বড়হ খেলা হবেক

0
53

।। বড়হ খেলা হবেক ।।
– অভিজিৎ ভুঁইয়া

মইনচ্য থিকে উহারা বইল্ল –
“খেলা হবেক ! বড়হ খেলা… হবে…ক ” !

ইমন শুনে, দ্যেখি –
বাঁধভাঙ্গা হড়পা বানের মতন
কত্তগুলান লক জনহসভার ভিড়-হাপরের ভিতর
লাইল মাটির ধুলার লে গা ঝাইড়ে উঠ্যে
উহাদের সাথ্যেঁ গলা মিলায়
হাততালি দিতে দিতে
চিল্লি চিল্লি বইলচে –
“খেলা হবেক ! খেলা হবেক !”

উহারা খেলবেক ? উহারা… খেলবেক ?
উহারা ত অতগুলান লক
কি খেলবেক হে ?
এক সাথ্যে কি খেলবেক ?
মাথায় ত কিছুই ঢুকচ্যে নাই রে
মাথায় ত কিছুই ঢুকচ্যে নাই ।
কিসের খেলা ,কার সাথ্যে কার খেলা
-ইহার ত মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝতে পারছি নাই ।
ইহার ত কিছুই বুঝতে পারছি নাই ।
জনহসভার ভিড়-হাপরের ভিতর
কথাটা ভাবতে ভাবতে মাথা চুলকে
হামদেরকে জনসভায় লিজানঅ
গেরামের পঞ্চায়েত বাবহুর কাছে যেএঁ
জিগাশ করেই ফেললম –
‘ ই পঞ্চায়েত বাবু , ইটা কি খেলা বটে ?

পঞ্চায়েত বাবু ইমন কইরে হাত লাইড়ে বল্লেক –
‘ হাই লে ! জানহিস নাই ?
তুই ই টাও জানহিস নাই ?
ই টা যেই সেই খেলা লয় রে ,
ই টা হল খমতা দখলের লড়াই লড়াই খেলা,
ই টা হল গদি দখলের লড়াই লড়াই খেলা ।
দেখিস হামরা ইমন খেলায় আবার জিতবহ ,
তারপর পাহাড় থিক্যে সাগর অবদি
আবার আরও আরও উন্নয়ন হবেক
উন্নয়নের বাইনে ভাসবে সবাই,
উন্নয়নের বাইনে হাসবে সবাই । ‘

হাঁ হয়ে শুনলম কথাগুলান ।
হামরা মুখ্যু সুখ্যু চাষাভুষা মানুষ
হামদে অত বুদ্ধি সুদ্ধি নাই !
উহাদের কথা কি আর বুঝব ?
সারাটা দিন রোদকে, জলকে পরোয়া না কইরে
হাড়ভাঙ্গা গতর খাটাই ,আর
সন্ধ্যা বেলায় ধামসা মাদল বাজাই
লাচ গান করি ।
মাড়ভাত নুন লঙ্কা- হলেই
ছিল্যাপিলা লিয়ে জীবনটা চলে যায় বেশ ।
তাইলে আবার কিসের খেলা?

উহাদের কথাটা শুইনে কেমন যেন লাইগল ,
বুকের ভিতরটাই কেমন যেন ডর লাইগল ।
কিসের উন্নয়ন হবেক, কেমন উন্নয়ন হবেক
উ টা না হয় থাক,
উহাদের হিসাবের খাতাতেই থাক ।
তবে ইমন খেলা খেলতে যেয়েঁ যেন
আগের মতন রক্ত না আর ঝরহে এ জঙ্গলমহলে ,
ইমন খেলা খেলতে যেয়েঁ যেন
কোন মায়ের কোল খালি না আর হয়ে পড়ে ,
ইমন খেলা খেলতে যেয়েঁ যেন
এ জঙ্গলমহলের হাঁসি না হারায় যায় আর ,
হামদে সবার মুখের হাঁসি না হারায় যায় আর ।
******
১৪ই ফাল্গুন,১৪২৭
” নিখিলভবন ”
বড় ডাবচা / পশ্চিম মেদিনীপুর

অভিজিৎ ভূঁইয়া
আমার মাটির কুঁড়ে ঘরে কবিতারা কতো খেলা করে ।