প্রেমের সম্ভাষণ -প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ,
প্রথম প্রকাশ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ইং
প্রকাশক: নবকণ্ঠ প্রকাশনী
সংস্করণ: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং।
উৎসর্গঃ প্রাণের প্রিয়তমা এবং সকল প্রাণপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা ও প্রণয় প্রণয়িনীদের প্রতি।
গ্রন্থস্বত্ব: লেখক
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত:
স্বত্বাধিকারীর লিখিত অনুমতি ছাড়া এই বইয়ের কোনো অংশেরই কোনোরূপ পুনরুৎপাদন বা প্রতিলিপি করা যাবে না। কোনো যান্ত্রিক উপায়ের মাধ্যমে প্রতিলিপি করা যাবে না বা কোনো ডিস্ক, টেপ, পারফোরেটেড মিডিয়া বা কোনো তথ্য সংস্করণের যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পুনরুৎপাদন করা যাবে না। এই শর্ত লঙ্ঘিত হলে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গ্রন্থকারের কথাঃ
আস্সলামু আলাইকুম।
আলহামদুলিল্লাহ। যিনি আমাকে ৫০টি যৌথ কাব্যগ্রন্থে অংশগ্রহণ এবং ১৭টি যৌথ কাব্যগ্রন্থ সম্পাদন করে “প্রেমের সম্ভাষণ” প্রথম একক কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশ করার তৌফিক দান করেছেন।
এর পর জানাই প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি লাখো কোটি দুরুদ ও সালাম (সঃ)।
তার পরপরেই জন্মদাতা পিতা-মাতার পদতলে করি শ্রদ্ধা নিবেদন। যাঁদের ভালোবাসা, স্নেহ মমতার বাহুডোরে লালিত পালিত হয়ে বড় হয়েছি। মহান আল্লাহ তায়া’লা যেন তাঁদেরকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন – আমিন।
তারপর জানাই প্রাণ প্রিয় সহধর্মিণী মোসাঃ নূরমহল বেগমের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা, যার অনুপ্রেরণায় এতদূর আসা।
১৯৯৭ সাল সপ্তম শ্রেণী থেকেই আমার লেখালেখির হাতে খড়ি পড়ে। কত লেখা নষ্ট হয়েছে অকালে, কত লেখা নষ্ট হয়েছে হারানো খাতার পাতায়। কত লেখা নষ্ট হয়েছে অবহেলা গঞ্জনায়। এই লেখার জন্য কত মানুষ করেছে হিংসা, উপহাস, ঠাট্টা, বিদ্রুপ। তবুও মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমতে হিংসুকদের হিংসা, উপহাস আমার লেখালেখি দমাতে পারেনি। এ সব উপেক্ষা করে চলেছে অনির্বাণ কলমের গতি এবং মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে এ পর্যন্ত ৩০০০+ কাব্য রচনার মাইল ফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হই। আলহামদুলিল্লাহ।
প্রত্যেক লেখক-লেখিকা-ই চায় নির্ভুল লেখা দিয়ে সুন্দর রুচিসম্মত একটি গ্রন্থ উপহার দিতে। আমিও কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে অত্যন্ত সুন্দর সুনিপুণ সৌন্দর্যমণ্ডিত শব্দশৈলীর দ্বারা সর্বপ্রথম একক কাব্যগ্রন্থ “প্রেমের সম্ভাষণ” লেখার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমিও তো একজন অতি সামান্য মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল হয়। ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক এর কিছুই নয়। কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। বইটিতে যদি কোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকে। আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
“প্রেমের সম্ভাষণ” গ্রন্থটি সম্পূর্ণ সামাজিক আঙ্গিকে প্রেম-বিরহ, হাসি-কান্নার সমন্বয়ে ছন্দ ও সুরের ঝঙ্কারে অত্যন্ত নিপুণভাবে সাজানো হয়েছে। আশা করি বইটি সকলের হৃদয়ে নাড়া দেবেই ইনশাআল্লাহ। সকলের মাঝে এমন একটি সুন্দর কাব্যগ্রন্থ উপহার দিতে পেরে সত্যি আমি অত্যন্ত আনন্দিত, আপ্লুত ও অভিভূত। সকলের প্রতি রইলো আমার নিরন্তর ভালোবাসা প্রীতি শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
সকলেই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেনো আমার লেখনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশ ও দশের কল্যাণে আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন,
কাদিপুর, ভাটোপাড়া, গোদাগাড়ী, রাজশাহী।
কবি পরিচিতিঃ মোঃ ইব্রাহিম হোসেন শিক্ষা সনদ অনুযায়ী ১৭-১১-১৯৮৫ ইং সালে রাজশাহী জেলায় গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নাম্বার মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের হরিশংকরপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বাবা জয়নাল আবেদীন সরকার ও মাতা মোসাঃ মাবিয়া বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমান স্থায়ী আবাসস্থল- গ্রামঃ কাদিপুর, ডাকঘরঃ ভাটোপাড়া , থানাঃ গোদাগাড়ী, জেলাঃ রাজশাহী।
তাঁর বাবা মরহুম জয়নাল আবেদীন সরকার একজন সৎ সাহসী খুব পরহেজগার ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর জমিজমারও কোনো অভাব ছিলো না। প্রায় শত বিঘা সম্পত্তির মালিক ছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যক্রমে কবি তাঁর বাবার সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন এবং খুব ছোট বেলাতেই জন্মদাতা পিতাকে হারিয়ে ফেলেন। ফলে সংসারে দুঃখ-কষ্ট নেমে আসে এবং অতি কষ্টে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে একমাত্র মায়ের স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসায় লালিত-পালিত হয়ে তিলেতিলে বেড়ে উঠেন। তিনি মিথ্যাকে কখনো প্রশ্রয় দেন না। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। তিনি সততার সহিত খুব সহজ-সরলভাবে জীবন-যাপন করতে ভালোবাসেন। তিনি যথাসাধ্য মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন, অর্থ দিয়ে না পারলেও দৈহিক শ্রম দিয়ে হলেও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন।
তিনি ১৯৯৯ সালের ৬ -ই আগস্ট রোজ শুক্রবার মোঃ আব্দুল অকিল ও মোসাঃ দিলারা বেগম এর জ্যেষ্ঠ কন্যা মোসাঃ নুরমহল খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ছাত্রজীবন শৈশবকাল থেকেই তাঁর লেখালেখির সূত্রপাত হয়। তিনি কর্মজীবনের পাশাপাশি তিন হাজারেরও অধিক (৩০০০+) ছড়া-কবিতা ছন্দ মাত্রায় লিখেছেন। তাঁর লিখিত উপন্যাসঃ ‘ইতি কথা’, ‘অভিলাষী মন’ ও ‘ভালোবাসার রঙ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাঁর যৌথ, সংকলন এবং একক কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাস মিলে প্রায় বেশ কিছু সংখ্যক কাব্য প্রাকাশিত হয়। তিনি Bengali protilipi, Kobita cocktail, Bangla Kabita সহ আরও বিভিন্ন website এর একজন নিয়মিত লেখক। রকমারি ডটকমে তার প্রকাশিত বইগুলো পাওয়া যায়।
তিনি ‘মিষ্টি প্রেমের ছোঁয়া’, ‘জান্নাতের ফুল’, ‘স্বর্গে ফোটা ফুল’, ‘বিদ্রোহী কন্যা’, ‘রূপসী পল্লী’, ‘মদিনার ফুল’, ‘বাবা মানে বৃক্ষ ছায়া’, ও ‘রক্তাক্ত কারবালা’ সহ বেশ কিছু সংখ্যক যৌথ কাব্যগ্রন্থও সম্পাদনা করেন।
তাঁর প্রকাশিত প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমের সম্ভাষণ’ ফেব্রুয়ারি ২০২২,
‘ইতি কথা’ (উপন্যাস) জানুয়ারি ২০২৩, ‘বৈচিত্র্যময় জীবন’ কাব্যগ্রন্থ (নভেম্বর ২০২৩, ‘মমতাময়ী মা জননী’ (কাব্যগ্রন্থ) অক্টোবর ২০২৪, ‘অভিলাষী মন’ (উপন্যাস) ও উদ্দীপ্ত চেতনা – (কাব্যগ্রন্থ) ডিসেম্বর ২০২৪ এবং ‘ভালোবাসার রঙ’ (উপন্যাস) জানুয়ারি ২০২৫ এ প্রকাশিত হয়।
যেগুলো রকমারি ডটকমে পাওয়া যায়।
তিনি ‘ইতি কথা’ উপন্যাসে ২০২৩ এ জাতীয় কবিতা মঞ্চ কর্তৃক সেরা পুস্তক সম্মাননা প্রাপ্ত হন। ২০২৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানি জাতীয় কবি ‘আল্লামা ইকবাল অ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হন।
২৬ শে অক্টোবর ২০২৪ সালে জাতীয় কবিতা মঞ্চ ও ইরান কালচারাল সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে কবিতা প্রতিযোগিতায় “ফিলিস্তিনের আর্তনাদ” কবিতায় বিজয়ী লাভ করে “পোয়েট্রি ফর ফিলিস্তিন আ্যওয়ার্ড” প্রাপ্ত হন এবং ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে “মমতাময়ী মা জননী” কাব্যগ্রন্থে স্বপ্ননীল সাহিত্যচর্চা পরিষদ থেকে সেরা গ্রন্থ সম্মাননা প্রাপ্ত হন।
এছাড়াও বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে তাঁকে বহু বিজয়ী কবিতার সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়।
তিনি একজন সাহিত্য সংগঠক হিসেবেও বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি “রাজশাহী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ” এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। এ সংগঠনটি তিনি ১৭-০৮-২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ২০২২ সালে ‘অনলাইন লিটারেচার গ্রুপস ইউনিটি’ কর্তৃক ‘সংগঠন সম্মাননা সনদ’ প্রাপ্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ আন্তর্জাতিক কবি সাহিত্য পরিষদ এডমিন ও প্রধান বিচারক পদে অধিষ্ঠিত থেকে সাহিত্য সম্পদানা করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠনে নিরলসভাবে কাজ করে থাকেন। আমরা কবি ও তাঁর পরিবারবর্গের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। আমিন।
১।
বুঝবে সেদিন
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
বুঝবে সেদিন বুঝবে তুমি বুঝবে আমায় প্রিয়া,
যেদিন আমি চলে যাবো চিরবিদায় নিয়া।
আর কখনো আসবো না যে করতে প্রেমের দাবি,
কেমন তোমার কাটবে সেদিন নিত্য আমি ভাবি !
