সুবর্ণ – জিনিয়া দত্ত

0
3

ভাই বোনেদের মধ্যে বড়
তাই সবাই ডাকত বড়দি,
তেজ, দাপট নিয়ে
সে ছিল খুব জেদি।

মাথা নোয়ানো দূরের কথা,
আত্মসম্মান ছিল বেশি,
পাড়া পড়শি সবাইকে
রাখত সে খুশি।
সবাই ডাকত সুবর্ণ দি,
আছেন নাকি বাসায়?
চেঁচিয়ে বলে সুবর্ণ
ঐ তোর মুখটা দেখা আইস্যা।
এতদিনে আইলি মনে পড়ল
আমার কথা,
আয় বইস্যা কিছুক্ষণ
বলি মনের কথা।

গপ্পে গপ্পে বেলা গড়ায়
ঠাকুর পূজায় হয় দেরি,
সুবর্ণ বলে ঐ এখন যা
আগে পূজার কাম সারি।

সারাদিন ঠাকুর ঘরে
সুবর্ণ থাকত মগ্ন,
তপনের বাপ ফুলটা নিয়ে
আসেন পূজার জন্য।
তপনের বাপ দেরি করলেই
রক্ষে আর নেই,
সুবর্ণের মুখের বাণী
জানে সবাই।

সুবর্ণ কিন্তু কর্মঠ ছিল,
থাকত কাজের মধ্যে,
নিজের রান্না নিজে করত,
দিত সময়ে সন্ধ্যে।
অনেক সময় কাজেই তার
কেটে যেত বেলা,
তখন সে খেত শুধুমাত্র একবেলা।

শুয়ে পড়ত তাড়াতাড়ি
উঠত মাঝ রাতে,
হাতে প্লাস্টিক আর লাঠি নিয়ে
যেত ফুল পাড়তে।
অনেক সময় বলত আজ
রাত্রে ভুত দেখছি,
সাদা কাপড় পইড়া তাল গাছের
পিছনে যাইতে দেখছি।

এসব শুনে ওকে বলতাম
তোমার ভয় লাগে না পিসি,
বলত তখন ভয় পামু কেন,
ওরা তো সব নিশি।

সুবর্ণের বিয়ে হয়
মাত্র এগারোতে,
স্বামী ছিল সহজ সরল
চলত সুবর্ণের কথাতে।

সুবর্ণের বাপ মেয়েরে
নিজের কাছেই রাখে,
বিয়ের পরেও তাই
সুবর্ণ বাপের বাড়িতেই থাকে।

মা হারা ভাইদের
সে দায়িত্ব নেয়,
ভাইদেরকেও নিজের
ছেলে করে নেয়।
সবাই বড়দিকে
মায়ের মতই ভাবত,
তার ভয়ে সকলে
গুঁটিসুটি মেরে থাকত।

সংসারটা সামলাতো একাই
টেকে চাবি গুঁজে,
মাঝে মাঝে দেশের ভাষায়
গালি দিত সে যে।
মনের জোরের পরাক্রমে
দুঃখেও সে হারে নি,
নিজে কষ্ট করেও
পরিবারকে ছাড়ে নি।

খারাপ সময়ে নিজে খেটে,
সবাইকে দেখেছে,
নিজের মান সম্মান
সর্বদা বজায় রেখেছে।

আজও যখন ভাবি ওকে
চোখ ভিজে যায় জলে,
ও আর নেই সবার মাঝে,
চলে গেল না বলে।