর মাটি পাথর,
গোয়ালে গাই বিইয়েছেRead More »ওকে ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না ছিঃ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

খো খো – অমিতাভ দাশগুপ্ত

মায়ের সঙ্গে ঠোঙা বানায়.,
বিকেলে খেলে খো খো,
বনগাঁ থেকে বার্লিনে যায়,
সাধ্যি থাকে রোখো।
মেয়ের বাবা সকাল-সন্ধে
চৌমাথাতে হকার,Read More »খো খো – অমিতাভ দাশগুপ্ত

আমার নাম ভারতবর্ষ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত

স্টেন গানের বুলেটে বুলেটে
আমার ঝাঁঝরা বুকের উপরে ফুটে উঠেছে যে মানচিত্র—
তার নাম ভারতবর্ষ।

আমার প্রতিটি রক্তের ফোঁটা দিয়ে
চা-বাগিচায় কফি খেতে,
কয়লা-খাদানে, পাহাড়ে-অরণ্যে
লেখা হয়েছে যে ভালোবাসা—
তার নাম ভারতবর্ষ।Read More »আমার নাম ভারতবর্ষ – কবি অমিতাভ দাশগুপ্ত