আর যাবো না ফুল বাগানে গাঁথতে প্রেমের মালা,
বুকের মাঝে করবো দাফন তোমার দেওয়া জ্বালা।
ডাক দেবো না প্রিয়া বলে কেমন তুমি আছো ?
এইটুকু যাই দোয়া করে চিরসুখে বাঁচো।
ভুলবশত পড়ে যদি আমায় কভু মনে,
ছিলো না মোর প্রতারণা ভেবো তোমার সনে।
আমার তরে তোমার কভু ঝরে যদি আঁখি,
ভেবে নিও ছিলাম আমি তোমার প্রাণের পাখি।
কেউবা যদি নাই বা ডাকে প্রিয়া নামটি ধরে,
বুঝবে আমার এ প্রেম ছিলো শুধুই তোমার তরে।
হয়তো তুমি কাঁদবে সেদিন থাকবো নাকো আমি,
প্রেমের জ্বালা বুঝবে তখন প্রেম যে কত দামি ?
চোখের জলে বুক ভাসাবে ভিজবে বালিশ খানি,
একলা জেগে চাঁদনি রাতে মুছবে চোখের পানি।
সেদিন তুমি বুঝবে আমায় বুঝবে আমার বাণী,
আমার প্রেমের রাজ-মহলে তুমিই ছিলে রানি।
২।
স্মৃতির পাতা
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
স্বপ্ন আসে চোখের কোণে
স্বপ্ন বুনে বাসা,
কোনো দিনও হয় না পূরণ
সব মানুষের আশা।
স্বপ্ন দেখে মন পাখিটা
কতই ছবি আঁকে,
প্রেম-বিরহের স্বপ্নগুলো
পুড়ে হৃদয় বাঁকে।
কিছু কথা চিত্তে গাথা
যায় না কভু বলা,
স্মৃতি করে নিত্য তারে
জীবন পথে চলা ।
উজাড় করে সব দিয়ে হয়
শূন্য হৃদের ভূমি,
তুমিহীনা বেঁচে আছি
দুঃখটাকে চুমি।
সুখের যত স্মৃতি আছে
যায় না কভু ভোলা,
ভুলতে গিয়েও কষ্ট লাগে
দেয় জ্বালারা দোলা।
তুমি আমি দু’জন মিলে
চন্দ্রিমারই রাতে,
হাতের উপর হাতটা রেখে
চলতাম একই সাথে ।
হাজার কথার ভাবনা গুলো
কাব্যে লেখা খাতায়,
তোমার স্মৃতি রয়ে গেলো
আমার স্মৃতির পাতায়।
মনের দুয়ার খুলে দেখি
দুখ বেদনার জাতা,
তুমি এখন এই হৃদয়ে
শুধুই স্মৃতির পাতা ।
৩।
প্রেমের সম্ভাষণ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
নীল আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে কত পাখি !
আমি সখি ইশারাতে তোমায় শুধু ডাকি ।
চলো চলো দুই জনাতে নীল আকাশে মিলাই,
তুমি আমি দু’জন মিলে প্রেম সুখেতে হারাই।
ছাদের উপর দেখবো দু’জন প্রকৃতির ওই দৃশ্য ,
তুমি আমি ছাড়া দু’জন দুই জনই তো নিঃস্ব।
আমার কথায় মুচকি মুচকি কেনো তুমি হাসছো ?
বলবা নাকি কিছু আমায় কি যে তুমি ভাবছো ?
দুষ্টু ছেলে চুপটি করো আর বলোনা কথা,
তোমার সাথে আড়ি আমার আর দিওনা ব্যথা।
বলতে যদি চাওগো তুমি যাও না বলে কিছু ,
চলে যখন যাবো আমি আর ডেকো না পিছু।
এমন কথা কেনো বলো প্রাণ স্বজনী তুমি ?
তুমি ছাড়া হৃদয় আমার শূন্য মরুভূমি ।
স্বপ্ন আমার দুুই চোখেতে তুমি নয়ন তারা,
তোমায় পেলে স্বর্গ পাবো নইলে সবই হারা।
আমার বাবা ঠিক করেছে কালকে আমার বিয়ে ,
বর এসে যে নিয়ে যাবে পাগড়ি মাথায় দিয়ে।
তাই তো বলি ভুলো মোরে রেখো নাকো মনে,
দুঃখ ভুলে শান্তি পাবে দুখ রবে না সনে।
অন্য ঘরে যাও গো যদি আমায় ছেড়ে তুমি,
নিজের হাতে গরল দিয়ে মারো হৃদয় ভূমি।
তুমি বিনে আঁধার ভুবন চাই না কিছু পেতে,
শূন্য জীবন পরপারে চাই গো চলে যেতে।
আর বলো না এমন কথা করলাম আমি যাচাই ,
এই জীবনে স্বর্গ তুমি আর কিছু যে না চাই ।
চলো চলো রাগ অভিমান ভুলে দু’জন মিলে ,
প্রেম নগরের সুখ মোহনায় এক হই দু’টি দিলে।
৪।
তোমার সাথে হবে না প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
তুমি থাকো দশ তলাতে আমি থাকি গাছ তলায়,
কেমন করে বলো আমি তোমার প্রেমের নাগাল পাই ?
তুমি থাকো চাঁদের দেশে আমি থাকি মাটির ঘরে,
কেমন করে বলো আমি নেবো তোমায় আপন করে ?
বড়লোকের কন্যা তুমি তোমার বাবা চাকরি করে,
আমার বাবা মাঠে-ঘাটে ধান কাটে ওই কাস্তে ধরে।
সোনা-দানা, গয়না-গাটি আছে তোমার ভুরি ভুরি,
পারবে না তো পরতে তুমি আমার ঘরে কাচের চুড়ি।
চাঁদের মতই দেখতে তুমি রূপে গুণে শ্রেষ্ঠা নারী ,
আলাভোলা মানুষ আমি নেই ভুবনে বসত-বাড়ি ।
দোহাই লাগে আর ডেকো না চাঁদের দেশে স্বপ্ন পুরে,
পারবোনা তো তোমায় আমি ঘরে নিতে আপন করে।
চাঁদের আলো শোভা যে পায় পূর্ণিমারই জোছনা রাতে,
তোমার শোভা পাবে কোনো রাজকুমার বা রাজার হাতে ।
আর ডেকো না আর দিওনা জ্বালা আমায় বন্ধু কভু,
তোমার আমার প্রেমের মিলন লিখেননি যে মহান প্রভু।
আর হবে না কোনো দিনও তোমার সাথে আমার দেখা,
দাওনা বিদায় প্রিয়তমা আসবে তোমার আসবে সখা।
আমরা গরিব অসহায় যে প্রেমরই সুখ নাই যে ভালে,
করবো দোয়া দু’হাত তুলে সুখে থেকো চিরকালে।
৫।
প্রেম দিবসের প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
চাই না আমি প্রেম দিবসের
লোক দেখানো প্রেম,
রাস্তা ঘাটে প্রেমের খেলা
বলতে লাগে সেম।
সত্যিকারের প্রেম তো ভবে
দিবস ছাড়াই হয়,
বর্তমানের প্রেম দিবসে
নারীর জীবন ক্ষয়।
প্রেমের নামে করছো খেলা
নষ্ট করে লাজ,
মেয়ে তুমি বুঝবে যখন
পড়বে মাথায় বাজ।
প্রেম দিবসে আর করো না
প্রেমের খেলার ঢঙ,
সারাজীবন থাকবে গায়ে
লাগলে তারই রঙ।
পুরুষ জাতির ক্ষয়-ক্ষতি নাই
নারীর লাগে দাগ,
ধিক্কারে তাই বলছি আমি
ভাগ’রে তোরা ভাগ।
৬।
স্বপ্নচারিণী
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
আজকে তুমি দেখা দিলে স্বপ্নচারিণী ,
ছেলে বেলার সে দিনগুলো আজও ভুলোনি।
রাত দুপুরে আসলে তুমি বরই নিয়ে হাতে,
ছোট্ট বেলার মতই করে দিলে এসে রাতে ।
লেখা পড়ার কথাও আজও যায়নি ভোলা কভু,
বই ও খাতায় অংক কষি তুমি আমি শুধু ।
হাতের লেখা ছিলো তোমার আমার থেকে ভালো,
লেখাপড়ায় ছিলাম আমি তোমার থেকে আলো।
ঈর্ষা জাগে আজও মনে তোমার হাতের লেখায় ,
দুর্বল ছিলাম নিত্য আমি বীজ গণিতের পাতায়।
কোথায় আছো, কেমন আছো ? জানি না তা আমি;
স্বপ্নে এসে দেখা দিও তোমার শুভকামী।
রাতের পরী প্রাণের প্রিয়া আমায় ভালোবেসো,
বাস্তবে না স্বপ্নে এসেই মিষ্টি করে হেসো।
তোমায় নিয়ে আমার যত গান-কবিতা লেখা,
স্বপ্নচারিণী গো তুমি স্বপ্নেই দিও দেখা।
৭।
তোমার অপেক্ষায়
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ফুল বাগানে ডাকলে এনে কথা বলার তরে,
তোমার বিয়ের বললে কথা মনটা উজাড় করে।
সাত বছরের ভালোবাসা ভুলবো কেমন করে ?
