“ভয়েজার” (অনন্ত মহাবিশ্ব ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি)

0
78

আদি অনন্তকাল ধরে গহন রহস্যের জমকালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন সীমাহীন মহাবিশ্বের অজানাকে জানার অভিপ্রায় মানুষের দীর্ঘদিনের এবং সেই অনুসন্ধিৎসু মনের ক্লান্তিহীন, নিরলস প্রচেষ্টা আজও গতিশীল তবুও বোধকরি মহাবিশ্বের খুব সামান্য রহস্যই আজ অবধি উন্মোচন করা সম্ভবপর হয়েছে।। সালটা ছিল ১৯৭৭, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা “ন্যাশনাল অ্যারোনেটিক্স এন্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন”( NASA) ২০ আগষ্ট উৎক্ষেপণ করেছিল ‘ভয়েজার-২’ নামক একটি স্পেস ক্রাফট ও ঠিক তার পরের মাসেই উৎক্ষেপিত হয়েছিল ‘ভয়েজার-১’ নামক আরো একটি স্পেস ক্রাফট । তথ্য সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবশেষে মহাশূন্যের উদ্দ্যেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল দুই মহাকাশগামী যান। টেলিস্কোপকে অতিক্রম করে উন্নত বিজ্ঞান প্রযুক্তি সৃষ্ট মহাকাশযানদ্বয় সমগ্র বিশ্ববাসীর জানার কৌতুহলকে কিছুটা হলেও হ্রাস করবে এটাই ছিল একমাত্র আশা। বিজ্ঞানীরা জানতেন যে ‘ভয়েজার-১’ ও ‘ভয়েজার-২’ যাত্রা করতে করতে একদিন আমাদের সৌরমন্ডল ছাড়িয়েও অনেক দূরে পৌঁছে যাবে যার জন্যে স্পেসক্রাফটে মানব সভ্যতার অস্তিত্বের নিদর্শনস্বরুপ ২০ শতাব্দীর এক প্রখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল স্যাগান-এর ধারণানুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছিল একটি গোল্ডেন রেকর্ড যাকে ‘ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড ‘ বলা হয়। রেকর্ডটি চালাবার নির্দেশিকা সহ এটিতে ছিল পৃথিবীর ৫৫ টি ভাষা,১১৫ টি ছবি ও ভারতীয় রাগ ভৈরবী সমেত বিভিন্ন দেশের সংগীত। গোল্ডেন রেকর্ডটি তৈরীর উদ্দ্যেশ্য ছিল এটাই যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিতে কখনও কোনো একদিন যদি অসীম মহাবিশ্বের কোনো এক গ্রহের এলিয়েন/আমাদের মতই উন্নত কোনো প্রাণীর কাছে গিয়ে এটা পৌঁছায় তবে তারা ডিস্কটি অনুধাবন করে জানতে পারবে যে আমরা মানুষ, এই ইউনিভার্সেই মজুদ আছি/ছিলাম। মানব প্রজাতির সর্বোপরি আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীর অস্তিত্ব একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে ওই গোল্ডেন রেকর্ডটি আমাদের স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে রাখতে যথেষ্ট সক্ষমতার পরিচয় বহন করে যাবে। জানুয়ারি ১৯৭৯(1979), ভয়েজার-১ বৃহস্পতির কাছে চলে আসে ও তার স্বচ্ছ সাদা কালো বিভিন্ন ছবি পৃথিবীতে পাঠাতে থাকে কারণ সেই সময়ে স্পেস ক্রাফটে কালার ডিটেক্টর বর্তমান ছিলনা পরে কালার ফিল্টারের সহায়তায় সেই সমস্ত ছবি জনসমক্ষে পরিবেশিত হয়। বৃহস্পতির রেড স্পট/লাল দাগগুলোর পরীক্ষা নিরীক্ষায় জানা সম্ভব হয় যে ‘গ্রেট রেড স্পট’-নামক অনেক বড় বড় ঘুর্নিঝড় জুপিটার/বৃহস্পতির মধ্যে প্রচুর পরিমানে মজুদ আছে। সর্বোমোট এক ডজনের বেশি ঝড়কে ভয়েজার সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। জুপিটারের শক্তিশালী ম্যাগনেটিক ফিল্ডের কারণে যে কোনো মুহুর্তে স্পেস