কারাবাস – মাহামুদুল হাসান

কারাবাস…মাহামুদুল হাসান

শিশিরের শেষ পতন দেখে যাব
কেউ কি ফিরবে পথে
পথই ধরা দেবে পায়ে,লিখে দেবে বর্ণিল তারার ঠিকানা। 

ফেলে আসা উপেক্ষার অপেক্ষা থেকে
শব্দ পতনের পর খুঁজে পাওয়া যায় স্বশ্রাদ্ধলাশ
মৃত্যুপ্রাপ্ত সে সব প্রেমিকা ক্ষতহীন ঠিকানা বিহীন
কেউ দেখে অগণিত ক্ষত চিহ্ন,-রক্তের বিভীষিকা
অনেকে ফিরে যায়, না পাওয়ার তৃষ্ণা নিয়ে। 
বরাবর
প্রতীক্ষার এই আমি গোপনে ঢেলেছি প্রজ্বলিত বিষ
আপন প্রশ্নের কাছে ছুড়েছি দিশেহারা তীর
এ পোড়া ঘুম কীভাবে শেখাবে
বৃক্ষ আর মৃত্তিকার ব্যাকরণ। 

অনন্ত পথের বুকে ভুল ঠিকানায় দূরগামী তবু কেউ ফেরে
কেউ কি ফিরবে পথে
এই অন্ধ রাত বড় বেশি হলে দিতে পারে
আকাশের জ্বলে ওঠা রং
অন্ধ পোকার ক্ষয়ে যাওয়া দেহ। 

তোমাকে কুড়াতে এসে নিজেই সন্ন্যাস
তোমাকে ফিরাতে গিয়ে সন্ন্যাস ও যায় ফুরিয়ে
ফিরেতো যাবে, ভুলেও যাবে-ভুলই পেয়ে বসে ভুলের ঠিকানায়
জানো তো প্রত্ন পথের কোনো শুরু থাকে না শেষও না। 

কেউ কি ফিরবে পথে-জেগে আছি কারাবাসে
শিশিরের মৃত্যুর মতো কেউ কি এসে
চুপিসারে ক্ষরণের পাশে যাবে মিশে
পায়ে-পায়ে পথের ঠিকানা লিখে যাবে ভালোবেসে। 

মাহামুদুল হাসান
কবি মাহামুদুল হাসন ১০ জুলাই গোপালগন্জে জন্ম গ্রহন করেন ।১৯৯৮ সাল থেকে নিয়মিত ভাবে লেখা লেখি করে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালে ভাষাচিত্র প্রকাশনী থেকে প্রথম কাব্য গ্রন্থ " লবণ ও লাবণ্যের দেহ" প্রকাশিত হয়েছে । দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ " গুগলের নদি -ভূগোলের কাব্য " অপেক্ষায় আছে । কবিতার পাশা পাশি ছোট গল্প, উপন্যাস লেখার শখ আছে।