পচা হৃদের পাশে অশ্বথ বৃক্ষ(কাব্যগ্রন্থ)-হিমেল কবি

0
2

কাব্যগ্রন্থ:-“পচা হৃদের পাশে অশ্বথ বৃক্ষ”
মোট কবিতা~০৬ টি
রচনা:-২০১৬(হিমেল কবি)
উৎসর্গ:-প্রেমের পৃথীবি©

১.পচা হৃদের পাশে অশ্বথ বৃক্ষ(নাম কবিতা)

রুপসার ঘোলা জল
কুলীকের কাঁদা
তিতাসের বালিঘাটে
দুবলার মষিবাটে
দেখেছি-
তারোকা হাসে
নিশিথে
চাদোয়া রাতে,
নেই যবে কেহ-
শুন্য খেলা গেহ
পাতাল ফুরে জাগে
নব সৃষ্টির আশ,
হেথায় ঐশ্বর্যের বাণ
অতৃপ্ত আপনার মন
ক্ষান্ত করহ তারে
গিয়া শুকুনতলায়।

শীতের কাফন পরে
শরৎ কন্যাগন-
ঝোপের মিষ্টি গন্ধে
বিষাদের ডোবা,
কেউ সেজেছে কি?
দিয়াছে-
সৌন্দর্যের ফরমান!
বাধো তারে
প্রেমো বেণী দিয়া।

বাধো স্পর্শহীন প্রাণ
তার তরে যুগপথে
এ মহাবিচরন-
দেখি নাই
খুঁজি নি তারে
শুকুনি ঘ্রাণ,
ডাকো তারে-
ডাকো এই নিখিলের বাসে
যৌবন ভরা আমাবস্যায় এ
প্রথম চাদোয়া রাত।
বসে আছি-
একাকিতমকে
পচা হৃদের পাশে
অচেনা,অজনা,হয়তো
চিরচেনা কোনো
অশ্বথের মুলে।

২.পচা হৃদের পাশে:-

তোমরা হৃদের পাশে শুয়ে আছো
আমি ভস্ম উপত্যকায় খুঁজি
তোমরা পেয়েছো চাঁদের আবাস
আমি মৃতের পাশে বসে গনি
শঙ্খধ্বনি,
তোমরা স্বর্গের চেয়ে বেশি
স্বর্গসুখের কর আশ
আমি হেথা বসে নিরালায়
করি ব্যার্থ প্রেমের পুঃন
অভিলাষ।

ভীমরতি-
অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও ছিনিয়া আনি
বসন্ত ডালা,
চাদের চকোর হতি
মিথিলার মালা
দিনেকের দিন শেষে
নতুন সুরুয ওঠে পুবে
আপনার নাহি কেহ
কে রহিবে শমনের পাশে?

বসন্ত ডালা হাতে-
মোর
রাত্তিরে যবে মাতিবে
বিনাশ লীলা
অবলীলায়-
শতকের দীপ্ত প্রভাতি
ঝুঝিবে কালের সাথে

তোমরা শুয়ে থেকো-
শুয়ে থেকো পচা হৃদের পাশে।

তীব্র গন্ধের ঝাঝালো রঙে
নাক ডুবে কুলঙ্গার
যৌবনের নেশা করি পান
পোড়ামাটি ঘরে কেউ
অপমান!
রথের যাত্রায় সেজেছো
রমণী,এ কেমন সাজ
ধরত্রীর বুকে এঁটে দিলে
প্রথম প্রেমো খন্জন
অপবাদ!
প্রেম প্রণয়ের সাধ,মিটাও
তৃষ্ষা ক্ষুধা মনের আশ
রথের সারথী ফেলি কবি
শশ্মানেই যাই মরে
জ্বালাও!
তোমরা শুয়ে থেকো পচা হৃদের পাশে।

বর বিচিত্র এই ক্ষণ-

আপনার হৃদয় কম্পিতো
দুয়ারে দাড়ায়ে যম
রাসলীলা!
নাকি উৎসব,
যেন প্রথম নারীর ছুঁয়া
ভাঙ্গিছে-
বক্ষ পিন্জর।

