Skip to content

ফেলনা – করুণাকর প্রধান

যেদিন ফেলনা জন্মালো একটি শাঁকও বাজলো না। ঠাকুরদা, প্রতাপ দে দেওয়ায় বসে হুঁকো মুখে নিয়ে ভুড় ভুড় শব্দে টানছিলেন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠে মিলিয়ে যাচ্ছিল। তাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি কোনো এক দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রতাপ শুধু নামেই নয় কাজেও তাঁর প্রতাপে পরিবারের কেউ টুঁ শব্দ করতে পারে না। বাড়ীর ভিতরে তাঁর বৌমার প্রথম সন্তান প্রসব হচ্ছে। ধায়ী এসেছে ও পাড়ার কিছু মহিলা ও আছে। প্রায় তিরিশ বছর আগের কথা। সেই সময় অজ পাড়াগ্রামে ধায়ীকে দিয়ে বাড়ীতেই প্রসব করানো হতো। তাতে দু চারজন যে মারা যেতেন না এমন নয়। সেদিন সকাল থেকে আকাশের মুখ ভারী হঠাৎ মেঘের আবরণ ভেদ করে সূর্যের রস্মি এসে পড়লো ওই অঞ্চলে।
ঠাকুরদা বাচ্চার কান্না শুনতে পেয়ে হাঁক দিলেন “কি হলো রে ?
একজন ভিতর থেকে দৌড়ে এসে সভয়ে বললো “ মেয়ে”।
ঠাকুরদা গর্জে উঠলেন “মেয়ে: এ এ- ওকে ফেলে দিয়ে আয় আর শাঁক টাঁক কিছু বাজবে না” বলেই তিনি হুকো রেখে গ্রামের দিকে চলে গেলেন। ওই থেকে মেয়েটার নাম হয়ে গেল “ফেলনা” আর শ্রাবণ মাসে জন্মেছে বলে ভালো নাম “ শ্রাাবণী”
গ্রামে দে মশাইকে প্রমথ রায় জিজ্ঞাসা করলেন “কিহলো ভায়া নাতি না নাতনি ?”
দে মশাই শুকনো মুখে বলেন “ মেয়ে”
আগেকার সময়ে গ্রামাঙ্গলে মেয়ে হলে ওই শিশুকে অপয়া মনে করা হতো। “ আরে ভায়া মেয়ে বিয়ে দিতে কাল ঘাম ছুটে যাবে। মনোমতো পাত্র পাওয়া,এবং তার চাহিদা মতো পণ দেওয়া সাধারণের কাছে দুস্বপ্ন। আর মেয়ে বেশী কালো বা দেখতে খারাপ হলে, তুমি তো সর্বশ্রান্ত হয়ে যাবে। যদিও কষ্টে শিষ্টে বিয়ে দিয়ে দাও তারপর মেয়ের উপর আরো যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হবে, না দিলে মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতন করবে এর ফলে মেয়েটাকে আত্মহত্যা করতে হবে বা বাপের বাড়ীতে ফিরে আসতে হবে। আমরা সব জাঁতাকলে পড়েছি, বুঝলে ভায়া, কিছু করার নেই। “
দে মশায় চুপ করে থাকলেন। রায় মশায় আবার বলতে শুরু করলেন “ ভায়া চাষ করার জন্য পুরুষদেরই প্রয়োজন। এ ছাড়াও বুড়ো বয়সে বাপ মাকে দেখাশোনার লোকও চাই, মেয়েরা তো পরের বাড়ীতে চলে যাবে তাহলে বুড়ো বয়সে দেখবে কে ? মুখে আগুন তো মে্য়ে দিতে পারবে না এছাাড়া ছেলে শ্রাদ্ধশান্তি না করলে ‘পুত’ নামক ভয়ানক নরক থেকে উদ্ধারের আর কোনো উপায় নেই।“
দে মশায় মুখ বেজার করে অন্যদিকে চলে গেলেন।
ফেলনা অযত্নেই বড় হতে থাকলো। ফেলনা হওয়ার বছর চার পরে তার এক ভাই হয়েছে। ঠাকুরদা খুশি। তিনি ঘটা করে একুশ দিনে ষষ্টি পূজা করেছেন। সারা রাত ধরে ষষ্টিমঙ্গল গান হয়েছে। ফেলনার ভাই অন্ত প্রাণ। মা কাজে ব্যস্ত থাকেন, ফেলনাই ভাইর দেখভাল করে। দোলনা দুলিয়ে ঘুম পাড়ায়, কোলে করে ঘুরায়। ফেলনা কিন্তু শান্ত লক্ষ্মী মেয়ে, কোনো বাইনা নেই, জেদ নেই, যা দিলে তাতেই সন্তুষ্ট।
ফেলনা একটু বড় হতে সে মায়ের কাজে সাহায্য করা থেকে বাড়ীর বেশ কিছু কাজ করে দিত। বিশেষ করে ঠাকুরদার প্রতি বেশী করে নজর রাখতো। তিনি কখন তামাক খাবেন বা স্নানের সময় তেল এনে দেওয়া, পিঠে তেল মাখিয়ে দেওয়া এই রকম ছোটখাট কাজ করে দিত। সে স্কুলে ভর্তি গেছে এবং পড়াশুনা ভালোই করে। যত দিন যায় ঠাকুরদার মন পরিবর্তন হতে থাকে। কথায় আছে যাকে করা হয় হীন, সেই আনবে সুদিন।
ফেলনা যখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তে আরম্ভ করলো, তার সাহসী কাজকর্ম গ্রামের সকলকে অবাক করলো। সে তর তর গাছে উঠে যায়, পুকুরের জলে সাঁতার কাটে। এছাড়া ছেলেদের সঙ্গে হাডুডু খেলে, রাতে একা একা গ্রামে ঘুরে বেড়ায়। গ্রামে মেয়েরা ছেলের মতো এই সব কাজ করে না। আরও এই সাহসী মেয়ে যে কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ প্রথম করে। ওর ভয়ডর বলে কিছু নেই। অল্প বিষের সাপ দেখলে তার লেজ ধরে ছুলিয়ে রাখতো। এক কথায় বলতে গেলে ডানপিটে মেয়। ঠাকুরদা তার কাজে মনে মনে খুসি কারণ নাতনি তাঁর মতোই হয়েছে। ফেলনা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। তার কাজের উন্নতি হচ্ছে ও সাহসীকতা বাড়ছে। স্কুলে বাৎসরিক খেলা প্রতিযোগিতায় অংস গ্রহন করে এবং অধিকাংশ্ ইভেন্টে প্রথম স্থান অধিকার করে। যখন দশম শ্রেণীতে পড়ছে তার হাতে “ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এর জীবনী” বইটি আসে। এই বইটি পড়ে নাইটিঙ্গেল এর আদর্শে অনুপ্রানিত হয় এবং স্থির করে সে নার্সিংকেই জীবনে পেশা হিসাবে গ্রহণ করবে। মনের স্বপ্ন মনে গোপন রেখে সে প্রস্তুতি নিতে আরম্ভ করলো।
ফেলনা মাধ্যমিক ভলো ভাবে পাশ করে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হলো। সে ততটা ফর্সা না হলেও দেখতে শুনতে ভালো। লম্বাটে গড়ন, শক্ত সমর্থ চাবুকের মতো চেহারা। সবচেয়ে আকর্শনীয় মধুর ব্যবহার তাই সকলে তাকে ভালোবাসে। সে দ্বাদশ শ্রেণীতে উত্তীর্ন হলো। ঠাকুরদার মাথায় চিন্তা আছে ফেলনা বড় হয়ে গেল, বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি হিসাবী লোক। তার বুদ্ধির বল সংসারটা উন্নতি মুখ দেখেছে। বেশী পড়াশুনা করালে শিক্ষিত পা্র চাই এবং তাহিদা বেশী হবে। শীঘ্র বিয়ে দিয়ে দাওয়া ভালো। একদিন ফেলনা বলেন “ কিরে বর খুঁজতে আরম্ভ করি। বিয়ে তো দিতে হবে।“ ফেলনা একটু ভন্ড রাগত স্বরে বলে “ তুমি থামতো দাদা, বর্বর আর করো না। তুমি তো কিপটে। পয়সা কড়ি বেশী দেবে না, তখন আমাাকে মেরে ঝুলিয়ে দেবে। পুলিশ কাচারী করতে তোমার সব সম্পতি উড়ে যাবে।
“ ফুলকি, কথায় তোর সঙ্গে কেউ পারবে ন।“
“ শোনো দাদা, বিয়ে বিয়ে করো না। আমি স্থির করেছি পড়াশুনা করে চাকরী করবো আর তোমাকে মাসে মাসে টাকা পাঠাবো। তাহলে তুমি খুস্। আমাকে ফেলনা ভেবো না।“
ঠাকুরদা শুনে খুশিই হলেন। তিনি জানেন ফেলনা বুদ্ধিমতি ও দৃঢ়চেতা তাই কিছু বললেন না “ এক ছিলিম তামাক সেজে দে।“

