Home / কবিতা ককটেল / নিতম্ব-তরুন ইউসুফ

নিতম্ব-তরুন ইউসুফ

গোল্ডলিফের নিতম্বে আরামসে একটা দম দিয়ে লম্বা ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে আয়েশি ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল মাহমুদ হোসেন। অফিসে ঢোকার প্রাক্কালে এই নির্দিষ্ট জায়গাটিতে দাঁড়ানো রোজকার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে তার। জায়গাটি অফিস থেকে একটু দূরে চার রাস্তার সংযোগস্থল। প্রতিদিন সকালের এই সময়টিতে এই রাস্তা দিয়ে অসংখ্য মানুষের যাতায়াত সংঘটিত হয়। কত কিসিমের মানুষ। নারী-পুরুষ, অফিসগামী, স্কুল কলেজগামী ছাত্র ছাত্র্রী, চোর-বাটপার, ভদ্র-অভদ্র। মাহমুদ হোসেন এখানে দাঁড়িয়ে এসব যাতায়াত অবলোকন করে। তবে তার দৃষ্টি সতর্কভাবে একটি বিশেষ শ্রেনীর চলাফেরার প্রতি নিবিষ্ট থাকে। নারী শ্রেনী। এই মধ্যবয়সের আছড়ে হঠাৎ করে মাহমুদ হোসেনের নারীদের নিতম্বের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ জন্মেছে। চলন্ত কোন কমবয়সী নারীর নিতম্ব প্রায়শই সে নিবিষ্ট মনে প্রত্যক্ষ করে দারুণ একটা আনন্দ পায়। এই জায়গাটি তার এই খানিকটা নিষিদ্ধ আনন্দ পাবার অন্যতম উৎসস্থলও বলা যেতে পারে।
মাহমুদ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। স্ত্রী মায়মুনাকে নিয়ে তার আপাত সুখের সংসার। তবে মায়মুনা সুন্দরী কি না কিংবা সুন্দরী হলেও কতটুকু সুন্দরী তা নিয়ে আজকাল প্রায়ই সে দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যায়। অন্য নারীর নিতম্ব প্রত্যক্ষকালে প্রায়ই সে মায়মুনার নিতম্বের সাথে তুলনা করে। কিন্তু এই তুলনায় সে খুব বেশি যুত পায় না। তার কারন তখন মায়মুনার অবয়ব কোন এক বিচিত্র কারনে সে মনে করতে পারে না। তার সামনে শুধুমাত্র প্রত্যক্ষরত অবয়বটি প্রকটরূপে ধরা দেয়। এটা নিয়ে মাহমুদ হোসেন বেশ একটা অস্বস্তি আর অপরাধবোধে ভোগে। তবে কি সে মায়মুনাকে ভালবাসেনা? তবে কি তাদের এই পাশাপাশি থাকা শুধুই জৈবিক প্রয়োজনে? তবে কি মায়মুনার মধ্যে আর আকর্ষন খুজে পায় না সে?
অবশ্য বেশ সুন্দরি একটা মেয়ে তার নিতম্বে অত্যধিক আন্দোলন তুলে মাহমুদ হোসেনের সামনে দিয়ে হেটে গেল, ধুমপান করতে করতে তার এই দার্শনিক চিন্তা খুব বেশি আগানোর সুযোগ পায় না। মেয়েটির চলন বড় বেশি আকর্ষনীয় একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। সে সঙ্গমরত অবস্থায় প্রত্যক্ষকৃত মায়মুনার নিতম্বের সাথে মেয়েটির তুলনা করতে করতে এত বেশি নির্লজ্জ হয়ে মেয়েটের চলার দিকে চেয়ে থাকে যে, সে যে অনেক পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেলে তা বুঝতে পারে না।
মাহমুদ হোসেন এত বেশি বেখায়াল হয়েছিল যে তিনজন হিজড়া যে তাকে ঘিরে ধরেছে সে বুঝতে পারেনি। ঘিরে ধরা হিজড়াদের একজন দুইটা তালি দিয়ে ”এই মিনসে খাড়ায়া খাড়ায়া মাইয়াগো পাছা দেখতাছো আমগো টাকা দেও” বলার পর সে সম্বিত ফিরে পায় এবং ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়। তার চমকে ওঠা খানিকটা কৌতুকপূ্র্ণ হওয়ায় অন্য দুজন হিজড়া মেয়েদের মত হাসির হিল্লোল তুলে একে অপরের গায়ে ঢলে পরে। তাড়াহুড়া করে পকেট থেকে একটা দশ টাকার নোট বের করে লিড নেয়া হিজড়ার দিকে এগিয়ে দেয় সে। হিজাড়াটি দশ টাকা নিতে অস্বিকৃতি জানিয়ে একশ টাকা দাবি করে বসে।
মাহমুদ হোসেন এবার খানিকটা রেগে গিয়ে একশ টাকা দেবে না জানাতেই অকস্মাৎ লিড নেয়া হিজড়া এমন কাজ করে বসে তা মাহমুদ হোসেন কখনও কল্পনাই করেনি। হিজরাটি তার পড়নের স্কার্ট তুলে লোমশ পশ্চাদ্দেশ উন্মুক্ত করে মাহমুদ হোসেনের দিকে এগিয়ে ধরে বলে ” পাছা দেখার এত শখ শালা দেখ”।
মাহমুদ হোসেন বেদিশা হয়ে কোন উপায় না দেখে ঝেড়ে দৌড় লাগায়। দৌড়াতে দৌড়াতে আশ্চর্য হয়ে মাহমুদ হোসেন লক্ষ্য এযাবত মায়মুনার অবয়ব মনে করতে না পারলেও এই মুহূর্তে মায়মুনার পনের বছর আগের অবয়ব তার মনে পড়েছে।
পনের বছর আগের এক দিনে মাহমুদ হোসেন বিয়ে করার জন্য পরিবারের সাথে মেয়ে দেখতে গিয়েছিল। মেয়েটি ছিল মায়মুনা। মায়মুনা খুব বেশি সুন্দরী বলা যায় না। মাহমুদ হোসেনের মা মেয়ে দেখে অতটা পছন্দ না হওয়ায় বিয়েতে নিমরাজি ছিল। কিন্তু মায়মুনাকে মাহমুদ হোসেনের মা একটু হেঁটে দেখাও বলাতে যখন মায়মুনা তাদের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল তখন মায়মুনার নিতম্বের আন্দোলিত সৌন্দর্য দেখে মাহমুদ হোসেন ওই মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মায়মুনাকেই সে বিয়ে করবে।

About tarun

tarun

মন্তব্য করুন