হে প্রমিথিউস

0
38

হে প্রমিথিউস,
নির্মাণ কারিগর হে মানবের,
পরম মমতায় গড়িয়া মানুষ,
তুমি তাকে দিয়েছ শক্তি সোজা হয়ে দাড়াবার।
নির্মাণ অধিকার, সুসজ্জিত, দুর্বার, ক্ষুরধার।

জিউসের কোন গুপ্ত আঙিনায় হে অনন্য
দিয়েছিলে তুমি হানা?
এনেছিলে অগ্নি, তোমার সৃষ্ট মানবের জন্য।
তোমার সে দানে মানুষ,
গলিয়ে ধাতু করেছে নির্মান– শানিত বান,
হিংস্র পশুরে বিঁধিয়া, করেছে জীবিকার সন্ধান।

মানবের জয়রথ ছুটেছে দুর্নিবার,
পাথুরে দিনের শেষে, তাম্র এসেছে হেসে,
চাকার ফ্রেমে ছুটে, অসীম এসেছে মুঠে।
চষিয়া জমিন, লৌহ গঠিত ফালে
সোনার ফসল, ফলেছে চাষির হালে।

গোত্রে গোত্রে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা,
বর্শা,ফলায়,তীরে বেড়েছে গোত্রের সীমানা।
কামান,রকেট,মিসাইল আর এটম বোমার ভারে,
স্যাটেলাইটে, অপটিকস ফাইবারে,
বিশ্ব এখন মানবের হাতের মুঠোয় নাচে।

হে প্রমিথিউস,
অগ্নি দিতে মানুষেরে উপহার,
তুমি বাঁধা পড়েছ ককেশাসে– শৃঙ্খলে,
তোমার কলিজা ঠুকরে খেয়েছে, জিউসের ঈগলে।
নিয়ত তোমার ক্ষত,রাতের আঁধারে ভরেছে পুনর্বার,
দিনে,ঈগলের নখরে, ছিন্নভিন্ন হইয়াছে তা আবার।

একদিন অবশেষে, হারকিউলিস এসে,
শুধিতে মাতৃঋণ,লাঘবিতে পিতা জিউসের পাপভার,
ঈগলের বুকে মারিল মৃত্যু বান,
তুমি– হে প্রমিথিউস, পাইলে মুক্তি দান।

দেখ হে প্রমিথিউস,
আজ জীবকুলের শ্রেষ্ঠ মানব জাতি,
নিজের বসতি, নিজেই চলেছে পুড়িয়ে।
শীশা,কার্বনে বাতাস হয়েছে ভারি,
নীলাভ আকাশ কালোয় গিয়েছে হারিয়ে।

হে প্রমিথিউস,
যাকে শ্রেষ্ঠ করিতে, তুমি সয়েছিলে, দুর্মর যন্ত্রণা,
কেমন করে সে, শুধিবে তোমার দেনা?
প্রমিথিউস ফিরে এসো তুমি ফের,
দিতে মানবের মাঝে বোধ, দংশন বিবেকের।
শুনছো প্রমিথিউস?
হে প্রমিথিউস।

রচনাঃ মোছাঃ শাহিদাখাতুন