কালকে তোমার বিয়ের আসর কাঁপছি প্রেমের জ্বরে।
নিজের ভালো বুঝলে তুমি আমাকে পর করে,
আমায় ছেড়ে পারবে কি গো থাকতে বাসর ঘরে ?
স্বপ্ন আশা হৃদ গহীনে সবই তোমায় ঘিরে,
তোমায় ছেড়ে জগৎ মাঝে দুঃখ বুকের নীড়ে।
কালকে তোমার বিয়ে হবে বললে মোরে এসে,
ভরলো সাধের জীবনখানা দুঃখ নিয়ে শেষে।
তোমার সুখের কথা তুমি ভাবলে বসে হেথা,
বুঝলে না তো কভু তুমি আমার মনের ব্যথা ।
আমায় ফেলে সুখে যদি থাকতে পারো ঘরে ,
উঁচিয়ে দু’হাত করবো দোয়া সারাজীবন ভরে।
একটা কথা জেনে রাখো ওগো প্রাণের প্রিয়া,
তুমি ছাড়া কাটবে জীবন দুঃখ শুধু নিয়া।
জেনে গেছি আর কোনদিন পাবো নাকো কভু,
জানি না মন অপেক্ষাতে থাকে কেনো তবু?
একটা দোয়া চিরদিনই এই কামনাই করি,
সুখেই থেকো প্রার্থনাতে প্রভুর চরণ ধরি।
৮।
মিষ্টি মধুর হাসি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন।
মিষ্টি হাসি দেখে তোমার
পাগল সারা ভুবন,
আরো পাগল ভালোবাসে
তোমার প্রেমিক যে জন ।
হাসি তো নয় চাঁদের হাসি
দেখতে চাঁদের মতন ,
ভালো থেকো সদা তুমি
করিও তোমার যতন ।
নিজের হাতে সৃষ্টি করলেন
তোমায় মহান বিধি ,
দুনিয়া পাগল তোমার প্রেমে
প্রেমিক নিরবধি ।
মা ও বাবার ভালোবাসায়
হয়েছো বড় জ্ঞানী ,
তাদের ভবে আশীর্বাদেই
মান পেয়েছো জানি ।
ধন্য তুমি ধন্য ভুবন
ধন্য তোমার স্বামী ,
ধন্য তারা, যারা ভবে
তোমার শুভকামী ।
কী অপরূপ দেখতে তুমি
মিষ্টি মধুর হাসি,
বন্ধু তুমি জেনে নিও
অনেক ভালোবাসি।
৯।
বর ও বধু
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
নতুন বধূ আসবে ঘরে
মনে কত সুখ,
দূর হবে যে মনের জ্বালা
আছে যত দুখ।
স্বপ্ন চোখের দুটি তারায়
মনের মাঝে আশ,
সুখের সাথে দুজন মিলে
কাটবে বছর মাস।
বর সেজে যে যাবো আমি
কন্যা নিতে আজ,
লাল-শাড়িতে ঢাকবে বধূ
চোখের যত লাজ।
কবুল কবুল তিন কবুলে
দু’টি মনের মিল,
বাসর রাতে বলবো কথা
উজাড় করে দিল।
ভালোবাসার মিলন মালা
গলায় দেবো তার,
কাজল কালো আঁখি দু’টি
বুজবে বারে বার।
জোড়া মনের স্বপ্ন আশা
পূরণ হবে তাই,
বর ও বধূর হৃদয় মাঝে
খুশির সীমা নাই।
১০।
প্রেমের মুকুর
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
নই রবি ঠাকুর আমি
নই নজরুল,
তোমার প্রেমেই তবু
আছি মশগুল ।
কবি না হয়েও আমি
লিখি কবিতা,
তোমার মুখের আমি
আঁকি ছবিটা ।
ছন্দে ছন্দে গাথি
তোমারই কথা ,
তোমার স্মৃতি কত
হৃদয়ে গাঁথা!
কবির মতই করে
সারিসারি গাথি ,
তোমার আমার সেই
দু’জনার স্মৃতি ।
রেখে যাবো কবিতার
ছন্দ ও শোরে ,
দু’জনার প্রেমে গাঁথা
প্রেমস্মৃতি ডোরে ।
আমি হয়ে কবি আর
তুমি কবিতা ,
এঁকে যাই দু’জনার
স্মৃতির পাতা ।
নই আমি নজরুল
নই রবি ঠাকুর,
আমার হৃদয়ে তুমি
প্রেমের মুকুর ।
১১।
আলতা রাঙা পায়
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
যাচ্ছে কন্যা হেলেদুলে
করছে কত ঢঙ?
মন হরষে মাখছে গায়ে
হোলির গুঁড়ো রঙ।
কোমর দোলায় মন মজায়ে
আলতা রাঙা পায়,
নূপুর পরে ঝুমুর ঝুমুর
কোথায় চলে যায়?
ও রূপসী তোমার রূপে
মনটা পাগল হায়!
ভালোবেসে ডাকছি কাছে
মন তোমাকে চায়।
ঝুমকো জবা কানের দুলে
টিপ ললাটে ওই,
শাপলা বেলি ও চামেলি
কইরে তোরা কই?
লালশাড়িতে মুখটা ঢেকে
প্রিয়া আমার যায়,
কাচের চুড়ির বাজনা বাজে
আয়রে তোরা আয়।
আলতা রাঙা দুটি পায়ে
হাঁটে মেঠো পথ,
পারিস যদি আয়রে নিয়ে
পালকি নামের রথ।
১২।
সর্বহারা প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ঊনিশ শত নিরানব্বই
প্রেমের গল্প শেষে,
কষ্টে শুরু হলো এখন
কর্মজীবন বেশে।
প্রেমপিরিতি মানে হলো
কান্নার জীবন শুধু ,
কষ্টে কেঁদে জীবন কাটে
সাক্ষী শুধু প্রভু।
আর্তনাদে বুক’টা ফাটে
কষ্ট হাহাকারে!
উপহাস ও টিটকারিতে
জীবন ছারে’খারে ।
সত্যিকারের প্রেমই হলো
জীবন মরণ নাশে,
কষ্ট নিয়ে কেউ যে বাঁচে
কেউ বা আবার ফাঁসে।
ভুলতে গিয়েও যায় না ভোলা
আজও কভু তারে,
থেকে থেকে মধ্যরাতে
কাঁদায় এসে ধারে।
প্রেমই স্বর্গ প্রেমই নরক
প্রেমই জীবন সারা,
প্রেমেই গড়ে সুখের জীবন
প্রেমেই সর্বহারা।
১৩।
খাঁচায় বন্দি পাখি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
বনের পাখি ধরে আনি
বন্দি খাঁচায় রাখি,
খাঁচার ভিতর কিচিরমিচির
আম্মু ডাকে পাখি।
খাঁচার উপর উড়ে বসে
মা পাখিটা এসে,
এক নিমিষেই কান্না থামে
বাচ্চা পাখির শেষে।
অপলকে দেখি পাখির
মায়ের ভালোবাসা,
মিটে গেলো আমার প্রাণের
পাখি ধরার আশা।
আমরা যেমন স্বাধীন মানুষ
স্বাধীনভাবে চলি,
বিবেকটাকে জাগিয়ে তুলে
তাদের কথাই বলি।
বন্যপাখি স্বাধীনভাবে
উড়বে বনের মাঝে,
কিচিরমিচির গান শোনাবে
সকাল দুপুর সাঁঝে।
তাদের মনেও স্বপ্ন আছে
স্বাধীনভাবে বাঁচার,
খুলে দিবো দরজা আমি
বন্দি পাখির খাঁচার।
দরজা খুলে দিলাম খাঁচার
পাখিগুলো ওড়ে,
মনের সুখে গান ধরে যে
কিচিরমিচির করে।
বনের পাখি বনে গেলো
উড়ে ডানা মেলে,
উন্মুক্ত নীল দূর আকাশে
নাচে হেসে-খেলে।
১৪।
এ্যারেঞ্জমেন্টের ভালোবাসা
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ভ্রমর হয়ে গেলাম আমি
ফুলের কোলিতে,
ফুলটা ঝরে গেলো যে হায়!
আমার ভরেতে ।
দুঃখ গুলো কোথায় রাখি ?
রাখার জায়গা নাই ,
ফুলের মতো মনটা আমার
পুড়ে হলো ছাই।
নাইরে আমার ভালোবাসা
ভাগ্যে আমার নাই ,
দুঃখগুলো সঙ্গী হলো
একলা নিরালায় ।
সত্যিকারের ভালোবাসা
জগতে নাই হায়!
