Skip to content

জাতির নামে বজ্জাতি – করুণাকর প্রধান

প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা। সেদিন ছিল বসন্তের পূর্ণিমা রাত। হিসাবপত্র মেলানোর পর সমুদ্রতটে গিয়ে দাঁড়াল প্রশান্ত। এ এক আলাদা জগৎ। প্রশান্ত প্রত্যেকদিন ভোরে ও রাতে সমুদ্রতটে আসে। তার মনটা জুড়িয়ে যায়। ভোরে সমুদ্র যে সব খোলস জমা করে তাদের কুড়ায় ও লাল কাঁকড়ার পিছনে ছোটে। সে বিশ্বাস করে সমুদ্রের শক্তি আত্মাকে আরোগ্য করে। অনুপ্রেরণা ও সান্ত্বনা দেয়। এবং পুনরুজ্জীবিত করে ।,সমুদ্র একদিকে সৃষ্টি করে এবং অন্যদিকে ধ্বংসও করে। এটি মোহময় অথচ ভয়ংকর। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে সে পৃথিবীর ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং ঈশ্বরের আরও কাছাকাছি অনুভব করতে পারে। এ অসীম অনন্ত জলরাশির এক অদ্ভূত আকর্ষণ আছে আর অন্তরে লুকানো আলাদা এক মূল্যবান জগত আছে যা সকলের অজানা।
জায়গাটা বুড়িবালাম বা বুড়াবলঙ্গা নদীর মোহনায় বলরামগুডি- চাঁদিপুরের সামান্য উত্তরে। এখানে প্রচুর মৎস্যজীবী গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে সকালে এই মোহনায় মাছের আড়তে বিক্রি করত। অনেকে এখানে স্থায়ী ছাউনি গেড়েছিল। এখানকার অনেক মৎস্যজীবীরা দাদন নিয়ে লঞ্চ কিনত এবং ওদের তদারকি করার জন্য ছাউনিতে কর্মচারী থাকতো। এইরকম একটি ছাউনিতে প্রশান্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মী হয়ে মাস ছয়েক আগে এসেছে। তার সহকারী, মইউদ্দীন, সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করে বাড়ী চলে যেত। মইউদ্দীন প্রশান্তের জন্য রান্নাও করতো। প্রশান্তের খাওয়ার মাছ কিনতে হতো না। লঞ্চ মালিকের থেকে দু একটা ইলিশ মাছ পেয়ে যেত। এই মাছ ভাজতে তেল লাগত না। নিজের তেলে নিজেই ভাজে। তারপরও অনেক তেল বেঁচে যেত যা দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়া যেত। তেইশ বছর বয়সে প্রশান্তের এ এক নতুন অভিজ্ঞতা। মেদিনীপুরের এক গ্রামের ছেলে বি এ পাস করার পর চাকরি খুঁজতে খুজতে কম মাইনায় আড়তে কাজ শুরু করেছে।
পরের দিন সকালা প্রত্যেকদিনের মতো সফিরুদ্দিনদা হাজির। এসে বললে “ কি গো, আমাকে ছাড়া চা খেয়ে নিলে নাকি?”
“দাদা, তোমাকে ছাড়া কোনদিন আমি চা খাই?”
“চল, চা খেয়ে এসে কাজ আরম্ভ হবে।“
সফিরুদ্দিন দাদা এই অঞ্চলে বসবাস করেন এবং প্রশান্তের আড়তে ব্যবসা করেন। এই অঞ্চলে নদীর দুধারে প্রচুর হিন্দু মুসলমান ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করেন।
চা খেতে খেতে সফিরুদ্দিনদা জিজ্ঞাসা করলেন “ আজ মইউদ্দিন আসবে?”
প্রশান্ত বলল “ওর মর্জি। প্রায়দিন আসে না। যেদিন আসে সব কাজ ওই করে। আমাকে কোনো কাজ করতে দেয় না।“
“সে যে দিন তোমার আড়তে আসে না তাকে এইখানে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। তুমি কিছু বল না?”
“ দেখ দাদা, কয় পয়সা বা মাইনা পায়? ওর তো সংসার আছে। কিছু বাড়তি উপার্জন না করলে তার চলবে কি করে?”
“শোন ভায়া, আমার গিন্নি বলে দিয়েছে যেদিন মইউদ্দিন আসবে না, সে দিন গিন্নির রান্না খেতে হবে। আমি স্কুটারে করে যাব আবার ছেড়ে দিয়ে যাব।“
“তা আবার হয় নাকি?”