ধীর হও,ধীর হও,ধীর
আরো ধীর-

হে নব শুকুনতলার
যাত্রী-
শুন্যে লুঠিবে চির,

পন্চ পান্ডব সুস্থিত
সুস্থিত যেন ধমণীর
বিচিত্র গমন,
চন্দ্র রশ্মি পতিত
আপনার মুখে-
বহিছে মরি মরি
অনাহুত পবন।

আপনার হৃদয় না হাসিছে
না কাঁদিছে
কাহারো আত্মা যেন ব্যাথিত
শুন্যে ফিরিয়া-
ক্ষত-বিক্ষত,
হয় এখনি
নয়তো ক’খনো না
চাইলে-
গোটা পৃথীবিটাকে
করতে পারে
আক্রান্ত।

৩.আমাবস্যার চাঁদকে ছুঁয়ে:-

আমাবস্যার চাঁদকে ছুঁয়ে
নক্ষত্র ধরি এই হাতে-
লুঠায়ে পড়ি, মুদিয়া আপন
রিক্ত নয়ন নীড়।
অসুরের ন্যায় তুফান গর্জন
তুলি বীর
পরাজিত রাতে-
সঙ্গমকালীন স্বয়ং অগ্নিকে
ছুঁয়
স্থির অনস্থির ধীরে-
গলিত পাথরে গড়ি
প্রাসাদের ভিত
এই হাতে।

এই হাত
তুলি নতুন হাতে-

নতুন নতুন বাধিতে জীবন,
এই হাতে রেখে
দু হাত,ঘুরেছি অগ্নিসাক্ষি রেখে
সাত পাক!

এই হাতের স্পর্শে
কেউ অমলিন
চন্দনকাষ্ঠে করি
দগ্ধ তারে,
না আসিলে সুখের রথ
বিফল এ
সিত ঐশ্বর্যবান
কাশীদেশ।

কিছু বৈশাদৃশ্য রাতে
তপ্ত অনল বয় সমীরের বেশে
আমাবস্যার চাঁদকে
ছুঁয়ে অমর প্রেমিক-
নক্ষত্রপিন্ড ধরি
এই হাতে।

৪.আজি এই ভূমিতে:-

আজি এই ভূমিতে
উলঙ্গ কৃষকের বাস
যেথা ছিলো মোর
রাজ আলয়
দত্যনা সুরোংকিত
পরাভৃতদের বাস
কোথা হতে এলে ওরে
ঝুটি-বাধা মালি?
হেথায় সিত ঐশ্বর্য
শমনের বাস
বঙ্গীয় কমোল
কঁচি কাঁচাদের আবাস
দিয়ে যাও দৈব্যের
বিসাদৃশ্য বাণি।

কিছু তার মানি
নাইবা মানি
যঁইতি সে রহিবে
মোর পাশে
রহিবে কৃষ্নকালো চাঁদ
রঙিন লেবাসে।
কে আসে
কে আসে পারে
দেখি তারে দেখি
দু নয়নে মেলি
ফুটেছে কি
চৈতালি ফুল
দক্ষিণা সমীরের
বিভ্রান্তিক আলোকে
কেন হে ভ্রমর বিংবা
অধীর আকুল।

কেন অশ্বথের শাখে
দাড়ায়ে সারথি
মাল্যভরা স্বর্গীয় রথ
কবি হিমেলের
কাহার সম্মুখে দাড়ায়
বিদ্রোহি জনতা
কাহার স্বার্থক উপন্যাস
উৎসর্গ আমার তরে।
কাহার বরদানে পাবো
হরিশচন্দ্রের শাপ
ঐশ্বর্যের কমোল হাত
তুলি ডানে আর বায়ে
খানিকটা আচম্বিতে
উপরেও আবার
দু আঙুলের ফোয়ারা
বলে,”সাবধান”
আজি এই ভূমিতে
উলঙ্গ কৃষকের বাস।

