প্রাণের প্রিয় সহধর্মিণী
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
রচনাঃ ২৯-১১-২০২৪ ইং
হে প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণী,
আলহামদুলিল্লাহ। সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ তা’য়ালার জন্য, যিনি আমাকে তোমার মতো একজন সুন্দরী, রূপবতী, গুণবতী নারীকে শুধু আমার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং আমার করে দিয়েছেন। আমি তোমার মতোই একজন মেয়েকে আমার আমার এ জীবনে চিরসাথী হিসেবে চেয়েছিলাম মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে।
আলহামদুলিল্লাহ – আমি তা পেয়েছি। আল্লাহ তা কবুল করেছেন।
তোমাকে পেয়ে সত্যি আমি ধন্য, তোমাকে পেয়ে আমি পূর্ণ। তুমি আমার আশা, এ মনের ভাষা, বুকভরা ভালোবাসা।
আমার জীবনের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ, আনন্দ-উল্লাস সব তোমাকেই ঘিরে,
তোমার বিচরণ আমার এ বুকের মধ্য নীড়ে।
আমার জীবনের যা কিছু অর্জন সবই তোমার অবদান, হে প্রিয় জান!
তোমার নামেই হোক এ জীবন কোরবান।
দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে আমি তোমার আচার-আচরণে অত্যন্ত আনন্দিত, আপ্লুত ও অভিভূত!
আমি যেখানেই থাকি, তোমাকে স্মরণ করি আর একা একা মনে মনে হাসি।
বিশেষ করে তোমার অগোচরে বাইরে কোথাও খাওয়ার সময় তোমার নামটা মনের অজান্তেই চলে আসে। অটোমেটিক যেন নুরমহল নামটাই জপ করে আমার অবুঝ মন। আর তোমার স্মৃতি চোখের তারায় ভাসে, অনুভবে তুমিই আশেপাশে।
মনে হয় তুমি আমি পাশাপাশি থাকলে এত সুন্দর খাবারগুলো একসাথে দু’জনে বসে ভাগাভাগি করে খেতাম। কত জাই না হত !
তাছাড়া তুমি তো জানো,
আমি ঘুমের ঘোরে বিছানায় শুয়ে শুয়েও তোমার নামটাই সজোরে ডাকতে থাকি।
অনেক সময় তুমি বিরক্ত হও।
সকাল বেলায় তুমি কাজে ব্যস্ত থাকো।
তোমারই ছেলে তোমাকে ডেকে বলে আর হাসে
আম্মু, আম্মু! আব্বু তোমাকে ডাকছে নুরমহল, নুরমহল বলে। তুমিও মুচকি মুচকি হাসো।
এ কথা তো তুমিই বলেছো আমায়।
তুমি আমার স্ত্রী, আমার মায়ের যেভাবে সেবাশুশ্রূষা করে বিদায় দিয়েছো। আর অন্য কোনো নারী শ্বাশুড়ির এভাবে সেবাশুশ্রূষা করবে বলে আমার মনে হয় না।
আমার মনে হয় তোমার গর্ভধারিণী মায়েরও তেমনভাবে সেবাশুশ্রূষা করবা না।
তাহলে তো আমি তোমাকে আমার ভালো স্ত্রী বলতেই পারি।
বলতেই পারি এমন মেয়ে স্ত্রী হিসেবে সবার ভাগ্যে জোটে না।
সত্যি আমি লাকি এবং ভাগ্যবান তোমার মতো একজন স্ত্রীকে আপন করে চিরসঙ্গিনী হিসেবে কাছে পেয়ে।
আমার জন্য না হোক, আমার মায়ের জন্য হলেও তো বটে। যিনি আমার জান্নাত, পরকালের নাজাত।
আমি তোমাকে এই দুনিয়ায় সার্টিফিকেট দিয়ে দিলাম, তুমি আমার সবচাইতে ভালো স্ত্রী।
তোমার কোনো তুলনা হয় না।
তোমার তুলনা তুমি নিজেই।
আল্লাহ তোমাকে নেক হায়াত দান করুন এবং পরকালে জান্নাত দান করুন।
আর সেই জান্নাতের মধ্যেই যেন আমি আবার তোমার পাশেই স্থান পাই।
আমার মৃত্যু যেন তোমার সাথেই হয়।
এই তো আমার শেষ চাওয়া, আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই।
তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো।
তুমি আমার সুখ-শান্তি, আরাম,
তুমিহীন এ দুনিয়াটাই যেন জাহান্নাম!
তুমি আমার সবচাইতে ভালো স্ত্রী।
আজ পবিত্র জুমআ’র দিনে আমি তোমাকে এই সার্টিফিকেট দিলাম।
ইতিঃ
বৌ পাগল এক স্বামী
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন
তারিখঃ ২৯-১১-২০২৪ ইং, শুক্রবার।