Skip to content

ভোলার ভূত

ভোলার ভূত
গল্পের নাম ‘ভোলা’ দেখে ভাবছেন ভোলা মানুষ না অন্য কেউ। প্রথমে জানিয়ে দিই ভোলা আমার পোষা কুকুরের নাম। ভোলা নামে এক কুকুর আমার বিশ্বাসী বন্ধু ছিল। আজ থেকে ষাট বছর আগে একে আমি রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে ছিলায়। ভগবান হয়তো একে পাঠিয়ে ছিলেন আমার প্রাণ বাঁচাতে। কুকুর আপনারা সকলে দেখেছেন। শহর হোক বা গ্রাম হোক সর্বত্র রাস্তায় কুকুরকে ঘুরতে দেখা যায়। এদের পথ কুকুর বলা হয়। পথ কুকুরের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে পৃথিবী জুড়ে অনেকে সোচ্চার হয়েছেন। এখন শহরাঞ্চলে প্রায় বাড়ীতে পোষা কুকুরদের দেখা যায়। কত রকমের কুকুর যে পৃথিবীতে দেখা যায় তাদের সব নাম বলা সম্ভব নয়। তবে আমার এক শহরের দাদু কুকুরের বিষদ কথা বলেছিলেন। তিনি কুকুরের বিভিন্ন জাতের কথা বলেছিলেন যেমন হাউন্ড, শেপার্ড, এয়ারডেল, টেরিয়ার, এ্যাকবাস ,আকিতা ইনু, অ্যালানো এ্যাস্পানোল এ্যালাস্কান হাস্কি , এ্যালপাইন স্পেনিয়াল , বুলডগ , ককার স্পেনিয়েল, ফক্সহাউন্ড, স্টেফোর্ডশায়ার টেরিয়ার, ওয়াটার স্পেনিয়েল, ব্ল্যাক ও টেন হাউন্ড,, শেপার্ড কুকুর , ব্লাডহাউন্ড, বয়কিন স্পেনিয়েল, বক্সার ইত্যাদি। সবচেয়ে ছোটো ‘চিহুয়াহুয়া’ মেক্সিকান জাতের খেলনা কুকুর ও সবচেয়ে বড় ‘আইরিশ উলফ্হাউন্ড’।
দাদু ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞান ছিল। তিনি আরও বলেছিলেন যে কুকুর শ্বাপদ বর্গ ভুক্ত মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণী । প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে একপ্রকার নেকড়ে মানুষের শিকারের সঙ্গী হওয়ার মাধ্যমে গৃহপালিত পশুতে পরিণত হয়। মনিব ভক্ত সবচেয়ে বিশ্বস্ত প্রাণী হিসাবে এর সঙ্গে কারোও তুলনা হয় না। শত শত বছর ধরে কুকুরদের বাছাইকৃত বংশবৃদ্ধিকরণ করা হয়ে আসছে। কুকুরদের একই বংশধারা অথবা অন্য জাতের সংমিশ্রণে ভিন্ন বা মিশ্র জাতের কুকুরের বংশবৃদ্ধি করা হয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর ফলে গ্রেট ড্যান হতে চিহুয়াহিয়া পর্যন্ত; ব্যাপক আকারের জাতের ভিন্নতা এবং বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তাই ব্যাপক আকারের জাতের ভিন্নতা এবং বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। কুকুরের প্রভুভক্তি একটি বহুল স্বীকৃত বিষয়, যা মানুষের প্রতি তাদের গভীর আনুগত্য এবং বিশ্বস্ততাকে বোঝায়। এই প্রভুভক্তি তাদের মস্তিষ্কের গঠন, সামাজিক আচরণ এবং মানুষের সাথে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থেকে তৈরী হয়েছে। সঠিক প্রশিক্ষণে মাধ্যমে কুকুরকে দিয়ে এখন অনেক কাজ করানো যায়। কুকুর শিকার সঙ্গী ও পাহারার কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে কুকুরকে শিক্ষা দিয়ে নানা খেলা, পুলিশের অনুসন্ধানে ও মিলিটারী দলে ব্যবহৃত হয়। কুকুরকে মহাকাশেও পাঠানো হয়েছে।

