হেমন্ত -আল আমিন মুহাম্মাদ

0
18

কাব্যগ্রন্থ: কষ্টের নিদারুণ সাক্ষী (অপ্রকাশিত)

হেমন্ত

আল আমিন মুহাম্মাদ

***************************************
রোদ-মেঘের লুকোচুরি আশ্বিনেতে শেষ,
হাবড়-কাদার হালুয়া খেলো সূয্যিমামা বেশ!
হালকা হালকা হিম-হিম
দাবদাহে ধরেনা ঝিম
এলো রে হমন্ত !
বদলে গ্যালো বাংলাদেশের প্রকৃতির মন-তো।

মাঠের সাথে পাল্লা দিয়ে পুকুর পানি চোষে,
খালের জলে কৈ মারে কে বর্শি নিয়ে বসে,
রাতের আলোয় মধ্যি বিলে
কোঁচ হাতে ঢের মাছ মেলে
এলো রে হেমন্ত !
মাছে- ভাতে বাঙ্গালীর আঁশটের ক্ষণ-তো।

ধানী বাংলার মাঠ-খেতে পাকিছে আমনধান
ফি বছেরর শাশ্বত খুশিতে ভর্ছে চাষির প্রাণ,
এ বাড়ি ও বাড়ি নয়তো দূর
একই সব আনন্দ-সূর
এলো রে হেমন্ত !
বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসবের ক্ষণ-তো।

কুয়াশা ভোরে রয়েছে ঘিরে সকল কোণে কোণে,
শিশির বিন্দু ঝিলিক মারে ঘাসের প্রাণে প্রাণে,
সকাল হয় রাঁঙ্গা ভোরে
মেঘ-বৃষ্টি গেছেতো সোরে
এলো রে হেমন্ত !
আকাশ-বাতাস,নদী-মাঠ-খেতে রং লাগার ক্ষণ্-তো।

মটর, কলই, শষ্য, মুশুরি খেতে খেতে বোঝাই,
মুলো, পালং, কপি, শাঁকে খেতের সীমা নাই!
হাট-বাজার গমগমে
বৃষ্টিতে আর নেই থেমে
এলো রে হেমন্ত!
চলা-ফেরা, খাওয়া-দাওয়াই সুবিধের ক্ষণ্-তো।

শরতী গরম কাল হয়ে নরম কার্তিকে ঢুকেছে,
বুড়ো-গুড়ো নাক টানে ক্যান্ ?–”সর্দি এটেছে”,
লেপ-তোষক কোথায় রাখো
টুপি- সোয়েটারে গা ঢাকো
এলো রে হেমন্ত!
ঠান্ডা-গরম মিনে হবে রোগ কঠিন্- তো।

নতুন ধানে রসের পিঠার ধুম পড়িছে বাড়ি
মেয়ে- জামাই আসলে হবে আরো কাড়াকাড়ি!
নতুন বিয়ের বাজেরে সানাই
ভরেরে পুলক কানাই কানাই
এলো রে হেমন্ত!
বাঙ্গালীর মনে ঢুকেছে য্যানো আরেক বসন্ত।