দ্য সুইসাইড নোট

0
197

তারিখ:৫/৭/২০১৭ বুধবার রাত বারোটা চল্লিশ।

আত্মহত্যার আগে এলাহাবাদের রয়সিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দুটি নোট লিখেছিল রঙ্গনা…
প্রথম নোটটি ডাকপিওন মারফত পৌঁছে ছিল তার পৈতৃক ঠিকানায় দাদার হাতে,
আর দ্বিতীয়টি পরেছিল তার নিথর নিস্প্রান দেহের পাশে ।
প্রথম নোটে সে দাদাকে লিখেছিল
“শ্রীচরণনেষু দাদা,
আশাকরি তোরা সকলেই ভালো আছিস।
আমি কেমন আছি সেটা না হয় নাই বললাম?তোদের অমতে,তোদের সব্বার পছন্দ উপেক্ষা করে নিজের পছন্দে সৌরদীপ কে বিয়ে করেছি,কেমন থাকব বল?
বুঝতে পারছিস কেমন আছি?এমন মাঝরাতে হঠাৎ চিঠি কেন লিখছি আন্দাজ করতে পারবি? এখন তো চিঠির যুগ নেই রে দাদা।এখন সেলফোনে অনায়াসে দেখা যায় প্রিয় প্রিয় মুখ।কিন্তু দাদা,সেলফোনে মুখ ভাসলেও চিঠি যে মানুষকে লেখা হয় সেই মানুষটাকে সামনে বসিয়ে নিজের মনের কথা বলাটাই যেন ‘চিঠি”নাম দেওয়া।
পুনশ্চ,
দাদা,আমি ভালো নেই।বিশ্বাস কর”আমি এতটুকু ভালো নেই। যে মানুষটাকে ভালোবাসলাম, ভালোবেসে বিয়ে করলাম,সেই মানুষটাকে চিনতে বড় ভুল হয়ে গেছে রে দাদা,বড্ড দেরী হয়ে গেছে।সৌরদীপ এখন আমাদের বেডরুমে সম্মোহনে উত্তাল।
আমি বসে আছি বাইরে ড্রয়িংরুমের একটি সোফায়,এখানে বসে বসেই এই চিঠি লিখছি তোকে।জানতে চাইবি না দাদা সৌরদীপের সাথে আমাদের বেডরুমে এখন কে আছে? সৌরদীপের পুরানো প্রেমিকা ‘সাক্ষী,ওরফে মিনাক্ষী রায়চৌধুরি।লজ্জা দাদা লজ্জা।এ লজ্জার কথা আমি নিজের মুখে কি করে বলি তোকে! আমি সৌরদীপ কে সুখী করতে পারিনি তাই বিয়ের দুমাসের মধ্যেই আমাদের বিছানা বদল হয়ে গেছে।চোখে চোখের ইশারায় সৌরদীপ বারবার বুঝিয়ে দেয় আমাকে’ও আর আমার সঙ্গে থাকতে রাজি নয়।এবার আমি কি করব দাদা?ডিভোর্স নেবো? ডিভোর্স মানে বিচ্ছেদ,ছাড়াছাড়ি।শুধু কাগজে আর নিয়মে।
সে না হয় নিলাম,কিন্তু তারপর…..
জীবনটা কত তাড়াতাড়ি বদলে গেল দাদা..
কি ভেবেছিলাম আর কি হলো।কাল সৌরদীপের অফিস কলিগরা গোয়া যাচ্ছে সবাই।সঙ্গে যে যার বউ বা গার্লফ্রেন্ড।মিনাক্ষী যাচ্ছে সৌরদীপের সাথে।
আমি হয়তো যেতে পারতাম,কিন্তু যাওয়া আর হলো কই।আমার ফেরাই হয়নি কখনো,ভালোবাসার কাছে প্রেমিকের কাছে সম্পুর্ণতা নিয়ে।
তাই অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত একটা নিলাম।সমস্যা অনেক কিন্তু সমাধান একটাই।সিদ্ধান্তটা তোদের মনে হতেই পারে ভুল।কিন্তু আমার জায়গা থেকে আমি ঠিক দাদা।আমি জীবন থেকে মুক্তি নেব,কিন্তু সৌরদীপ কে মুক্ত করে যাবনা,কারণ প্রতিটা আত্মহত্যাই আসলে একটি খুন।একটি হত্যা।
ইতি-
তোর স্নেহের বোন..

তারিখ:৬/৭/২০১৭ সকাল নটা বেজে পঁয়ত্রিশ মিনিট।বন্ধ ফ্লাটের দরজা ভেঙে রঙ্গনার মৃতদেহটি আবিষ্কার করেছিল পুলিশ।আর তার পাশে পাওয়া গিয়েছিল ‘দ্য সুইসাইড নোট”আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।