Home / কবিতা / ‘মা’ একটি আত্ম উপলব্ধি — নীল অঞ্জন

‘মা’ একটি আত্ম উপলব্ধি — নীল অঞ্জন

মসজিদের মৌলবি বললেন
লজ্জা নাই, পর্দা নাই
বেহায়া, বেগানা আউরত!
মন্দিরের পুরোহিত বললেন
ছি, ছি, নরকেও ঠাঁই হবে না
নষ্টা, কুজাত, কুলটা রমণী!
গির্জার ধর্মযাজক বললেন
ব্যাভিচারী, পতিতা, ডাইনি
ভ্রষ্টা, পাপিষ্ঠা মেয়ে মানুষ!
তবুও খবরটা শুনে নেমে এলো
হাজারো লাখো মানুষের ঢল।
কিছু আলেম ছুটলো, মেয়েটিকে
মুরতাদ ঘোষনা করতে করতে।
কিছু পূজারী ব্রাহ্মণ ছুটলো
পৈতে হাতে ধর্ম রক্ষা করতে করতে।
কিছু বীর ব্রাদার ছুটলো
তৎক্ষণাৎ ডাইনিকে পুড়িয়ে মারতে।
এ খবর মূহুর্তেই যেন দাবানল,
দিকে দিকে চাউর হয়ে গেল।
উঠতি বয়সী কিছু যুবক ছুটলো
রাস্তায় টেনে খিস্তি দিতে দিতে।
এক বদ্ধ মাতাল শূঁড়িখানা ভুলে
অন্য এক সোমত্ত নেশার সন্ধানে।
এক ভদ্রবেশী কামুক লম্পট
জিভে লোল নিয়ে কামনার আগুনে।
অফিস ফেরতা বাবু ছুটলেন
বিনে পয়সায় সার্কাস দেখবে বলে।
পার্কের স্বাস্থ্য সচেতন বৃদ্ধের দল
নুয়ে পড়া যৌবন পরীক্ষা করতে।
পাড়া ভিনপাড়ার কাকিমা, বৌদিরা সব
ঘেন্নার কেচ্ছা কাহিনি শুনতে, শোনাতে।
ব্যর্থ আর সফল প্রেমিক, প্রেমিকার দল
লাইভ টেলিকাস্ট দেখবে বলে।
পুলিশের গোটা এক প্ল্যাটুন
আইন হাতে নেবেন না বলতে বলতে।
আর মিডিয়া জার্নালিস্টের দল
সরুন, সরুন জায়গা দিন ___
দেখা গেল মাঝরাস্তায় এক মেয়ে
সম্পূর্ণ নগ্ন, যার পরনে কিছু নেই!
অ্যাম্বুলেন্স এসে দেখলো
মেয়েটি জাগ্রত, ধর্ষিতা নয়!
বরং এক দুর্ভাগা ধর্ষকের
কাটা পুরুষাঙ্গ তার হাতে।
তখনো পুরুষাঙ্গ হতে টিপ টিপ রক্ত
গড়িয়ে পড়ছে, মেয়েটি হাসছে!
অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে একবার
কোন এক শিশু বলে উঠলো ‘মা’।
বৌদি, কাকিমারা সব কেচ্ছা, কাহিনি ভুলে
সমস্বরে তারাও বলে উঠলেন ‘মা’,
পাড়ার উঠতি যুবকের দল মুখ চেপে
খিস্তি দিতে নিয়ে, অবাক বিস্ময়ে ‘মা’।
নিজেদের নাক কান মুলে
স্বাস্থ্য সচেতন বৃদ্ধের দল বললো ‘মা’।
অফিস ফেরতা বাবু, মাতাল, লম্পট,
এক প্ল্যাটুন পুলিশ, জার্নালিষ্ট
ব্যর্থ আর সফল প্রেমিক, প্রেমিকার দল;
এমনকি আলেম, মৌলবি
পুরোহিত, ব্রাহ্মণ, ধর্মযাজক, ব্রাদারেরা
সকলে এক বাক্যে স্বীকার করলো ‘মা’!
মেয়েটির শরীরে কাপড় ছিল কি ছিল না,
আশ্চর্য, সে প্রশ্ন তখন কেউ ভাবলো না!

About Nillkontho Anjan

Nillkontho Anjan

মন্তব্য করুন