Skip to content

তবু মনে রেখো (দ্বিতীয় পর্ব)

“বুঝলি শোয়েব, এখনতো বিয়ে করিনি, শুধু একটা মেয়ে পিছু নেয়। আমি আসার পর তোর সাথে অনেকদিন পর দেখা তাই বলে যে মজা করছি এমনটা কিন্তু নয়!”
“আলবাৎ মজা করছিস, শুনেছি ছেলেরা মেয়েদের পিছু নেয়, আমরাও এমনই করতাম কলেজ লাইফে, তোর মনে নাই? এ যে লম্বা করে একটা মেয়ে রিনা। আর আজ তুই নতুন কথা শোনালি। যাহোক তোর সাথে অনেকদিন পর দেখা হয়ে ভালো লাগলো। বাসায় যাস।”
“এই তোর যাই যাই স্বভাবটা আর গেলো না, চল কোথাও বসে চা-টা খাই, তারপর যাওয়া যাবে।”
“মেয়েটা মনেহয় তোদের এলাকারই, তাই একই রাস্তা ধরে গেছে। হতেও তো পারে এমন একজনের সাথে চেনাজানা।”
“ভাবখানা এমন যে কেয়ারই করল না। যাহোক কি করিস এখন?”
“চায়ের দোকানে কাজ করি।”
“আর ইউ সিরিয়াস? মাস্টার্স পাস করে চায়ের দোকানে কাজ করিস? কয়েকদিন পরতো বলবি যে পদোন্নতি হয়েছে, এখন রিকশা চালাই। হে, হে। হইলো কিছু? আই মিন চাকরি-বাকরি? বিয়ে?”
“এখন বলবো না, একটা ভালো সম্বন্ধ আছে। মেয়েটা দেখে তোকে জানাব। ফোন নাম্বারটা দে। যেটাতে সবসময় তোকে পাওয়া যাবে।”
“01312-213101, আমার ফোন নাম্বার। তোরটা না দিলে তোকে চিনব কিভাবে?”
“কেন কল রিসিভ করে?”
“সেই যুগ কি আর আছে? এখনতো কাজের চাপে থাকি। কলটল ভালোই আসে ফোনে। যাকগে, তোর নাম্বারটা দে।”
“01912-123456, সত্যি তুই অনেক চেন্জ হয়ে গেছিস, আমাকে না চিনলে আমি তোকে চিনতেই পারতাম না, মেঘ।”
“পাঁচ বছর ধরে আমি প্রায় লাপাত্তা ছিলাম, একেবারে চার দেয়াল।”
“কেন? এখন কেউ এভাবে চলে নাকি? তোর হোয়াটসঅ্যাপ আছে? আমি কিন্তু খুঁজব!”
“ঠিক আছে, পরে একদিন সব খুলে বলা যাবে কথায় কথায়। আজকে সময় নাই রে। যাই এখন।”
দুজনে দুদিকের পথে চলে যায়। সন্ধ্যা নামবে নামবে। ছুটির একটা দিন ভালোই কাটল মেঘের।

পরদিন সকালে যথারীতি সে একটা পেপার কিনতে বের হয়ে পড়ল। যেহেতু কাগজের পুরনো গন্ধের কাছে ফোনের স্ক্রিন হার মানে, তাই সে এই কাজটা কখনো ছাড়তে পারে না। পরম যত্নে আগলে রাখে যেন এটা তার স্বঘোষিত চাকরি। মেইনরোডে একটা ভিড় দেখলো সে, ভিড় ঠেলে এগুতেই রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখতে পেল একটা মেয়েকে। যথারীতি রক্ত গড়িয়ে পড়ছে কপাল থেকে। কপালের বা-পাশটায় একটা জখম, তরল রক্ত গড়িয়ে পড়ছে সেখানটা থেকে।

“আরেহ্ এটা তো সেই মেয়েটা।” মনে মনে বলল মেঘ। “ভাই কি হয়েছে এই মেয়ের, এই অবস্থা হল কিভাবে?”
“আর বইলেন না, আমি দেখলাম যে একটা হোন্ডা স্পিডে যাইতে নিয়া বেডিরে এমনে লাগাই দিছে। সাইডে ছিটক্যা পড়ছে, এহনো কেউ সাহস কইরা আগায় নাই। কি একখান অবস্থা!”

মন্তব্য করুন