Advertisements

নীরার জন্য কবিতার ভুমিকা – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

এই কবিতার জন্য আর কেউ নেই, শুধু তুমি, নীরা এ কবিতার মধ্যরাত্রে তোমার নিভৃত মুখ লক্ষ্য করে ঘুমের ভিতরে তুমি আচমকা জেগে উঠে টিপয়ের থেকে জল খেতে গিয়ে জিভ কামড়ে এক মুহুর্ত ভাববে কে তোমায় মনে করছে এত রাত্রে — তখন আমার এই কবিতার প্রতিটি লাইন শব্দ অক্ষর কমা ড্যাশ ...

Read More »

নীরার দুঃখকে ছোঁয়া – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কতটুকু দূরত্ব? সহস্র আলোকবর্ষ চকিতে পার হয়ে আমি তোমার সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসি তোমার নগ্ন কোমরের কাছে উষ্ণ নিশ্বাস ফেলার আগে অলঙ্কৃত পাড় দিতে ঢাকা অদৃশ্য পায়ের পাতা দুটি বুকের কাছে এনে চুম্বন ও অশ্রুজলে ভেজাতে চাই আমার সাঁইত্রিশ বছরের বুক কাঁপে

Read More »

নীরার হাসি ও অশ্রু – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরার চোখের জল অনেক চোখের অনেক নীচে টল্‌মল্‌ নীরার মুখের হাসি মুখের আড়াল থেকে বুক, বাহু, আঙুলে ছড়ায় শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরা

Read More »

নীরার অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরার অসুখ হলে কলকাতার সবাই বড় দুঃখে থাকে সূর্য নিভে গেলে পর, নিয়নের বাতিগুলি হঠাৎ জ্বলার আগে জেনে নেয় নীরা আজ ভালো আছে? গীর্জার বয়স্ক ঘড়ি, দোকানের রক্তিম লাবণ্য–ওরা জানে নীরা আজ ভালো আছে!

Read More »

নীরার পাশে তিনটি ছায়া – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

নীরা এবং নীরার পাশে তিনটি ছায়া আমি ধনুকে তীর জুড়েছি, ছায়া তবুও এত বেহায়া পাশ ছাড়ে না এবার ছিলা সমুদ্যত, হানবো তীর ঝড়ের মতো– নীরা দু’হাত তুলে বললো, ‘মা নিষাদ!

Read More »

হঠাৎ নীরার জন্য – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

বাস স্টপে দেখা হলো তিন মিনিট, অথচ তোমায় কাল স্বপ্নে বহুক্ষণ দেখেছি ছুরির মতো বিঁধে থাকতে সিন্ধুপারে–দিকচিহ্নহীন– বাহান্ন তীর্থের মতো এক শরীর, হাওয়ার ভিতরে তোমাকে দেখছি কাল স্বপ্নে, নীরা, ওষধি স্বপ্নের নীল দুঃসময়ে।

Read More »

মাস্টারদার হাতঘড়ি – শামসুর রাহমান

মাস্টারদা, আপনি কি হাতঘড়ি পরতেন কখনো? এই প্রশ্ন আমাকে ঠোকর মেরেছে অনেকবার। মাস্টারদা, আপনার বিষয়ে অনেক কিছুই জানা আছে আমার। আপনার শরীরের গড়ন, মূল্যবান রত্নের মতো চোখের দীপ্তি, জীবন-যাপনের ধরন-এরকম বহুবিধ খুঁটিনাটির আলো আমি পেয়েছি

Read More »

স্বাধীনতা তুমি – শামসুর রাহমান

স্বাধীনতা তুমি রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান। স্বাধীনতা তুমি কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা- স্বাধীনতা তুমি শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা স্বাধীনতা তুমি

Read More »

কখনো আমার মাকে – শামসুর রাহমান

কখনো আমার মাকে কোনো গান গাইতে শুনিনি। সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়ে আমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কি না আজ মনেই পড়ে না। যখন শরীরে তার বসন্তের সম্ভার আসেনি, যখন ছিলেন তিনি ঝড়ে আম-কুড়িয়ে বেড়ানো বয়সের কাছাকাছি হয়তো তখনো কোনো গান

Read More »

শুধু তোমার জন্য – নির্মলেন্দু গুণ

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন। তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও কতবার যে আমি সে কথা বলিনি সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন। তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য

Read More »

তোমার চোখ এত লাল কেন – নির্মলেন্দু গুণ

আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক, শুধু ঘরের ভিতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য। বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত। আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাই কেউ আমাকে খেতে দিক।আমি হাতপাখা নিয়ে

Read More »

জন্মদিন – শুভ দাশগুপ্ত

  আজ পয়লা শ্রাবণ। খোকন, আজ তোর জন্মদিন। তুই যখন জন্মেছিলি, আমরা তখন যাদবপুরে নতুন গড়ে ওঠা কলোনীর টালির ঘরে তোর ইস্কুল মাস্টার বাবা সেই হ্যারিকেনের আলো জ্বলা ঘরেই আনন্দে আর খুশিতে ঝলমলে হয়ে উঠেছিলেন তুই আসার পর। তোর নাম রেখেছিলেন- সুকল্যাণ।

Read More »

আমিই সেই মেয়ে – শুভ দাশগুপ্ত

আমিই সেই মেয়ে। বাসে ট্রেনে রাস্তায় আপনি যাকে রোজ দেখেন যার শাড়ি, কপালের টিপ কানের দুল আর পায়ের গোড়ালি আপনি রোজ দেখেন। আর আরও অনেক কিছু দেখতে পাবার স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে যাকে ইচ্ছে মতন দেখেন। আমিই সেই মেয়ে।

Read More »

শাড়ি – সুবোধ সরকার

বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা এতো শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি। আলমারির প্রথম থাকে সে রাখলো সব নীল শাড়িদের হালকা নীল একটা কে জড়িয়ে ধরে বলল, তুই আমার আকাশ

Read More »

কথোপকথন – ২-পূর্ণেন্দু পত্রী

: এতো দেরী করলে কেন? সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি। – কি করবো বলুন ম্যাডাম? টিউশনি শেষ করে বাইরে তখন ঝুম বৃষ্টি। আমার জন্যে তো আর গেইটের বাইরে মার্সিডিজ দাঁড়িয়ে থাকে না যে ড্রাইভারের কুর্নিশ নিতে নিতে হুট করে ঢুকে পড়বো। তাই ঝুম বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কাদা-জল ভেঙ্গে, গরীবের গাড়ি ...

Read More »

কেউ কথা রাখেনি – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো কেউ কথা রাখেনি ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমি তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিলো শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে তারপর কত চন্দ্রভুক অমবস্যা এসে চলে গেল, কিন্তু সেই বোষ্টুমি আর এলো না পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি ।

Read More »