ফেলনা উচ্চমাধ্যমিক ভালো ভাবে পাশ করলো। সে কাউকে না জানিয়ৈ নার্সিং বিএসসি কোর্সের প্রবেশিকা পরীক্ষাও দিয়ে রেখেছিল। তার ফল প্রকাশ হয়েছে এবং ভালো রেঙ্ক হয়েছে। সে খুশি, তার স্বপ্ন পুরণ হতে যাচ্ছে।
ফেলনা ঠাকুরদাকে সাগ্রহে বললো “ আমি চাকরীর পরীক্ষায় পাশ করে গেছি।“
“কি চাকরী রে, কবে থেকে মাইনা পাবি ?”
“ এখন টাকা পাব না। চার বৎসরের ট্রেনিং আছে। চার বছর পরে চাকরী নিশ্চিত।“
ঠাকুরদা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন “ এক ছিলিম তামাক সেজে দে।“
নির্দিষ্ট সময়ে এক শহরে বিএসসি নার্সিং কোর্সে ভর্তি হয়ে কলেজ হোষ্টেলে থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা সুরু করলো। তার মধুর স্বভারের জন্য বন্ধুবান্ধব জুটে গেল। বছর খানেক পরে সে কছাকাছি এক ক্যারাটে স্কুলে ভর্তি হলো। তার খেলাধুলার প্রতি ছোটো থেকে আকর্ষন ছিল কিন্তু শহরে তো খেলাধুলার তেমন সুযোগ ছিল না বলে সে ক্যারাটে শিখতে আগ্রহী হয়ে পড়লো। ভালোভাবে একটার পর একটা সেমিষ্টার দক্ষতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে চললো। তার যখন পঞ্চম সেমিষ্টার চলছে ঔষধসংক্রান্ত ও দৈহিক গঠন বিষয়ে আগ্রহ জম্মালো তাই এই বিষয়ের বই কিনে পড়তে আরম্ভ করলো। অন্যান্য মেয়েরা যখন আড্ডা দিয়ে বা গল্পগুজব করে সময় কাটাতো সে সব নিয়ে চর্চা করতো। তার মনে হয়েছিল যখন তাকে সারা জীবন রোগী সেবা মূলক কাজ করতে হবে ঐ বিষয়টা ভালো করা দরকার। অন্ধের মতো তো কাজ করা যায় না। দেখতে দেখতে তার কোর্স শেষ হলো এবং তার পোষ্টিং অন্য একটি শহরে সরকারী মেডিকেল কলেজ হলো।

