Skip to content

দেনমোহর – মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

দেনমোহর
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন

ইসলামের বিধানে দেনমোহর ফরজ করা হয়েছে। এটা স্ত্রীর পবিত্র হক, ন্যায্য অধিকার। এ অধিকার আদায়ের জন্য স্ত্রী বিচার, সালিশ, আইন-আদালত সব কিছুই করতে পারে এবং আইনের বিধিমালায় স্ত্রী তা পাওয়ার যোগ্য।

এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরআনে সূরা নিসায় বর্ননা করেন,
“তোমরা তোমাদের স্ত্রীর থেকে যে স্বাদ গ্রহণ করো, তার বিনিময়ে অপরিহার্য ফরজ হিসেবে তাদের মোহর পরিশোধ করো”।

দেনমোহর পরিশোধ করা স্মামীর জন্য  ফরজ। এটা স্ত্রীর পবিত্র ১০০% হালাল হক।
এটা স্বামীকে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প পথ নাই। এটা পরিশোধ করা স্মামীর জন্য ফরজ মানে অবশ্যই, অবশ্যই, অবশ্যই করণীয়, পালনীয়।  করতেই হবে, কোনো অজুহাত নেই।

এ দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে না। কারণ, দেনমোহর দিয়েই স্ত্রীকে হালাল করে গ্রহণ করে নিতে হয়। পৃথিবীতে এমন কোনো নজির নাই যে দেনমোহর ছাড়া কখনো৷ কোনদিন কারো বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছে।

দেনমোহর এমন একটা জিনিস,
বিয়ে করে ঘর-সংসার তো দূরের কথা, বিয়ের আসরেই যদি কন্যা কবুল করার পরপরই নিজের কবুলকৃত স্বামীকে সেখানেই ত্যাগ করে স্বামী স্ত্রীর পবিত্র মধুর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে, তারপরও স্বামীকে নির্ধারিত দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করতে হবে। আর ঘরসংসার করলে তো এক পয়সাও মাফ নেই।

দেনমোহর পূতপবিত্র স্ত্রীর হক, তাকে তার ন্যায্য অধিকার দিতেই হবে।
তবে সম্পর্ক ভালো থাকলে সমস্যা নাই।
কেননা, বিয়ের রাতেই স্ত্রী তাকে মাফ করে দিয়েছে বা দু’জনের মাফ নেওয়া হয়ে গেছে।

কারণ, সাধারণত দেনমোহর সম্পূর্ণ দিতে না পেরে  স্বামী বিয়ের রাতেই কিছু টাকা হাতে দিয়ে  দেনমোহর মাফ চেয়েই স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়।

আর বিয়ের রাতে দেনমোহর না নিয়ে স্ত্রীর মাফ করে দেওয়াটা, অর্থাৎ স্ত্রীর মৌখিক মাফ করাটা ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের স্বামী স্ত্রীর বিয়ের মধুর সম্পর্কের বন্ধন অটুট থাকে।

কিন্তু স্ত্রীকে বাতিল করলে বা স্ত্রী ত্যাগ করলে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করলে বা হলে দেনমোহর অবশ্যই  অবশ্যই অবশ্যই দিতে হবে। এর কোনো মাফ নাই, মাফ নাই, মাফ নাই।

মন্তব্য করুন