Skip to content

সুরঞ্জন ও সঞ্চারীর কথা – চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী

বয়স যত বেড়েছে, সুরঞ্জন তত যেন আঁকড়ে ধরতে চেয়েছে তার নিজের, একদমই নিজের মানুষজনকে। গভীর সংশয়, হতাশা বা অজানা কোনো দ্বিধা থেকে সে ক্রমশ নিজেকে, নিজের বোহেমিয়ান সত্তাকে সচেতন ভাবেই যেন গুটিয়ে নিতে চায় শামুকের শীতল খোলের মধ্যে, কোথাও কি অবিশ্বাস তাকে এখানে কুরে কুরে খেতে থাকে? যে প্রলগভতা একদিন তাকে মত্ত অবস্থায় জগতের শ্রেষ্ঠ সুন্দরী হরিণীটির প্রতি ধাবিত করেছিল, কস্তুরির সুগন্ধে মাতোয়ারা হয়ে জগত সংসারকে দাপটে হেয়জ্ঞান করতে দ্বিধা করেনি সে সেদিন দু’মুহূর্ত, সেই সুরঞ্জন আজ যৌবনের উপকন্ঠে এসে এ কী করল? নিভু নিভু পৌরুষ তার পুরোনো দাপট হারিয়ে ফেললে, এক সময়ের প্রাণবন্ত তরতাজা দুরন্ত দুর্মর যুবকও কি এভাবেই গুটিয়ে যায়? দুরূহ কোনো পিছুটানে ভুগতে থাকে? অনিশ্চয়তায়, অবিশ্বাসে রক্তাল্প হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে? রক্তের জোর কি তাহলে পুরোটাই হরমোনের খেলা? উত্তর পায় না সুরঞ্জন। শুধু হোটেল রুমের দুধসাদা বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে থাকা নগ্না সঞ্চারীর নরম বুকের উপরে মুখ ঘষতে ঘষতে, স্তনবৃন্তে মৃদু দংশন করতে করতে কখনো কখনো সুরঞ্জন হয়তো ভেবেও বসে এতসব না হলেও চলত! কিন্তু সেই চরম মুহূর্তে শীৎকারের আবেশে ডুবে থাকা সঞ্চারী কি এক মুহূর্তের জন্যও কোথাও বাঁধন আলগা হয়ে যাওয়ার নির্মম সংকেতটি তখন অনুধাবন করতে পারে? ছন্দচ্যুতি হওয়ার মতো করেই কি টের পায় কোনোকিছু? পায় না বোধ হয়। তাই হয়তো আরো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে সে কাছে টেনে নিতে চায় সুরঞ্জনকে। হায় রে মানুষের জীবন!

যৌবন কি তাহলে এতটাই লঘুচালে জীবনকে টেনে নিয়ে চলে? সে কি উপান্তে উপনীত হলে প্রতি মুহূর্তে দ্বিধায় নিজেকে মুড়ে ফেলে ? এ তো তাহলে ঘোরতর এক জীবনসংকট! চিন্তাসংকটও বটে। এতই যদি তফাৎ হবে যৌবন বয়সের সঙ্গে পরিণত ও প্রবীণ বয়সের, তাদের চিন্তায়, ভাবনায় ও কর্মে, তাহলে ঘোর অনুশোচনায় যে ডুবে থাকতে হয় বাকি জীবনকাল! পাপস্খলনের নিমিত্তে।

বিকেলের ট্রেন হাওড়া ছাড়লে মফসসলের ছেলে বছর পঞ্চাশের সুরঞ্জন ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে জানলা দিয়ে বাইরের চলমান প্রকৃতির দিকে!

মন্তব্য করুন