Skip to content

তবু মনে রেখো (শেষ পর্ব)

“আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম, মেয়েটা নিয়ে একটা ঝামেলা বাঁধবে, কিন্তু কে শোনে কার কথা, তখনতো কতো ভালো ভালো সম্বন্ধ না করে দিলে, এখন মেয়েটার যা অবস্থা বিয়ে দিতে পারলে হয়। মেয়ের ফোন চুরি হয়ে গেছে, কাগজপাতির ফাইলটাও উধাও, এমন মেয়েতো আমি বাড়িতেও তুলতে চাই না। সবকিছুতে তাড়াহুড়া, এখন বোঝো।”
“আহ্, স্নিগ্ধার মা, থামো। আমাকে একটু ভাবতে দাও। ঐ যে ছেলেটা কি যেন নাম মেঘ, ও আমাদের বাড়ি চিনলো কিভাবে?”
“মনে তো হয় স্নিগ্ধাই আমাদের নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলেছে। মেয়ের যা অবস্থা ওকে দেখে তো মনে হচ্ছে যে এখুনি জ্ঞান হারাবে। স্নিগ্ধার বাবা, আমি কিন্তু ঐ ছেলের সাথেই স্নিগ্ধার বিয়ে দিব, এত দায়িত্বশীল, বলল যে অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পর রাস্তায় অনেকক্ষণ পড়ে ছিল তখন জিনিসগুলো চুরি হয়ে গেছে। নইলে তো জ্ঞান ফিরলে মেয়ে নিজেই বাড়িতে যোগাযোগ করতে পারতো।”
“তোমার যা কথা, কাউকে সাহায্য করলেই বিয়ে করতে হবে নাকি?”
হাসপাতালের ঘড়িতে এখন রাত প্রায় বারোটা বেজে ছত্রিশ মিনিট। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। দূরে কোথাও শেয়ালের ডাক শোনা যায়। বাইরে ঝড়ো বাতাস বইছে, কেমন যেন ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। মেঘদের বাড়িতে এত রাতে ছেলের ফেরা নিয়ে গাইগুই করছেন মেঘের মা।
“ছেলেটা উচ্ছন্নে গেছে। এখন একটা বিয়ে করিয়ে দিতে পারলেই হয়। তাহলেই দেখবে সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।”
“আঃ, তুমি ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করো যে এর কারণটা কি? শুধু শুধু এত রাতে বাড়ি ফিরবে কেন?”
আকাশটা মেঘাচ্ছন্ন হলেও রাতের আকাশে মেঘ চোখে দেখা যায় না। শুধু আজকে চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে। মেঘের মনে হয় যে আজকে সে একটা বড়সড় কাজ করে ফেলেছে।

আকবর সালেহি মেঘের বাবার পুরনো বন্ধু, মেঘদের বাড়িতে পরদিন সকালে বেড়াতে আসে। বাড়িতে ঢুকতেই মেঘের মুখোমুখি হয়ে যায়।
“আরে বাবা, তুমি এখানে কি করো? এটা কি তোমাদের বাসা?”
“জি আঙ্কেল, আসসালামুয়ালাইকুম।”
“আমি তোমার বাবার একজন পুরনো বন্ধু, তোমাদের বাসার পাশেই থাকি। একদিন বাসায় এসো তাহলে।”

ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মেঘ‌। যদিও হাতে খুব বেশি সময় ছিল না তারপরও মেঘের ছুটিটা একেবারে বৃথা যায়নি। এটাই ছিল তার জীবনের মনে রাখার মতো ছুটি। যদিও আজকাল ব্যস্ততার কারণে সে অনেককিছুই ভুলে যায় তবু কেন যেন এই ছুটিটা সে ভুলতে পারে না।

মন্তব্য করুন