“ ও তুমি আমাদের বাড়িতে খাবে না।“
“ আমার কোনো জাতের বাছ বিচার নেই। তুমি যে চা খাচ্ছ সেই কাপটা দাও, আমি খেয়ে নেব। তারপর মইউদ্দিন রান্না করে আমি খাই। আমি ভাবচ্ছি দিদিকে আমার জন্য কষ্ট করতে হবে”
“ও কিন্তু বলে দিয়েছে নিয়ে যেতেই হবে।“
সফিরুদ্দিনদা জোর করে নিয়ে গেল। বাড়ীটা ছোট কিন্তু সাজানো গোছানো, ছিমছাম। দিদি মাদুরের উপরে খাবার দিলেন, কথাও বললেন কিন্তু মুখ সব সময় ঢাকা। রান্নার অপূর্ব স্বাদ। সেদিন থেকে প্রশান্ত দিদি ভাই এর সম্পর্কে জড়িয়ে গেল। যেদিন মইউদ্দিন আসতো না.প্রশান্তকে দিদির বাড়ী যেতেই হতো। প্রশান্ত অনুভব করতে পারলো না জাত গেল না থাকল কিন্তু দিদির যত্ন ও আন্তরিকতায় প্রশান্ত মুগ্ধ। নিজের আত্মীয়ও এইভাবে আদর যত্ন করে না।
একদিন চা খেতে খেতে সফিরুদ্দিনকে জিজ্ঞাসা করে “এখানে বাঘা যতীন ও ইংরাজদের যুদ্ধ কোথায় হয়েছিল জান?”
“ও এখানে নয়, বালেশ্বর পেরিয়ে এলেই এই নদীর তীরেই হয়েছিল। বাঘা যতীনরা ছিল নদীর উত্তর পাশে আর ইংরেজরা দক্ষিণ পাশে।“
এই আড়তের সঙ্গে অনেক হিন্দু মুসলমান মৎস্যজীবীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে দুজন শেখ মামুদ ও মহাদেব দাস দাদন নিয়ে লঞ্চ করেছিল কিন্তু প্রত্যেকদিন মাছ এই আড়তে দিত না। অন্য আড়তে নগদে বিক্রি করে দিত। এই নিয়ে তাদের সঙ্গে প্রশান্তের ঝগড়াঝাটি অশান্তি হতো।
এই সব হিসাবের জটিলতা ও অশান্তি প্রশান্ত রাত নয়টার দিকে গিয়ে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিয়ে আসতো। সব জিনিস মাথার মধ্যে রেখে দিতে নেই। সেদিন সমুদ্রতট থেকে ফিরে খাওয়া দাওয়া করে ঘুমোতে যাচ্ছিল, তখন রাত প্রায় এগারোটা, প্রশান্ত শুনতে পেল ছাউনির সামনে বাঁশের গেটকে কে ঝাঁকুনি দিচ্ছে। প্রশান্ত গিয়ে দেখলো এক পৌঢ় দাঁড়িয়ে। গৌর বর্ণ, খানিকটা লম্বা, মুখে গোঁফ নেই কিন্তু দাড়ি আছে। মাথা কাঁচা পাকা চুলে ভর্তি। মার্জিত সাদা পোষাক, আভিজাত্যপূর্ণ।
প্রশান্তকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন “এই আড়তে মইউদ্দিন কাজ করে না?”
“হ্যাঁ, ওতো রাতে থাকে না।“
“জানি। ও আমার গ্রামের লোক।“
প্রশান্ত ভাবল ভদ্রলোক হয়ত কিছু বলতে চাইছেন। তাই ভিতরে এনে বসাল।
ভদ্রলোক বলতে শুরু করলেন “বাবা, আমি একটু অসুবিধায় পড়ে গেছি। আমি নদীর ওপারে থাকি। আজ একটা কাজে বালেশ্বর গিয়েছিলাম। বাসটা আসতে দেরি করল। এসে দেখি শেষ খেয়া চলে গেছে। বাড়ি ফেরার আর কোনো উপায় নেই। মইউদ্দিনের কাছ থেকে তোমার কথা অনেক শুনেছি। অপরিচিতকে কেউ তো আশ্রয় দিতে চাইবে না। তাই ভাবলাম তোমার এখানে রাতটা কাটিয়ে কাল প্রথম খেয়া করে বাড়ি ফিরবো।
প্রশান্ত বলল “হ্যাঁ, হ্যাঁ- কোনো অসুবিধা নেই। আমি তাহলে আপনার জন্য রান্না বসাই?”
“না, না- আমি এমনি শুয়ে পড়বো।“
“ তা কি হয়, স্যার। আপনি আমার অতিথি। “অতিথি দেবো ভব।“ আমরা এটা মেনে চলি”
“আমাদের ধর্মে ও এক কথা। ধর্মে থাকলে তো হয় না। কেউ মানে আবার কেউ মানে না। ধর্ম কুসংস্কারে অন্ধ হয়ে গেছে। আচ্ছা তোমার কাছে মুড়ি বা চিড়ে আছে?”
