পারি নি বাঁচাতে

1
65

দিন ছয় – সাতেক আগে কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পথে তোমায় দেখলাম। দেখলাম তিন – চারজন বাচ্চারা মিলে তোমায় নিজেদের আরবি বই দ্বারা বাতাস করছে। আর তুমি! তুমি কি একটা প্রকট যন্ত্রণায় ভুগছ এবং মানুষের ভয়েও এদিক ওদিক যাবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছ।।। কিন্তু যন্ত্রণার কারনে তা আর সম্ভবও হচ্ছে না।।
আমি অপলক দৃষ্টিকোণে তাকিয়ে রইলাম তোমার পানে। এও দাঁড়িয়ে দেখলাম যে, সেই বাচ্চারা বাদে কেউ এগিয়ে এলো না তোমার যন্ত্রণাটাকে ঘুচাতে, ভাগাভাগি করে নিতে?
অনেকক্ষণ দাঁড়াবার পর দুজনকে দেখলাম তোমার কাছে আসতে। তারা কিছু বুঝতে না পেরে তোমায় পানি খাওয়াতে লাগল, মাথায় ঠালতে লাগল। তুমি আরও ভয়ে, ঠান্ডায় ছটফট করতে লাগলে। আরেক জন এসে বলল: ” ঠান্ডা লাগবে। আর পানি দিও না।” এই বলে তিনজন খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে চলে গেল।
কিন্তু বাচ্চারা? তারা আবার চেষ্টা করছে তোমার যন্ত্রণাটাকে কমাতে। ছুটে পত্রিকা নিয়ে এসে তোমায় বাতাস করছে। তুমি আবারও ভয় ছটফট করছ দেখে আমি বললাম : ” তোমরা আর বাতাস দিও না। ও ভয় পাচ্ছে। তোমারা ওর জন‍্য দোয়া কর। ঠিক হয়ে যাবে। তোমরা চিন্তা করো না। ” এক বাচ্চা এ কথাগুলো শুনে বলে উঠল : ” ঐ যে বড় গাড়িটা ( মাইক্রো ) দেখছ। ঐ রকম একটা গাড়ি ওর গলার উপর দিয়ে চলে গেল, আপু। চলে গেল। ” আমি নির্বাক হয়ে, বাচ্চাদের শান্তনা দিয়ে চলে আসলাম।
তারপর থেকে ঐ রাস্তা দিয়েই আমার কলেজের আনাগোনা হয়। দেখতে পাই, তাকে সেখানকার লোকেরা ল‍েপ দিয়েছে, দিয়েছে খেতে খাবারও।
আজ সকালেও দেখলাম, কোনো পরিবর্তন না আসলেও শ্বাস চলছে বলে মনে হলো। কিন্তু কলেজ থেকে বাসায় আসবার পথে মনে হলো শরীরের চারিদিকে মাছি ঘিরে ভনভন করছে। ভালো করে লক্ষ্য করে বুঝলাম যে, সে আর আমাদের মাঝে নেই।………………….

এভাবে হাজারো প্রাণীকে ভুগতে ভুগতে এই অমানবিক ড্রাইভারদের কারণে।। আর কবে বদলাবো আমরা?

পরিশেষে এটুকুই বলতে চাই,

সময় এসেছে বদলাতে দেশ
গড়তে সোনার বাংলাদেশ।
প্রয়োজনে হব বিদ্রোহী কবি
ফাহাদের মতো লিখব বেশ।

1 মন্তব্য

  1. আগেকার ড্রাইভাররা শখের বসে গাড়ি চালতো..
    আর এখনকার ড্রাইভাররা পেটের দায়ে গাড়ি চালায়..
    ফলে অদক্ষ ড্রাইভারদের বলির শিকার হয় অনেক মানুষ..