খাঁটি প্রেমের হয় না মিলন
কান্না শুধু পায় ।
দুঃখ জ্বালা নিয়ে সে তো
পাগল বনে যায় ,
অনেকে ফের ভালোবেসে
প্রাণ বিসর্জন দেয় ।
ভালোবাসা থেকে সবাই
দূরে থেকো ভাই,
নইলে পরে জ্বলে পুড়ে
জীবন হবে ছাই ।
লাভ মেরেজের ভালোবাসায়
প্রাণ নাশেরই ভয় !
এ্যারেঞ্জমেন্টের ভালোবাসায়
সুখী জীবন হয় ।
১৫।
বাজিমাত
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 5+5+5+2
ওহ্ ললনা চেয়ে দেখনা
দেখতে কত ভালো!
তোমার রূপে ঝলক মারে
জগৎ করে আলো।
উদাসী মন পাগল করে
তোমার ছোঁয়া পেতে,
মন হারালো অজানাতেই
তোমার কাছে যেতে।
চন্দ্র তারা মুখটা ঢাকে
তোমায় দেখে লাজে,
কোনো কিছুই ভাল্লাগে না
মন বসে না কাজে।
কলেজ পথে প্রথম ক্ষণে
তোমার সনে দেখা,
ভাগ্যে মম আঁকলো বুঝি
বিধি প্রেমের রেখা।
হাত বাড়িয়ে ডাকছি কাছে
বাড়িয়ে দেখো হাত,
দু’জন মিলে ভুবন মাঝে
করবো বাজি’মাত।
১৬।
চাঁদের দেশে
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ফুল বাগানে ফুলের রানি কলিরা সব ফুটে,
ফুলেরই সে গন্ধ পেয়ে মন ভ্রমরা জুটে।
এই হৃদয়ে একটা ফোটা তুমি যে ফুলকলি,
তোমার প্রেমের পরশ পেয়ে আনন্দে তাই দলি।
আকাশের ওই চাঁদ’টা দেখো জোছনা কত ছড়ায়,
জোনাকিরা মিটিমিটি আলো দিয়ে বেড়ায়।
প্রেম-নগরের প্রেমের পাহাড় ওই যে মিনার চূড়ায়
চুপিচুপি যখন ডাকো থমকে তখন দাঁড়ায়।
সাগর তীরে দেখো না ওই সূর্য মামা হারায়
চাঁদ ছাড়া যে রাত্রি নিশি আঁধারে সে মিলায়;
অবিরত ঝর্ণা নদী সাগর পানে গড়ায়
তুমি ছাড়া বৃষ্টি বিহীন বিষণ্ণতা খরায়।
আমারই এই ছোট্ট মনের বিশাল আকাশ জুড়ে
চন্দ্র হয়ে জ্যোৎস্না ছড়াও মনের পাড়া ঘুরে,
আমার গগন তারার মাঝে হারাও প্রেমাবেশে
ভালোবাসার নীড় গড়েছি চলো চাঁদের দেশে।
১৭।
ঘর ভাংগা ঝড়
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
সারাজীবন ভালোবেসে
পেলাম না তোর মন,
তোর কারণে কষ্টে আমি
কান্দি সরা’ক্ষণ।
ভালোবাসা বুঝিনি তো
তুই বুঝালি তাই,
ভুলে গেলি খুব সহজে
আমি ভুলি নাই।
মেয়ের নাকি মনটা কোমল
সব লোকে তাই কয়,
সাতটি বছর ভালোবেসেও
হয়নি প্রেমের জয়।
ভাগ্যে আমার এটাই ছিলো
চলে গেলি তুই ,
মনের মাঝে দুঃখগুলো
পুষে পুষে থুই।
আমায় ভুলে রংমহলে
বাঁধ্ লি সুখের ঘর,
ভাঙলো আমার সুখের মহল
কালবৈশাখী ঝড়।
১৮।
ফিরে এসো
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
মাত্রাবৃত্ত ছন্দ ৬+৬+৬+৩
আজ কেনো বল আঁখি ছলছল
আমাকে কাঁদিয়ে কাঁদিছো ?
বিরহের জ্বালা করে গলে মালা
স্মৃতিগুলো বুকে বাঁধিছো।
কাঁদিয়াছি কত তোমার’ই মত
জমা আছে বুকে ব্যথাটা,
ভালোবেসে রবে পাশাপাশি ভবে
রাখোনি কখনো কথাটা।
মন পুড়ে ছাই আজ তুমি নাই
দুখের সাগরে ভাসিয়া,
আশা শেষ নয় হবে বুঝি জয়
আসিবেই ভালো বাসিয়া।
প্রেমের সাধন দু’চোখে কাঁদন
বুঝালে প্রেমের ভাষায়,
বৃষ্টির মত ঝরে অবিরত
শুধুই তোমার আশায়।
ভেসো নাকো নীরে এসো বুকে ফিরে
ঠাঁই দেবো বুকে তোমাকে,
মুছো নোনাজল বাঁধো বুকে বল
বাহুডোরে নাও আমাকে।
১৯।
সবই হারালাম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
এই সুন্দর ভুবনে জন্ম নিলাম
কী পেলাম আর কী হারালাম?
পেয়েছি সবই হারাবো সবই,,
সবকিছুই তো হবেই নিলাম ।
মায়ের কোলে জন্ম নিয়ে
পেয়েছিলাম মা ও বাবা,
বড় হয়ে টাকা পয়সায়
গড়েছিলাম দালানকোঠা ।।
অতীত জীবন পার করে
বার্ধক্যে এসে পড়লাম ।
কী পেলাম আর কী হারালাম ?
এখন আমার যাওয়ার সময়
চলেই যাবো শূন্য হাতে,
কেউ যাবে না সাথে আমার
একাই রবো কবরেতে ।।
সবই পেলাম আর সবই হারালাম
শূন্য হাতে বিদায়ও নিলাম।
কী পেলাম আর কী হারালাম ?
২০।
রাখাল ছেলের প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে যাওরে কোথায় চলে ?
গোয়াল ঘরে গরু আছে নাও না তোমার পালে ।
আর নেবো না গরু আমি অনেক বেশি হলে,
পরের ক্ষেতে যাবে গরু মারবে গাইলের ছলে।
রাখাল যদি নিতে গো চান গরু চরার তরে ,
অন্যখানে চেষ্টা করেন পাবেন গোয়াল ঘরে ।
নাই যে আমার লোভটা বেশি আমি রাখাল ছেলে ,
বকরী ভেড়া চরাই মাঠে থাকি সবার তলে ।
রাখাল ছেলে বলেই আমি ঘৃনা করে সবাই ,
দুঃখ যে নাই তাতে আমার ঐ বিধাতা সহায়।।
শোনো চলি রাখাল বলি আমরা সবাই মানুষ ,
গরিব ঘৃণা করে যারা তারা’ই অমানুষ ।
ভুলবো না যে কভু আমি আপনার কথায় মেম,
রাস্তা ছাড়েন বিনয় করি আমায় যেতে দেন ।
ধনী মেয়ের সাথে হয় না রাখাল ছেলের প্রেম ,
গরিব দুঃখীর রক্ত চুষে খেলে তারা গেম ।
রাখাল ছেলে আর করো না আমার সাথে মান ,
তোমার তরে দিতে হলে দেব আমার জান ।
তোমার কথায় খুশি হয়ে রাখলাম হাতে হাত,
আল্লাহ যদি সহায় থাকেন হবেই মোলাকাত।
২১।
তুমি আমি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
মরণ যদি আসে তবে
মরবো একই সাথে,
এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমি
থাকি দিবা’রাতে।
ভয় করি না মরণ জ্বালা
ভয় করি না কভু ,
তোমায় আমি ভালোবাসি
সাক্ষী আছেন প্রভু।
একদিকে এই এক পৃথিবী
অন্য দিকে তুমি,
ভালোবেসে আগলে বুকে
রাখবো তোমায় চুমি।
আমার এই না ভালোবাসা
সোনার চেয়েও খাঁটি,
তোমার তরে কানায়-কানায়
আছে পরিপাটি।
দেখতে যদি চাওগো তবে
বুকটা দেখো চিরে,
চুপটি করে থাকো কেনো
কাছে আসো ধীরে।
চন্দ্র তারা আছে যেমন
ঐ আকাশে মিশে ,
তোমার মাঝে হারিয়ে গেছি
নাই কোনো মোর দিশে।
আমার মাঝে তুমি আছো
তোমার মাঝে আমি,
ভুবন মাঝে তুমি আমার
সব থেকে যে দামি।
এই পৃথিবীর সবই আছে
জোড়ায় জোড়ায় সাজা,
তুমি আমার ঘরের রানি
আমি তোমার রাজা।
মরণ যদি আসে তবে
মরবো তুমি আমি,
তুমি আমার রাঙা বধূ
আমি তোমার স্বামী।
২২।
প্রেমের রাজমুকুট
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
স্বপ্নে দেখি রঙিন ভুবন
সেই ভুবনের এক রাজা,
রাজকুমারী কন্যা যে তার
দেয় আমারে প্রেম-সাজা।
পুষ্পবাগে পরীর মেলা
মনের বাগে ফোটা ফুল,
সুবাস ছড়ায় চতুর্দিকে
দিক হারিয়ে পাই না কূল।
ভাবনা মনের সঙ্গোপনে
সেই তো আমার রাজরানি,
হীরা-মানিক, স্বর্ণ-দানায়
যতন করি ফুলদানি।
আমি যে তার প্রেমের নাগর
পাগলপারা অবুঝ মন,
সাজিয়ে দেবো রানির হালে
করবো তারেই আপন জন।
তাই সদাক্ষণ কলম খাতায়
পরাণ ভরা রূপ আঁকি,
মন গহীনে বসত করা
আমারই সে প্রাণপাখি।
চন্দ্রিমাতে রাত্রি জেগে
তাই লিখি এক চিরকুট,
স্বর্ণ-হীরা, মণি-মুক্তার
প্রেম-দানের এই রাজমুকুট।
পরিয়ে দেবো শির ‘পরে তাজ
বাড়াও তোমার হাত দু’খান,
প্রেমের জ্বরে মরছি কেঁপে
সঙ্গী তুমি বাঁচাও প্রাণ।
২৩।
বৃষ্টিভেজা প্রেম ১
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রিমঝিম রিমঝিম বৃষ্টির জল,
মন চায় প্রিয়া তুই মোর সাথে চল।
বল কিছু বল,
নামে আজ ঢল।
আনচান আনচান করে এই মন,
বুকের ভেতর দ্যাখ উঠেছে কাঁপন।
তুই প্রিয়জন,
মনের মতন।
বৃষ্টিতে ভিজি আজ চল অঙ্গনে,
আমি তোর তুই মোর এই নির্জনে।
আয় এক সনে,
মিশি দুইজনে।
নাই প্রিয় এই মনে ভিজিবার সাধ,
উঠেছে তুফান নদে নভে মেঘনাদ।
আছে তাতে বাধ,
ভয়াবহ খাদ!