আমি একটি বইতে কুকুরের প্রভূভক্তির বিখ্যাত গল্প পড়ে ছিলাম। মালিকের প্রতি আনুগত্যের জন্য ‘হাচিকো’ নামে কুকুর বিশ্ববাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছে । ১৯২৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিভাগের অধ্যাপক হিদেসাবুরে উয়েনো, সোনালী বাদামি আকিতা কুকুর পোষে ছিলেন। হাচিকো প্রতিদিন মালিকে আনতে শিবুয়া স্টেশনে যেত। ১৯২৫ সালের মে মাসে একদিন অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে মস্তিষ্ক রক্তক্ষরণ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আর স্টেশনে ফিরেন না কিন্তু হাচিকো প্রতিদিন স্টেশনে তাঁর ফেরার অপেক্ষা করে থাকতো। এইভাবে পরবর্তী ৯ বছর,৯ মাস,১৫ দিনের প্রত্যেকটি দিন হাচিকো তার মালিক উয়েনোর ফিরার অপেক্ষা করেছিল। এটা ইতিহাসে এক আশ্চর্য ঘটনা।

এ বারে আসল ঘটনাটা বলি যেটা হাচিকোর সঙ্গে মিল আছে। সেই সময় গ্রামাঙ্গলে রাস্তাঘাট ও যান বাহন ছিল না। শুধু বিয়ের সময় পালকী ব্যবহার হতো। এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যেতে হলে পায়ে হেঁটেই যেতে হতো। জমির আল, খোলা প্রান্তর, পুকুর পাড়, খালের ধার, বনজঙ্গল, ও গ্রামের মধ্য দিয়ে গন্তব্য স্থলের দিকে এগিয়ে যেতে হতো। গন্তব্যস্থান দুরবর্তী হলে বাড়ী থেকে মুড়ি নিয়ে যেতে হতো। পথ চলতে চলতে ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হলে পথে কোনো পুকুর পাড়ে বিশ্রাম ও মুড়ি খাওয়া হতো। পুকুর থেকে আঁজলা করে জল খেয়ে আবার যাত্রা শুরু হতো। তখনতো আর গ্রামে বা রাস্তার ধারে কোনো খাবার বা চা দোকান থাকতো না। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এ যাত্রা ছিল ভয়াবহ ও বীভৎস।

আমার বোনের বাড়ী চার পাঁচটা গ্রামের পর। তার বর ছিল আমার সমবয়সী। আমি প্রায় ওর বাড়ীতে যেতাম ও পাঁচ সাত দিন থাকতাম। একবার বিকালা ওর বাড়ী থেকে ফিরছি। পথে এক গ্রামের প্রান্তে পুকুর পড়ে। আমি তার পাড় দিয়ে হাঁটছি হঠাৎ কি যেন পড়ে থাকতে দেখলাম। কাছে গিয়ে দেখি এক কুকুর ছানা। পথ ভুলে হয়তো চলে এসেছে এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ে হাঁপাচ্ছে। গ্রামে আমরা প্রত্যেক বছর কুকুর ছানা দেখতে পেতাম। ওকে কেমন যেন অন্য রকম মনে হলো। কালো সাদা ছোপ, কান দুটি বড় ও ঝোলানো। ছানাটি আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি চারদিক তাকিয়ে কেউ কোথাও নেই শুধু পুকুরপাড়ের গাছ থেকে মর্মর ধ্বনী অস্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। সূর্য অস্তগামী। পশ্চিমের আকাশে মেঘ লাল বর্ণ ধারন করেছে। বেশ গরম আমি ঘামছি আর ভাবছি কুকুরটির করুণ অবস্থার কথা। গ্রামাঙ্গলে পথ কুকুরদের অবস্থা দেখে আমার খুব দুঃখ হতো। গ্রামের দিকে কেউ কুকুর পুষতো না। কুকুরদের ঘরের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হতো ন। ওদের অপবিত্র গন্য করা হতো। বেশীর ভাগ গ্রামবাসী কুকুরকে দুর দুর করে তাড়াতো এবং অমানবিকভাবে মারধর ও করতো, খেতে দেওয়া তো দুরের কথা। গ্রামে কুকুররা ফেলে দেওয়া খাবার ও মরা পশু খেত। আমি এমন ও দেখেছি কুকুর তাদের মরা বাচ্চাকে খাচ্ছে। এই সব মনে আসচ্ছে আর ভাবছি কি করবো। ওই ছানাকে দেখে কেমন মনে মমতা জেগে উঠলো। সিন্ধান্ত নিতে পারছি না কি করবো। এমন সময় দৈববাণীর মতো মনে গুঞ্জরিত হলো “একে বাড়ী নিয়ে যা”। আমি বিশ্বাস করি আমাদের মন দু রকম কাজ করে। সুউপদেশ ও দেয় এবং কুউপদেশ ও দেয়, যার বিচার বিবেক জাগ্রত, তারা সুউপদেশই শুনে কাজ করে। যারা নেতিবাচক শক্তির প্রভাবে পরিচালিত হয়, তারা দানব হয়ে যায়। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম ওকে এই ভাবে মরতে দেব না, ওকে বাড়ী নিয়ে যাব। আমি পুকুর থেকে আঁজলা করে জল এনে চোখে মুখে দিয়ে তাকে বাড়ী নিয়ে গেলাম। উত্তেজনাবসত ওকে নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে গেছি। মা দেখে রেগে টঙ। মা আমাকে বকাবকি শুরু করলেন “ তোর কান্ডজ্ঞান নেই. কুকুর নিয়ে বাড়ীর ভিতরে নিয়ে চলে এলি। আগে বাইরে যা।“ আমি দৌড়ে বাইরে এলাম। একটু গরম দুধ জোগাড় করে খাওলাম। একটু সুস্থ হতে দুধে মুড়ি ভিজিয়ে খেতে দিলাম। তারপর উঠানে ওর জন্য একটি শক্তপোক্ত ঘর তৈরী করলাম। সাতদিন যত্নের পরে সে তাগড়াই হতে আরম্ভ করলো। ও যেহেতু পথ ভুলে ঐ পুকুর পাড়ে চলে এসেছিল তাই ওর নাম রাখলাম “ভোলা”। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম ভোলার কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। ওর শ্রবণশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি কিছু বেশী প্রখর। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার ভোলা আমাদের কথা বুঝতে পারচ্ছে। আমি যা বলি সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। আমি তাকে বলেছি “ খবরদার, সদর দরজা পেরিয়ে ঘরের ভিতরে যাবি না। “ সে কোনোদিন চৌকাঠ পেরোয় নি। গ্রামাঙ্গলে বাইরে রোদে ধান শুকোতে দাওয়া হতো এবং কাক ও অন্যান্য পাখিরা ওখানে উৎপাত করতো তাই একজনকে চৌকি দিতে হতো। ভোলা একটু বড় হতে তাকে ওখানে পাহারায় রেখে বলা দিতাম “ তুই এখানে থাকবি ও দেখবি যেন কেউ ধান নষ্ট না করে।“ সে ওখানে সদা সতর্ক হয়ে পাখি তাড়াতো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বেশ বলিষ্ঠ ও লম্বা-চওড়া হয়ে উঠলো। সে আমার প্রকৃত বন্ধু হয়ে গেল। আমি যেখানে যেতাম সে আমার সঙ্গে যেত। যদি বলতাম “ আজ আমার সঙ্গে যাবি না, বাড়ীতে থাকবি।“ সে আর যেত না। ওর সঙ্গে বল খেলতাম। ক্রিকেট খেলা হলে সে বল কুড়তো।