প্রশান্ত বলল “আমার কাছে আমার ঘরে ভাজা মুড়ি আছে।“
“তোমার বাড়ি কোথায়?”
“আমার বাড়ি মেদিনীপুরে কাঁথির কাছে এক গ্রামে।“
“আমাদের ও কাঁথির পূর্বে বাড়ি ছিল। আমরা বহু বছর আগে এখানে চলে এসেছি। আমি এখানে ডাক্তারী করি।“
প্রশান্ত তাঁকে মুড়ি খাওইয়ে বাছানা করে দিল।
ভোরে উঠে তিনি যাওয়ার সময় বলে গেলেন “তোমাকে আমার বাড়তে নিয়ে যাব, বাবা। আমি এসে নিয়ে যাব আবার ছেড়ে দিয়ে যাব।“
সেদিন সন্ধ্যায় সমুদ্রতটে গিয়ে দেখে শান্ত সমুদ্রের শুভ্র জলরেখা সৈকতে আছড়ে পড়ছে। ভগবানের কি লীলা। কত ভিন্ন ভিন্ন জলধারা এসে সমুদ্রে মিশে একাত্ম হয়ে যায় কিন্তু মানুষে মানুষে এত বিভেদ। সবচেয়ে হিংস্র জন্তু কুমির দল বেঁধে এক জায়গায় বাস করে কিন্তু সচরাচর কেউ কাউকে আক্রমন করে না। ধর্ম তো পরিধেয় বস্ত্রের মতো। সবই তো সূতো দিয়ে বোনা। যে যার ইচ্ছা মতো পরিধান করে।
ধর্মের উদ্দেশ্য এক এবং নির্দেশ ও এক। ঈশ্বর বা আল্লাহকে অবলম্বন, সৎ ও ন্যায়পরায়ণ কাজ করা, পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা, ক্ষমা ও সহনশীলতা দেখানো এবং অন্যেরও ভালো কাজকে সমর্থন করা। এছাড়াও, সুদ, নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা । স্বার্থপরতা ও ধর্মান্ধতাই মানুষের মধ্যে বিভেদের কারণ। যারা ধর্মের প্রকৃত অর্থ বোঝেন না তাঁরাই নিজের স্বার্থ গোছানোর জন্য মনগড়া বিভেদ তৈরি করে। সাধারণত ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি নিপীড়ন, কুসংস্কার এবং যুক্তির অভাব দেখা যায়। কোনো শুভবুদ্ধিসপন্ন মানুষ জাতির নামে বজ্জাতি করতে পারে না। এর প্রধান কারণ অশিক্ষা।
দিন পনের বাদে ডাক্তার এসে উপস্থিত। বললেন “আজ দুপুরে আমার বাড়িতে যেতে হবে, বাবাা। প্রস্তুত হয়ে থাক, আমি একটু ঘুরে এসে নিয়ে যাব ও কাল সকাল সকাল এখানে পৌঁছে দেব।“
প্রশান্ত বলল “আজ থাক না জ্যেঠু। পরে একদিন যাব।“
“আরে তুমি ইতস্তত করছ কেন। ধর্ম ভিন্ন হলেও আমরা সবাই মানুষ। দেখ, আমি তো ধর্ম গ্রহণ করিনি। পূর্বপুরুষ থেকে চলে আসছে। আমি শুধু মনুষ্যত্ব গ্রহণ করেছি।“
প্রশান্ত বুঝতে পারল এই ডাকার মধ্যে আন্তরিকতা আছে। শুধু সৌজন্যের জন্য নয়। তাই সে চুপ করে থাকল।
দুপুরে খেয়া পেরিয়ে ওরা হাঁটতে লাগল। রাস্তায় মানুষ, হিন্দু মসলমান নির্বিশেষে ডাক্তারকে অভিবাদন করছিল। প্রশান্ত বুঝতে পারলো একালার সকলে ডাক্তারকে সমীহ করে। বেশ একটা বড় বাড়ির সামনে উপস্থিত হলো। প্রশান্ত দেখল এলাকাটা জনবহুল নয়। লোকেরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করে। বাড়ির চারপাশে বাগান আর দুতিনটা পুকুর।
বাড়িতে পৌঁছে ডাক্তার তাঁর বড় ছেলেকে ডেকে বললেন “পুকুর থেকে একটা বড় মাছ ধরে আন।“
ডাক্তার গিন্নি এসে বললেন “আসতে কষ্ট হয় নি তো. বাবা?”