সমাজের চোখে এতে হারাবে যে মান,
জানাজানি হলে শেষে যাবে গর্দান।
নাই সমাধান,
যাও বাবু জান।
২৪।
বৃষ্টিভেজা প্রেম ২
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
বৃষ্টির মাঝে এলোকেশে
মন উতলা হলো,
এসো এসো আমার সাথে
প্রিয় কথা বলো।
গুরুর বাণী বৃষ্টিতে যে
ভিজতে আছে মানা,
সর্দি লেগে জ্বর হবে তাই
সবার’ই তো জানা।
তড়িত্ বেগে তড়িত্ এসো
কেউ দেখার’ই আগে,
দু’জন মিলে বলবো কথা
ভিজবো ফুলের বাগে।
অবিরত বৃষ্টি পড়ে
মেঘলা আকাশ খানা,
তোমায় নিয়ে উড়ে যাবো
মেলে দুটি ডানা।
আড়াল করে রাখবো তোমায়
শাড়ীর আঁচল তলে,
চুপিচুপি বলবো কথা
বৃষ্টি কন্যার জলে।
২৫।
নাম না জানা প্রিয়া
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
বয়স আমার উনিশ কুড়ি
প্রেম জেগেছে মনে,
প্রেমিক হয়ে কইবো কথা
এক প্রেমিকার সনে।
মন বলেছে আসবে সে যে
তাই অপেক্ষায় আছি,
জন্ম আমার তার কারণে
তার আশাতেই বাঁচি।
উথাল-পাথাল মন ভাবনায়
স্বপ্ন কত আঁকি!
কল্পনাতে দৃষ্টিগোচর
জুড়ায় দু’টি আঁখি।
নামটা তো তার হায় অজানা
‘এই’ ডেকে কই তুমি,
নিশির লগন রঙিন ভুবন
একলাতে রই ঘুমি।
নাম না জানা অচিন পাখি
কী নামে যে ডাকি ?
আসবে নাকি আসবে না সে
দেবে আমায় ফাঁকি!
২৬।
প্রেমিক জীবন
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
প্রেম কাকে কয় আজ অবধি
বুঝিনি তো হায়?
নিবিড় করে বারেবারে
মন তোমাকে চায়।
কতটা যে ভালোবাসি
বলার কভু নয়,
লিখতে গেলে কলম-কালি
খাতার পাতা ক্ষয়।
সাগর যেমন অথৈ গভীর
কূল-কিনারা নাই,
এই হৃদয়ের গহীন বনে
তেমন তোমার ঠাঁই।
উদার আকাশ শীতল বাতাস
তেপান্তরের মাঠ,
দরজা খোলা আত্মভোলা
অসীম প্রেমের বাট।
তুমি ছাড়া চন্দ্র-তারা
আঁধারে দেয় ডুব,
এ মন বলে চোখের জলে
ভালোবাসে খুব।
কেমন করে বোঝাই তোমায়
কত আপন’জন?
স্বর্গ তুমি নরক তুমি
হীরা মানিক ধন।
জীবন আমার মরণ আমার
তুমিই প্রাণের শ্বাস,
তুমি বিহীন দুখ-সীমাহীন
জ্যান্ততে হই লাশ!
প্রেমিক জীবন প্রেমের বাঁধন
চায় সারাক্ষণ চায়,
প্রেমিকাহীন বিষাদী মন
বাঁচন বড়ই দায়।
২৭।
প্রথম প্রেমের কুঁড়ি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রূপ দেখেছি এ পৃথিবীর দেখিনি হায় তোমায়
এইতো প্রথম দেখে,
কল্পনাতে যাই হারিয়ে কল্পজগত বানাই
স্বপ্ন চোখে এঁকে।
তোমায় দেখে চন্দ্র হাসে মন তারাদের গলে
তোমার কথাই বলে,
আহ্ কী দারুণ নাই উপমা সুন্দরী পথ চলে
রূপে আগুন জ্বলে!
কোকিলা সুর কণ্ঠ তোমার যেন মোহন বাঁশি
কোকিল গাছের ডালে,
কোমল দু’টি রাঙা ঠোঁটে মনভোলানো হাসি
টোল পড়ে দুই গালে।
হুর-পরীরাও পাগলপারা মুগ্ধ ও রূপ দেখে
দিশেহারা আমি,
কোন্ মাটিতে সৃষ্টি তোমার কোন্ কারিগর সে কে?
জানেন জগৎ স্বামী।
নিজের হাতে নিজের গুণে পয়দা করে প্রভু
রূপ দিয়েছেন তব,
বিস্মিত হই মুখটা বোবা আসে না বাক কভু
তারিফে কী ক’ব?
তোমার তারিফ তুমিই শুধু নাই কিছু আর জানা
প্রেম দিয়েছে হানা,
কেমন করে বলবো তোমায় দাওনা প্রেমের দানা?
মন করেছে মানা।
আমার চোখে দু’চোখ রেখে দৃষ্টিতে দাও নয়ন
খুঁজে পাবে তুমি,
তোমার রূপের ঝলক লেগে ঝলসে গেছে এ মন
শূন্য বুকের ভূমি।
তুমি আমার জীবন মরণ স্বপ্ন চোখের তারায়
সুখের বসত’বাড়ি,
এই দেহেরই নিঃশ্বাস ও প্রাণ বেঁচে থাকার ধরায়
রক্তবাহী নাড়ি।
প্রেম-নগরের প্রেম-সাগরে তোমায় নিয়ে ঘুরি
একটা ছবি আঁকি,
তুমিই জীবন রঙিন ভুবন প্রথম প্রেমের কুঁড়ি
খাঁচার ময়না পাখি।
২৮।
তোমার ছবি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
তোমাকে যেদিন আমি প্রথম দেখি,
পড়েছি প্রেমে তব নয়কো মেকি।
গেঁথেছি মনের মাঝে তোমার ছবি,
লিখিয়া কাব্য তাই হয়েছি কবি।
চোখের তারায় কত স্বপ্ন হাসে,
মনের আকাশে দেখো উঠেছে রবি।
গেঁথেছি মনের মাঝে তোমার ছবি।
তুমি জান তুমি প্রাণ চাঁদ আকাশে,
আলোকিত এ ভুবন নয়নে ভাসে।
ফুলের বাগানে ওই ফুলেরা ফোটে,
নেচেগেয়ে হেলেদুলে ভ্রমর জোটে।
তোমার ছোঁয়াতে পাই স্বর্গ খুঁজে,
সুখ ঠিকানার পাই সুখের চাবি।
গেঁথেছি মনের মাঝে তোমার ছবি।
তুমি আশা ভালোবাসা কান্নার রোল,
হাসিতে কোমল দু’টি গালে পড়ে টোল।
জীবনের যত সুখ তোমাকে ঘিরে,
দরজা জানালা খোলা ফিরে এসো নীড়ে।
চিরদিন রানি করে রাখবো ঘরে,
যত প্রেম জমা হৃদে দেবো তা সবই।
গেঁথেছি মনের মাঝে তোমার ছবি।
২৯।
মিষ্টি মেয়ে
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ও মিষ্টি মেয়ে তোমায় দেখে
মন হারালো আজ,
এই পাগলা হাওয়া লাগলো গায়ে
ভাল্লাগে না কাজ।
হায় উদাসী মন তোমায় শুধু
কাছে পেতে চাই,
দু’নয়ন মেলে খুঁজি তোমায়
কোথাও নাহি পাই।
কোন্ গ্রামে বলো বসতবাড়ি
কোথায় তোমার ঘর,
কও বাবা মায়ের নাম কী তোমার
আর সহে না ত্বর?