এই কলেজে জয়েন করার পর তাকে প্রসুতি বিভাগে ইন চার্জ হয়ে কাজ শুরু করলো। প্রথম মাসের বেতন পেয়ে সে নিজের খরচা রেখে বাকী সব ঠাকুরদাদাকে পাঠেয় দিল। ঠাকুর মশাই টাকাই এক ছিলিম তামাক খেয়ে গ্রামের দিকে পা বাড়ালেন। পথে রায় মশায়ের দেখা “ জান তো ভায়া, আমার নাতনি বেতন পেয়েই আমাকে টাকা পাঠিয়েছে।“
“ তোমার কপাল, মেয়ে যে চাকরী করবে কেউ ভাবতে পারতো।“
“ আমি যাই, গ্রামে খবরটা দিতে হবে।“

প্রথম প্রথম কাজ ও হাসপাতালের পরিবেশ বুঝতেই মাস ছয়েক সময় চলে গেল। তার অমায়িক ব্যবহার ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্য সকলের কাছে প্রিয়ভাজন হয়ে উঠলো। তার পর্যবেক্ষণ শক্তির দ্বারা বুঝতে পারলো ওখানে ঔষধ ইনজেকশন রোগীকে দেওয়া হয় সেগুলো ঠিক মতো কাজ করছে না। সে এই সম্বন্ধে কাউকে কিছু না বলে অনুসন্ধান করতে আরম্ভ করলো। কিছু সময় হাউস স্টাফ ও জুনিয়ার ডাক্তারদের কিছু কিছু ভুল ধরিয়ে দিত তাই এদের মধ্যে অনেকে ওকে পছন্দ করতো না। তারা বলতো “নার্সদিদি তুমি আমাদের ডাক্তারী শেখাবে?”যত দিন এগলো শ্রাবণীর মধ্যে সন্দেহের দানা দৃঢ় হতে লাগলো। তার মনে হলো এই হাসপাতালে একটি রেকেট কাজ করছে। তার মনে নার্সিং স্টাফ সকলে বিষয় জানে কিন্তু ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না।