প্রশান্ত তাঁকে প্রণাম করে বলল “না, জ্যেঠিমা, এইটুকু তো রাস্তা। আমি তো গ্রামের ছেলে। বেশ হাঁটতে পারি।“
প্রশান্তকে বাড়ির ভিতরে নিয়ে গেলেন। আদর যত্নের তুলনা নেই, এটা খাও, ওটা খাও। প্রশান্তের বাড়ীর খবরাখবর নিলেন। প্রশান্ত ভাবছিল দুটি ধর্মের মধ্যে প্রভেদ কোথায়। সৌজন্য, ভদ্রতা, শিষ্টাচার সবই তো এক। হয়তো আচার অনুষ্ঠান কিছুটা আলাদা হতে পারে। সেতো হিন্দু ধর্মেও বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকমের হয়। সে বুঝতে পারল না বিভেদটা কোথায়।
সকালে সে একাই ফিরে এল।
আসার সময় জ্যেঠিমা বললেন “আবার এসো বাবা।“
আবার দৈনন্দিন কাজ চলতে থাকলো। আড়তে হিন্দু মসলমান দুই জাতের লোক মিলেমিশে কাজ করতো।
একদিন প্রশান্ত ও সফিরুদ্দিন সকালে চা খাচ্ছিল। কৌতুহলবসত প্রশান্ত জিজ্ঞাসা করলো “দাদা, বলতো দিদি মুখ ঢেকে রাখে কেন?”
“আরে মুসলিম মহিলা অপরিচিতদের সামনে মুখ ঢাকার রীতি অনেকদিন ধরে চলে আসছে। প্রধানত শালীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য এই প্রথা চলে আসছে তাই অনেকের অভ্যাস হয়ে গেছে। গ্রামের মহিলারা অভ্যাস বসত মুখ ঢেকে থাকেন। তোমাদের সমাজে হয় না। গ্রামের বিবাহিত মহিলারা অপরিচিতদের সামনে ঘোমটা দেয় না?”প্রশান্তের মনে পড়ে তাইতো এই ব্যাপারটা সে ভাবে নি।
শেখ মামুদ ও মহাদেব দাস প্রশান্তের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা অনেক টাকা দাদন নিয়েও মাছ ঠিক মতো দিত না। বহুবার বলা সত্ত্বেও তারা পাত্তা দিত না। মালিক প্রশান্তকে বার বার সতর্ক করেছেন। সেদিন চা খেয়ে ফেরার সময় শেখ মামুদের সঙ্গে রাস্তায় দেখা।
প্রশান্ত বলল “আপনি মাছ একেবারে দিচ্ছেন না, সাহেব।“
“কেন দিচ্ছি না তারতোমাকে কৈফিফত দেব?”
“আরে মালিক তো আমাকে এই জন্য রেখেছে। আপনি মাছ ঠিক মতো দেন না হয় আমি মালিককে বলবো পুলিশে অভিযোগ করতে।“ বলে সে আড়তে চলে আসে। তার ঘন্টা তিনেক পর তখন প্রশান্ত আড়তে একা, হঠাৎ মামুদ সঙ্গে আরো দুজনকে নিয়ে আড়তে ঢুকে বলল “তুই এখান থেকে পালা না হয় তোকে ছাড়বো না।“
“কেন, আমি কি আপনার কর্মী, আমাকে ভাবে কথা বলবেন না” কথা কাটাকাটি হচ্ছিল হঠাৎ এর মধ্যে একজন এক ধারালো অস্ত্র বার করে চিৎকার করল “মামুদদা ওকে শেষ করে দিই?”
প্রশান্ত এই দেখে আতঙ্কিত হয়ে জোরে চিৎকার করে চোখ বন্ধ করে ফললো। চোখ খুলে দেখলো সফিরুদ্দিন, মইউদ্দিন ও আর একজন মামুদদের ঘিরে ধরেছে। দেখতে দেখতে প্রচুর লোক জমা হয়ে গেল। তাদের মধ্যথেকে বহু মুসলিম মামুদদের শাসাতে লাগলো। সকলে তাকে বলে “ মামুদ, তুমি দাদন নিয়েও মাছ দিচ্ছ না। এতো অন্যায় তারপর এই বাচ্ছা ছেলেটাকে শাসাচ্ছ? তোমাদের মতো কয়েকজন বজ্জাতের জন্যই আমাদের বদনাম হচ্ছে।“
কান্নাকাটি করে মামুদরা ছাড়া পেল।
তার দিন দশ পরে প্রশান্ত চিঠি পেল সে বছর খানেক আগে যে সরকারি চাকরীর পরীক্ষা দিয়েছিল তাতে পাস করেছে এবং কলকাতায় পোস্টিং হয়েছে।
যেদিন প্রশান্ত আড়ত থেকে কলকাতা যাবে তার আগের দিন দিদির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল এবং প্রণাম করে ফেরার সময় সে দেখলো দিদির মুখের ওড়না আর নেই। তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকলে যে আপন হয় তা নয় মানবিকতা ও সহানুভূতি থাকলে মানুষ মানুষের আপন হয়ে যায়।
************************************

মন্তব্য করুন