ও একবার আমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল সেই কথা বলি। চৈত্রমাসের শেষে আমাদের গ্রামে চড়কমেলা হতো। আমরা কয়েকজন মিলে ওখানে যাত্রাপালা করতাম। যাত্রা হওয়ার আগে আমরা একজায়গায় জড়ো হয়ে মহড়া করতাম। দিনে অনেকে কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকতো বলে আমরা রাতে মহড়া করতাম। মহড়ায় গেলে ভোলা আমার সঙ্গে যেত ও ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করতো। একদিন রাত ছিল চাঁদ বিহীন। বেশ অন্ধকার, গাছে গাছে, ঝোপেঝাড়ে থোকা থোকা জোনাকি জ্বলছে। বসন্তের দক্ষিণা হাওয়া ও বনফুলের গন্ধে মনোরম পরিবেশ। রাস্তার দুপাশে বনবাদাড়, ঝোপ ঝাড়ে ভর্তি। আমরা অন্ধাকারে পথ চলতে অভ্যস্ত ছিলাম। সেদিন রাতে আমি আর ভোলা বাড়ী ফিরছি। আমি সামনে আর ভোলা আমার পিছনে। একটা পেঁচা ডেকে উঠলো। নিস্তব্ধতা চিরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। আমাদের কাছে পেঁচার অলক্ষুণে মনে করা হয়। হঠাৎ ভোলা চিৎকার করে আমার সামনে লাফিয়ে কি একটা কামড়ে রাস্তায় আছাড় দিচ্ছে। আমি পকেট থেকে দেশলাই বের করে জ্বালিয়ে দেখি একটি লম্বা কেউটে সাপকে মেরে ফেলেছে। ও যদি না থাকতো, আমার পা সাপের উপর পড়তো এবং ছোবল খেতামই। ঐ সময় গ্রামের দিকে সাপের কামড়ে প্রচুর লোক মারা যেত কারণ কোনো রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল না।