মাটি পেয়েছে ফিরে
যেন মাটির সুগন্ধি
কমোল হাসে ওড়ায়ে
কমোলের কীট
বংশীবাদক যেন
নাচিঁছে হরিষে
সর্প পেয়েছে খুঁজি
আপন মরণ বীণ।

চন্দ্র গিয়া ঢাকিছে
সুর্য প্রীতম
সুর্য লুঠায়ে ওঠে
অনিন্দ্য সুন্দর গ্রহে
মরম ব্যাদনায়
কাঁদিছে তারোকাকুল
শ্বেত বামন নিরাশ
বসিয়া রহিছে-
থর থর থর নভোমন্ডল
কালো বামনের ত্রাসে।

হেথা সর্প কুলে
করিয়াছে মাথা নত
বেজি তুলে ফণা
পুচ্ছে চাহে মণি
যেন নীলপঙ্গেরা ছুটিছে
আগুনের পানে-
ন্যাড়া বেলতলায় খুঁজিছে
শতাব্দীর গুণি।

৫.আজ ক’যুগ হলো

আজ ক’যুগ হলো
আমাদের দেখা হয়নি
আকাশের চাঁদ
ধীর পায়ে হেঁটে
মর্ত্যর বিবস্ত্র নগ্ন
এক কিশোরের
মাথা ছুঁয়ে-
আজ নির্লুপ্ত।

ঠিক এতটা সময়ে;
যতটা সময়ে দুই তপ্ত দেহ মিলে
এক হয়,
বিক্ষিপ্ত বিকর্ষণ
কিংবা আকর্ষণে
দেহ হয় অবস।
হাতি চলে জলে
চির জল চরেরা স্থলে
গরমের কামড়ে
মখমোল জড়িয়ে থাকা
এক আদিম মানবির
দেখা,”আর ঠিক সেই
সময় মধ্যাহ্নকালীন এক
কঠিন মুহুর্তে
যখন সুর্য থাকে মাথার উপর
ছায়া তার মুঠোম হাত দুরত্বে,
চকোর থাকে চন্দিমায়
চাঁদের প্রতীক্ষায়
যুগোল পঙ্কিল হাসে
হস্য পালকের ছোঁয়ায়
তখন সেই বিশাদৃশ্য মুহুর্তে
আমি থাকি অশ্বথের ছায়ায়”।

সে সে প্রহর তখন
গ্রহ তুল্য বিস্তর
যখন দুর দেশে
যমের দুয়ারে থাকে
তোমার নগ্ন দৃষ্টি
সৃষ্টিকে অতিক্র করে
চলি বার বার
তোমার মৃত্যুকে করে
অবরোধ।

আজ ক’যুগ হলো-
আমাদের দেখা হয়নি।

৬.আমার পথ:-

হে মোর চলার পথ
পথ বলে দাও
যে পথ গেছে চলে
বিগ্র বিষাদে
যে পথে আদিমের চাইতে
অনন্ত আদিমের বাস
যে পথের ধূলিকায়
ত্রিশূলভেদি যীশুর রক্ত
আছে লেগে,
যে পথের পথিকেরা
পরে আছে শুধু-
অন্তঃবাস।

কামনার আগুনে জ্বলেনা তবু
পথ খুঁজে চলেছে
মর্ত্যভেদি শুন্যের।
সে পথের সাথে
মোর অতীতের কিছু খুঁজি।
অনন্তের প’রে দেখি
অনন্ত অলীক-
ধূ ধূ মরুর পাশে
শুন্য তরু
হয়ে আছে একাকার।

ঙ্গানে পথে-
আমি শিষ্যর হার
মানি আমার অন্তরায়
পুঃনরায় করি গুরুভক্তি
করি ঙ্গান আহরণ
সাধু শিষ্যের হাত ধরে
দুর প্রাচ্যের রোমে
চলে যায়-
ধূসর তিউনেসিয়ায়।