মন আমার রাজি ডাকবো কাজী
যাবো তোমার গাঁও,
ও মিষ্টি মেয়ে কাজল চোখে
আমায় ফিরে চাও।
এই ছবির প্রেমে হঠাৎ থেমে
যায় জীবনের ক্ষণ,
নাই কিছু চাওয়া একটা পাওয়া
কন্যা তোমার মন।
৩০।
কল্পনায় তুমি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
তোমার রূপেতে সৃষ্টি জাহান
তোমার রূপেতে আমি,
পাগল হয়েছি তোমাকে দেখেই
সব’চে তুমিই দামি।
তোমার রূপেতে মুগ্ধ ভুবন
তোমাতে মিশেছে প্রাণ,
পরীর রাজ্যে পরীর মেলায়
পুষ্পমালার ঘ্রাণ।
হুর নও তুমি পরীও তো নও
তোমার উপমা তুমি,
স্বপ্নের ঘোরে তোমাকেই দেখি
গহীন নিশিথে ঘুমি।
তুমি তো আমার প্রাণ স্পন্দন
তুমিই আমার সুখ,
তোমাতে বিলীন একা তুমিহীন
নিত্য মলিনে মুখ।
সৃষ্টি হয়েছো আমার জন্য
তোমার জন্য আমি,
মহান প্রভুই সাক্ষী আছেন
আমিই তোমার স্বামী।
তুমিই ঘরের রানি,
আমার নয়ন’মণি।
৩১।
একডালা প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
কী দারুণ দেখতে!
মন চায় লিখতে,
নীল নীল দু’নয়ন
আত্মার গৃহায়ণ।
টানাটানা চোখ দুই
মন বলে কাছে থুই,
উঁচু উঁচু ওই নাক
মিষ্টি মধুর ডাক।
রেশমি মাথার কেশ
হাসিটা দারুণ বেশ!
কোমল দুইটি ঠোঁট
চাঁদের মতন পোট।
দৃষ্টি তো ফিরে না
তুমি মন আয়না,
কও কথা ময়না,
ঘরে মন রয়না।
আকাশের দেবো চাঁদ
নাই যাতে কোনো খাদ,
দেবো ফুল, ফুল-মালা
প্রেমপ্রীতি একডালা।
৩২।
বাসর সাজাও
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
পার হলো আজ বিশটি বছর
একুশে দেয় ডাক,
মনের মাঝে মন-ময়ূরী
দূর থেকে দেয় হাঁক।
বিয়ের লগন বাসর সাজাও
বন্ধুরা সব কই?
ঘোমটা দিয়ে আসবে বধূ
চারদিকে হৈ’চৈ ।
সাত বছরের প্রেম ফলাফল
পূর্ণতা পায় আজ,
বাজবে সানাই তাই তো জানাই
পরবো মাথায় তাজ।
বেনারসি অঙ্গে জড়ায়
টিকলি ললাট ‘পর,
আলতা রাঙা দুই পায়ে তার
সাজবে আমার তর।
টুকটুকে লাল অধর যুগল
মিষ্টি হাসির মুখ,
আমার জীবন সঙ্গী হবে
আসবে ঘরে সুখ।
৩৩।
বিবাগি মন
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
তোর প্রেমে আজ মগ্ন আমি
তাই বিবাগি মনটা মোর,
সঁপে দিলাম জীবনখানি
খোল প্রিয়া তোর মনের দোর।
তোকে নিয়ে স্বপ্ন চোখে
হাজার আশা এই মনে,
ভালোবাসার ঘর উঠাবো
তুই আর আমি দুইজনে।
থাকবো সেথা জনম জনম
আমরা দু’জন একসাথে,
বলবো কথা সঙ্গোপনে
পূর্ণিমার ওই চাঁদরাতে।
ভালোবাসার স্নিগ্ধ পরশ
আলতো প্রেমের একটু আঁচ,
চাঁদনি রাতের আলোকপাতে
দেখবো প্রিয়া তোর সে নাচ।
রাতের শেষে ডাকবে পাখি
কী সুমধুর তাদের শোর!
ঊষার আলোয় হাসবে রবি
আসবে নতুন রাঙা ভোর।
৩৪।
ভার্যা প্রিয় জায়া
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
আমার যত মনের আশা
ভার্যা প্রিয় জায়া,
অন্তরে তার ভালোবাসা
কল্পনাহীন মায়া।
আমার সকল স্বপ্ন পূরণ
তার কারণেই সবই,
রাতের বেলায় চন্দ্র তারা
দিনের বেলায় রবি।
দুই নয়নে ভাসে যখন
তার প্রিয় মুখ ছবি,
কাব্য লিখি ছন্দ তালে
সব লোকে কয় কবি।
তার কারণেই জন্ম আমার
বসতভিটা বাড়ি,
প্রেমেতে তার অন্ধ আমি
যাত্রাকালীন গাড়ি।
তার পরশে সুখ পেয়েছি
সুখের মালা গলে,
ভার্যা বিহীন হৃদয় কাঁদে
নয়ন ভরে জলে।
সুখের ভুবন গড়েছে সে
তাই আমি আজ সুখী,
আমার মনের গগনতলে
সেই তো চন্দ্র’মুখী।
৩৫।
মনের গহীনে তুমি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
বিদেশেতে থাকি আমি তুমি বহুদূর,
নিরালায় গানে গানে ডাকি সুরে সুর।
ঈদের টিকিট পেয়ে উতলা এ মন,
দেখা হবে কথা হবে ওগো প্রিয়জন!
কতদিন দেখিনি ও চাঁদ মাখা মুখ,
এবার দেখে তা ঈদে জুড়াবে এ বুক।
বলিবো মনের কথা যত আছে জমা,
কান পেতে শুনে নিও ওগো প্রিয়তমা!
বলি বলি করে কভু হয় নাকো বলা,
সমুখে যখন আসো মন আলাভোলা।
জমানো প্রেমের কথা লুকিয়ে তা রয়,
সবচেয়ে প্রিয় তবু কেন এতো ভয়?
ভয় নয় প্রেম জমা, জমে থাকে লাজ,
কী করে বলি যে তাহা অপরূপ সাজ?
মনের কথাটা রয় মনের আড়ালে,
মন’টাকে বলি মন কী যে হারালে?
না বলা মনের কথা বুঝে নিও তুমি,
সরিয়ে আঁচল ওই গাল দুটো চুমি।
অধরে কাঁপন ওঠে না বলা সে ভাষা,
তুমি ছাড়া বাঁচা দায় ইহা ভালোবাসা।
মনের গহীনে তুমি থাকো সদা ক্ষণ,
সবচেয়ে প্রিয় আর সবচেয়ে আপন।
মিশে আছো এ দেহের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে,
অনুভবে চেয়ে দেখি আকাশের চন্দ্রে।
৩৬।
বিয়ান তোমায় নিমন্ত্রণ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
আসসালামু আলাইকুম ও
প্রাণের প্রিয় বিয়ান সাব!
আমার বাড়ি যাইয়ো তুমি
খাইতে দেবো কাঞ্চা ডাব।
মরার মাথা গাছেরই বেল
কালো কালো পাক্কা জাম,
তাল ও তরমুজ আমড়া আরও
বাগান ভরা মিষ্টি আম।
বেনারসি শাড়ি দেবো
দেবো হাতের ওই চুড়ি,
নীল আকাশে উড়িয়ে দেবো
সাত রঙেরই মন ঘুড়ি।
বিনি সুতার মালা দেবো
রেশমি কালো খোঁপার ফুল,
দখিন বায়ে ভাঙবে তোমার
বেনি গাঁথা মাথার চুল।
আসবে উড়ে ভ্রমর কলি
পাখনাতে তার দিয়ে ভর,
মনটা উদাস তাই তো আমার
বিয়ান শুধুই তোমার তর।
মনের মাঝে বইছে দেখো
পাগলা হাওয়া মাতাল ঝড়,
একশো ডিগ্রি পার হয়েছে
অবুঝ মনের প্রেমের জ্বর।
আগামী দিন শুক্রবারে
আমার বাড়ির নিমন্ত্রণ,
রঙিন খামে চিঠির ভেতর
দিলাম বিয়ান আমন্ত্রণ।
রাইখো না আর মান অভিমান
তোমার জন্য দোর খোলা,
মিষ্টি হেসে আইসো তুমি
তোমাতে এই মন ভোলা।
৩৭।
প্রাণের বিবির বায়না
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
গিন্নি বলে প্রিয়তম
ঈদ কতদিন বাকি!
গত ঈদের মতোই এবার
দিবা নাকি ফাঁকি?
গেলো বছর দাওনি কিনে
ঈদের গয়না শাড়ি,
এবার যদি না দাও আমায়
তোমার সাথে আড়ি।
তুমি আমার প্রাণের স্বামী
নাইকো তোমার জুড়ি,
আলতা নেবো ফিতা নেবো
নেবো হাতের চুড়ি।
দুই কানে দুল গলারই হার
হীরার নাকের নোলক,
রেশমি কালো চুলের খোঁপা
পড়বে নাকো পলক।
আত্মহারা খুশিতে বর
নয় প্রিয়া খুব দামি,
আর ক’টা দিন মাসের বাকি
পাইনি বেতন আমি।
তুমি তো নুর নুরের আলো
এই হৃদয়ের আয়না,
রাগ করো না বেতন হলেই
করবো পূরণ বায়না।
৩৮।
অবুঝ প্রেমের ইতি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
প্রেমের বাণে আঘাত হানে
অস্তমিত রবি,
বয় না পবন হয় না ভবন
তিমির যেনো সবি।
চোখের জলে জীবন গলে
ভাসে তোমার ছবি,
এ প্রেম শিখে কাব্য লিখে
আজকে হলাম কবি।
তুমি বিহীন দুখ সীমাহীন
তুমিই মনের ভাব্য,
একাই থাকি তোমায় ডাকি
লিখি হাজার কাব্য।
নাইকো সাথী রাতের বাতি
একলা আঁধার ঘরে,
তোমার জন্য হৃদয় শূন্য
দুই চোখে নীর ঝরে।
যায় না ভোলা দুনিয়া ঘোলা
বাল্যপ্রেমের স্মৃতি,
সুখের নিধন ধ্বংস জীবন
অবুঝ প্রেমের ইতি!