সে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খবরাখবর নিতে থাকলো। তার মনে হলো এটা হতে দেওয়া যায় না। সরকার রোগীর জন্য টাকা খরচ করছে অথচ রোগীদের কোনো কাজে আসছে না। সে দেখছে ঔষধ বাক্সে বা মলাটে ঔষধের নাম ঠিক লেখা আছে কিন্তু কাজ করছে না। সে খোলা বাজার থেকে নিজে ঐ ঔষধ কিনে প্রয়োগ করেছে তখন কাজ হচ্ছে। তখন সে নিশ্চিত হলো এখানে ভেজাল ঔষধ ভেন্ডার সরবরাহ করে কিন্তু কতৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে থাকে। এই বেআইনি কাজে কারা কারা জড়িত আছে তার খোঁজ খবর নিতে আরম্ভ করলো। চোরার মন বোঁচকার দিকে। যারা এর মধ্যে জড়িত তাদের নাকে গন্ধটা যেতে তারা সক্রিয় হয়ে উঠলো। গোপনে শ্রাবণকে ভয় দেখালো, শাসালো কিন্তু সে অকতোভয়। কিভাবে এই অবৈধ কারবার বন্ধ করা যায় এই চেষ্টা করে যেতে লাগলো। সরকার রোগীদের সুস্থ করতে এলাহি আয়োজন করছে আর কতিপয় অসাধু লোকের জন্য অমূল্য প্রাণ অকালে ঝরে যাচ্ছে। এর বিহিত করা দরকার।

হাসপাতালে এই কান্ডে জড়িত, তারা ষড়যন্ত্র শুরু করলো।
একদিন এক স্টাফ নার্স শ্রবনী কাছে এসে ফিস্ ফিস্ করে বললো “ দিদি, ওরা তোমাকে শাস্তি দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। আগে এই হাসপাতালে দুজন নার্স আত্মহত্যা করে মারা গেছে। তুমি সাবধানে থেকো।“
শ্রাবণী বুঝতে পারতো এদের হাত বড় লম্বা, সাবধানে খেলতে হবে। তাই সে একটি তীব্র্র ছোট শিশি পিপার স্প্রে কিনে নিজের কাছে সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখলো যাতে সময়ে কাজে লাগাতে পারে। সপ্তাহ খানেক পরে সেদিন শ্রবণার রাতে ডিউটি ছিল, এক বুড়ি আয়া এসে বললো “ওটি ঘরে ডাক্তাররা তোমাকে ডাকছে।“
প্রায় রাত এগারটা বাজে। ওয়াড় খালি হয়ে গেছে, দু একজন নার্স ডিউটি করছে। রোগীরা ঘুমিয়ে গেছে। শ্রবণা ওটি ঘরে গিয়ে দেখলো চারজন জুনিয়ার ডাক্তার ও এর মধ্যে একজন অপরিচিত। শ্রবণা ঢুকতেই একজন দরজা বন্ধ করে দিয়ে চারজনই শ্রবণার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং নানা ভাবে নির্যাতন করতে শুরু করলো, আঁচড়ানো, কামড়ানো, মারধোর করতে লাগলো। শ্রাবণী ওদের এই সব আত্যাচার করতে ইচ্ছাকরে সুযোগ করে দিল যাতে তার গায় আত্যাচারের চিহ্ন থাকে। তারা সকলে মদ্যপ ও সজ্ঞানে ছিল না। তারা যখন যৌন হয়রানি করতে শুরু করলো, শ্রাবণী ক্ষিপ্রগতিতে পিপার স্প্রের বোতল বের করে তাদের চোখে মুখে ছটিয়ে দিয়ে ক্যারাটের প্যাঁচে ধরাশায়ী করে দিল এবং ডিউটিরত নার্সদের ওটি রুমে নিয়ে গিয়ে মোবাইলে ছবি তুলতে বলতে বললো। তারপর সকলকে নিয়ে জরুরী বিভাগে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছ থেকে আঘাত সম্বন্ধীয় প্রেসক্রিপশন করিয়ে নিয়ে কয়েকজন মিলে থানায় অভিযোগ নথিবদ্ধ করো এবং হসপিটালে ফিরে মিডিয়াকে জানিয়ে দিল। চারদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল। পুলিশ তাদের এরেষ্ট করতেই গোটা রেকেটটা ধরা পড়ে যায়।
একে একে আগে রোগী ভেজাল ঔষধের জন্য মারা গেছে বা পঙ্গু হয়ে গেছে তার খবর সামনে আসতে লাগলো। সুধীসমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে লাগলো। অন্য হাসপাতালের কতৃপক্ষ সতর্ক হয়ে গেল। শ্রাবণীর নাম দিকে ছড়িয়ে পড়লো। ঠাকুরদাদা ফেলনার কথা শুনে চোখ থেকে অশ্রু আপনা আপনি গড়িয়ে পড়তে লাগলো ও বুক গর্বে ভরে গেল।

মন্তব্য করুন