ক্রাফট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে কোনো প্রকারে কাটিয়ে সেটি বৃহস্পতির প্রধান চারটি চাঁদকে অধ্যয়ন করতে সাহায্য করে এদের মধ্যে ‘ক্যালিস্টো’ ও ‘গ্যানিমিড'(গ্যালিলিও আবিষ্কৃত) যা সম্পূর্ণরুপে নিষ্ক্রিয় এবং যার মধ্যে জীবনের কোনো অস্তিত্বের আশাই ছিল বৃথা। পরবর্তী প্রধান চাঁদযুগ্ম যথাক্রমে ‘ইউরোপা’ ও ‘আই ও’-র মধ্যে ইউরোপার উপরিভাগ বরফের পুরু চাদরে ঢাকা ও তার নিচে তরলরুপে জল হওয়ার পূর্ণ সম্ভাবনা প্রমাণিত হয়। জুপিটারের শেষ প্রধান চাঁদ ‘আই ও’ যেটি ভলকানিক অ্যাক্টিভিটিতে পরিপূর্ন অর্থাৎ ‘আই ও’-তে পৃথিবীর থেকেও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে যার বিস্ফোরণ মহাশূন্যে ২০০কিমি পর্যন্ত লাভাকে ছুঁড়ে দিতে পারে। এই সমস্ত মূল্যবান তথ্য সংগ্রহের পর প্রায় একবছর সময় অতিক্রান্ত করার পর ‘ভয়েজার-১’- এর পরবর্তী লক্ষ্য ছিল ‘শনি’ গ্রহ। এতদিন যাবৎ শনি গ্রহকেই সবচেয়ে অস্পষ্ট দেখা যেত। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভয়েজার পাঠাতে থাকে শনিগ্রহের বলয়ের কিছু স্বচ্ছ ছবি এবং পরবর্তীতে আমাদের পরিচয় সম্পন্ন হয় শনির চাঁদ ‘টাইটান’-এর সাথে। ‘টাইটান’-এর চিত্র থেকে গবেষণালব্ধ ফল এরুপ যে গ্রহটি সম্পূর্ণভাবে নাইট্রোজেনে ভরা এবং এর ভূমি মিথেনের নদীতে ভরা। ‘ভয়েজার-১’ -এর কাজ আপাতত এখানেই শেষ, শুরু ‘ভয়েজার-২’ এর কার্যকলাপ। শনির অনেক কাছ থেকে তাকে ইউরেনাসের দিকে যেতে হবে এবং অবশেষে জানুয়ারী ১৯৮৬(1986)-তে ‘ভয়েজার-২’ ইউরেনাসে গিয়ে পৌঁছায় এবং তার সবথেকে ছোটো ও কাছের চাঁদ ‘ম্যারেন্ডা’-র কাছে গিয়ে পৌঁছায়। পরিচয় ঘটিয়ে দেয় ইউরেনাসের রেডিয়েশন বেল্ট ও ১০ টি ছোট চাঁদের সাথে। ইউরেনাস ছেড়ে ‘ভয়েজার-২’ নেপচুনের সন্ধানে তার পথ চলা শুরু করেছিল ১৯৮৯(1989)-এ ও আমাদের সোলার সিস্টেমের সবথেকে শেষে অবস্থিত নেপচুনের কাছে গিয়ে পৌঁছায়। এতদিন পর্যন্ত সবচেয়ে অস্পষ্ট ছবির নেপচুনকে অত্যন্ত কাছ থেকে অধ্যয়নের পর অবাক করা এক তথ্য সামনে চলে আসে যা ছিল এমন, এই গ্রহের মধ্যে উপস্থিত একটি বড় দাগ। ‘ভয়েজার-২’ আরও কাছে পৌঁছালে পরিলক্ষিত হল ওটা ইউরেনাসের চাঁদ ‘টাইটান’-এর, যার অর্ধাংশ নাইট্রোজেনের পুরু বরফে ঢাকা। নানা প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করেই এরপর ভয়েজার আমাদের সোলার সিস্টেমের সব প্ল্যানেটকে বিদায় জানিয়ে আরও অনেক দূরে চলে যায় বলাবাহুল্য বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে স্থির সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, বৃহস্পতি ও শনির মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে ইউরেনাস ও নেপচুনের কাছাকাছি পৌঁছানো সম্ভব ও পরে প্লুটোকেও এর সাথে যুক্ত করা হয়। আমাদের সৌরমণ্ডলের সীমা অতিক্রম করে অবশেষে ‘ভয়েজার-১’ নামক মহাকাশ যানটি পৌঁছায় পৃথিবী থেকে ১২০০ কোটি মাইল দূরে সৌরজগতের শেষ প্রান্তে। পৃথিবী ছেড়ে সাড়ে আঠেরো বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে যখন সে অবস্থান করছে তখন কোনো রেডিও সিগন্যালকে পৃথিবী পর্যন্ত পাঠাতে সময় লাগে ১৭ ঘন্টা। আমাদের সৌরজগতের বাইরে এখন ‘ভয়েজার-১’ যে জায়গায় অবস্থান করছে তাকে বলা হয় ‘ইন্টারস্টেলার স্পেস।’ ঠান্ডা ও গভীর অন্ধকারে সমৃদ্ধ এই জগৎ মানব অভিজ্ঞতার সম্পূর্ণ বাইরে যেখানে সূর্যের প্রভাবের চেয়ে মহাজাগতিক অন্যান্য বস্তুর প্রভাব মহাকাশযানে বেশি কাজ করছে। বিজ্ঞানীদের ধারণানুযায়ী মহাবিশ্বের ৫-১০ শতাংশ আলোকিত ও বাকি ৯০-৯৫% অন্ধকারে পুরু চাদরাবৃত। অসীম অন্ধকারে একা একা পথচলা ‘ভয়েজার-১’ সৌরজগতের বাইরের ছবি ও বার্তা প্রেরণ হয়তো ক্রমশ প্রকাশ্য। ভয়েজারের পাঠানো তথ্য ততদিন পৃথিবীতে পাঠানো সম্ভব যতদিন এর মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক থাকবে। বিজ্ঞানীদের ধারণানুযায়ী আর ১০ বছরের মধ্যে তাও হয়তো শেষ পর্যায়ে উন্নীত হবে তবুও ভয়েজারের পথ চলা বন্ধহীন। বিরামহীন ৪০ বছরের এই যাত্রায় ভয়েজার সমগ্র মানবজাতিকে মূল্যবান তথ্য প্রেরণ করেই চলেছে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আধুনিকতার কোনো ছোঁয়াও এই স্পেস ক্রাফটটিতে নেই। মহাকাশযানটিকে চালাচ্ছে মাত্র ৬৮ কেবি-র একটি কম্পিউটার যেখানে বর্তমানে সবথেকে স্বল্প দামি একটি মোবাইলের মেমোরিও ২ গিগাবাইট (G.B). প্রথমদিকে ভয়েজারের দায়িত্বে ৩০০ জন বিজ্ঞানী রাখা হলেও ২০০৪ সালের আগে এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রাখা হয় ১০ জন বিজ্ঞানীকে। বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী ২০২০ সাল নাগাদ আমরা এর থেকে তথ্য পেতে পারি এরপর এটির বিদ্যুৎ শক্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে ও এই সমস্যাকে উপেক্ষা করেই মহাকাশযানটি আমাদের পৃথিবী থেকে আরো দূরত্বে চলে যাবে আর সেখান থেকে পাঠানো সংকেত অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত তার পাঠানো তথ্যকে সংগ্রহ করা আদৌ আর সম্ভব হবে কিনা তা যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রাখে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীমহল। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই যান কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে তা বলা সম্ভব নয় বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। ভয়েজার লঞ্চ করার পরে পরেই ছোটো খাটো কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছিল যার কারণে ভয়েজারকে বেশ কয়েকবার মাঝপথে রি-প্রোগ্রামিংও করা হয় সাথে সাথে দুর্বল হতে থাকা সিগন্যালকে ধরার জন্যে পৃথিবীতে ভয়েজারের জন্যে আরো বড় ও অত্যাধুনিক অ্যান্টেনা বসানো হয় কারণ এর দূরত্ব ক্রমবর্ধমান। আজ ভয়েজার আমাদের ছেড়ে এত দূরে চলে গেছে যে সেখান থেকে আমাদের সূর্যকে একটি ছোট্ট তারার মতই দেখা যাবে। ক্রমশই ভয়েজার অজানা পথের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমাদের সোলার সিস্টেমকে অনেক পিছনে ফেলে সে পৌঁছে গেছে ‘ডিপ স্পেসে।’ পৃথিবী ছেড়ে এখন সে ২১ বিলিয়ন (১বিলিয়ন =১০০০ মিলিয়ন, ১মিলিয়ন = ১০লাখ।) কিমি দূরে। বর্তমানে সূর্যের আলো যদি ভয়েজার পর্যন্ত পৌঁছায় তাতে সময় লাগবে ১৭ ঘন্টা। সত্যিই শিহরণ জাগানো এক তথ্য, আলোর গতিবেগ যেখানে সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিমি সেখানে ১৭ ঘন্টা সময় লাগবে ভয়েজারের এখনের অবস্থান অবধি আলো পৌঁছাতে। ১৯৯০ সালে সৌরমণ্ডলের কাজ শেষ করে ভয়েজার-১ যখন সৌরমণ্ডলের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি পর্বে এমন সময়ে কার্ল স্যাগান-এর অনুরোধে ভয়েজারের ক্যামেরাকে পৃথিবীর দিকে করা হলে ৬ বিলিয়ন কিমি দূর থেকে পৃথিবীকে দেখতে লাগছিল একটি উজ্বল ছোট্ট নীল বিন্দুর মতন। ৬ বিলিয়ন দূর থেকে নেওয়া এটাই ছিল পৃথিবীর প্রথম ও শেষ ছবি। ছবিটি দেখে আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর হয়ে ওঠা মনের মানুষটির মূল্যবান বক্তব্যের প্রধান অংশটি ছিল এরুপ, “অনন্ত মহাবিশ্বে আমাদের পৃথিবী একটি ধুলোর কণাও নয়। এমন কোনো জায়গা নেই যেখান থেকে আমরা বিপদে পড়লে আমাদের কেউ উদ্ধার করতে আসবে বলে মনে হয়। এখন পর্যন্ত পৃথিবীই এমন স্থান যেখানে আমরা বসবাস করতে পারি আর এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মানবজাতি থাকার জন্যে যেতে পারে, হ্যাঁ আমরা পৃথিবী থেকে অনেক জায়গাতেই গেছি কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারিনি এখন আপনি এই পৃথিবীকে পছন্দ করুন আর নাই করুন, আমাদেরকে এখানেই থাকতে হবে। আমার মতে এই ছবি (ছোট্ট নীল বিন্দু)আমাদেরকে কর্তব্যের কথা বলে। আমাদেরকে একে অপরের প্রতি আরো অধিক নরম ও সহনশীল আচরণ করতে হবে যেন আমরা এই ছোট্ট বিন্দুকে আমাদের বসবাস উপযুক্ত করে একেও বাঁচিয়ে রাখতে পারি।” ভয়েজার-১ এখন পৌঁছে গেছে পৃথিবী থেকে ২১.৬ বিলিয়ন কিমি দূরে। আনুমানিক ৪০ হাজার বছর পর এটি ১.৬ লাইট ইয়ার্স(আলোকবর্ষ) দূরে থাকা ৭৯৩৮৮৮(793888) নামক তারার খুব কাছ থেকে যাবে এবং এই তারাটি ৪০ লক্ষ ৩০ হাজার কিমি/ঘন্টার গতিতে আমাদের সৌরমণ্ডলের দিকেই ছুটে আসছে। এদিকে ভয়েজার-১ এর গতি এই সময়ে ৬১ হাজার ৪০০ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। ‘ডিপস্পেস’-এ থাকা ভয়েজার-১ এর সাথে বিজ্ঞানীদের সম্পর্ক স্থাপনের কাজ করে রেডিও সিগন্যাল এবং ভয়েজার-১ এখন পৃথিবী থেকে প্রতিদিন ১৪ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬০০ কিমি দূরে চলে যাচ্ছে। ব্যাটারি ক্রমশ দুর্বল হতে থাকার কারণে অনুমান করা হচ্ছে যে ২০২৫ সাল নাগাদ এটি কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে এরপর ভয়েজার-১ অন্ধকারে অনন্ত মহাবিশ্বে ততক্ষণ পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবে যতক্ষণ পর্যন্ত এটি কোনো অবজেক্টের সাথে ধাক্কা না লাগছে। আজ পর্যন্ত মনুষ্যসৃষ্ট কোনো মহাকাশ যানই এত দূর পর্যন্ত গিয়ে সক্ষমতার পরিচয় বহন করতে পারেনি। ১৯৭২ ও ৭৩-এ ‘ভয়েজার-১’ ও ‘ভয়েজার-২’ এর মতই ‘পায়োনিয়ার-১০’ ও ‘পায়োনিয়ার-১১’ নামক দুটি স্পেসক্রাফটকে মহাবিশ্বের অজানাকে অধ্যয়ণের জন্যে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত একটির সাথে ১২ ও অপরটির সাথে ২০ বছর যাবৎ যোগাযোগের সর্বরকম আন্তরিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। আনুমানিক, ভয়েজারের সাথে এমনটাই ঘটবে। সমগ্র মানবজাতিসমেত আমাদের এ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে একদিন কিন্তু অসীম মহাবিশ্বের অন্ধকারে তখনও ভেসে বেড়াবে ভয়েজার, চিরকালের মতন হারিয়ে যাবে আমাদের থেকে।।

Tanmoy Sinha Roy
Try 2 create