ভাল না বাসলে

ভাল না বাসলে যাহোক তাহোক
বেঁচেই যেতাম, বেঁচেই যেতাম।
জোড়াতালি আর তাপ্পি মেরে
নুনের সাথে পান্তা খেয়ে,
চিংড়ি ইলিশ না জুটলেও
যাহোক তাহোক, বেঁচেই যেতাম ।
এখন দুপুর নীরস লাগে
সকাল বিকেল নিমের পাঁচন,
রাত্তিরেতেও ঘুম আসে না, ঘুম আসে না।
সব পেয়েছির সে দেশ ঘুরে
সর্বহারা ফকির হয়ে
ছেঁড়া মলিন হৃদয় নিয়ে
দগ্ধে দগ্ধে বাঁচার কষ্টে
ঘুম আসে না, ঘুম আসে না।
ভাল না বাসলে পাহাড়-নদী
কিংবা খুশির ঝর্ণা দেখে
ভোরবেলাতে পাখির গানে
বেঁচেই যেতাম বেঁচেই যেতাম।
এখন বড়ই একলা একা
থমকে থাকে রাত দিন সব
আর সেতারে সুর লাগে না, সুর লাগে না।

সুদীপ্ত বিশ্বাস
জন্ম ১৯৭৮,নদিয়ার রানাঘাটে।কবিতা লিখছেন ১৯৯২ সাল থেকে।কবির কবিতা প্রকাশিত হয়েছে শুকতারা, নবকল্লোল, উদ্বোধন, বসুমতী, কবিসম্মেলন, চির সবুজ লেখা, তথ্যকেন্দ্র, প্রসাদ, দৃষ্টান্ত, গণশক্তি ইত্যাদি বাণিজ্যিক পত্রিকা ও অজস্র লিটিল ম্যাগাজিনে। কবিতার আবৃত্তি হয়েছে আকাশবাণী কলকাতা রেডিওতে। ঝিনুক জীবন কবির প্রথম বই। ২০১০ এ প্রকাশিত হয়। এরপর মেঘের মেয়ে, ছড়ার দেশে, পানকৌড়ির ডুব, হৃদি ছুঁয়ে যায়, Oyster Life বইগুলো এক এক করে প্রকাশিত হয়েছে। দিগন্তপ্রিয় নামে একটা পত্রিকা সম্পাদনা করেন। কবি পেশাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। নদিয়া জেলার রানাঘাটের বাসিন্দা। শিক্ষাগত যোগ্যতা বি ই,এম বি এ, ইউ জি সি নেট। স্বরবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত ও মাত্রাবৃত্ত তিন ছন্দেই কবিতা লেখেন।বড়দের কবিতার পাশাপাশি ছোটদের জন্যও কবিতা লেখেন।