আর একবার ঐ মহড়া থেকে ফিরছি। সেদিন অবশ্য অন্ধকার ছিল না। জোৎস্নারাত, চাঁদের ভূবনমোহিনী আলো, দক্ষিণা হাওয়া ও ফুলের সৌরভ রাতটাকে মহোময়ী করে তুলছে।ভোলা তীরবেগে ডানদিকে ছুটে গেল। আমি দাঁড়িয়ে পড়ে ‘ভোলা’ ভোলা’ বলে ডাকছি। ভাবছি ও দিকে তো কিছু দুরে একটি পুকুর আছে, ওদিকে গেল কেন ? দেখি কি একটা টেনা টেনে নিয়ে আসছে। ওরে বাবা, একটা সের দুয়েক কাতলা মাছ। আমি বুঝতে পারলাম ভোলা গন্ধ পেয়েছিল ভোঁদড় মাছ ধরে ডাঙায় নিয়ে এসেছিল আর ভোলা ভোঁদড় তাড়িয়ে মাছটা নিয়ে এসেছে। আমি যার পুকুর তাদের ডেকে মাছটা দিয়ে এলাম।

ভোলার সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় হয়েছে। আমি যদি কোনো আত্মীয় বাড়ী যেতাম, সে আমার
সঙ্গে যেত। আমি পৌঁছালে সে ঠিক বাড়ী ফিরে চলে আসতো। দু একদিন পর বাড়ী ফিরলে সে কি আদর. কি আদর। আদরের ঠেলায় আমি তো নাজেহাল। যত দিন যাচ্ছে ওর কার্যকলাপ দেখে অবাক হচ্ছি। এর মধ্যে একটি ঘটনা ঘটলো। আমি বাড়ীতে ছিলাম না। ভোলা বাড়ীতেই ছিল। প্রায় সকাল দশটা সাড়ে দশটা হবে। মা কাকীমা ঘরের মধ্যে কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ ভোলার পাগলের মতো চিৎকার শোনা গেল। কাকীমা বেরিয়ে ভোলা যেখানে চিৎকার করছে সেখানে গিয়ে আতঙ্কের সঙ্গে দেখেন পুকুরের জলের পাশে তাঁর ছেলে পড়ে আছে। তিনি চিৎকার করে মাকে ডাকেন। মা ও কাকীমা দুজনে ছেলেকে তুলে ঘরে নিয়ে এলেন। গ্রামাঙ্গলে বাড়ীর লাগোয়া পুকুর থাকে। বোঝা গেল কাকার চার বছরের ছেলে খেলতে খেলতে জলে পড়ে গেছিল এবং ভোলা জলে লাফিয়ে ছেলেটাকে টেনে জলের ধারে নিয়ে এসেছিল এবং মনোযোগ টানার জন্য ডাকছিল । এর পর থেকে ভোলার খাতির বেড়ে গেল। ভোলাকে নিয়ে সময় গড়িয়ে গেল। একদিন দেখলাম ভোলা গা গরম, বমি করছে, জলের মতো পায়খানা করছে। গ্রামে পশুর চিকিৎসা ছিল না। কিছু কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা করা হতো। ভোলার ক্ষেত্রে তাই করা হলো। কিন্তু কিছুতে কিছু হলো না। ভোলার অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হতে লাগলো। সে প্রচন্ড দুর্বল হয়ে গেল ও সব সময় শুয়ে থাকতো। তার চোখ থেকে শুধু জল গড়িয়ে পড়তো। ওর কাছে প্রায় সময় আমি বসে থাকতাম। আমার চোখের জলও বাধা মানতো না। খালি মনে হতো ওকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না। ভাবতাম আমাদের জীবন রক্ষা করার জন্য ভগবান ওকে পাঠিয়েছিলেন। ঈশ্বর নিজে কিছু করেন না, কাউকে দিয়ে করান। কয়েকদিনের মধ্যে ভোলা মারা গেল। আমার জীবনে অন্ধকার নেমে এল। আমি হতাসাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম। প্রত্যেকদিন রাতে ঘুমের মধ্যে ভোলার ডাক শুনতাম এবং কান্নাও শুনতাম। আমি বাইরে গেলে কাউকে দেখতে পেতাম না কিন্তু অনুভব করতাম কেউ যেন কাছাকাছি আছে। প্রত্যেক রাতে সকলে ঘুমিয়ে গেলে আমি বাইরে যেতাম। ভোলাকে অনুভব করতে পারতাম কিন্তু দেখতে পেতাম না। এইভাবে বছর খানের পর আর তার সাড়া পাই নি। ভাবলাম অন্য কোথাও অন্য কোথাও জন্মেছে। মানুষ মরলে ভূত হয়। কিন্তু পশু, পাখি. সরীসৃপ, কীটপতঙ্গ বা মাছ মরলে যে ভূত হয় শুনি নি। ভোলা হয়তো আমার মায়া ছাড়তে পারে নি বলে ভূত হয়ে আমার কাছাকাছি থাকতো। এই মায়ার জন্যই তো মানুষ ভূত হয়। বা ভূতের উৎপত্তি মন থেকে।

******************

মন্তব্য করুন