৩৯।
প্রেমের শোধন
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
এসো একই সাথ
রাখি হাতে হাত
আমরা দু’জন মিলে এক সাথে থাকবো,
দু’জন দু’জনকেই শুধু ভালো বাসবো।
বাধা যত থাক
যে যা বলে যাক
শুনবো না কারো কথা ছাড়বো না হাত,
আমাদের প্রেমে হবে ওরা কুপোকাত।
প্রেম প্রেম খেল্
নাই কারো বেল
দু’জনে দু’জনকেই দিয়েছি দু’মন,
পারবে না থামাতে কোনো দুশমন।
অটুটে বাঁধন
প্রীতির সাধন
যুগে যুগে হয়েছে যে প্রেমের বিজয়,
হয়নি কখনো ক্ষয় ইতিহাস কয়।
যদিও মরণ
করে গো স্মরণ
সামনে দাঁড়াবো তারে বারণে রোধন,
এ জীবন দানে প্রেম করবো শোধন।
৪০।
অভাব
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
অভাব কী তা কেউ কি জানে ?
জানি আমি, জানে মনে
সংসারে মা, বৌ-পুত ছিলো
দুখ সাগরের ঢেউ,
কেউ ছিলো না ইনকামেতে
দুঃখ ছিলো তিন মনেতে
কষ্টে তাদের কাটতো জীবন
জানতো না যে কেউ।
দিনের শেষে কোনো মতে
উঠতো হাঁড়ি উনুনেতে
চুলা জ্বালার একটি কাঠি
থাকতো না যে কভু,
পানতা ভাতে মরিচ গুলে
খেতো মা, বৌ-ছেলে মিলে
অনাহারে থাকতো আবার
পানি খেয়েও শুধু।
নববধূ রাঁধার তরে
একটি কাঠি নষ্ট করে
ম্যাচের মধ্যে ছিলো শুধু
একটি মাত্র কাঠি,
এই অভাবের তাড়নাতে
দেয় বকা বর বধূটাকে
কেমন করে রাঁধবে এবার
করলে তুমি এ কী!
বৌ কেঁদে যায় চুপিসারে
টলোমলো অশ্রু ঝরে
কষ্ট বুকে মা’য়ে বলে
চুপরে খোকা বাবু ,
অভাব নেমে এসেছে যা
ঐ বিধাতা দিয়েছে তা
দুখের পরে সুখটা দিবে
আবার পুনঃ প্রভু।
৪১।
তোমার লাগি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
যতো করো ঘৃণা তুমি ভালোবাসি তবো,
স্মৃতি হয়ে মণিকোঠে চিরদিনই রবো।
প্রভু দ্বারে তুলে দুটি হাত পেতে আমি,
দোয়া করে বলে যাবো সুখে রেখো স্বামী।
প্রিয়া মোরে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো দূরে,
একা একা খুঁজি তারে হয়ে ভব’ঘুরে।
সুখে রবো ভেবে আমি আশা বাঁধি বুকে,
সুখগুলো চলে গেলো মরি ধুঁকে ধুঁকে।
মনে আশা নিয়ে কতো বেঁধে গেছি ঘর,
প্রাণপাখি ফাঁকি দিয়ে হয়ে গেলো পর।
বাঁধা ঘরে কোথা থেকে এলো এক ঝড়,
নিয়ে গেলো ভেঙে চুরে ঘরে বাঁধা খড়।
আঁখি জলে কেঁদে যাবো আর কতো বলো,
চোখভরা নোনা জলে করে টলো-মলো।
ভালোবেসে ভুল করে পেয়ে গেছি জ্বালা,
প্রেম বিষে জ্বলে জ্বলে মুখ হলো কালা।
ভালোবেসে ধরাধামে দোষী হয়ে আজি,
শুধু শুধু বোকা বনে গেছি ধরে বাজি।
প্রভু দ্বারে দোয়া করি আজো তব লাগি,
ফুলে ফুলে ভরে রেখো প্রিয়া ফুল বাগি।
৪২।
প্রেমের আলাপ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
চন্দ্রিমা রাতে আজ দু’জন এক সাথে,
হাতে হাত রেখে, চলবো পথে ;
ভালোবাসা সীমাহীন , তুমি আমি চিরদিন
সুখে দুখে রইবো একই সাথে ।
এসো এসো কাছে, এ বুকের মাঝে,
ভালোবেসে রাখবো মণিকোঠে ,
দেবো না হারাতে কভু যে তোমাকে
প্রেমাদরে বাহু ডোরে রাখবো বেঁধে ।
আকাশের পাখিদ্বয়, পাখা মেলে উড়ে যায়,
চন্দ্রিমা রাতে চাঁদ জোছনা ছড়ায়,
তুমি আমি দু’জনায় সাগরের মোহনায়
হারিয়ে যাবো এক দূর অজানায় ।
আকাশের নীলিমায় প্রেমালাপে দুজনায়
কাটিয়ে দেবো রাখো হাত ‘পরে হাত,
নিশি শেষ হয়ে যাবে সূর্যটা জেগে যাবে
শেষ হবে না তবু এই মধু রাত।
৪৩।
রূপসী কন্যা
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ও রূপসী কন্যা তুমি
সাইকেলে যাও কই ?
অবাক নয়ন বিস্মিত হই
পথের পানে রই।
নীল গগনে চেয়ে দেখো
উড়ছে পাখি ওই,
পেছন থেকে মুগ্ধ হয়ে
ডাকছে তোমার সই।
তোমার মাথার এলোকেশে
বাতাসে খায় দোল,
প্রেম জেগেছে মনের ভেতর
বাজে খুশির রোল।
দেখলে তোমায় হার মেনে যায়
জ্যোৎস্না রাতের চাঁদ,
মেঘ আড়ালে লুকায় গিয়ে
নেই তোমাতে খাদ।
চিরল দাঁতের মিষ্টি হাসি
ঠোঁটে ফোটে ফুল,
হঠাৎ দেখে দিশেহারা
পাই না খুঁজে কূল।
কোন্ ঠিকানায় বাস যে তোমার
কোথায় বলো ঘর ,
একলা ভাবি ক্যামনে বলি
মনে লাগে ডর ?
ও রূপসী কন্যা তুমি
বাড়াও দু’টি হাত,
সুখে দুখে সারাজীবন
থাকবো একই সাথ।
৪৪।
প্রেমের মরণ
মো: ইব্রাহিম হোসেন
প্রেম করিলে মরণ হবে
মরার আগে জেনো,
ও ছেলেরা ও মেয়েরা
এই কথাটা মেনো।
প্রেম হলো যে যন্ত্রণা ও
ভবের মৃত্যু খেলা,
কাটে না দিন কাটে না রাত
না কাটে আর বেলা।
এমন জ্বালা জ্বলে মনে
কেউ না দেখে তাহা,
ভুল করে’ও কেউ বলে না
কষ্ট দেখে আহা !
অপবাদ আর লাঞ্ছনাতে
যায় কেটে সব প্রহর,
বাঁচতে না আর ইচ্ছে করে
চায় খেতে যে জহর।
প্রেমের জ্বালা যায় না বলা
এই সমাজের কাছে,
স্মৃতিগুলো সামনে ভাসে
ডানে বামে পাছে।
চতুর্দিকে কাঁটার বেড়া
রক্তক্ষরণ বুকে,
একলা কেঁদে বালিশ ভিজে
মরণ ধুঁকে ধুঁকে।
৪৫।
নয়ন তারায় তুমি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ভাল্লাগে না কোনো কিছুই
তোমায় শুধু খুঁজি,
এই হৃদয়ের ফুলদানিতে
বসত করো বুঝি।
যেদিকে চাই,সেদিকে পাই
চোখের তারায় ভাসো,
দু’হাত বাড়াই ভালোবেসে
প্রিয়া কাছে আসো।
আমরা দু’জন প্রেমের সুজন
বাঁধবো সুখের বাসা,
তোমার আমার পূরণ হবে
মনের যত আশা।
সুখ পবনে নাও বেয়ে যে
ভাসবো সুখের বানে,
উদাসী মন পাখনা মেলে
মাতবে মধুর গানে।
রাতে উঠে চন্দ্র তারা
ভোর বেলাতে রবি,
নয়ন মাঝে আঁকি শুধু
তোমার মুখের ছবি।
স্বপ্ন দেখি তোমায় নিয়ে
ওই ললাটে চুমি,
জীবন মরণ প্রেমের সাধন
নয়ন তারায় তুমি।
৪৬।
রূপে ভরা বিষ
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
চারিদিকে রূপের বাহার
কত ঢঙের মানুষ !
স্বার্থান্বেষী ভোগ পিপাসী
উড়ায় রঙের ফানুস।
রূপ দেখে তো যায় না চেনা
মন্দ ভালো কালো,
কালোর মাঝেও থাকে জেনো
জগৎ জুড়ে আলো।
দেখতে লাগে চাঁদের মতো
কয়লার কালি মনে,
হিংস্র থেকেও হিংস্র প্রাণী
দ্বন্দ্ব সর্ব’ক্ষণে।
মুখের বাণী মিষ্টি মধুর
গাছ কেটে দেয় পানি,
মানবরূপী দানব ওরা
জীবন করে হানি।
রূপ দেখে ভাই মইজো না কেউ
আনবে দুখের ঘানি,
শতেক মাঝে একটা ভালো
তাও তো আবার জানি।
যার অন্তর হয় কয়লার খনি
কালার থেকেও কালা,
কালনাগিনী কালসাপ সে যে
অন্তরে বিষ ঢালা।
৪৭।
ন্যাংড়া পরীর প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ঢোলক বাজে বাজনা বাজে
মঙ্গলবারের রাতে,
ভূত ও পেত্নীর যাচ্ছে বিয়ে
বরযাত্রীরা সাথে।
গভীর নিশি চন্দ্রালোকে
গা যে ছমছম করে,
ঘরের বাইরে যাস’নে কেহ
মন যে কাঁপে ডরে।
নাচন কুঁদন রং তামাশা
হোলির খেলা খেলে,
লাল পরী ও নীল পরীরাও
উড়ে পাখনা মেলে।
চুপটি করে বামন ছেলে
উঁকি মেরে চেয়ে,
খুব রূপসী ন্যাংড়া পরী
দেখে একটি মেয়ে।
দৌড়ে গিয়ে চাপটে ধরে
ভালোবাসি বলে,
ন্যাংড়া পরীর মানব প্রেমে
মন’টা গেলো গলে।
৪৮।
কোমল ছোঁয়া
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
হাজার বছর বেঁচে থাকো
এই তো করি দোয়া,
মন ভরে যায় পেলে তোমার
একটু কোমল ছোঁয়া।।
চোখের আড়াল হলে দেখি
আঁধার কালো ধোঁয়া,
মন ভরে যায় পেলে তোমার
একটু কোমল ছোঁয়া।।
মন আকাশের চন্দ্র তুমি
ফুল বাগানের কলি,
দেখলে তোমার মুখের হাসি
গান ধরে যায় অলি।
তোমার প্রেমে পথ দেখালো
সত্য পথে চলি,
সাহস বেঁধে বুকের মাঝে
মিথ্যা পায়ে ডলি।
তুমি বিনে এই ভুবনে
জীবন যাবে খোয়া,
মন ভরে যায় পেলে তোমার
একটু কোমল ছোঁয়া।
পাখির ডাকে সূর্য উঠে
তোমার ডাকে আমি,
ধন্য হলো জীবন আমার
হলাম তোমার স্বামী।
সোনা-দানা, হীরা-পান্না
সবার থেকে দামি,
দয়া করে দিলেন আমায়
ঐনা অন্তর্যামী।
সারাজীবন করবো আমি
দু’হাত তুলে দোয়া,
চাই না কিছু এই জীবনে
দিও প্রেমের ছোঁয়া।
মন ভরে যায় পেলে তোমার
একটু কোমল ছোঁয়া।। ঐ
৪৯।
তোমার আমার প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ময়না পাখি প্রাণের সখী
আমায় চেয়ে দেখো,
চিরদিনই তোমার মনে
যতন করে রেখো।
তুমি ছাড়া কে আর আছে
এই জীবনে বলো?
মান অভিমান দূরে রেখে
আমার সাথে চলো।
বর সেজে আজ করবো বিয়ে
কথা দিলাম পাকা,
রেল লাইনের ট্রেনের মতো
ঘুরবে প্রেমের চাকা।
ভুবন জুড়ে তুমি আমি
রইবো সুখে দুখে,
কটু কথা বলবো নাকো
কোনোদিন’ও মুখে।
তোমার আমার প্রেম কাহিনী
ভুবনে সব কইবে,
স্মৃতির পাতায় যুগে যুগে
অমর হয়ে রইবে।
৫০।
কপটিনী
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রূপ দেখিয়ে মিথ্যা প্রেমে
ভাঙছো নরের মন,
কপটিনী কন্যা তোমার
নেইকো প্রয়োজন।
ইটিং ফিটিং চিটিংবাজি
করছো নরের সাথ,
আড্ডাবাজি করে কাটাও
গভীর নিশি রাত।
তোমার ধ্যানে পাগলপারা
লুচ্চা প্রেমিক দল,
সর্বলুটে অবশেষে
ঝরাও চোখের জল।
যন্ত্রণাতে জ্বলে পুড়ে
ফেলো ফাঁদের জাল
উভয়েরই হয় যে তখন
কঠিন নাকাল হাল।
কেউবা করে আত্ম হনন
কেউ দেয় গলায় ফাঁস,
তোমরা দুয়েই অপরাধী
দেখাও কেনো ত্রাস?
৫১।
তুমি আমার ভালোবাসা
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
পৃথিবীর যত সুখ দেবো আমি তোমাকে,
ভালোবেসে রেখো ধরে প্রিয়া তুমি আমাকে।
দুটি আঁখি জুড়ে আছো সদা ভালোবাসাতে,
এই মনে বাঁধে বাসা তোমার’ই আশাতে।
চাওয়া পাওয়া নাই কিছু আমার এ জীবনে,
তোমাকেই পেলে কাছে সব পাওয়া ভুবনে।
রাত জেগে কবি হয়ে লিখি কত কবিতা !
সারাক্ষণ পাশে রবে ভাবি এই ভবিতা।
সুখে দুখে রবো মোরা ভেসে যাবো আকাশে,
আমাদের এ কাহিনী উড়িবে যে বাতাসে।
তুমি আমি দুইজনে হবো রাজা ও রানি,
ঝরে যদি আঁখি বারি মুছে দেবো সে পানি।
কভু যদি আসে ধেয়ে ঘর ভাঙনের’ই ঝড়,
প্রেমডোরে বাঁধিবো যে হবো না তবু পর।
জেনে রেখো প্রিয়া তুমি জান-প্রাণ আমার,
চিরদিন আমি তোমা প্রেম-পথে গামার।
প্রভু দ্বারে মিনতিতে চাই শুধু তোমায়,
ভেবে ভেবে নিশি রাতে নিরালাতে ঘুমাই।
তুমি আশা ভালোবাসা স্বপ্ন আমার সুখ,
দুঃখগুলো ভুলে থাকি দেখে তোমার মুখ।
৫২।
চাঁদের দেশে বাঁধবো বাড়ি
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
ফুলের ঘ্রাণে মধুর টানে
ভ্রমর ছুটে বাগে,
তোমায় নিয়ে ইচ্ছে শত
মনের মাঝে জাগে।
আকাশ ভরা তারার মেলা
চন্দ্র মামা হাসে,
দুঃখ যত সব’ই দূরে
সুখ পাখিরা আসে।
দু’জন মিলে প্রেম সাধনা
করবো বারো মাসে,
প্রেমের মালা পরবো গলে
থাকবে তুমি পাশে।
চাঁদের দেশে বাঁধবো বাড়ি
বাঁধবো সুখে ঘর,
আজকে আমি কথা দিলাম
হবো না আর পর।
জোড়-ঝামেলা থাকবে নাকো
হয়ে প্রেমের বাধা,
সফল হবো আমরা দু’য়ে
পূর্ণ হবে সাধা।
৫৩।
প্রাণের প্রিয়
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
কেমন আছো কোথায় আছো
এমন শুভ দিনে?
একটু আমার কাটে না ক্ষণ
শুধুই তুমি বিনে।
আমায় রেখে করছো তুমি
কার সাথে গো আলাপ,
আমার কাছে আসো তুমি
ছেড়ে ও সব প্রলাপ।
ছোট্ট তুমি শিশু নাকি
কিছুই বুঝো নাকো,?
ডাকো ডাকো গানের সুরে
তোমার কাছে ডাকো।
হাত দুখানি বাড়িয়েছি যে
কাছে এসে ধরো,
মিষ্টি কোমল হাতের ছোঁয়ায়
একটু আদর করো।
চাই না কিছু আর ভুবনে
ভালোবাসা দিও,
বিনিময়ে চাও যদি গো
প্রাণটা তুমি নিও।
৫৪।
সর্বহারা প্রেম
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
নিরানব্বই তে’যে হলো
প্রেমের গল্প শেষে,
কষ্টে শুরু হলো এখন
কর্মজীবন বেশে।
ভালোবাসার ভুবন ভবে
হয় না সুখের কভু,
কষ্টে কেঁদে জীবন কাটে
সাক্ষী শুধু প্রভু।
আর্তনাদে এ বুক ফাটে
কষ্ট হাহা’কারে,
উপহাসের অবহেলায়
জীবন ছারে’খারে ।
সত্যিকারের প্রেমই হলো
জীবন মরণ নাশে,
কষ্ট নিয়ে কেউ যে বাঁচে
কেউ বা আবার ফাঁসে।
ভুলতে গেলে যায় না ভোলা
আজও কভু তারে,
থেকে থেকে মাধ্য রাতে
কাঁদায় এসে ধারে।
প্রেমই স্বর্গ, প্রেমই নরক
প্রেমই জীবন সারা,
প্রেমেই গড়ে সুখের জীবন
প্রেমেই সর্ব’হারা ।